Showing posts with label যে দোষে আজ আমি অপরাধী. Show all posts
Showing posts with label যে দোষে আজ আমি অপরাধী. Show all posts
যে দোষে আজ আমি অপরাধী - শেষ পর্ব

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - শেষ পর্ব



জান্নাতির কোন উত্তর না পেয়ে আমি দরজার কাছে গেলাম কে এসেছে দেখার জন্য। আমি যেই ওখানে গেছি একে বারে চমকে গেছি। কারন দরজা খুলেই দেখি শান্তা। ওকে দেখে শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। আবার কোনো সমস্যা বাধাবে না তো। অনেক কিছু হারিয়েছি ওর জন্য। আজ যা পেয়েছি যদি আবার হারাই।

- ভিতরে আসতে বলবি না ইয়াছিন। (শান্তা)
ওর কথায় চমকে গেলাম। কি করবো কিছু বুজতে পারছিলাম না।
- ভিতরে আসুন। (জান্নাতি)

- জান্নাতির এই রকম কথা শুনে অবাক হলাম। শান্তার সম্পর্কে সব জানার পরেও কেন ওকে ভিতরে আসতে দিচ্ছে। আরো অবাক হলাম যখন ওর পিছনে বাবা-মা, চাচা-চাচি, মাইশা, আর সাথে আসিক আর নিলাও আছে। মা, আর মাইশা তো জানে আমি এইখানে কিন্তু আমার পরিবারের সবাই কেমন করে জানলো! আসিকের ইশারাই বুজতে পারলাম ও সবাইকে নিয়ে এসেছে। সবাই ভিতরে এল। ভিতরে আসার পরেই...

- ইয়াছিন, আমাকে তুই ক্ষমা করে দে, তোর সাথে অনেক অন্যায় করেছি। তুই সেইদিন আমাকে বাঁচিয়েছিলি তারপরেও সবার কাছে মিথ্যা বলে তোকে দোষী বানিয়েছি। আমার জন্য এতগুলো বছর তুই সবার থেকে দুরে। আমার জন্য তোর জীবন নষ্ট হয়ে গেছে। আমি তোর সাথে যে অন্যায় করেছিলাম তার শাস্তি আমি পেয়েছি। আজ আমি জীবনের শেষ পর্যায়ে দাড়িয়ে। আমার ব্লাড ক্যান্সার। যেই দিন এটা ধরা পেরেছে সেই দিন আমি বুঝতে পেরেছি এটা তোর সাথে করা অন্যায়ের ফল। তারপর থেকে ৬ মাস ধরে তোকে খুজে চলেছি। অনেক খুজেছি। বিয়েতে তোকে দেখে কিছুটা চিনেছিলাম। তারপর আজ এই আশিক ভাইয়া বলল তুই ফিরে এসেছিস। তাই এলাম তোর কাছে ক্ষমা চাইতে। তুই ক্ষমা না করলে যে আমি মরেও শান্তি পাবো না।

- আমাকেও ক্ষমা করে দে বাবা। আমি সেইদিন তোর কথা শুনতে চাই নি। সেইদিন যদি তোর কথা শুনতাম তাহলে আজ এইদিন দেখতে হতো না। (বাবা)
- আমাদের ক্ষমা করে দে। আমাদের মেয়ের জন্য আজ তোর এই অবস্থা। (চাচা)
- ইয়াছিন আজ সবাই তাদের ভুল বুজতে পেরেছে। আর সময় নষ্ট করিস না। (আসিক)
- তুই সবাইকে বলেছিস আমি এইখানে আছি? (আমি)

- তোকে কষ্ট পেতে দেখলাম। আমার যে বন্ধু সবাইকে হাসাতো আজ সে হাসতে ভুলে গেছে। যে সব সময় কথা না বলে থাকতে পারতো না, আজ সে নিশ্চুপ। যে সব সময় আড্ডাকে মাতিয়ে রাখতো সে আজ তাকে সবার থেকে লুকিয়ে রাখতে চাই। তাই সবাইকে সব কিছু বলে দেয়েছি। (আসিক)
- আজ যদি আসিক ভাইয়া না জানাতো তাহলে আমি কোন দিন সবাইকে সত্যিটা বলতে সাহস পেতাম না। এতদিন অনেক চেষ্টা করেছি সবাইকে সত্যিটা বলার কিন্তু বলা হয়ে উঠেনি। ভয় পেতাম। কিন্তু আজ তোর খোজ জানার পর সেটা চলে গেছে। তাই আজ সবাইকে সত্যিটা বলে দিয়েছি। (শান্তা)


সবাই ক্ষমা চাওয়ার পরেও ভিতরে অভিমানটা রয়ে গেছে। এত গুলো বছর বিনা-অপরাধে শাস্তি পেয়েছি। যে দোষে আজ আমি অপরাধি এটা ভেবে আর অভিমান করে থাকব না। এমনিতে অনেক গুলো সময় নষ্ট হয়ে গেছে। এখন অভিমান করে থাকলে আরো সময় নষ্ট হয়ে যাবে।

আমি দেখলাম আসলে অনেক সময় নষ্ট হয়ে গেছে আর করতে চাই না। তাই সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম। শান্তা আমার সাথে যে অন্যায় করেছিল ক্ষমা থেকে আর বড় কোন প্রতিশোধ হয়তো পৃথিবীতে আর নেই। সবাইকে নিয়ে আবার নতুন করে শুরু করবো।

-জান্নাতি, নিলা, আসিক, ওরা চলে গেল জান্নাতিদের বাড়ি আর আমরা চলে আসলাম আমাদের বাড়ি।

তিন দিন পর আমার আর জান্নাতির বিয়ে। বাড়িতে সবাই সবার কাজে ব্যাস্ত, কিন্তু শান্তা ছাড়া। শান্তা সব সময় আমার পাশে থেকে। কাল আমাদের বিয়ে তাই আজ আমার পরিবার এবং জান্নাতির পরিবার সবাই একসাথে শপিং করতে এসেছি, শপিং শেষ করে সবাই যে যার বাড়ি গেলাম।

- আজ আমাদের বিয়ে হলো, বড় ধরনের অনুষ্ঠান না হলেও বেশ জাকজমক ভাবেই বিয়ের কাজ শেষ হয়েছে। আমি এখন ছাদের এক কোনে দাড়িয়ে আকাশের পানে তাকিয়ে সিগারেটের ধুয়া ওড়াচ্ছি....

আপনারা ভাবছেন বাসর রাতে এই কাজ কেন করছি! তো চলুন বিষয়টা জেনে আসি....

- আজ আমার সেই প্রিয় মানুষটার কথা খুব বেশি মনে পড়ছে, আমাদের কত স্বপ্ন ছিল এই রাতটিকে ঘিরে। কিন্তু আমি রাতটি ঠিক পেলাম শুধু প্রিয় মানুষটি নেই সে এখন অন্য কারো বুকে। কেমন আছো তুমি লিজা? হয়তো অনেক ভালো আছো? তোমার সাথে কাটানো অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে তাই না। জানো এই পাগল মনটা আজও তোমায় ভুলতে পারেনি। মাঝে মাঝে খুব জানতে ইচ্ছে করে তার কাছে কি তুমি সত্যি খুব সুখে আছো? সেকি আমার থেকেও বেশি ভালোবাসে। সেকি আমার মত করে তোমাকে পাগলামিতে মাতিয়ে রাখে। জানো এখন হাসতে ভুলে গেছি, আগের মত আর পাগলামি করি না। যেখানে থাকো ভালো থেকো, কোন অভিযোগ রাখিনি। শুধু মোনাজাতে বলতে চাই তুমি সুখে থেকো।

- তুই এখানে দারিয়ে আছিস? আর ওদিকে ভাবি কখন থেকে তোর জন্য অপেক্ষা করছে (ছোট বোন মাইশার কথায় ধ্যান ভাঙ্গলো)
- উমম, হুম, তুই যা আমি আসছি।

আমি এখন বাসর ঘরের সামনে., ভাই আমি কি ভিতরে যাবো নাকি? আসলে প্রথম বিয়ে তো তাই কিছু বুঝতে পারছি না দ্বিতীয় বার ঠিক হয়ে যাবে।
.
- ঘরে ডুকলাম, দেখি বউ আমার ইয়ায়ায়া বড় একটা ঘোমটা দিয়ে বিছানার মাঝে বসে আছে, আমাকে দেখে খাট থেকে নেমে এসে পা ধরে সালাম করে নিল।
- চলো দুরাকাত নফল নামাজ আদায় করি । (আমি)
নামাজ পরে আমি শুতে যাবো তখনি বলতাছে,  
- আজ আমরা ঘুমাবো না (জান্নাতি)
- আমি তো রিতি মত অবাক এই মেয়ে বলে কি ঘুমাবে না কিন্তু কেন...?
- আমার অনেক দিনের স্বপ্ন এই রাতটা নিয়ে, আজ আমরা সারা রাত গল্প করে কাটিয়ে দিব (জান্নাতি)
- কিন্তু গল্প তো আমরা কালকের রাতেও করতে পারি...(আমি)
- আমি বলছি গল্প করব তো আজকেই গল্প করবো (এটা বলে খাট থেকে আমাকে টেনে বারান্দার বেলকুনিতে নিয়ে যায়)
ওমা একি এখানে এত সুন্দর করে কে সাজিয়েছে।

- ওই দিকে তাকিয়ে দেখেন চাঁদটিকে কত সুন্দর লাগছে, আমাদেরকে মিটি মিটি আলো দিয়ে রেখেছে।
- চাঁদ তুমি যেমন রাতকে ভালোবাস, আমিও তেমনি এক জনকে ভালোবাসি। আকাশ সমান ভালোবাসা নিয়ে আমি তার সামনে দারিয়ে আছি। তুমি চোখ খুলে দেখ ভালোবাসার সাগর নিয়ে দারিয়ে আছি আমি, কি বলবে না তুমি I love you too (জান্নাতি)

-তুমি কি হবে আমার বেঁচে থাকার হাসির কারন? তুমি কি হবে আমার ফুট ফুটে সোনার টুকরো মেয়ের আম্মু? তুমি কি হবে আমার আধার রাতের আলো? কথা গুলো শেষ করে জান্নাতিকে কোলে তুলে বেল্কুনি থেকে এনে বিছানায় ফেলে দিলাম।
.
- এই আপনি কি করছেন! উমমমউম্ম...
কথা শেষ করার আগেই জান্নাতির ঠোট আমার দখলে নিয়ে নিলাম, এভাবে দুজন হারিয়ে গেলাম ভালবাসার সাগরে। থাক না ওরা ওদের ভালোবাসা নিয়ে।ওদের জন্য না হয় আমরা একটু দোয়া করব।

<<<<<<<<<<<< সমাপ্ত >>>>>>>>>>
যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (১১)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (১১)



আমার কাধ থেকে জান্নাতিকে সরিয়ে রুমে চলে আসলাম। সারা দিনের ক্লান্তি ভরা শরীর নিয়ে বিছানায় গা মেলিয়ে দিতে না দিতেই জান্নাতি রুমে হাজির....

- এই যে মিষ্টার আফ্রিকান এনাকোন্ডা   এটা কি হলো...??
- কোনটা কি হলো...?(আমি)
- গাড়ি থেকে নামার সময় আমাকে সাথে করে আনলেন না কেন..??
- কেন তুমি কি কচি খুকি না কি যে তোমাকে কলে করে নামিয়ে আনবো? আর কি যেন বলছিলে আমি আফ্রিকান এনাকন্ডা নাহ...! আমি এনাকোন্ডা হলে তুমি পেত্নি, শাঁকচুন্নি, ডাইনি বুড়ি....
- কিহ, আমি পেত্নি, শাঁকচুন্নি, ডাইনিবুড়ি?
- তা নয়তো কি, তুমি আসলে এক নাম্বার শাঁকচুন্নি...
-ওই, হুলু বিড়াল, লালবাদর, আফ্রিকান এ্যানাকোন্ডা, তুই আমাকে শাঁকচুন্নি বললি! আমি শাঁকচুন্নি নাহ (কথা গুলো বলেই ৩৬০ ডিগ্রী এ্যাঙ্গেলে, অ্যাষ্টকেট পাথরের মত ৫০০০ গতিবেগ নিয়ে আমার ওপর ঝাপিয়ে পড়লো।

- আমি জান্নাতির হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য উল্টো হয়ে জান্নাতিকে বিছানার ওপর দুই হাত চেপে ধরলাম, কিন্তু আমার এমন লাগছে কেন! নিজে কে কন্ট্রোল করতে পারছি না কেন, জান্নাতিকে বিছানায় চেপে ধরায় এতোটা কাছে গিয়েছি যে জান্নাতির মুখের গরম নিশ্বাস আমার মুখে পড়ায় আমি কেমন জানি পাগল হয়ে যাচ্ছি। রীতিমতো জান্নাতি চুপ হয়ে গেছে আমাকে এই রকম হতে দেখে, জান্নাতির নিশ্বাস ধীরে ধীরে ঘন হয়ে আসছে। আমি জান্নাতির ঠোটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, জান্নাতি চোখ বন্ধ করে ফেলে। গোলাপের পাপড়ির মত ঠোট জোড়া কাপছে, আমি যেই জান্নাতির ঠোটের সাথে ঠোট লাগাব অমনি পাশে থাকা ফোনটি বেজে ওঠে...

জান্নাতি আমাকে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়, সালার ফোন টাও আর বাজার সময় পেল না। ফোনে তাকিয়ে দেখি ইমদাদুলের ফোন...

- হ্যালো, কেমন আছিস...?
- হুম, ভালো, তুই কেমন আছিস..?
- এই তো ভালো....!!
- তা নিজের গ্রামে গিয়ে আমাদের ভুলে গেলি নাকি...??
- আরে তোদের কি ভুলে থাকা যায় বল...!!
- হুম, তা ঢাকা আসবি কবে...??
- হুম যাবো এখানে কিছু কাজ আছে কাজ সেরে যাবো (আসলে কাজ বলতে জান্নাতি আমাকে ওর প্রতি এত টাই আসক্ত করে নিয়েছে যে ওকে ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে মন চাইছে না।)
- ওকে, ভালো থাকিস...বাই...
-হুম,বাই।

ইমদাদুল সাথে কথা বলে ফোনটা রেখে সারা দিন জান্নাতির সাথে কাটানো সময় গুলো ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি মনে নেই....

পরদিন.....
বিয়ের আমেজ শেষ হয়ে গেলে আসিক আর নিলা ঢাকা ফিরে গেল। আমি বগুড়া আসলাম। কারন ওখানেই আমার পরিবারের সবাই। জান্নাতির পরিবারও এইখানে থাকে আর জান্নাতি বগুড়া একটা কলেজে পড়ে। আমি একটা বাসা ভাড়া নিলাম যেটা আমার পরিবারের বাসা থেকে অনেকটা দুরে। আর জান্নাতিদের বাসার পাশে। এজন্য প্রতিদিন বিকালে জান্নাতিকে নিয়ে  ঘুরতে যেতে হয়। মা প্রায়ই এখানে আসে আর মাইশাও। এরা দুইজন ছাড়া আমার পরিবারে আর কেউ জানে না আমি এইখানে আছি। বাসায় ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন ফোনটা বেজে উঠলো। দেখি জান্নাতি ফোন দিয়েছে..

- কোথায় আপনি?
জান্নাতি আমাকে এখনও আপনি করেই বলে। ওর নাকি আপনি করে বলতেই ভালো লাগে। তাই আমিও আর না করিনি।
- কেন বাসায়।।
- আজ বিকালে ঘুরতে যাবো।(জান্নাতি)
- প্রতিদিন তো যাই। আজ না গেলে হয় না।
- কেন??(জান্নাতি)
- আজ না আমার যেতে ইচ্ছা হচ্ছে না।
- আসতে বলছি আসবেন। না আসলে হাত-পা বেধে নিয়ে আসবো। (রেগে)
- এতে রাগ করছো কেন?? আমি আসবো।
- মনে থাকে যেন।
- ওকে।

- জান্নাতি যে সময় বলেছিল সেই সময় ওর বাসায় কাছে গেলাম। দেখলাম বাইরে জান্নাতি দাড়িয়ে আছে..
- চল কোথায় যাবে??
- আজ একসাথে ঘুরবো, আর কিছু জিনিস কেনার আছে??
- আচ্ছা চল।
আমরা সারা বিকাল ঘুরলাম। ওকে বাসায় পৌছে দিয়ে আমি ফিরে এলাম। রাতে আসিক ফোন দিল...
- হ্যালো কেমন আছিস??
- ভালো তুই। (আসিক)
- আমিও।
- যার জন্য ফোন করেছিলাম কাল আমরা তোর ওইখানে আসবো।(আসিক)
- কখন?
- ওই বিকালের দিকে। (আসিক)
- ওকে।


ফোনটা কেটে দিয়ে শুতে যাবো তখনি জান্নাতির ফোন

- এতক্ষন কার সাথে কথা বলছিলে?? (জান্নাতি)
- আমার বন্ধুর সাথে।
- বন্ধু না বান্ধুবী?
- আরে বন্ধু।
- সত্যি তো।
- বিশ্বাস না হলে আসিক কে ফোন দিয়ে জিঙ্গাসা করো, ও ফোন দিয়ে ছিল কিনা।
- দুলাভাই ফোন দিয়ে ছিল কেন??
- বলল কাল আমার এইখানে আসছে।
- কখন আসবে।
- বিকালে।
- আচ্ছা।
জান্নাতির এ সাথে আরো কিছুক্ষন কথা বলে ঘুমিয়ে গেলাম।

পরের দিনঃ
দুপুরের দিকে কলিংবেল বাজলো। আমি গিয়ে দেখি জান্নাতি।
- জান্নাতি, তুমি, এই সময়??
- হ্যা, কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি?
- না সমস্যা হবে কেন??
- আজ আপনার এইখানে আপুর আসার কথা তাই আসলাম।
.- ও, তা হাতে এইগুলো কি??
- আপনার জন্য আমি নিজে রান্না করে খাবার নিয়ে এসেছি। সরুন তো ভিতরে যেতে দিন।
ভিতরে আসার পর
- যান গিয়ে ফ্রেস হয়ে আসুন। আমি খাবার বেড়ে দিচ্ছি।

আমি গিয়ে ফ্রেস হয়ে এলাম। তারপর আমি আর জান্নাতি একসাথে  দুপুরের খাবার খেলাম। বিকাল পেরিয়ে গেছে। কিছুক্ষন পর সন্ধ্যা হয়ে আসবে তবু আসিক এল  না।

- আপুরা এখনও এল না কেন?
- আমিতো জানি না। ফোনটাও বন্ধ।
- আরেক বার চেষ্টা করুন।
- ওকে করছি।

ফোন দিতে যাবো এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠলো।
- মনে হয় এসে পড়েছে।
- আমি দেখছি। (জান্নাতি)
জান্নাতি দরজা খুলতে গেল। কিন্তু ও দরজা খুলে দাড়িয়েই আছে।

- কি হল জান্নাতি, আসিক এসে পড়েছে?
.
জান্নাতির কোন উত্তর না পেয়ে আমি দরজার কাছে গেলাম কে এসেছে দেখার জন্য। আমি যেই ওখানে গেছি একেবারে চমকে গেছি! কারণ দরজা খুলেই দেখি শান্তা। ওকে দেখে শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। আবার কোনো সমস্যা বাঁধাবে না তো। অনেক কিছু হারিয়েছি ওর জন্য। আজ যা পেয়েছি যদি আবার হারাই


............To Be Continue
যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (১০)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (১০)



অনেক দিন পর মা-বোনকে কাছে পেয়ে টুকটাক কথা বলছি আর হাসাহাসি, কিন্তু কথায় আছে না " যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়"। আমরা কথা বলছিলাম। তখন একটা মেয়ে আসলো। এসে মাকে বলল.....

- চাচি তোমাকে চাচু ডাকছে। সেই কখন থেকে খুজছে। (মেয়েটা)
ওকে দেখে মা চমকে গেল। আমি চিনার চেষ্টা করছি।
- শান্তা আপু তুমি যাও, আমরা আসছি। (মাইশা)

এবার বুজতে পেরেছি এটা শান্তা। ভাগ্য ভালো যে এ আমাকে চিনতে পারেনি। না হলে আবার কোন সমস্যা বাধিয়ে দিত। শান্তা কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। তারপর বলল....
- ইনি কে?
- শান্তা চিনতে পারে নি। আমাকে বাচানোর জন্য মাইশা বলল
- ইনি আমার বান্ধবীর হাজবেন্ড আর এই আমার বান্ধবী (জান্নাতিকে দেখিয়ে) আমরা ওনাদের সাথে কথা বলছি। কথা বলে আসছি। (মাইশা)
- ওনারা কি বরপক্ষ?? (শান্তা)
- না, উনি কনের ভাইয়ের বন্ধু। এখন যাও, মনে হয় না আর কিছু জানতে হবে। (মাইশা)
- আমার জানার ইচ্ছা নেই। আমিতো শুধু চাচিকে ডাকতে এসেছিলাম। (শান্তা)

শান্তা চলে গেলে আমরা হাফ ছেড়ে বাচলাম।
- আমি যাই তোর বাবা দেরি দেখলে আবার রাগ করবে। (মা)
- ঠিক আছে মা।

মা চলে যাওয়ার পর আমি মাইশার কান ধরে বললাম, কিরে ও (জান্নাতিকে দেখিয়ে) আমরা বউ না। তুই মাকে মিথ্যা বললি কেন??
- আ.. ভাইয়া ছাড়। তুই আর কতদিন একা থাকবি। তাই ভাবলাম তোর একটা ব্যবস্থা করে দেই। এখন মা জানে জান্নাতি তোর বউ। এখন ওকে তো তোর বিয়ে করতেই হবে। আর ওকে আমার ভাবি হিসাবে পছন্দ। (মাইশা)

এটা বলেই দৌড়ে পালালো। মাইশা পালিয়ে গেল। এবার জান্নাতির পালা।
- এই তুমি কেন মাকে বলল তুমি আমার বউ?
- হলে সমস্যা কোথায়?? (জান্নাতি)
- কি বলছো এইসব।
- যা বলার সোজাসুজি বলছি, আমি আপনাকে ভালোবাসি। (জান্নাতি)
- জান্নাতি এইসব তোমার আবেগ।(আমি)
- না এইসব আবেগ না। আজ পর্যন্ত কাউকে দেখে আমার হার্টবিট বাড়েনি। প্রথম যেদিন আপনাকে দেখেছিলাম সেইদিন হয়েছিল। যদি আবেগ হতো তাহলে আগে কাউকে ভালো লাগতো কিন্তু লাগেনি। (জান্নাতি)
- জান্নাতি বুঝতে পারছো না কেন??
- বোঝার কিছু নেই। আমি বুঝতে পেরেছি আপনিও আমাকে পছন্দ করেন।
- মানে এইসব কি বলছো??


- আমি আপনার আর দুলাভাইয়ের কথা শুনেছিলাম। সেটা থেকে এটা বুঝতে পেরেছি আপনি আমাকে পছন্দ করেন। আর আমাকে যদি পছন্দ নাই করতেন তাহলে আমি যখন আপনার হাত ধরে নিয়ে এলাম ছাড়ানোর চেষ্টা কেন করলেন না! আর আমার দেওয়া পাঞ্জাবীই বা কেন পারলেন?

জান্নাতির কথায় আমার মুখ বন্ধ হয়ে গেল। সত্যি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। ওর প্রতিটা দুষ্টুমি ওর প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছে। ওর সাথে লিজার অনেকটা মিল। কিন্তু লিজার মতো যদি ও মাঝ রাস্তায় ফেলে চলে যায়। অনেক রাস্তা একা হেটে এসেছি। ওর হাত ধরে নতুন রাস্তা হাটার ইচ্ছা আছে। কিন্তু ভয় হয় হারানোর।

- আমাকে ভালোবেসে ভুল করো না। কারণ যে আমাকে ভালোবাসে সে ভুল করে।
- আমি লিজা নাকি। আমি ওনার মতো নই যে বলব আপনাকে ভালোবেসে ভুল করেছি। আর মাঝ রাস্তায় ফেলে চলে যাব।
- তবু....
- ভয় পাবেন না মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি আপনাকে ছেড়ে যাবো না। এখন আমি একটা জিনিস দিতে চাই।
- কি??
- জান্নাতি এসে আমার গালে চুমু দিল। তখনই ওখানে আসিক আর নিলা চলে এলো।
- বাহ! ভীষন এগিয়ে গেছস! ডুবে ডুবে আমার গাছের জল খাচ্ছিস অথচ আমাকেই লুকিয়ে রাখছিস! (আসিক)

আসিক আর নিলা এসে যাওয়াতে সমস্যায় পড়ে গেলাম। মনে মনে জান্নাতির উপর রাগ উঠছে। কি যে করে না। লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। ওদের দেখে জান্নাতি আমার পিছনে লুকালো।

- তুই এখানে?? (আমি)
- আমি যখন জানতে চাইলাম তোর আর জান্নাতির মধ্য কি চলে তখন বললি কিছু না। এখন সবার থেকে দুরে এসে দিব্বি প্রেম করছিস? (আসিক)
- জান্নাতি মনে হয় বাবা-মাকে বিষয় টা বলতে  হয় তুই প্রেম করে বেড়াচ্ছিস। (নিলা)

নিলার কথা শুনে জান্নাতি কেঁদে দিবে এই রকম বস্থা। আমিও ভাবছি যদি জান্নাতির বাবা-মা জানতে পারে তাহলে আরেক সমস্যা হবে। জান্নাতি ভয় পেয়ে আমার হাতটা শক্ত করে ধরলো।

- বাবা-মাকে বলতে হবে খুব তাড়াতাড়ি ভাইয়ার সাথে তোর বিয়েটা দিয়ে দিতে। (নিলা)
- ধন্যবাদ আপু। (জান্নাতি)
- এখন এত খুশি হতে হবে না। তুই যেহেতু ভাইয়াকে মাকে বলেছিস তুই ভাইয়ার স্ত্রী সেহেতু তোর সাথে ভাইয়া বিয়ে দিতেই হবে। (নিলা)
- তোকে কে বলল(জান্নাতি)
- মাইশা... এজন্যই খুজছিলাম। (নিলা)
- আরে না, ইয়াছিন তোকে খুজছিলাম অন্য এক কাজের জন্য। (আসিক)
- কি??
- তোর চাচাতো বোন শান্তা এসে আমাকে  জিজ্ঞাসা করছিল, তুইকে, তোকে কবে থেকে চিনি। আরো অনেক প্রশ্ন। তোকে মনে হয় চিনতে পেরেছে। (আসিক)
- কি বলছিস এইসব??
- হ্যা সবধানে থাকতে হবে।
- ঠিক বলেছিস।
- এখন চল খাওয়া-দাওয়া করে নিই। আবার ফিরতে হবে তো। (আসিক)
- চল।

আমরা সবাই একসাথে খেতে বসলাম। কিন্তু আজ জান্নাতির দুষ্টুমি আরে বেড়ে গেল। শান্তাকে দুয়েকবার দেখলাম পাশ দিয়ে ঘুরাঘুরি করতে। একবার বাবা সামনে পড়েছিলাম। কিন্তু খুব কষ্টে বেঁচেছি। আমি শুধু বলছিলাম যত তাড়াতাড়ি বরের বাড়ি থেকে চলে আসা যায়। অবশেষে সব কাজ শেষ হলো। আমরা ফিরে এলাম। রাস্তায় আসার সময় জান্নাতি আমার কাধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে এসেছে। ফিরতে রাত হয়ে যায়।


........... To Be Continue

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৯)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৯)



আমার থেকে ওয়াদা নিয়ে মাইশা চলে গেল। অনেক দিন পর বোনটাকে দেখে নিজেকে বেশ হাল্কা লাগলো। আবার কাল মার সাথেও কথা বলতে পারবো।দারিয়ে দারিয়ে কথা গুলা ভাবছিল।হঠাৎ করে জান্নাতি আমার হাত ধরে টানতে শুরু করলো।
- কি হচ্ছে টা কি, তুমি এভাবে আমার হাত ধরে টানতাছো কেন??
- চুপপপ, কথা না বলে আমার সাথে আসেন।



আমাকে হাত ধরে বাড়ির ভিতর নিয়ে আসলো। দেখলাম অনেক মানুষ এসে। কিন্তু জান্নাতি সেই যে আমার হাত ধরেছে ছাড়ার কোন নাম গন্ধ নেই। এদিকে সবাই আমাদের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। ওখানে থাকা কয় জন আমাদের কাছে এসে-
- কিরে জান্নাতি এ কে দুলাভাই নাকি। ওদের মধ্যে থাকা একটি মেয়ে কথাটি বললো তার সাথে বাকি সবাই হাসতে লাগলো।
- হুম তোরা যেমন টি ভাবিস। (জান্নাতি)
- জান্নাতির কথা শুনে আমার রাগ বেড়ে গেল। ওখানে আর এক মুহূর্ত থাকলাম চলে আসলাম। আমি চলে আসার পর-

কিরে জান্নাতি দুলাভাই ওই রকম কেন রে?
- ও তোরা কিছু মনে করিস না। ও একটু ওই রকমী। (জান্নাতি)

এদিকে বিয়ের কাজ শেষ বর বউকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। সারা দিনের ক্লান্তি তাই সবাই যে যার রুমে ঘুমাতে গেলাম। কাল আবার মেয়ে পক্ষের লোক ছেলের বাড়ি যাবে।

পরের দিনঃ....
রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর জন্য খুব ভোরেই ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। এখনো সূর্য উদয় হয়নি। পূর্ব আকাশে গাছের পাতার আড়ালে সূর্য মামার কিছুটা দেখা মিলেছে। বাড়ির ভিতর দেখলাম সবাই রেডি হচ্ছে ছেলের বাড়ি যাবে বলে। তাই আমিও রেডি হতে গেলাম।

কিন্তু রুমে এসে ভাবছি আজ কি পড়ে যাব। তখনি জান্নাতির দেওয়া পাঞ্জাবির কথা মনে পড়লো। জান্নাতি তো দুইটা পাঞ্জাবি দিয়েছে। আজ না হয় নিল কালারের টা পরবো।

আমি পাঞ্জাবি টা পরে নিলাম। রুম থেকে বের হতে না হতেই আসিক সামনে এসে দাড়ালো।

- আচ্ছা তোর হয়েছে টা কি বলতো?(আসিক)
- কই আমি তো ঠিকই আছি।
- নাহ কিচ্ছু ঠিক নেই। আচ্ছা তোর আর জান্নাতির মধ্যে কি হয়েছে রে। (আসিক)
- কই। কিছু তো হয় নি।
- কাল দেখলাম তোর ড্রেস আর জান্নাতির ড্রেস এক। আবার বিয়ে বাড়িতে আসা লোকেদের বিনা পয়সায় সিনামা দেখালি। দুজন পাশাপাশি হাত ধরে দাড়িয়ে ছিলি। আজ আবার ম্যাচিং করা ড্রেস। (আসিক)
- আ..আ.আমি  কি করে বলবো!
- আমি বুঝতে পেরেছি। তুই যদি চাস তাইলে আমি নিলা আর লিলার বাবা মা কে কথাটা বলতে পারি।
- দেখ আসিক তুই ভালো করে জানিস আমি লিজা কে ভালোবাসি। এই মন জুড়ে শুধু লিজা আর কেউ না। আমি কোন ভাবেই পারবো না।
- তুই লিজাকে ভেবে আর কতো কষ্ট করবি বল? তার চেয়ে বরং সব ভুলে নতুন করে শুরু কর। আর জান্নাতি মেয়েটাও অনেক ভালো।
- আমি আর কিছু বললাম না আসিকের কাছ থেকে চলে আসলাম।

ওমা একি! পরী আসলো কোথা থেকে? মনে হয় আকাশ থেকে ভুল করে নেমে এসেছে! আমি সিড়ি দিয়ে নামছিলাম আর তখনি দেখি আমার সামনে একটা নীল পরী, সবার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে। এই পরি টা আর কেও না জান্নাতি। হ্যা জান্নাতি নীল একটা শাড়ী পরেছে চোখে কাজল হাল্কা মেকাপ, হাল্কা লিপিস্টিক, আর ম্যাচিং করা নীল কাচের চুরি, এ যেন সত্যি একটা নীল পরী।

- ভাইয়া তুমি এখানে ওই ভাবে দাড়িয়ে আছো কেন সবাই তো গাড়িতে ওঠছে। কথা গুলো বলছে আর মিটি মিটি হাসছে। (নিলা)
- অহ হুম, হ্যা যাচ্ছি। নিলার কথায় ঘোর কাটলো। কেন জানি এক মুহূর্তে আমি কোথায় যেন হারিয়ে গেছিলাম। (এদিকে নিলার কথায় বেশ লজ্জাও পেলাম। মাথা চুলকাতে চুলকাতে চলে আসলাম)
- বাইরে এসে দেখলাম অনেক গুলো মাইক্রো রাখা আছে। ভাবলাম যে কোন একটায় ঢুকে পড়ি। কাল তো জান্নাতির জন্য একটুও শান্তিতে থাকতে পারিনি। এটা ভেবে মাইকোতে ওঠতে যাব তখনি...

- ভাইয়া তুমি আমাদের সাথে আমাদের গাড়িতে যাবে (নিলা)

কি আর করার, হাজার হলেও বোন। তাই নিলা যে গাড়িতে যাবে সেই গাড়িতে পিছনে ওঠে আমি তো অবাক একি জান্নাতি এখানে কেন? এদিকে সামনে আসিক আর নিলা। এখন কি করবো! ভালো না লাগা স্বত্ত্বেও থাকতে হলো। বরের বাড়ির সামনে এসে আমাদের গাড়ি থামলো। গাড়ি থেকে নামতে না নামতেই জান্নাতি এসে আমার হাত শক্ত করে ধরলো যেন আমি কোথাও হারিয়ে না যায়।
- কি করছোটা কি হ্যা?
- কই কিছু তো করি নাই। (জান্নাতি)
- এভাবে হাত ধরেছো কেন।
- ছোট বাচ্চা, অনেক মানুষ এসেছে হারিয়ে যেতে পারেন।
- আমাকে দেখে কি তোমার বাচ্চা মনে হয়।
- হুম তা নয়তো কি।
- দেখো সবাই মনে করবে যে আমি তোমার বয়ফ্রেন্ড আর নয়তো স্বামী।
- আমার কোন আপত্তি নায়, হলে হতে পারেন। (আস্তে আস্তে বললো)
- কি কিছু বললে।
জান্নাতি আর কোন কথা না বলে আমার হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ও বাড়িতে ভিতরে না গিয়ে বাড়ির ওল্টা দিকে যাচ্ছে।

- এই তুমি এই দিকে যাচ্ছো কেন? সবাই তো ওই দিকে যাচ্ছে।
- চুপ কোন কথা না বলে আমার আসুন (জান্নাতি)



ও আল্লাহ গো এই মেয়ের হাত থেকে আমাকে বাঁচাও। এই মেয়ে আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। আমি বাচ্ছা ছেলে আমাকে কি আবার বিক্রি করে দিবে নাকি। আমি এখনো বিয়ে করি নাই আমি এতিম আমার বাপ মা ছাড়া কেও নায়। কথা গুলা মনে মনে বলছি আর দোয়া পড়ছি। কিন্তু সামনে তাকিয়ে দেখলাম কিছু দূরে দুই জন মহিলা দাড়িয়ে আছে।

আর একটু সামনে যেতেই বুঝতে পারলাম দুজন আর কেও না, আমার বোন মাইশা আর তার সাথে আমার মা দাড়িয়ে আছে। আমি ওখানে যেতে না যেতেই মা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল। বাবা তুই এতদিন কোথায় ছিলি বল। আমার কথা কি তোর মনে পরে না? কি করে এতদিন তুই আমাকে ছেড়ে থাকলি?

আমি মাকে জড়িয়ে শুধু নীরবে কেঁদে যাচ্ছি। কি বলবো ভাষা খুজে পাচ্ছি না। যাদের ছাড়া এক মুহূর্ত আমি থাকতাম না। সেই আমি কি করে ৮ বছর দূরে থাকলাম!
- বাবা তুই কথা দে, আমাকে ছেড়ে আর যাবি না বল। (আমার গালে মা দুটি হাত রেখে কথাটি বললো)
- মা আমি তোমাদের রেখে কোথায় যাবো বলো?
- তাইলে তুই এত দিন আসলি না কেন? আমি আর মাইশা তোকে কত খুজেছি
- আর খুজতে হবে না মা দেখ আমি ফিরে এসেছি।
এভাবে মার সাথে অনেক কথা হলো। এদিকে মা আমার সাথে জান্নাতিকে দেখে আমাকে জিজ্ঞেস করলো।
- বাবা এই মেয়েটা কে?

আমি বলার আগেই জান্নাতি বলে দিলো,,,
- মা আমি আপনার ছেলের বউ (জান্নাতি)
জান্নাতির কথা শুনে তো আমি আকাশ থেকে পাতালে পড়লাম থুড়ি জমিনে পড়লাম!

- আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল আমার ছেলের বউ আমি নিজে পছন্দ করে আনবো। কিন্তু তা আর হলো না। তবে আমার ছেলের পছন্দ আছে দেখছি আমি এই রকমি একটা বউমা চেয়েছিলাম। (মা)
- কি যে বলেন না মা। আপনার ছেলের পছন্দ আছে না ছাই আছে। শুধু আমাকে ছাড়া একটা পছন্দ ভালো না। (কথার মাঝে জান্নাতি মাইশাকে চোখ মারল)
- হ্যা মা ভাবি ঠিকই বলেছে ভাইয়ার কোন পছন্দ নায় (মাইশা)

যাহ সালা! আমার বোন টাকেও ওর নিজের দলে করে নিল! আমি দাড়িয়ে দাড়িয়ে দর্শকের মতো ওদের কথা শুনছিলাম। কিন্তু হঠাৎ কোথা থেকে যেন শান্তা এসে


.......To be continue
যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৮)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৮)



আজ বিয়ে সবাই সবার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আসিককে সকাল থেকে খুজেই পাচ্ছি না। তাই আসিককে খুজতে ছিলাম। দেখলাম সবাই সাজু গুজু নিয়ে ব্যাস্ত। হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খেলাম...

- এই কেরে? চোখ কি হাতে নিয়ে ঘুরতাছিস চোখে দেখিস না। 
- সরি সরি! আমি আসলে দেখতে পাই নি! . 
- ওহ আপনি, না তাইলে ঠিক আছে। (জান্নাতি) . 
- তা সবাই তো সাজু গুজু নিয়ে ব্যস্ত। আপনি কেন এখন রেডি হচ্ছেন না। . 
- বাহ আজ সুর্য কোন দিক থেকে ওঠছে। যার সাথে আগে থেকে কথা বললে কথা বলতো না আজ সেই নিজ থেকে কথা বলছে। (জান্নাতি
- না মানে! দেখলাম সবাই সাজ গোজ নিয়ে ব্যস্ত তাই বললাম। 



এটা বলে আমি ওই খান থেকে চলে আসলাম। বাড়ি ভর্তি মেহমান। বরযাত্রির আসার সময় হয়ে যাচ্ছে তাই ভাবলাম আমিও রেডি হয়ে নিয়। কিন্তু কি পড়া যায়, কি পড়ি। ভাবতে ভাবতে সুট কোর্ট টা বের করলাম। তখনি জান্নাতি বলে উঠলো এটা বাঙালির বিয়ে এখানে বিদেশি সুট কোর্ট পরবেন না। এই বলে বিছানার ওপর দুইটা প্যাকেট রেখে বললো। - এখানে দুটো পাঞ্জাবি আছে। একটা নীল আর একটা কালো, যে কোন একটা পড়বেন। এই বলে জান্নাতি রুম থেকে চলে গেল। 
- পাঞ্জাবি দুটো হাতে নিয়ে ভাবছি কোনটা পরা যায়। উফ ভেবে লাভ নাই আজ কালো টাই না হয় পড়ি। পাঞ্জাবি পড়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসলাম। দেখি আসিক আমার দিকে আসতাছে।
- বাহ পাঞ্জাবিতে তোকে বেশ ভালোয় মানিয়েছে। (আসিক) 
- দেখতে হবে না পাঞ্জাবিটা কার দেওয়া। (জান্নাতি) 
- তুমি ওকে এটা পড়েতে দিয়েছো?? (আসিক) 
- হুম। তোমার বন্ধু তো সুট কোর্ট পড়তেছিল। কিন্তু তুমি বলো বাঙালির বিয়েতে কি ওই সব মানায়। (জান্নাতি) 
- কিন্তু তুই পাঞ্জাবি কিনলি কখন।?? (আসিক) 
- কাল কিনেছি। তুমি আর আপু যখন প্রিয়ার জন্য শাড়ি চুজ করছিলে তখন।(জান্নাতি)
- হুম ভালো করেছিস... আচ্ছা বরের গাড়ি এসে গেছে আমি যাই বলে আসিক চলে গেল। আমিও আসিকের পিছে পিছে চলে আসলাম। তবে জান্নাতিও কালো রং একটা শাড়ি পরেছে হাল্কা মেকাপ চুল গুলো এলোমেলো পাখার বাতাসে উড়ছে সবমিলিয়ে অসাধারন। সবাই বরের গাড়ির দিকে যাচ্ছে, আমি বাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে গেটের দিকে তাকাতেই আমার বুকের ভিতরে ধুক করে ওঠলো। ৮ বছরের সেই অচেনা মুখের আড়াল ভেঙ্গে আজ চেনা মুখ গুলো দেখতে পেলাম। মা-বাবা, চাচা-চাচি সবাই আছে কিন্তু মাইশাকে দেখতে পেলাম না। মা কে দেখলাম অনেক পাল্টে গেছে চুলে পাক ধরেছে। সবাই কে ওই ভাবে দেখে মনে হলো মা-বাবা তো একটা বিয়েতে গিয়েছিল তাইলে এখানে কেন।
- আমার পাশে সেই কখন জান্নাতি এসে দাড়িয়ে আছে বুঝতেই পারি নাই। জান্নাতি কে জিজ্ঞাস করলাম, আচ্ছা বরের পিতার নাম কি??
- আসাদুজ্জামান আসাদ(জান্নাতি)
- তার মানে আসাদ আংকেলের ছেলের বিয়ে? আসাদ আংকেল আর আমার বাবা দুজন বন্ধু। আমি বাড়ির ভিতর থেকে চলে আসলাম। কারণ আমাকে বাবা চিনতে পারলে কেলেংকারি হতে পারে। বাড়ি থেকে একটু দূরে পুকুর পাড়ে এসে বসে আছি।


কিরে তুই এভাবে আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস? তুই বললি কারো সাথে আমাকে দেখা করাবি কই সে?
- আচ্ছা তোর ভাইকে তুই ভালোবাসিস? (জান্নাতি)
- হুম। আমার নিজের চাইতে বেশি। (মাইশা)
- তাইলে তোর সামনে যে মানুষটি দাড়িয়ে আছে তাকে চিনতে পারছিস?
- না কে ইনি??
- তুই যাকে তোর নিজের থেকে বেশি ভালোবাসিস তোর ভাই।

আমি দাড়িয়ে ওদের কথা শুনছি। তবে ওদের কথা শুনে বুঝলাম এই মেয়ে আর কেও না আমার বোন মাইশা।

- মাইশা আমার মুখের দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখলো যে আমার কপালে কাটা চিহ্ন আছে নাকি। ছোট বেলা মাইশার খুন্তির বাড়িতে আমার কপাল কেটে যায় যা এখনো দাগ আছে। মাইশা আর দাড়িয়ে থাকতে পারলো না আমাকে এসে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল। আমিও আর ঠিক থাকতে পারলাম না আমিও কেঁদে দিলাম এই কান্না কষ্টের কান্না নয় এটা এক বোনের হারানো ভাইকে ফিরে পাবার খুশির কান্না।
- ভাই তুই এতদিন কোথায় ছিলি? আমি তোকে কতো খুজেছি। আমার কথা কি একবারো মনে পড়ে না।
- মনে পড়ে দেখেতো ফিরে আসলাম।
- যানিস ভাইয়া তোর কথা পরিবারের কেউ শুনতে চায় না। আর ওই শান্তা সব সময় বাবাকে ওল্টা পাল্টা বলে রাগিয়ে রাখে যেন তুই কোন দিন ফিরে না আসতে পারিস।

অনেক সময় মাইশার সাথে কথা বললাম। মাইশা আমার থেকে ওয়াদা নিয়ে গেল কাল যেন আমি ওই বাড়িতে যায়। সেখানে মার সাথে দেখা করাবে।

- ভাই থাক আমি গেলাম আব্বু মনে হয় আমায় খুজছে।
- আচ্ছা যা। আর হ্যা আমার কথা কাউকে বলিস না।
- আচ্ছা বাই।
আজ ছোট বোনের সাথে দেখা করে অনেক ভালো লাগলো। আমার বোনটা অনেক বড় হয়ে গেছে।
- ধন্যবাদ
- ধন্যবাদ কেন?? (জান্নাতি)
- আমাকে আমার বোনের সাথে দেখা করানোর জন্য।
- বলেছিলাম না দেখা করাবো। তাই এক ভাইয়ের সাথে এক বোনের দেখা করালাম।
- আমি আর কিছু বললাম না। তবে এই ভেবে আমার আনন্দ লাগছে যে কাল মার সাথে দেখা করতে পারবো। অনেক বছর পর মার সাথে কথা বলতে পারবো।



.........To be continue
যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৭)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৭)


কথা গুলো ভাবতে ভাবতে আসিকদের বাড়ি ফিরে এলাম। বিয়ে প্রস্তুতি খুব তাড়াতাড়ি চলছে। আমি দাড়িয়ে দেখছিলাম। তখন একটা ফোন এল।

- হ্যালো কেমন আছিস?? (ওইপাশ থেকে)
- ভালো আঙ্কেল।
- ফিরবি কবে??
- খুব তাড়াতাড়ি।
- দেখা হয়েছে।
- না এখনো হয় নি।
- ভালোবাবে থাকিস।
- বাই



ফোনটা কেটে দেখি পিছনে আসিক দাড়িয়ে।

- কিরে কিছু বলবি।
- কার সাথে কথা বলছিলিস। খুব তাড়াতাড়ি, না এখনও হয় নি। কি বলছিলিস এইসব?
- এই আমার প্রতিবেশি, জানতে চাইছিল কবে ফিরবো।
- তোর প্রতিবেশি বাঙ্গালি?
- কেন অন্যদেশে কোন বাঙ্গালি থাকতে পারেনা।
- পারবে না কেন? ওটা বাদ দে তুই আবার ফিরে যাবি কেন?
- তাহলে কি এখানে তোর বাড়িতে থাকবো।
- আরে আমার মনে হয় এত বছর পর তুই ফিরে এসেছিল সবাই তোকে ক্ষমা করে দিবে।
- আমি কি কোন দোষ করেছিলাম?
- না তা করিস নি। কিন্তু সবার চোখে তুই তো দোষী।
- আমার মনে হয় না।
- আমি তোর পরিবারের সাথে কথা বলি।
- শোন তোকে একটা কথা বলি "আমি যা চেয়েছি তা কখনও পাই নি, আর যা পেয়েছি তা কখননো  চাই নি"। আমিও পরিবার নিয়ে জীবন কাটাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পেয়েছি একা জীবন। সুখের আশা করেছিলাম কিন্তু দুঃখ ছাড়া কিছু পাই না। তাই আর মিথ্যে স্বপ্ন দেখি না।

আমি ওইখান থেকে চলে এলাম। আসিক দাড়িয়ে ভাবছে যে করেই হোক ইয়াছিনকে ওর পরিবারের সাথে মেলাবো। ইয়াছিন অনেক কষ্ট পেয়েছে আর পেতে দিবো না।

সবাই ব্যস্ত শুধু আমি ছাড়া। আকাশে গোধুলি নেমেছে। বরাবর এই সময়ের আকাশটা আমার পছন্দ। তাই আকাশটাকে দেখছি।

- এই সময় আকাশটাকে অনেক সুন্দর দেখা যায়। ঠিক বলছি কিনা। 

পাশে দেখি জান্নাতি। আমি এতটাই মগ্ন ছিলাম যে পাশে কে আছে সেটা দেখতে পাইনি।

- আচ্ছা আপনি কি বরাবরি এত নিশ্চুপ ছিলেন?
- কেন নিশ্চুপ থাকা মানা নাকি?
- না ওটা কেন থাকবে। কিন্তু আপনার আচরন দেখে মনে হয় আপনি এমন কোন সময় পার করে এসেছেন যা আপনাকে নিশ্চুপ করে দিয়েছে।

(আমি অবাক হলাম এই মেয়ে কিভাবে বুঝলো?)

- নিরবতাই সম্মতির লক্ষন। মানে আমি যা বলেছি সব সত্যি। আপনার মনে হয়ত প্রশ্ন আমি কিভাবে বুঝলাম। আমার দাদু বলতেন যারা নিশ্চুপ থাকে তাতে দুইটা কারন থাকে। এক, সে যে ছোট থেকে নিশ্চুপ থাকতে পছন্দ করে। আর দুই, সে যাকে জীবনের কোন এক পার করা সময় নিশ্চুপ করে দিয়েছে। আপনি দুই নাম্বারটা

- সব প্রশ্নের উত্তর থাকে না। সেটা জানার চেষ্ট না করাই ভালো।

সূর্য অস্ত গিয়েছে,, তাই আমিও ফিরে এলাম।

জান্নাতি বুঝতে পেরেছে ওই ঠিক। জান্নাতি ভেবেছিল ইয়াছিন কে জ্বালাবে। কিন্তু নিলার (মানে ওর বোন) কাছে যখন ইয়াছিনের অতীত জানতে পারলো সব চিন্তা বাদ দিল। জান্নাতি শুধু ভাবছে এত কষ্ট নিয়ে কিভাবে বেচে আছে। আজ সকালে যখন নিলা রুমে যায় তখন এই সব জানতে পারে।

- আপু তোর বরের বন্ধু এমন কেন?? এমন ভাব নেয় যেন ওনার মতো কেউ নেই। ওনিই সেরা। (জান্নাতি)
- ভাইয়া মোটেও এমন নয়। (নিলা)
- বুঝিনা তোর এমন কি হয়েছে সব সময় ভাইয়া ভাইয়া করিস। তোর ভাইয়াকে নিজেকে বড় ভাবা বন্ধ করবো। সবার সামনে এমন ছোট করবো না যে কেঁদে কুল পাবে না। (জান্নাতি)
- তুই এসব কিছুই করবি না।
- কেন তোর এতে কি সমস্যা? এর আগে অনেকের সাথে এমন করেছি, তখন তো মানা করিসনি? (জান্নাতি)
- যাদের সাথে করেছিস তাদের সাথে ভাইয়ার অনেক পাথর্ক্য।
- কি পাথর্ক্য আছে??
- আচ্ছা ধর, তুই কোন দোষ করিসনি তারপরেও তোকে বিনা দোষে শাস্তি দেওয়া হলো। পরিবার থেকে আলাদা  করে দেওয়া হলো। তুই যাকে ভালোবাসিস সেও তখন তোর হাত ছেড়ে দিল। আর তুই সব ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে হলো তাহলে তুই কি করবি? (নিলা)

- আমি তো মরেই যাবো। কারন আমি বাবা- মাকে না দেখে থাকতেই পারবো না।
- তাহলে যে মানুষটা ৮ বছর ধরে তার প্রিয়জনদের মুখ না দেখে থেকে। যাদের ছাড়া এক মুহুর্ত থাকতে পারতো না। তাকে আরো কষ্ট দেওয়া ঠিক হবে।
- না একদমি না।
- তাহলে তাকে কেন কষ্ট দিতে চাচ্ছিস।
- মানে তুই কার কথা বলছিস?
- ভাইয়া কথা,,
- মানে দুলাভাইয়ের বন্ধু আরফানের কথা বলছিস।(জান্নাতি)
- হ্যা, কিন্তু নাম আরফান না ইয়াছিন, তাসরিফ আদিয়াত ইয়াছিন।
- মানে...

নিলা আমার জীবনে ঘটা সব ঘটনা জান্নাতিকে  বলল।

- এত কিছু হারিয়ে, কিভাবে বেচেঁ আছে তাই ভাবছি। (জান্নাতি)
- তুই তো তাকে কষ্ট দিতে চাচ্ছিলিস।
- তার মানে এর জন্য ওনি মাইশার সাথে দেখা করতে চাইলো৥
- মাইশা কে??

- আমার ক্লাস-মেট আর তোর ভাইয়ার বোন।
- ইয়াছিন ভাইয়াকে তুইতো ভাইয়া ডাকতে পারিস।
- তুই ভাইয়া ডাকিস বলে আমাকেও ডাকতে হবে?

এটা বলে জান্নাতি চলে এল। জান্নাতি আজ যদি জানতে না পারতো তাহলে এমন কোন কাজে ইয়াছিনকে দোষী বানাতো সেটার জন্য কি হতো জান্নাতি সেটা নিজেও জানে না। কিন্তু জান্নাতি এটা ঠিক করেছে মাইশার সাথে ইয়াছিনের দেখা করাবে। এক ভাইকে অনেক সময় পর তার বোনের সাথে দেখা করাবে।

জান্নাতির মনে ইয়াছিনের জন্য একটা অনুভূতির সৃষ্টি হচ্ছে। যেটা কখনও কারো জন্য হয়নি। জান্নাতি জানেনা এই অনুভূতির নাম কি? হয়তো ভালোবাসা। জান্নাতির জানা নেই ইয়াছিন কখনও এটা মানবে কিনা। কিন্তু এই অনুভূতিকে যে কেউ কন্ট্রোল করতে পারে না। জান্নাতি শুধু ওর জন্য ইয়াছিনের মনে অনুভূতির সৃষ্টি করাতে হবে সেটা যে করেই হোক। ইয়াছিনের অতীত থেকে এটা বুঝতে পেরেছে একবার ইয়াছিনের মনে জায়গা করতে পারলে ইয়াছিন কোন দিন ছেড়ে যাবে না।

কাল বিয়ে সবাই রাতে আড্ডা দিচ্ছে। জান্নাতি লক্ষ্য করলো এখানে ইয়াছিন নেই। তাই ওইখান থেকে উঠে ইয়াছিন কে খুজতে গেল। জান্নাতি দেখলো যে ইয়াছিন সবার থেকে দুরে বসে আছে।

আগে আমার কোলাহল ভালো লাগতো। কিন্তু এখন লাগে না। আমার জীবনের সব খুশি হারিয়ে গেছে। তাই আলোর চেয়ে অন্ধকারটাই বেশি পছন্দ। আমি বসে আছি হঠাৎ কে যেন হাত ধরে টানা শুরু করলো। অন্ধকার হওয়ার কারনে ভালো ভাবে দেখতে পারছি না। টানতে টানতে যখন আলোতে নিয়ে এসেছে তখন বুজতে পেরেছি জান্নাতি।

- আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ?
- সবাই যেখানে আছে।
- তা আমাকে নিয়ে যাচ্ছ কেন??
- দুলাভাই আপনাকে খুজছে তাই।(জান্নাতি)

আমাকে সবার কাছে নিয়ে গেল।

- আসিক তুই আমাকে খুজছিস??
- কই নাতো। (আসিক)
- তাহলে জান্নাতি যে বলল তুই আমাকে খুজছিস।
- আরে আমি তো আপনাকে এখানে নিয়ে আসার জন্য বলেছি। আমি অপরিচিত বলে আসতে চাচ্ছিলেন না। তাই এইভাবে নিয়ে আসলাম।
- আরে এখানে বস। (আসিক)

কিছু বলতে পারলাম না। ইচ্ছা না থাকার পরেও বসতে হলো। জান্নাতি এর মধ্যে আরেক সমস্যা বাধিয়ে দিল।

- দুলাভাই তুমি বলেছিলে তোমার বন্ধু ভালো গান গাইতে পারে। একটা গান গাইতে বল না। (জান্নাতি)
- আসিক। ওদের সাথে তাল মিলিয়ে
- হ্যা, একটা গান গা।
- আরে আমি ৮ বছরের উপরে হয়ে গেছে গান গাই না। এখন মনে হয় পারবো না।
- প্লিজ ভাইয়া গাও না, আমার জন্য। (নিলা)

নিলার কথা ফেলতে পারলাম না। তাই একটা গান গাইলাম। অনেক সময় পর গান গাইলাম। জানি না কেমন হয়েছে। কিন্তু সবাই বলল অনেক ভালো হয়েছে। আগে লিজার অনুপ্রেরনায় গান গাওয়া শুরু করেছিলাম। তারপর এত বছর আর গাইনি। অনেক সময় পর আবার গাইলাম।

........... To Be Continue
যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৬)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৬)


রাতে সবাই এক সাথে খেতে বসলাম। খাবার টেবিলে জান্নাতি বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছিল। আমি সেদিকে খেয়াল না করে খেয়ে রুমে এসে শুয়ে পড়লাম।

সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙ্গে গেল। বাইরে দাড়িয়ে সূর্য উদয়ের অপেক্ষা করছি। পরিবেশ একদম সতেজ লাগছে। চারপাশের পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ শুনা যাচ্ছে। পাখিরা ঘর থেকে বের হচ্ছে খাবারের খোজে। আসিক আমার পাশে এসে দাড়ালো।

- কিরে এখানে কি করছিস?? (আসিক)
- এই সকালটাকে দেখছি অনেক দিন ধরে দেখা হয় না।
- চল একটু হাটা-হাটি করি।
- না চল, দাদা-দাদির সাথে দেখা করতে যাবো। অনেক দিন ধরে দেখি না। যেহেতু গ্রামে কেউ নেই তাহলে সমস্যা হবে না।
- আচ্ছা চল।(আসিক)



আসিকের সাথে চলা শুরু করলাম বাড়ির দিকে। কিন্তু আসিক উল্টো দিকে যাচ্ছে। আমি বুজতে পরছি না।

- কিরে ওই দিকে যাচ্ছিস কেন??
- আস আমার সাথে।
- আরে ওই দিকে তো গ্রামের গোরস্থান।
- আসতে বলছি আসই।

কিছুক্ষন পর আমরা গোরস্থানে পৌছে গেলাম। আসিক আমাকে দুটো কবরের সামনে দাড় করালো।

- তুই চলে যাওয়া এক বছর পর তোর দাদা মারা যায়। উনি অনেক কষ্ট পেয়েছিলো। যখন জানতে পারে তোর বাবা তোকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আর তার এক বছর পর তোর  দাদিও মারা যায়। আমি মাঝে মাঝে তোর দাদির সাথে দেখা করতে যেতাম। অনেক কান্না করতেন তিনি। (আসিক)

কি বলবো কিছু বুঝতে পারছি না। আমাকে সব চেয়ে বেশি ভালোবাসতো ওনারা। তার জন্য সব সময় ওনাদের কাছে থাকতাম। কিন্তু আজ যখন ফিরে এলাম তখন দেখি তারা কেউ নেই। আমি আর ওখানে থাকতে পারলাম না। তাই চলে এলাম। আমার পিছনে আসিকও চলে এল। আসিকের বাড়ির ফেরার পরঃ

- দুলাভাই তুমি কোথায় গিয়ে ছিলে আপু তোমাকে খুজছে। (জান্নাতি)
- ইয়াছিন কে নিয়ে একটু ঘুরতে গিয়ে ছিলাম। (আসিক)
- ইয়াছিন কে??
- আসিক বুজতে পেরেছে ও আমার আসল নাম বলে ফেলেছে। আসহায়ের মতো আমার দিকে তাকালো।
- বললে না তো ইয়াছিন কে?? তুমি এনার সাথে (আমাকে দেখিয়ে) গিয়েছিলে। আর ওনার নাম তো আরফান।
- হ্যা, আসলে ওর আরেক নাম ইয়াছিন। আমি ওকে ইয়াছিন বলে ডাকি। (আসিক)

এবারের মতো বাচা গেল। আসিকের আবার ভুল করার অভাস আছ,,না জানি আবার কখন ভুল করে ফেলে।
সকালের খাওয়া শেষ করে হাল্কা রেষ্ট নিলাম। তারপরঃ

- আসিক আমি একটু গ্রামটা ঘুরে আসি।
- আচ্ছা যা। (আসিক)
- দুলাভাই উনি গ্রাম চিনে না কি একা যাবে। আমি সাথে নিয়ে যাই। (জান্নাতি)

আসিক কিছু বলতে চেয়েও পারলো না। কারন সবাই জানে আমি এখানে নতুন। কেউ তো আর আমার আসল পরিচয় জানে না।

- আচ্ছা যাও। (আসিক)

আসিক আমাকে ইশারা করে বলল রাগ না করতে। না চাইতেও এই মেয়েকে নিয়ে বের হতে হলো। আমি যাচ্ছি আমার বাড়ির দিকে সেখানে হয়তো কেউ থাকে না। না জানি বাড়ির অবস্থা কেমন।

- আপনি এমন ভাবে হাটছেন মনে হচ্ছে গ্রামটা আপনার পরিচিত! কি কোন কথা বলছেন না কেন? আপনি এমন কেন? কারো সাথে কথা বলেন না কেন? সবাই আপনাকে বোবা ভাবে।
- আমি পিচ্চি বাচ্চাদের সাথে কথা বলি না।
- আমি বাচ্চা নয়। আমি অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ি
- আমি ৮ বছর আগে অনার্স কম্পিলিট করেছি। তুমি এখন নিতান্তই বাচ্চা।
- শেষ বারের মতো বলেছি বাচ্চা বলবেন না।
- আমি কম করেও তোমার থেকে ১০-১২ বছরের বড়।
- তাই বলে আমাকে বাচ্চা বলবেন।

আমি বাড়ির কাছে এসে পৌছালাম। বাড়িটাকে দেখছি। একেবারে অযত্নে পড়ে আছে। কেউ নেই যত্ন নেবার। থাকবেই বা কেমন করে যত্ন নেওয়ার জন্য যারা ছিল তারা নেই।

- কি দেখছেন?? (জান্নাতি)
- ফেলে আসা অতীত।
- কি বললেন বুজলাম না।
- কিছু কথা না বোঝাই ভালো।
- কি মানুষ কখন কি বলে কিছু বুজতে পারি না। (মনে মনে) (জান্নাতি)



বাড়ির ভিতরে ঢুকলাম। আর তার সাথে পুরনো স্মৃতি তাজা হয়ে গেছে। এই বাড়িতে খেলে বড় হয়েছি। এখন মনে হচ্ছে দাদু ডাকছে। বলছে সন্ধ্যা হয়ে এল তাড়াতাড়ি বাড়ি ফের। আর আমি বলছি এত তাড়াতাড়ি ফিরে কি করবো। এই বাড়ির গাছ গুলোর সাথে আমার গভীর সম্পর্ক। কত এই গাছ গুলোতে উঠে বেরিয়েছি।

- আপনি কারো অনুমতি ছাড়া বাড়িতে ডুকলেন কেন?? (জান্নাতি)
- তুমি জানো এই বাড়ি কার??
- এটা আমার ক্লাসমেট মাইশাদের বাড়ি।
- তুমি মাইশাকে চিনো??
- আপনি চিনেন??
- আমারটা নাই জানলে তুমি কিভাবে চেন??
- আমি আর মাইশা একই ডিপাটমেন্টে পড়ি। সেই হিসাবে চিনি। কিন্তু আপনি কিভাবে চিনেন??
- তুমি মাইশার  সাথে আমার দেখা করাতে পারবে।
- পারবো, কিন্তু কিভাবে চিনেন তা তো বললেন না।
- সেটা না হয় তখনি যেন।
- ওকে করাবো।
- কবে।
- সেটা না হয় সেই দিনই জানবেন।

কি মেয়েরে বাবা। আমার কথা আমাকেই ফেরত দিলো। কিন্তু খুব আনন্দ লাগছে। অনেক বছর পর আমার ছোট্ট বোনটাকে দেখতে পারবো। না জানি কত বড় হয়ে গেছে। আমাকে মনে রেখেছে কিনা তাই জানি না। কিন্তু আমার বিশ্বাস সবাই ভুলে গেলও আমার বোন আমাকে ভুলবে না। শুধু সময়ে অপেক্ষা কবে দেখতে পারবো। সবাইকে একবার দেখার পর আবার ফিরে যাবে যেখান থেকে এসে ছিলাম। কারন এখানে থাকার ভাগ্য আমার নেই।


.............. To Be Continue
যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৫)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৫)


অনেক দিন পর বন্ধুদের কাছে পেয়ে সব কিছু ভুলে গিয়াছিলাম, আসিক ফোন না দিলে তো মনে পরতো না যে আজ আমি বগুড়া যাব।
.
আমি ফিরে এসে দেখি আসিক আর নিলা রেডি হয়ে আছে।

- ভাইয়া এতক্ষন কোথায় ছিলে?? (নিলা)
- পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা করতে।
- তা সেই কখন গেছ আর এখন এলে।
- সরি আপু, আর হবে না।
- ওকে ওকে, রেডি হয়ে নাও।
- ওকে।



আমি রেডি হয়ে নিলাম। বাসায় নিচে এসে দেখি আসিক গাড়ি নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আমি গাড়িতে উঠার আগে....
.
- আসিক একটা অনুরোধ করবো রাখবি।
- কি?
- আমার পরিচয়টা যেন কেউ না জানে।
- সবাই যদি তোকে চিনতে পারে।
- কেউ পারবে না। শুধু তুই কাউকে বলিস না।
- ওকে যা বলবো না।

আমরা বেরিয়ে পড়লাম বগুড়ার উদেশ্য। অনেক সময় পর এসে পৌছালাম। গাড়িটা এসে আমার বাসার সামনে থামলো। এখানে আমরা থাকতাম আর এর পাশের বাসায় আমার চাচারা। আমি গাড়ির ভিতরে বসে আছি আর আসিক গিয়েছে বাসায় ভিতরে। কিছুক্ষন পরে আসিক এল।
.
- ইয়াছিন, তোর পরিবারের কেউ বাসায় নেই।
- তাহলে সবাই কোথায়??
- দারওয়ান বলল, সবাই নাকি একটা বিয়েতে গিয়েছে।
- তাহলে....
- আরে গ্রামে চল, আমার বোনের বিয়ের পর আসিস। আর তখন যদি গ্রামে যায় তাহলে সেখানে সবাই কে দেখতে পারবি।
- তাহলে চল।

প্রায় ২ ঘন্টা পরে গ্রামে এসে পৌছালাম। গ্রামে রাস্তায় যখন প্রবেশ করলাম তখন মনে হল এই মাটি বলছে কেউ ফিরে এসেছে। যার সাথে আমার অনেক দিনের সম্পর্ক। গ্রামে পৌছাতে সন্ধ্যায় হয়ে গেছে। আর আকাশে যে গোধুলি ছেয়ে গেছে এটা আমার চেনা। এখানকার ধুলো-বালির সাথে আমার খুব পুরোনো সম্পর্ক। কিন্তুএই মাটিতে ৮ টা বছর পায়ের দুলো পড়ে নি। এখনকার বাতাসে আমার কন্ঠ শুনায়া নি। গাড়িটা বাড়ির বাইরে থামলো। বাড়ির ভিতর থেকে আসিকের মা আর বোন বেরিয়ে আসল।

- আসিক এসে পড়েছিস তোরা। (আসিকের মা)
- হ্যা, মা।
- ভাইয়া তোর সাথে এই ছেলেটা কে?? (আসিকের বোন প্রিয়া)
- আমরা বন্ধু।
- কোন দিন তো দেখি নি। (প্রিয়া)
- ও এতদিন দেশের বাইরে ছিল। ২ দিন হলো ফিরেছে। তাই সাথে করে তোর বিয়েতে নিয়ে এলাম।
- ভালো করেছিস। তা তোর বন্ধুর নাম কি?? (আসিকের মা)
- আরফান (আমি)
- তোমার বাড়িতে কে কে আছে?? (আসিকের মা)
- আরে মা, এত জার্নি  করে এসেছি। আর তুমি প্রশ্ন করা শুরু করেছো। (আসিক)
- ও ভিতরে আয়।
.
আসিকদের বাড়ির ভিতরে গেলাম। বাড়িটা বদলে গেছে। যখন আমরা একসাথে পড়েছি তখন অনেক এসেছি। আন্টি আমাকে চিনতে পারিনি। তাহলে এইটুকু বুজতে পারলাম কেউ আমাকে চিনতে পারবে না। আমাকে ঘুমানোর জন্য একটা রুম দেওয়া হলো। বাড়িতে এখনো মেহমান আসেনি। শুনলাম কাল থেকে আসা শুরু হবে। পরশু বিয়ে। তাই খুব তোর জোর ভাবে বিয়ের কাজ চলছে। আমি রুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখি কয়েকজন উঠনে বসে গল্প করছে। সাথে আসিকও আছে। আমাকে দেখে আসিক ডাক দিল। আমি সেখানে গেলাম।

- সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। এই হলো আমার বন্ধু আরফান। (যেটা নকল নাম)
- দুলাভাই আগে কখনও তো দেখি নি। (ওখানে থাকা একটা মেয়ে)
- জান্নাতি, ও এতদিন দেশের বাইরে ছিল তাই দেখনি।

আসিক বাকিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। জান্নাতি নামের মেয়েটি নিলার ছোট বোন। সবে মাত্র অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ে। আমি ওখানে বসে ওদের কথা শুনছিলাম।

-  দুলাভাই তোমার বন্ধু বোবা নাকি, কতক্ষন এখানে এসেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন শব্দ শুনতে পারিনি। (জান্নাতি)

মেয়েটার কথা শুনে রাগ হল। তাই বললাম...

- আমি প্রয়োজন ছাড়া কথা বলি না।

আমি উঠে ওইখান থেকে চলে এলাম।

- দুলাভাই তোমার বন্ধুর মধ্যে এত এটেটিউড কেন। (জান্নাতি)
- ও এই রকমি। তুমি কিন্তু ভুল করেও ওর পিছে লাগবে না। ( আসিক)
- আমি তো লাগবোই। তোমার বন্ধুর এই এটেটিউড যদি ভাঙ্গতে না পারি তাহলে আমার নাম জান্নাতি নয়।
- ও কিন্তু অনেক রাগি।
- সেটা পরে দেখা যাবে।
- আমি কিন্তু তোমার বোনকে বলে দিবো।
- বল আমি ভয় পায় নাকি।



এটা বলে জান্নাতিও ওইখান থেকে চলে এল। আসিক ভাবছে জান্নাতি যা জেদি ও তো করেই ছাড়বে। কিন্তু ইয়াছিন তো কম জেদি নয়। এখন কি হবে উপরআলায় জানে।

জান্নাতি রুমে গিয়ে রাগে গজগজ করছে। আর বলছে, আমার সাথে কথা বলার জন্য কত ছেলে ওয়েট করে থাকে আর এ কি যেন নাম আরফান। আমাকে ইগনোর করে। আমি একে দেখিয়ে দিবো জান্নাতিকে ইগনোর করার শাস্তি। তখন নিলা রুমে ঢুকলো। জান্নাতিকে দেখে কি যেন বিড়বিড় করছে।

- কি করে একা একা কি বলছিস?? (নিলা)
- (চমকে গিয়ে) ও তুই। (জান্নাতি)
- এতক্ষন কি বলছিলিস।
- এই ছেলেটা কত বড় সাহস আমাকে ইগনোর করে। আমি এর শাস্তি দেবই।
- কার কথা বলছিস??
- তোর বরের বন্ধুর কথা।
- এই তুই কিন্তু ভাইয়ার পিছনে লাগবি না।
- ওই ছেলে তোর ভাইয়া হলো কবে?
- ভাইয়া বলে আমি না কি উনার ছোট বোনের মত তাই আমাকে ভাইয়া ডাকতে বলেছে। তুই ও ভাইয়া ডাকবি।
- তুই ডাকিস বলে আমাকেও ডাকতে হবে নাকি।

তখন রুমে প্রিয়া ঢুকলো।

- ওকে বলে লাভ নেই ভাবি। ও মনে হয় আরফান ভাইয়ার প্রেমে পড়ে গেছে। তাই ইগনোর করেছে বলে এত রাগ দেখাচ্ছে। (প্রিয়া)

- এই সব কিছু না। (জান্নাতি)
- দাড়া তোকে বুঝাচ্ছি।

প্রিয়া দৌড়ে রুমে থেকে বেরিয়ে গেল। তার পিছে জান্নাতিও। আসলে জান্নাতি আর প্রিয়া বন্ধবি। ওদের মধ্যমেই নিলা আর আসিকের পরিচয় হয় তার পর বিয়ে।


........... To Be Continue
যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৪)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৪)

 
পরের দিনঃ আমি বসে আছি একটা খোলা জায়গায়। এই সেই স্পেশাল জায়গা যেখানে আমরা ৮ বন্ধু বসে আড্ডা দিতাম। আমরা ঠিক করে ছিলাম পড়াশুনা শেষ হলে তো আগের মতো প্রতিদিন একসাথে হতে পারবো না তাই বছরের এইদিনটা এখানে এক সাথে হবো। ৮ বছরে জায়গাটা অনেক পাল্টে গেছে। আজও ওরা আসে এখানে। কিছুদুরে দেখলাম তিন জন পুরুষ আর তিন জজন মহিলা আর সাথে চারটি বাচ্চা বসে আসে। আমি এগিয়ে গেলাম। কাছে যেতেই শুনতে পেলাম।

- আরে কতদিন এখানে আসবো। প্রতিবছর এইদিনটাই এখানে আসি। কিন্তু যে এসব ঠিক করে ছিল সেই নেই। ৮ বছর পেরিয়ে গেছে। কোথায় আছে কেউ জানে না। (একজন পুরুষ)
.
- ঠিক বলেছিস ইমদাদুল, ৮ বছর ধরে ইয়াছিনের কোন খোজ নেই। অভিমান তো লিজার উপর করা ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের উপর কেন করলো। আমরা কি দোষ করেছি যে আমাদের কে বিনা অপরাধেরর সাজা পেতে হচ্ছে। (অন্যজন পুরুষ)
.
- তোরা চুপ করবি একটু। তোরা দেখে নিস ইয়াছিন ঠিক একদিন ফিরে আসবে, ও লিজাকে অপরাধি ভাবতে পারে। কিন্তু আমাদেরকে ইয়াছিন কখনোই অপরাধি ভাববে না। (আরেক জন পুরুষ)
.
- লিজা তো বেস ভালোই আছে। ও এখন বলে যদি সেইদিন ওর বাবার কথা মতো বিয়ে না করতো তাহলে সব চেয়ে বড় ভুল করতো। ইয়াছিন ওকে কি দিতে পারতো। এখন ওর কাছে দামি গাড়ি, বাড়ি সব আছে যা ইয়াছিন দিতে পারতো না। (ওদের মধ্য একজন মহিলা)

.
- এই লিজা এক সময় ইয়াছিন কে ছাড়া কিছু বুজতো না। আজ তার উল্টা। সবাই স্বার্থপর। (অন্যজন মহিলা)
.
- রাবেয়া থামতো ওই স্বার্থপর বেঈমান লিজার নাম বলিশ না। যখন ইয়াছিনের কাছে সব ছিল তখন লিজা ইয়াছিন কে ছাড়া কিছু বুঝতো না। কিন্তু যখন ইয়াছিন হলো নিস্ব তখন স্বার্থপরের মতো দূরে চলে গেল। (আরেকটি মহিলা)
.
ওদের কথা শুনে এটা বুজতে পারলাম ওরাই আমার বন্ধু ইমদাদুল, রিতু, আরাফাত, রাবেয়া, আব্দুল্লাহ, সুচি।
.
-আরাফাত, ইয়াছিনের পরিবারের কাছে জানার চেষ্টা করেছিলিস কি ইয়াছিন কোথায়। (ইমদাদুল)
.
- ইয়াছিনের নাম ওর পরিবারের কেউ শুনতে পারে না। শুনেছি ৯ বছর আগেই ওকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। আমি আর রাবেয়া গিয়েছিলাম ওর পরিবারে কাছে জানতে কিন্তু যখন জানলো আমরা ইয়াছিনের বন্ধু আমাদের বাড়িতে ঢুকতে পর্যন্ত দেয়নি। (আরাফাত)
.
- ইয়াছিনের ভাগ্য দেখ, একসাথে সব কিছু হারালো। (আব্দুল্লাহ)
.
- ইয়াছিন তো কথা দিয়েছিল ও এখানে আসবে। কিন্তু প্রতিবছর আমরা এখানে আসি কিন্তু ও আসে না। (সুচি)
.
আমি ওদের কাছে গেলাম।
- কথা দিয়েছি তাইতো ফিরে এসেছি। (আমি)
.
ওরা সবাই আমার দিকে তাকলো।
.
- কে আপনি?? (ইমদাদুল)
.
- ভালো ভাবে দেখ বুজতে পারবি কে আমি। (আমি)
.
আব্দুল্লাহ ভালোভাবে দেখল আর উঠে এসে আমাকে জাড়িয় ধরলো। ওর এই আচরণ দেখে বাকি সবাই অবাক।
.
- আব্দুল্লাহ কে ইনি? আর এনাকে দেখে এই রকম আচরন করেছিস কেন?? (আরাফাত)
.
- আরে ভালোভাবে দেখ এটা ইয়াছিন (আব্দুল্লাহ)
.
- বাদে তো আব্দুল্লাহ আমাকে ওরা চিনতে পারবে না। ( আমি)
.
বাকি সবাই আমার কাছে এল। কিছুক্ষন দেখে আরাফাত আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল। এই কান্না হারানো বন্ধুকে ফিরে পাবার। বাকি সবারও একই অবস্থা। রিতু আগে থেকে অনেক রাগি। এসে আমাকে থাপ্পর মারলো।
.
- এত গুলো বছর কোথায় ছিলিস। একটা মেয়ে ছেড়ে গিয়েছে বলে দেবদাস হয়ে যাবি। দেবদাস হওয়ার খুব ইচ্ছা।
.
- আরো কয়েকটা দে। একজন ছেড়ে গিয়েছে বলে আমাদের ছেড়ে চলে যেতে হবে। (রাবেয়া)
.
- এত মারলো মরে যাবো। (আমি)
.
- তোকে মেরে ফেলবো। (রিতু)
.
- ইমদাদুল, বাচা আমাকে মেরে ফেললো রে।(আমি)
.
- তোকে আমরাও মারবো। (ইমদাদুল)
.
- তোদের জন্য ফিরে এলাম আর তোরাই মেরে ফেলবি। (আমি)
.
- এতদিন কোন প্রকার যোগাযোগ করিসনি কেন??( সুচি)
.
- আসলে বিদেশে যাওয়ার আগে আমার মোবাইলটা হারিয়ে গিয়েছিল। তাই যোগাযোগ করতে পারিনি। (আমি)
.
- তারমানে এতদিন তুই দেশের বাইরে ছিলিস আর আমরা তোকে দেশে খুজে তন্নতন্ন করেছি।(আরাফাত)
.
- আচ্ছা, এখন তো ফিরে এসেছি। আচ্ছা এই বাচ্ছা গুলো কার। (আমি)
.
- ওই ছেলেটা আমার আর রিতুর (ইমদাদুল)
.
- আর এই মেয়েটা আমার আর সুচির (আব্দুল্লাহ)

- আর বাকি দুইটা আমার আর রাবেয়ার(আরাফাত)
.
- তোদের ছেলে মেয়ে গুলোতো অনেক কিউট। (বাচাগুলোকে আমার কাছে ডাকলাম। দেখে বুজলাম বাচ্চা গুলোর বয়স বেশি নয়। একজনের ৫ আরেক জনের ৪ হবে আর বাকি দুইজনের ৩ হবে) আরাফাত ওরা জোড়া??
.

- হ্যা, এখন তুই বল তোর স্ত্রী কোথায়?? ( আরাফাত)
.
- আমি বিয়ে করি নি।
.
- কেন?? (রাবেয়া)
.
- লিজার পর কাউকে ভালোবাসতে পারিনি তাই। (আমি)
.
- ও তো বিয়ে করে সুখে আছে। আর তুই দেবদাস হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিস। ওর জন্য কি তুই কোন দিন বিয়ে করবি না। (রিতু)
.
- করবো তো, যেইদিন আবার কাউকে ভালোবাসতে পারবো। (আমি)
.
- তুই আজও বদলাস নি। (ইমদাদুল)
.
- বদলানো আমার স্বভাব নয়। (আমি)
.
- তার জন্য তো সব সময় কষ্ট পেয়ে গেলি। (আব্দুল্লাহ)
.
- ওইসব বাদ দে। কতদিন পরে একসাথে হলাম। আড্ডা দিবো না। (আমি)
.
অনেক সময় আড্ডা দিলাম। ওদের বিয়ের গল্প শুনলাম। কারন বিয়ে সময় আমি থাকতে পারিনি। অনেক সময় পর দেখলাম আসিক ফোন দিয়েছে। তাই...
.
- আমি আসি। (আমি)
.
- কোথায় যাবি?? (সুচি)
.
- আসলে এখানে আরো কিছু কাজের জন্য এসেছি। সেটা করতে হবে। (আমি)
.
- তুই থাকছিস কোথায়?? (ইমদাদুল)
.
- তোদের তো বললাম আমার ছেলে বেলার বন্ধু বাড়িতে। এখন ওর সাথে আমার গ্রামে যাবো। আর তোদের নাম্বার দে। আমি সেইখান থেকে এসে তোদের সাথে যোগাযোগ করবো।
.
ওদের নাম্বার নিয়ে চলে এলাম। ওরা আসতে দিতে চাইলো না। কিন্তু ৮ বছর ধরে যে মুখ গুলো দেখিনি সেগুলো দেখতে হবে। যে গ্রামের ধুলোই পা পরেনি সেখানে পা ফেলতে হবে। আমি এসে দেখলাম আসিকও রেডি হয়ে বসে আছে। ওদের সাথে বেরিয়ে পড়লাম বগুড়ার উদেশ্য।

......... To Be Continue
যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৩)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৩)


বাবা শহরের ভালো একটা কলেজে আমাকে ভর্তি করিয়ে দেয়। কলেজ জীবন ভালোভাবে চলতে থাকলো। কিন্তু চাচার বাসা আর আমাদের বাসা পাশা পাশি থাকায় শান্তার সাথে আমার সমস্যাও বাড়তে থাকলো। ও সারাক্ষন চেষ্টায় লেগে থাকতো আমাকে অপরাধী করার। কিন্তু আমি এটা জানতাম না কেন?? আর সবাই ওর কথা সহজেই বিশ্বাস করে নিতো। আমি সব সময় ওর থেকে দুরে দুরে থাকতাম। কলেজের দুই বছর কিভাবে চলে গেল। বুজতেই পারলাম না। কলেজ লাইফে আমার মাত্র একজন বন্ধু ছিল। সে হল আরিফ। একমাত্র ওর সাথে কথা বলতাম এমনিতে আর কারো সাথে কথা বলতাম না। কলেজের পরে ভারসির্টিতে এডমিশন নিলাম। কিন্তু আরিফ চলে গেল দেশের বাইরে পড়ার জন্য। ওর সাথে যোগাযোগ হতো মাঝে মাঝে।
.
আমার জীবনে কখনো প্রেম আসে নি। কিন্তু ভারসিটি লাইফে প্রেম আসে। আমার জীবনের প্রথম প্রেম লিজা। ও আমাকে হাতে হাত রেখে চলতে শেখায়। নতুন করে বাচতে শেখায়। এখানে আমার বন্ধু সংখ্যা বেশি ছিল। সারাক্ষন মজা করে পাড় হতে লাগলো জীবন। কিন্তু জীবনের কালো অধ্যায়টা খু্ব তাড়াতাড়ি নেমে আসে। তখন আমি সবে মাত্র অনার্সে ফাইনাল ইয়ার পরিক্ষা দিয়েছি। পরিক্ষার পর বাড়ি গিয়েছি। পরিবারে সাথে অনেক ভালো সময় কাটছিল।

.
একদিন মা বললো শান্তাকে নিয়ে বেড়াতে যেতে। আমার যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না। তবুও যেতে হলো। যদি জানতাম সেইদিন শান্তা এরকম কান্ড করবে তাহলে কখনও যেতাম না। আমি শান্তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হই। সেইদিন হঠাৎ একটা গাড়ি এসে শান্তাকে ধাক্কা  মারে। শান্তা অনেক আঘাত পায়। আমি ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। বাড়ির সবাইকে খবর দেই। প্রায় ৩৫ ঘন্টা পরে ও জ্ঞান ফিরে। বাড়ি সবাই ওকে দেখতে কেবিনের ভিতরে যায়। আমি ভাবলাম সবাই বের হলে আমি যাবো। তাই বাইরে দাড়িয়ে ছিলাম। কিছু সময় পর বাবা বের হয়ে এল। তার সাথে বাড়ির সবাই বের হয়ে আসে।বাবা কে দেখে যেই বললাম বাবা শান্তা,,,,,

ঠাসস, ঠাসস, ঠাসসসসসসসস, করে থাপ্পর মারলেন !! (পুরো কথাটা আর বলা হয়ে ওঠলো না। কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম না বাবা আমাকে কেন মারলো,,মনে মনে ভাবছি)
.
- আমি ভাবতেও পারি নি তুই এমন কাজ করবি। (বাবা)
.
- বাবা আমি করেছিটা কি??
.
- কি করেছিস তুই জানস না। (মা)
.
- আমাকে বলবে তো।
.
- যা করেছিস তা বলার মতো নয়। (চাচা)
.
- তুই আজই বাড়ি থেকে বের হয়ে যাবি। (বাবা)
.
- মানে আমি কোথায় যাবো??
.
- আমি জানি না। কিন্তু তোর এই মুখ জীবনে আর দেখতে চাই না। (বাবা)
.
.
আমি বুজতেই পরছিলাম না। কি হচ্ছে এইসব। কি দোষ করেছি যে সবাই আমাকে অপরাধি ভাবছে। তাই আমি শান্তার কেবিনে গেলাম বিষয়টা বুঝতে। আমি যেতেই...
.
.
- কিরে তুই এখনো এখানে! তোকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় নি। (শান্তা)
.
- কি এমন হয়েছে যে সবাই আমার সাথে এমন করছে।
.
- আমি সবাই কে বলেছি তুই আমার সাথে অসভ্যতামী করতে চেয়েছিস। তখন আমি তোর কাছ থেকে বাচতে গিয়ে গাড়ির সাথে ধাক্কা খাই।
.
- কেন??
.
- তোকে আমার সহ্য হয় না। তাই তোকে বাড়ি থেকে বের করানোর জন্য। কিন্তু মনে হয় না এত হবে আরো কিছু করতে হবে।
.
এই বলে ও বাড়ির সবাইকে ডেকে বললো যে  সব বলে দেওয়ার জন্য নাকি ওকে আমি মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছি। এতে বাবা আরো রেগে যাই। আমাকে মারধর করে। আমি সইতে না পেরে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসি।
.
শান্তা আমার নামে যা বলেছিল কখনো আমি ওকে ওই নজরে দেখিইনি। আমার তো মনেই পড়েনা কখন ওর সাথে অসভ্যতামী করলাম। কিন্তু কেউ আমার কথা শুনবেই বা কেন??আমি সেইদিনই বাড়ি থেকে চলে আসি। জীবনে এক ঝড়ে সব উলট-পালট হয়ে যায়। পরিবার থেকে বিতাড়িত হওয়ার তিন মাস পড়েই লিজা কে হারাই। লিজার বাবা জোর করে লিজার  বিয়ে আরেক জনের সাথে ঠিক করে। আমার কিছুই করার ছিল না। পারেনি ওকে নিজের করে রাখতে। তারপর একজন সাহায্য করে। ওর মাধ্যমেই পাড়ি জমাই অজানা উদ্যেশে। অনেক গুলো অচেনা মুখের আড়ালে, অচেনা শহরে। তারপর কেটে গেল ৮ টা বছর। দেশ ছাড়ার সময় পন করেছিলাম আর কখনও দেশে ফিরবো না। কিন্তু কি করবো মাটির টান ফিরিয়ে নিয়ে এল।
.
.
বর্তমানে ফিরে এলাম।
- ভাইয়া তোমার জীবনে এত কিছু ঘটে গেছে। (নিলা)
.
- এটা আমার অধ্যায়, জানতে চেয়েছিলে না কেন আমি এত নিশ্চুপ। এটাই তার কারন।
.
- তোকে কে সাহায্য করেছিল বিদেশে যেতে। (আসিক)
.
- কিছু কথা না হয় না জানাই থাক। রাত দুটো বাজে যা গিয়ে ঘুমিয়ে পড়।
.
- ভাইয়া শুধু একটা কথা, তুমি এখনো  বিয়ে করো নি কেন??
.
- দ্বিতীয় বার কাউকে ভালোবাসতে পারিনি। আর আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে কারো জীবন নষ্ট করতে চাই নি।
.
.
ওরা ঘুমাতে চলে গেল। আমিও গেলাম। বাইরে চাদের আলো জকমক করছে। কিন্তু চাদের আলো তো আমার জন্য নয়। এই চাদের আলোতে কারো সাথে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সে নেই। তাই আমার জন্য অন্ধকারটাই ভালো। অন্ধকারে খুব ভালো কষ্ট লুকানো যায়। লুকানো যায় কান্না। কাল এক বিশেষ দিন। যখন ঢাকাতেই আছি তাহলে সেখানে যাবো। অনেক কিছু লুকিয়ে আছে ওইখানে। কাউকে দেওয়া কথা পুরন করতে হবে। কিন্তু জানা নেই এই দিনটার কথা মনে আছে কিনা। তবু যেতে হবে। কারন ওয়াদা তো করেছিলাম।
.
.
আজ কষ্ট শেয়ার করে নিজেকে অনেক হালকা লাগছে। আসিকের কথা মতো কাল বিকালে বগুড়া যাবে। কিন্তু তার আগে ওই বিশেষ স্থানে যেতে হবে।
.
পরের দিনঃ..........To Be Continue
যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (২)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (২)



তারপর থেকে আসিকের সাথে ফোনে কথা হলেও আমাদের তেমন দেখা হতো না। আসিকের বাসায় আসতে প্রায় দুপুর হয়ে গেল। এখানে এখন শুধু আসিক আর ওর স্ত্রী রয়েছে। বাকি সবাই গ্রামে চলে গেছে। আমার থাকার জন্য একটা রুম দেখিয়ে দিল। আমি ফ্রেস হয়ে নিলাম। রাতে বেশি ঘুম হয়নি। তাই ঘুমিয়ে নিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আমি গিয়ে বারান্দায় দাড়ালাম। সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢুলে পড়েছে। এখন ওতটা তেজ নেই। পশ্চিম আকাশটা লাল বর্ন ধারন করেছে আর কিছুক্ষন পরেই অস্ত যাবে। এই সময় আগে পাশে একজন ছিল। যার সাথে দাড়িয়ে রোজ এই আকাশটাকে দেখতাম। আজও মনে পড়ে সেইদিন গুলো। জানি না সে কেমন আছে। হয়তো স্বামী সন্তান নিয়ে ব্যস্ত। খুব জানতে ইচ্ছা হয় সে আমার কথা মনে করে কি?? সে তো বলেছিল আমাকে কখনও ভুলবে না। লিজা আজও কি তোমার এই পাগলটার কথা মনে পড়ে। আমার মতো কেউ কি তোমার সাথে পাগলামি করে। লিজা আমার প্রথম ভালোবাসা। আজ মনে পড়ে ভার্সিটির সেই দিন গুলো।

.
আমরা ৮ জন বন্ধু ছিলাম। চার জন ছেলে চার জন মেয়ে। আমি, লিজা, ইমদাদুল, রিতু, আরাফাত, রাবেয়া, আব্দুল্লাহ, সুচি ইসলাম। বলতে গেলে জোড়ায় জোড়ায়। লিজা আমার গার্লফ্রেন্ড। ইমদাদুলের ছিল রিতু। আরাফাতের ছিল রাবেয়া আর আব্দুল্লার গার্লফ্রেন্ড ছিল সুচি। এই ৮ জন কাউকে ছাড়া কেউ থাকতে পারতাম না। কিন্তু এই ৮ বছর কিভাবে থাকলাম বুজতেই পারলাম না।
.
লিজা সব সময় বলতো কখনও আমাকে ছেড়ে যাবে না। অনেক ভালোবাসতো আমাকে। ওর সাথে শীতের সকালে নরম ঘাসের উপর দিয়ে খালি পায়ে হাটা, বসন্তের ফুলের আগমনে, সব মনে আছে। কিন্তু জীবন বড় অদ্ভুত। পরিবারের মতো লিজাও আমাকে ছেড়ে গেল। ঘর ছেড়ে বেবিয়ে আসার পর লিজা আমার পাশে ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ওর বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। আমি ওর বাবার সাথে দেখা করেছিলাম। কিন্তু ওনি আমাকে অনেক অপমান করে। করারই কথা যাকে তার পরিবার ঘর থেকে বের করে দিয়েছে তাকে তো অন্য কেউ সম্মান দেবেই না। আমি পারিনি লিজাকে আমার করতে। লিজা বলেছিল পালিয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু বাবা-মাকে কষ্ট দিয়ে তো আর সুখি হওয়া যায় না। আমি যখন দেশ ছাড়ি তার ৭ দিন পরে লিজার  বিয়ে হল। লিজার জন্য দেশ ছেড়ে ছিলাম। কারন ও অন্যকারো হবে এটা আমি সহ্য করতে পারতাম না। অতীত বড্ড বেহায়া। না চাইলেও বার বার মনে পড়ে।

- এই আপনি ঘুম থেকে উঠে পড়েছেন।
কারো আওয়াজে ঘোর ভাঙ্গলো। পিছনে তাকিয়ে দেখি নিলা।

- আরে আপু আপনি??
- প্লিজ,, আপনি বলবেন না। আমি আপনার অনেক ছোট। (নিলা)
- আপু তো বলতে পারি।
- তা পারেন।
- আসিক কোথায়??
- বাইরে গেছে।
- ও
- আমি একটা কথা জানতে চাই। বলবেন?
- কি??
- আসিকের কাছে আমি শুনেছি আপনি অনেক হাসি-খুশি একজন মানুষ ছিলেন, আর অনেক দুষ্টু কিন্তু আপনার কথা শুনে তা মনে হচ্ছে না।

- (একরাশ হেসে) জীবনে কিছু অধ্যায় থাকে যা অনেক দুষ্টু মানুষটাকে শান্ত করে দেয়। অনেক হাসি-খুশি মানুষটাকে নিশ্চুপ করিয়ে দেয়। আমি ওই অধ্যায় পার করে এসেছি।

- ওই অধ্যায়টাকি জানতে পারি।
- এখন নয় অন্য এক সময়।
- আচ্ছা আজ রাতে। প্লিজ বলবেন কথা দিন।
নিলার বায়না শুনে আমার ছোট বোন মাইশার কথা মনে পড়ে গেল। ও ঠিক এভাবে বায়না ধরতো। জানি না আজ কত বড় হয়ে গেছে। খুব দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে। মাইশার সাথে নিলার অনেকটা মিল।


- তোমার এই বায়না শুনে আমার ছোট বোনটা কথা মনে পড়ে গেল। কিন্তু ওকে ধরে দেখি না। আচ্ছা বলবো।
- কেন আমি আপনার বোন নই। আজ থেকে আমি আপনার বোন।
- তাহলে ভাইকে কেউ আপনি করে বলে।
- আচ্ছা এখন থেকে তুমি আর ভাইয়া বলে ডাকবো। আমি যাই আমার অনেক কাজ আছে। তুমি কফিটা খেয়ে নাও।

কিছু সময় পর রাত নেমে এল। আসিক বাইরে থেকে ফিরে এল। অনেক সময় পর দুই বন্ধু একসাথে হয়েছি তাই গল্প করছি। কিছুক্ষন পর নিলা ডাকলো খাওয়ার জন্য। সবাই একসাথে খেয়ে নিলাম। পরে সবাই একসাথে গল্প করতে বসলাম।
.
- ভাইয়া তুমি ভুলে গেলে আমাকে তুমি কি যেন বলতে চেয়ে ছিলে। (নিলা)
- কি যেন??
- তোমার অতীত?? (নিলা)
- নিলা তুমি কেন ওর কষ্ট বাড়াতে চাও (আসিক)
- তুই চুপ কর। আমার বোন শুনতে চেয়েছে শুনবে। আর কষ্ট ভাগ করলে কমে।
- বাহ! এর মধ্যে ও তোর বোন হয়ে গেল। আমি যে এত দিনের বন্ধু তাকে ভুলে গেলি। (অভিমান করে আসিক)
- তুমি চুপ কর ভাইয়াকে বলতে দাও। ভাইয়া তুমি শুরু করো।

আমি শুরু করলাম।
আমার পরিবার শহরেই থাকতো। গ্রামে কম যেত। সেখানে শুধু দাদা-দাদি ছিল। দাদা-দাদির দুই ছেলে। আমার বাবা বড়, আর চাচা ছোট। চাচাও শহরে থাকতো। আমাদের বাসা পাশাপাশি ছিল। আমি ছিলাম পরিবারের বড় ছেলে। আমি গ্রামে বেশি থাকতাম। কারন আমার শহর পছন্দ ছিল না। শহরের মানুষকে ইট পাথরে গড়া মনে হতো। বাবা সব সময় শহরে থাকতে বলতে আমি শুনতাম না। এর জন্য বাবা আর আমার মধ্য সমস্যা হতো। শহরে না থাকার আরেটা কারন ছিল। চাচার এক মাত্র মেয়ে শান্তা, ও সব সময় আমাকে খারাপ বানানোর চেষ্ট করতো। জানি না কেন করতো। সবাই ওর কথা বিশ্বাস করতো। কারন ও আমার থেকে ৫ বছরের ছোট ছিল। কিন্তু আমার ছোট বোন মাইশা সব সময় আমার পাশে থাকতো। মধ্যমিক শেষ করার পর গ্রামে থেকে আমাকে শহরে আসতে হয়। না চাইলেও সেখানেই থাকতে হয়।


.........To Be Continue

 যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (১)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (১)




You are not alone.. I am with you.don't worry . I am always with your pain.....

খুব সকালে বালিশের নিচে মাইকেল জ্যাকসন এর গানটা বাঁচতেছিল ফোনটা বের করে দেখি আঙ্কেল ফোন দিয়েছে।

- হ্যালো আঙ্কেল
- কিরে তুই কি এখনো ঘুমাচ্ছিস। কখন যাবি..??
- এইতো আঙ্কেল আমি ৩০ মিনিটে আসতাছি
- হুম তারাতারি এয়ারপোর্টে আই আমি অপেক্ষা করছি
- ওকে আঙ্কেল।



তারপর ওঠে ফ্রেস হয়ে হাল্কা নাস্তা করে টেক্সি নিয়ে রোওনা হলাম এয়ারপোর্টের দিকে। চলুন যেতে যেতে আমার পরিচয়টা দিয়ে ফেলি। আমি তাসরিফ আদিয়াত ইয়াছিন। আমার বাবা মা আছে কিন্তু তাদের থেকে আজ আমি আলাদা। কেন আলাদা সেটাও জানতে পারবেন। বলতে গেলে আমি আমার বাবা মার দুই মাত্র সন্তান। বুঝলেন না দুই মাত্র বলতে আমার ছোট বোন নিলীমা আছে। থাক এখন গল্পে আশা যাক। আমি এখন এয়ারপোর্টে...

আজ আমি প্রায় ৮ বছর পর নিজের দেশে যাচ্ছি। দেশে ফেরার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু আপনজনদের দেখতে খুব ইচ্ছা হল। তাই ফিরে এলাম। জানি না তারা কেমন আছে। আমাকে মনে রেখেছে কিনা তাই জানি না। হয়তো মনে নেই। কারন তাদের চোখে আমি অপরাধী। কিন্তু যে অপরাধে অপরাধী সে অপরাধ আমি করিই নি। তাও ওদের চোখে অপরাধী। আজ থেকে  ৯ বছর আগে এই অপরাধের জন্য বাড়ী ছাড়াতে হয়েছিল। তার ১ বছর পর দেশ ছাড়ি।

১৮ ঘন্টা ফ্লাইটেতে থাকার পর হযরত শাহজালাল ইন্টারন্যাশন্যাল এয়ারপোর্টে প্লেন অবতরন করলো। অনেক সময় পর দেশের মাটিতে পা রাখলাম। এটার অনুভুতিটা আলাদা। এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে এলাম। অনেক সময় পর এই ঢাকা শহরটাকে দেখছি। এখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে। তাই একটা হোটেলে উঠলাম। আজ ভীষণ ক্লান্ত। কাল আমার শহর বগুড়ার উদ্যশে রওনা দিবো।

হোটেলের রুমের বিছানায় শুয়ে আছি। বিছানাটা আরামদায়ক তবু ঘুম আসছে না। ফেলে আসা সময় বড্ড মনে পড়ছে। মনে পড়ছে পুরনো বন্ধুদের, মনে পরছে পরিবারের লোকেদের। আর আরেক জনের কথা বড্ড মনে পরছে। জানি না সে কেমন আছে?? তবু বলি যেখানেই থাক ভালো থাক। শেষ রাতে দিকে চোখটা লেগে আসলো।

পরের দিনঃ
হোটেল থেকে চেকআউট করে বেরিয়ে পড়লাম। আগে একটা রেস্টুরেন্টে ডুকলাম। আমি একটা টেবিলে বসে খাবারের অর্ডার দিয়েছি। আরেক টেবিলে দুইজন বসে আছে। একজন মহিলা আরেক জন পুরুষ। পুরুষটা আমার দিকে বার বার তাকাছে। কিছুক্ষন পরে লোকটা উঠে আমার কাছে। কাছে আসার পর বুজতে পারলাম কে।

- আপনাকে কেমন যেন চেনাচেনা লাগছে??
- কেমন চেনাচেনা লাগছে?
- মনে হয় আগে কোথাও দেখিছি।
- আমার মনে হয় না। কারন আমি ৮ বছর পর কাল দেশে এসেছি।
- ও (লোকটা উল্টা দিকে ঘুরে চলে যাচ্ছিল)
- কিরে ফকির আমাকে এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলি।
- (লোকটা ঘুরে) ইয়াছিন।

আমি শুধু মাথা নাড়লাম। লোকটা ছিল আমার স্কুল লাইফের ফ্রেন্ড আসিক। ওকে ফকির বলার কারন আগে ও অনেক কিপটা ছিল। পকেটে টাকা থাকতেও বলতো টাকা নাই। কিন্তু এখন দেখে মনে হচ্ছে না যে ও আর আগের মত কিপটা আছে। আসিক এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। এত বছর পর নিজের বেস্টফ্রেন্ড দেখে যে কেউ এমন করবে।



- এত গুল বছর কোথায় ছিলি? জানিস তোকে কত খুজেছি। কারন তোর বাড়ির কেউ বলেনি তুই কোথায়?? অনেক চেষ্টা করেছি শোনার জন্য তারা বলে নি।

- মৃত্য মানুষের খবর কেউ দিতে পারে! আমি তাদের জন্য মৃত।
- কেন??
- তুই জানিস না। আমারতো মনে হয় সবাই ওটা জানে।
- কিছুটা জানি। কিন্তু আমি পরিপূর্ণ বিশ্বাস তুই ওই কাজটা করতে পারিস না।
- দুনিয়াটা কি আজব। তুই বন্ধু হয়ে আমাকে বিশ্বাস করলি আর আমার পরিবারের লোকজন তা বিশ্বাস করলো না।
- ওগুলো রাখ। এতদিন তুই কোন দেশে ছিলিস।
- ছিলাম পৃথিবীর কোন এক দেশে সেটা না হয় না জানলি।
- ওকে চল তোকে আরেক জনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।

আসিক আমাকে ওই মহিলার কাছে নিয়ে গেল, যার সাথে বসে ছিল।
.
- এই হলো আমার স্ত্রী নিলা। আর নিলা এই আমার স্কুল লাইফের বেস্টফ্রেন্ড  ইয়াছিন। যার কথা আমি তোমাকে বলেছিলাম....

- ও আপনি তাহলে সেই ইয়াছিন
- হ্যা
- জানেন ও সব সময় আপনার কথা বলতো। আপনাকে ও ভিষণ মিস করতো।
- এত মিস করে আমার জানা ছিল না। আচ্ছা আমি ওখানে বসি।
- ওখানে বসবি মানে। তুই আমাদের সাথে বসবি কতদিন তোর সাথে কথা হয় না। (আসিক)
- না, এখানে তুই আর তোর স্ত্রী বসেছিস, সেখানে আমি তৃতীয় ব্যক্তি হিসাবে কেন থাকবো।
- আমি বলেছি তাই থাকবি। (আসিক)

কি আর করার। ওদের সাথে বসে খেয়ে নিলাম। খেয়ে বেরিয়ে আসলাম।
- এখন কোথায় যাবি?? (আসিক)
- এখন বগুড়া যাবো। তারপর সেইখান থেকে গ্রামে।
- গ্রামে থাকবি কোথায়? আমি জানি তুই তোর বাড়িতে যাবি না। (আসিক)
- দেখি কি করা যায়।
- আমার সাথে আমার বাসায় চল। দুইদিন পরে আমিও গ্রামে যাবো। প্রিয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছে। আর অনুষ্ঠান গ্রামে হবে। (আসিক)
- এই ছোট প্রিয়াটা আজ এত বড় হয়ে গেছে যে আজ ওর বিয়ে।
- আগে চল গেলেই দেখতে পারবি। (আসিক)

আজ ঢাকাতেই থাকতে হবে। অবশ্য ভালো হল। গ্রামে কোথায় থাকতাম। আমি কখনও বাড়িতে যেতাম না। কারন আমার পরিবার কেউ আমার মুখ দেখতে চায় না। এখন তারা শহরে নাকি গ্রামে এটা জানি না। হয়ত এখন শহরেই আছে। গ্রামে তো শুধু দাদু-দাদিমা থাকে। আমার শহর বেশি পছন্দ ছিল না। তাই আমি গ্রামে দাদুর কাছে বেশি থেকেছি। আর ওখানেই পড়াশুনা করেছি। আসিক আর আমার গ্রাম একটাই। আসিক আর আমি স্কুলে একসাথে পড়েছি। পরে ও এক কলেজে চলে গেল আর আমি আরেক কলেজে।

................ To Be Continue