Showing posts with label যে দোষে আজ আমি অপরাধী. Show all posts
Showing posts with label যে দোষে আজ আমি অপরাধী. Show all posts
যে দোষে আজ আমি অপরাধী - শেষ পর্ব

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - শেষ পর্ব



জান্নাতির কোন উত্তর না পেয়ে আমি দরজার কাছে গেলাম কে এসেছে দেখার জন্য। আমি যেই ওখানে গেছি একে বারে চমকে গেছি। কারন দরজা খুলেই দেখি শান্তা। ওকে দেখে শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। আবার কোনো সমস্যা বাধাবে না তো। অনেক কিছু হারিয়েছি ওর জন্য। আজ যা পেয়েছি যদি আবার হারাই।

- ভিতরে আসতে বলবি না ইয়াছিন। (শান্তা)
ওর কথায় চমকে গেলাম। কি করবো কিছু বুজতে পারছিলাম না।
- ভিতরে আসুন। (জান্নাতি)

- জান্নাতির এই রকম কথা শুনে অবাক হলাম। শান্তার সম্পর্কে সব জানার পরেও কেন ওকে ভিতরে আসতে দিচ্ছে। আরো অবাক হলাম যখন ওর পিছনে বাবা-মা, চাচা-চাচি, মাইশা, আর সাথে আসিক আর নিলাও আছে। মা, আর মাইশা তো জানে আমি এইখানে কিন্তু আমার পরিবারের সবাই কেমন করে জানলো! আসিকের ইশারাই বুজতে পারলাম ও সবাইকে নিয়ে এসেছে। সবাই ভিতরে এল। ভিতরে আসার পরেই...

- ইয়াছিন, আমাকে তুই ক্ষমা করে দে, তোর সাথে অনেক অন্যায় করেছি। তুই সেইদিন আমাকে বাঁচিয়েছিলি তারপরেও সবার কাছে মিথ্যা বলে তোকে দোষী বানিয়েছি। আমার জন্য এতগুলো বছর তুই সবার থেকে দুরে। আমার জন্য তোর জীবন নষ্ট হয়ে গেছে। আমি তোর সাথে যে অন্যায় করেছিলাম তার শাস্তি আমি পেয়েছি। আজ আমি জীবনের শেষ পর্যায়ে দাড়িয়ে। আমার ব্লাড ক্যান্সার। যেই দিন এটা ধরা পেরেছে সেই দিন আমি বুঝতে পেরেছি এটা তোর সাথে করা অন্যায়ের ফল। তারপর থেকে ৬ মাস ধরে তোকে খুজে চলেছি। অনেক খুজেছি। বিয়েতে তোকে দেখে কিছুটা চিনেছিলাম। তারপর আজ এই আশিক ভাইয়া বলল তুই ফিরে এসেছিস। তাই এলাম তোর কাছে ক্ষমা চাইতে। তুই ক্ষমা না করলে যে আমি মরেও শান্তি পাবো না।

- আমাকেও ক্ষমা করে দে বাবা। আমি সেইদিন তোর কথা শুনতে চাই নি। সেইদিন যদি তোর কথা শুনতাম তাহলে আজ এইদিন দেখতে হতো না। (বাবা)
- আমাদের ক্ষমা করে দে। আমাদের মেয়ের জন্য আজ তোর এই অবস্থা। (চাচা)
- ইয়াছিন আজ সবাই তাদের ভুল বুজতে পেরেছে। আর সময় নষ্ট করিস না। (আসিক)
- তুই সবাইকে বলেছিস আমি এইখানে আছি? (আমি)

- তোকে কষ্ট পেতে দেখলাম। আমার যে বন্ধু সবাইকে হাসাতো আজ সে হাসতে ভুলে গেছে। যে সব সময় কথা না বলে থাকতে পারতো না, আজ সে নিশ্চুপ। যে সব সময় আড্ডাকে মাতিয়ে রাখতো সে আজ তাকে সবার থেকে লুকিয়ে রাখতে চাই। তাই সবাইকে সব কিছু বলে দেয়েছি। (আসিক)
- আজ যদি আসিক ভাইয়া না জানাতো তাহলে আমি কোন দিন সবাইকে সত্যিটা বলতে সাহস পেতাম না। এতদিন অনেক চেষ্টা করেছি সবাইকে সত্যিটা বলার কিন্তু বলা হয়ে উঠেনি। ভয় পেতাম। কিন্তু আজ তোর খোজ জানার পর সেটা চলে গেছে। তাই আজ সবাইকে সত্যিটা বলে দিয়েছি। (শান্তা)


সবাই ক্ষমা চাওয়ার পরেও ভিতরে অভিমানটা রয়ে গেছে। এত গুলো বছর বিনা-অপরাধে শাস্তি পেয়েছি। যে দোষে আজ আমি অপরাধি এটা ভেবে আর অভিমান করে থাকব না। এমনিতে অনেক গুলো সময় নষ্ট হয়ে গেছে। এখন অভিমান করে থাকলে আরো সময় নষ্ট হয়ে যাবে।

আমি দেখলাম আসলে অনেক সময় নষ্ট হয়ে গেছে আর করতে চাই না। তাই সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম। শান্তা আমার সাথে যে অন্যায় করেছিল ক্ষমা থেকে আর বড় কোন প্রতিশোধ হয়তো পৃথিবীতে আর নেই। সবাইকে নিয়ে আবার নতুন করে শুরু করবো।

-জান্নাতি, নিলা, আসিক, ওরা চলে গেল জান্নাতিদের বাড়ি আর আমরা চলে আসলাম আমাদের বাড়ি।

তিন দিন পর আমার আর জান্নাতির বিয়ে। বাড়িতে সবাই সবার কাজে ব্যাস্ত, কিন্তু শান্তা ছাড়া। শান্তা সব সময় আমার পাশে থেকে। কাল আমাদের বিয়ে তাই আজ আমার পরিবার এবং জান্নাতির পরিবার সবাই একসাথে শপিং করতে এসেছি, শপিং শেষ করে সবাই যে যার বাড়ি গেলাম।

- আজ আমাদের বিয়ে হলো, বড় ধরনের অনুষ্ঠান না হলেও বেশ জাকজমক ভাবেই বিয়ের কাজ শেষ হয়েছে। আমি এখন ছাদের এক কোনে দাড়িয়ে আকাশের পানে তাকিয়ে সিগারেটের ধুয়া ওড়াচ্ছি....

আপনারা ভাবছেন বাসর রাতে এই কাজ কেন করছি! তো চলুন বিষয়টা জেনে আসি....

- আজ আমার সেই প্রিয় মানুষটার কথা খুব বেশি মনে পড়ছে, আমাদের কত স্বপ্ন ছিল এই রাতটিকে ঘিরে। কিন্তু আমি রাতটি ঠিক পেলাম শুধু প্রিয় মানুষটি নেই সে এখন অন্য কারো বুকে। কেমন আছো তুমি লিজা? হয়তো অনেক ভালো আছো? তোমার সাথে কাটানো অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে তাই না। জানো এই পাগল মনটা আজও তোমায় ভুলতে পারেনি। মাঝে মাঝে খুব জানতে ইচ্ছে করে তার কাছে কি তুমি সত্যি খুব সুখে আছো? সেকি আমার থেকেও বেশি ভালোবাসে। সেকি আমার মত করে তোমাকে পাগলামিতে মাতিয়ে রাখে। জানো এখন হাসতে ভুলে গেছি, আগের মত আর পাগলামি করি না। যেখানে থাকো ভালো থেকো, কোন অভিযোগ রাখিনি। শুধু মোনাজাতে বলতে চাই তুমি সুখে থেকো।

- তুই এখানে দারিয়ে আছিস? আর ওদিকে ভাবি কখন থেকে তোর জন্য অপেক্ষা করছে (ছোট বোন মাইশার কথায় ধ্যান ভাঙ্গলো)
- উমম, হুম, তুই যা আমি আসছি।

আমি এখন বাসর ঘরের সামনে., ভাই আমি কি ভিতরে যাবো নাকি? আসলে প্রথম বিয়ে তো তাই কিছু বুঝতে পারছি না দ্বিতীয় বার ঠিক হয়ে যাবে।
.
- ঘরে ডুকলাম, দেখি বউ আমার ইয়ায়ায়া বড় একটা ঘোমটা দিয়ে বিছানার মাঝে বসে আছে, আমাকে দেখে খাট থেকে নেমে এসে পা ধরে সালাম করে নিল।
- চলো দুরাকাত নফল নামাজ আদায় করি । (আমি)
নামাজ পরে আমি শুতে যাবো তখনি বলতাছে,  
- আজ আমরা ঘুমাবো না (জান্নাতি)
- আমি তো রিতি মত অবাক এই মেয়ে বলে কি ঘুমাবে না কিন্তু কেন...?
- আমার অনেক দিনের স্বপ্ন এই রাতটা নিয়ে, আজ আমরা সারা রাত গল্প করে কাটিয়ে দিব (জান্নাতি)
- কিন্তু গল্প তো আমরা কালকের রাতেও করতে পারি...(আমি)
- আমি বলছি গল্প করব তো আজকেই গল্প করবো (এটা বলে খাট থেকে আমাকে টেনে বারান্দার বেলকুনিতে নিয়ে যায়)
ওমা একি এখানে এত সুন্দর করে কে সাজিয়েছে।

- ওই দিকে তাকিয়ে দেখেন চাঁদটিকে কত সুন্দর লাগছে, আমাদেরকে মিটি মিটি আলো দিয়ে রেখেছে।
- চাঁদ তুমি যেমন রাতকে ভালোবাস, আমিও তেমনি এক জনকে ভালোবাসি। আকাশ সমান ভালোবাসা নিয়ে আমি তার সামনে দারিয়ে আছি। তুমি চোখ খুলে দেখ ভালোবাসার সাগর নিয়ে দারিয়ে আছি আমি, কি বলবে না তুমি I love you too (জান্নাতি)

-তুমি কি হবে আমার বেঁচে থাকার হাসির কারন? তুমি কি হবে আমার ফুট ফুটে সোনার টুকরো মেয়ের আম্মু? তুমি কি হবে আমার আধার রাতের আলো? কথা গুলো শেষ করে জান্নাতিকে কোলে তুলে বেল্কুনি থেকে এনে বিছানায় ফেলে দিলাম।
.
- এই আপনি কি করছেন! উমমমউম্ম...
কথা শেষ করার আগেই জান্নাতির ঠোট আমার দখলে নিয়ে নিলাম, এভাবে দুজন হারিয়ে গেলাম ভালবাসার সাগরে। থাক না ওরা ওদের ভালোবাসা নিয়ে।ওদের জন্য না হয় আমরা একটু দোয়া করব।

<<<<<<<<<<<< সমাপ্ত >>>>>>>>>>
যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (১১)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (১১)



আমার কাধ থেকে জান্নাতিকে সরিয়ে রুমে চলে আসলাম। সারা দিনের ক্লান্তি ভরা শরীর নিয়ে বিছানায় গা মেলিয়ে দিতে না দিতেই জান্নাতি রুমে হাজির....

- এই যে মিষ্টার আফ্রিকান এনাকোন্ডা   এটা কি হলো...??
- কোনটা কি হলো...?(আমি)
- গাড়ি থেকে নামার সময় আমাকে সাথে করে আনলেন না কেন..??
- কেন তুমি কি কচি খুকি না কি যে তোমাকে কলে করে নামিয়ে আনবো? আর কি যেন বলছিলে আমি আফ্রিকান এনাকন্ডা নাহ...! আমি এনাকোন্ডা হলে তুমি পেত্নি, শাঁকচুন্নি, ডাইনি বুড়ি....
- কিহ, আমি পেত্নি, শাঁকচুন্নি, ডাইনিবুড়ি?
- তা নয়তো কি, তুমি আসলে এক নাম্বার শাঁকচুন্নি...
-ওই, হুলু বিড়াল, লালবাদর, আফ্রিকান এ্যানাকোন্ডা, তুই আমাকে শাঁকচুন্নি বললি! আমি শাঁকচুন্নি নাহ (কথা গুলো বলেই ৩৬০ ডিগ্রী এ্যাঙ্গেলে, অ্যাষ্টকেট পাথরের মত ৫০০০ গতিবেগ নিয়ে আমার ওপর ঝাপিয়ে পড়লো।

- আমি জান্নাতির হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য উল্টো হয়ে জান্নাতিকে বিছানার ওপর দুই হাত চেপে ধরলাম, কিন্তু আমার এমন লাগছে কেন! নিজে কে কন্ট্রোল করতে পারছি না কেন, জান্নাতিকে বিছানায় চেপে ধরায় এতোটা কাছে গিয়েছি যে জান্নাতির মুখের গরম নিশ্বাস আমার মুখে পড়ায় আমি কেমন জানি পাগল হয়ে যাচ্ছি। রীতিমতো জান্নাতি চুপ হয়ে গেছে আমাকে এই রকম হতে দেখে, জান্নাতির নিশ্বাস ধীরে ধীরে ঘন হয়ে আসছে। আমি জান্নাতির ঠোটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, জান্নাতি চোখ বন্ধ করে ফেলে। গোলাপের পাপড়ির মত ঠোট জোড়া কাপছে, আমি যেই জান্নাতির ঠোটের সাথে ঠোট লাগাব অমনি পাশে থাকা ফোনটি বেজে ওঠে...

জান্নাতি আমাকে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়, সালার ফোন টাও আর বাজার সময় পেল না। ফোনে তাকিয়ে দেখি ইমদাদুলের ফোন...

- হ্যালো, কেমন আছিস...?
- হুম, ভালো, তুই কেমন আছিস..?
- এই তো ভালো....!!
- তা নিজের গ্রামে গিয়ে আমাদের ভুলে গেলি নাকি...??
- আরে তোদের কি ভুলে থাকা যায় বল...!!
- হুম, তা ঢাকা আসবি কবে...??
- হুম যাবো এখানে কিছু কাজ আছে কাজ সেরে যাবো (আসলে কাজ বলতে জান্নাতি আমাকে ওর প্রতি এত টাই আসক্ত করে নিয়েছে যে ওকে ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে মন চাইছে না।)
- ওকে, ভালো থাকিস...বাই...
-হুম,বাই।

ইমদাদুল সাথে কথা বলে ফোনটা রেখে সারা দিন জান্নাতির সাথে কাটানো সময় গুলো ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি মনে নেই....

পরদিন.....
বিয়ের আমেজ শেষ হয়ে গেলে আসিক আর নিলা ঢাকা ফিরে গেল। আমি বগুড়া আসলাম। কারন ওখানেই আমার পরিবারের সবাই। জান্নাতির পরিবারও এইখানে থাকে আর জান্নাতি বগুড়া একটা কলেজে পড়ে। আমি একটা বাসা ভাড়া নিলাম যেটা আমার পরিবারের বাসা থেকে অনেকটা দুরে। আর জান্নাতিদের বাসার পাশে। এজন্য প্রতিদিন বিকালে জান্নাতিকে নিয়ে  ঘুরতে যেতে হয়। মা প্রায়ই এখানে আসে আর মাইশাও। এরা দুইজন ছাড়া আমার পরিবারে আর কেউ জানে না আমি এইখানে আছি। বাসায় ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন ফোনটা বেজে উঠলো। দেখি জান্নাতি ফোন দিয়েছে..

- কোথায় আপনি?
জান্নাতি আমাকে এখনও আপনি করেই বলে। ওর নাকি আপনি করে বলতেই ভালো লাগে। তাই আমিও আর না করিনি।
- কেন বাসায়।।
- আজ বিকালে ঘুরতে যাবো।(জান্নাতি)
- প্রতিদিন তো যাই। আজ না গেলে হয় না।
- কেন??(জান্নাতি)
- আজ না আমার যেতে ইচ্ছা হচ্ছে না।
- আসতে বলছি আসবেন। না আসলে হাত-পা বেধে নিয়ে আসবো। (রেগে)
- এতে রাগ করছো কেন?? আমি আসবো।
- মনে থাকে যেন।
- ওকে।

- জান্নাতি যে সময় বলেছিল সেই সময় ওর বাসায় কাছে গেলাম। দেখলাম বাইরে জান্নাতি দাড়িয়ে আছে..
- চল কোথায় যাবে??
- আজ একসাথে ঘুরবো, আর কিছু জিনিস কেনার আছে??
- আচ্ছা চল।
আমরা সারা বিকাল ঘুরলাম। ওকে বাসায় পৌছে দিয়ে আমি ফিরে এলাম। রাতে আসিক ফোন দিল...
- হ্যালো কেমন আছিস??
- ভালো তুই। (আসিক)
- আমিও।
- যার জন্য ফোন করেছিলাম কাল আমরা তোর ওইখানে আসবো।(আসিক)
- কখন?
- ওই বিকালের দিকে। (আসিক)
- ওকে।


ফোনটা কেটে দিয়ে শুতে যাবো তখনি জান্নাতির ফোন

- এতক্ষন কার সাথে কথা বলছিলে?? (জান্নাতি)
- আমার বন্ধুর সাথে।
- বন্ধু না বান্ধুবী?
- আরে বন্ধু।
- সত্যি তো।
- বিশ্বাস না হলে আসিক কে ফোন দিয়ে জিঙ্গাসা করো, ও ফোন দিয়ে ছিল কিনা।
- দুলাভাই ফোন দিয়ে ছিল কেন??
- বলল কাল আমার এইখানে আসছে।
- কখন আসবে।
- বিকালে।
- আচ্ছা।
জান্নাতির এ সাথে আরো কিছুক্ষন কথা বলে ঘুমিয়ে গেলাম।

পরের দিনঃ
দুপুরের দিকে কলিংবেল বাজলো। আমি গিয়ে দেখি জান্নাতি।
- জান্নাতি, তুমি, এই সময়??
- হ্যা, কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি?
- না সমস্যা হবে কেন??
- আজ আপনার এইখানে আপুর আসার কথা তাই আসলাম।
.- ও, তা হাতে এইগুলো কি??
- আপনার জন্য আমি নিজে রান্না করে খাবার নিয়ে এসেছি। সরুন তো ভিতরে যেতে দিন।
ভিতরে আসার পর
- যান গিয়ে ফ্রেস হয়ে আসুন। আমি খাবার বেড়ে দিচ্ছি।

আমি গিয়ে ফ্রেস হয়ে এলাম। তারপর আমি আর জান্নাতি একসাথে  দুপুরের খাবার খেলাম। বিকাল পেরিয়ে গেছে। কিছুক্ষন পর সন্ধ্যা হয়ে আসবে তবু আসিক এল  না।

- আপুরা এখনও এল না কেন?
- আমিতো জানি না। ফোনটাও বন্ধ।
- আরেক বার চেষ্টা করুন।
- ওকে করছি।

ফোন দিতে যাবো এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠলো।
- মনে হয় এসে পড়েছে।
- আমি দেখছি। (জান্নাতি)
জান্নাতি দরজা খুলতে গেল। কিন্তু ও দরজা খুলে দাড়িয়েই আছে।

- কি হল জান্নাতি, আসিক এসে পড়েছে?
.
জান্নাতির কোন উত্তর না পেয়ে আমি দরজার কাছে গেলাম কে এসেছে দেখার জন্য। আমি যেই ওখানে গেছি একেবারে চমকে গেছি! কারণ দরজা খুলেই দেখি শান্তা। ওকে দেখে শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। আবার কোনো সমস্যা বাঁধাবে না তো। অনেক কিছু হারিয়েছি ওর জন্য। আজ যা পেয়েছি যদি আবার হারাই


............To Be Continue
যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (১০)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (১০)



অনেক দিন পর মা-বোনকে কাছে পেয়ে টুকটাক কথা বলছি আর হাসাহাসি, কিন্তু কথায় আছে না " যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়"। আমরা কথা বলছিলাম। তখন একটা মেয়ে আসলো। এসে মাকে বলল.....

- চাচি তোমাকে চাচু ডাকছে। সেই কখন থেকে খুজছে। (মেয়েটা)
ওকে দেখে মা চমকে গেল। আমি চিনার চেষ্টা করছি।
- শান্তা আপু তুমি যাও, আমরা আসছি। (মাইশা)

এবার বুজতে পেরেছি এটা শান্তা। ভাগ্য ভালো যে এ আমাকে চিনতে পারেনি। না হলে আবার কোন সমস্যা বাধিয়ে দিত। শান্তা কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। তারপর বলল....
- ইনি কে?
- শান্তা চিনতে পারে নি। আমাকে বাচানোর জন্য মাইশা বলল
- ইনি আমার বান্ধবীর হাজবেন্ড আর এই আমার বান্ধবী (জান্নাতিকে দেখিয়ে) আমরা ওনাদের সাথে কথা বলছি। কথা বলে আসছি। (মাইশা)
- ওনারা কি বরপক্ষ?? (শান্তা)
- না, উনি কনের ভাইয়ের বন্ধু। এখন যাও, মনে হয় না আর কিছু জানতে হবে। (মাইশা)
- আমার জানার ইচ্ছা নেই। আমিতো শুধু চাচিকে ডাকতে এসেছিলাম। (শান্তা)

শান্তা চলে গেলে আমরা হাফ ছেড়ে বাচলাম।
- আমি যাই তোর বাবা দেরি দেখলে আবার রাগ করবে। (মা)
- ঠিক আছে মা।

মা চলে যাওয়ার পর আমি মাইশার কান ধরে বললাম, কিরে ও (জান্নাতিকে দেখিয়ে) আমরা বউ না। তুই মাকে মিথ্যা বললি কেন??
- আ.. ভাইয়া ছাড়। তুই আর কতদিন একা থাকবি। তাই ভাবলাম তোর একটা ব্যবস্থা করে দেই। এখন মা জানে জান্নাতি তোর বউ। এখন ওকে তো তোর বিয়ে করতেই হবে। আর ওকে আমার ভাবি হিসাবে পছন্দ। (মাইশা)

এটা বলেই দৌড়ে পালালো। মাইশা পালিয়ে গেল। এবার জান্নাতির পালা।
- এই তুমি কেন মাকে বলল তুমি আমার বউ?
- হলে সমস্যা কোথায়?? (জান্নাতি)
- কি বলছো এইসব।
- যা বলার সোজাসুজি বলছি, আমি আপনাকে ভালোবাসি। (জান্নাতি)
- জান্নাতি এইসব তোমার আবেগ।(আমি)
- না এইসব আবেগ না। আজ পর্যন্ত কাউকে দেখে আমার হার্টবিট বাড়েনি। প্রথম যেদিন আপনাকে দেখেছিলাম সেইদিন হয়েছিল। যদি আবেগ হতো তাহলে আগে কাউকে ভালো লাগতো কিন্তু লাগেনি। (জান্নাতি)
- জান্নাতি বুঝতে পারছো না কেন??
- বোঝার কিছু নেই। আমি বুঝতে পেরেছি আপনিও আমাকে পছন্দ করেন।
- মানে এইসব কি বলছো??


- আমি আপনার আর দুলাভাইয়ের কথা শুনেছিলাম। সেটা থেকে এটা বুঝতে পেরেছি আপনি আমাকে পছন্দ করেন। আর আমাকে যদি পছন্দ নাই করতেন তাহলে আমি যখন আপনার হাত ধরে নিয়ে এলাম ছাড়ানোর চেষ্টা কেন করলেন না! আর আমার দেওয়া পাঞ্জাবীই বা কেন পারলেন?

জান্নাতির কথায় আমার মুখ বন্ধ হয়ে গেল। সত্যি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। ওর প্রতিটা দুষ্টুমি ওর প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছে। ওর সাথে লিজার অনেকটা মিল। কিন্তু লিজার মতো যদি ও মাঝ রাস্তায় ফেলে চলে যায়। অনেক রাস্তা একা হেটে এসেছি। ওর হাত ধরে নতুন রাস্তা হাটার ইচ্ছা আছে। কিন্তু ভয় হয় হারানোর।

- আমাকে ভালোবেসে ভুল করো না। কারণ যে আমাকে ভালোবাসে সে ভুল করে।
- আমি লিজা নাকি। আমি ওনার মতো নই যে বলব আপনাকে ভালোবেসে ভুল করেছি। আর মাঝ রাস্তায় ফেলে চলে যাব।
- তবু....
- ভয় পাবেন না মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি আপনাকে ছেড়ে যাবো না। এখন আমি একটা জিনিস দিতে চাই।
- কি??
- জান্নাতি এসে আমার গালে চুমু দিল। তখনই ওখানে আসিক আর নিলা চলে এলো।
- বাহ! ভীষন এগিয়ে গেছস! ডুবে ডুবে আমার গাছের জল খাচ্ছিস অথচ আমাকেই লুকিয়ে রাখছিস! (আসিক)

আসিক আর নিলা এসে যাওয়াতে সমস্যায় পড়ে গেলাম। মনে মনে জান্নাতির উপর রাগ উঠছে। কি যে করে না। লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। ওদের দেখে জান্নাতি আমার পিছনে লুকালো।

- তুই এখানে?? (আমি)
- আমি যখন জানতে চাইলাম তোর আর জান্নাতির মধ্য কি চলে তখন বললি কিছু না। এখন সবার থেকে দুরে এসে দিব্বি প্রেম করছিস? (আসিক)
- জান্নাতি মনে হয় বাবা-মাকে বিষয় টা বলতে  হয় তুই প্রেম করে বেড়াচ্ছিস। (নিলা)

নিলার কথা শুনে জান্নাতি কেঁদে দিবে এই রকম বস্থা। আমিও ভাবছি যদি জান্নাতির বাবা-মা জানতে পারে তাহলে আরেক সমস্যা হবে। জান্নাতি ভয় পেয়ে আমার হাতটা শক্ত করে ধরলো।

- বাবা-মাকে বলতে হবে খুব তাড়াতাড়ি ভাইয়ার সাথে তোর বিয়েটা দিয়ে দিতে। (নিলা)
- ধন্যবাদ আপু। (জান্নাতি)
- এখন এত খুশি হতে হবে না। তুই যেহেতু ভাইয়াকে মাকে বলেছিস তুই ভাইয়ার স্ত্রী সেহেতু তোর সাথে ভাইয়া বিয়ে দিতেই হবে। (নিলা)
- তোকে কে বলল(জান্নাতি)
- মাইশা... এজন্যই খুজছিলাম। (নিলা)
- আরে না, ইয়াছিন তোকে খুজছিলাম অন্য এক কাজের জন্য। (আসিক)
- কি??
- তোর চাচাতো বোন শান্তা এসে আমাকে  জিজ্ঞাসা করছিল, তুইকে, তোকে কবে থেকে চিনি। আরো অনেক প্রশ্ন। তোকে মনে হয় চিনতে পেরেছে। (আসিক)
- কি বলছিস এইসব??
- হ্যা সবধানে থাকতে হবে।
- ঠিক বলেছিস।
- এখন চল খাওয়া-দাওয়া করে নিই। আবার ফিরতে হবে তো। (আসিক)
- চল।

আমরা সবাই একসাথে খেতে বসলাম। কিন্তু আজ জান্নাতির দুষ্টুমি আরে বেড়ে গেল। শান্তাকে দুয়েকবার দেখলাম পাশ দিয়ে ঘুরাঘুরি করতে। একবার বাবা সামনে পড়েছিলাম। কিন্তু খুব কষ্টে বেঁচেছি। আমি শুধু বলছিলাম যত তাড়াতাড়ি বরের বাড়ি থেকে চলে আসা যায়। অবশেষে সব কাজ শেষ হলো। আমরা ফিরে এলাম। রাস্তায় আসার সময় জান্নাতি আমার কাধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে এসেছে। ফিরতে রাত হয়ে যায়।


........... To Be Continue

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৯)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৯)



আমার থেকে ওয়াদা নিয়ে মাইশা চলে গেল। অনেক দিন পর বোনটাকে দেখে নিজেকে বেশ হাল্কা লাগলো। আবার কাল মার সাথেও কথা বলতে পারবো।দারিয়ে দারিয়ে কথা গুলা ভাবছিল।হঠাৎ করে জান্নাতি আমার হাত ধরে টানতে শুরু করলো।
- কি হচ্ছে টা কি, তুমি এভাবে আমার হাত ধরে টানতাছো কেন??
- চুপপপ, কথা না বলে আমার সাথে আসেন।



আমাকে হাত ধরে বাড়ির ভিতর নিয়ে আসলো। দেখলাম অনেক মানুষ এসে। কিন্তু জান্নাতি সেই যে আমার হাত ধরেছে ছাড়ার কোন নাম গন্ধ নেই। এদিকে সবাই আমাদের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। ওখানে থাকা কয় জন আমাদের কাছে এসে-
- কিরে জান্নাতি এ কে দুলাভাই নাকি। ওদের মধ্যে থাকা একটি মেয়ে কথাটি বললো তার সাথে বাকি সবাই হাসতে লাগলো।
- হুম তোরা যেমন টি ভাবিস। (জান্নাতি)
- জান্নাতির কথা শুনে আমার রাগ বেড়ে গেল। ওখানে আর এক মুহূর্ত থাকলাম চলে আসলাম। আমি চলে আসার পর-

কিরে জান্নাতি দুলাভাই ওই রকম কেন রে?
- ও তোরা কিছু মনে করিস না। ও একটু ওই রকমী। (জান্নাতি)

এদিকে বিয়ের কাজ শেষ বর বউকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। সারা দিনের ক্লান্তি তাই সবাই যে যার রুমে ঘুমাতে গেলাম। কাল আবার মেয়ে পক্ষের লোক ছেলের বাড়ি যাবে।

পরের দিনঃ....
রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর জন্য খুব ভোরেই ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। এখনো সূর্য উদয় হয়নি। পূর্ব আকাশে গাছের পাতার আড়ালে সূর্য মামার কিছুটা দেখা মিলেছে। বাড়ির ভিতর দেখলাম সবাই রেডি হচ্ছে ছেলের বাড়ি যাবে বলে। তাই আমিও রেডি হতে গেলাম।

কিন্তু রুমে এসে ভাবছি আজ কি পড়ে যাব। তখনি জান্নাতির দেওয়া পাঞ্জাবির কথা মনে পড়লো। জান্নাতি তো দুইটা পাঞ্জাবি দিয়েছে। আজ না হয় নিল কালারের টা পরবো।

আমি পাঞ্জাবি টা পরে নিলাম। রুম থেকে বের হতে না হতেই আসিক সামনে এসে দাড়ালো।

- আচ্ছা তোর হয়েছে টা কি বলতো?(আসিক)
- কই আমি তো ঠিকই আছি।
- নাহ কিচ্ছু ঠিক নেই। আচ্ছা তোর আর জান্নাতির মধ্যে কি হয়েছে রে। (আসিক)
- কই। কিছু তো হয় নি।
- কাল দেখলাম তোর ড্রেস আর জান্নাতির ড্রেস এক। আবার বিয়ে বাড়িতে আসা লোকেদের বিনা পয়সায় সিনামা দেখালি। দুজন পাশাপাশি হাত ধরে দাড়িয়ে ছিলি। আজ আবার ম্যাচিং করা ড্রেস। (আসিক)
- আ..আ.আমি  কি করে বলবো!
- আমি বুঝতে পেরেছি। তুই যদি চাস তাইলে আমি নিলা আর লিলার বাবা মা কে কথাটা বলতে পারি।
- দেখ আসিক তুই ভালো করে জানিস আমি লিজা কে ভালোবাসি। এই মন জুড়ে শুধু লিজা আর কেউ না। আমি কোন ভাবেই পারবো না।
- তুই লিজাকে ভেবে আর কতো কষ্ট করবি বল? তার চেয়ে বরং সব ভুলে নতুন করে শুরু কর। আর জান্নাতি মেয়েটাও অনেক ভালো।
- আমি আর কিছু বললাম না আসিকের কাছ থেকে চলে আসলাম।

ওমা একি! পরী আসলো কোথা থেকে? মনে হয় আকাশ থেকে ভুল করে নেমে এসেছে! আমি সিড়ি দিয়ে নামছিলাম আর তখনি দেখি আমার সামনে একটা নীল পরী, সবার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে। এই পরি টা আর কেও না জান্নাতি। হ্যা জান্নাতি নীল একটা শাড়ী পরেছে চোখে কাজল হাল্কা মেকাপ, হাল্কা লিপিস্টিক, আর ম্যাচিং করা নীল কাচের চুরি, এ যেন সত্যি একটা নীল পরী।

- ভাইয়া তুমি এখানে ওই ভাবে দাড়িয়ে আছো কেন সবাই তো গাড়িতে ওঠছে। কথা গুলো বলছে আর মিটি মিটি হাসছে। (নিলা)
- অহ হুম, হ্যা যাচ্ছি। নিলার কথায় ঘোর কাটলো। কেন জানি এক মুহূর্তে আমি কোথায় যেন হারিয়ে গেছিলাম। (এদিকে নিলার কথায় বেশ লজ্জাও পেলাম। মাথা চুলকাতে চুলকাতে চলে আসলাম)
- বাইরে এসে দেখলাম অনেক গুলো মাইক্রো রাখা আছে। ভাবলাম যে কোন একটায় ঢুকে পড়ি। কাল তো জান্নাতির জন্য একটুও শান্তিতে থাকতে পারিনি। এটা ভেবে মাইকোতে ওঠতে যাব তখনি...

- ভাইয়া তুমি আমাদের সাথে আমাদের গাড়িতে যাবে (নিলা)

কি আর করার, হাজার হলেও বোন। তাই নিলা যে গাড়িতে যাবে সেই গাড়িতে পিছনে ওঠে আমি তো অবাক একি জান্নাতি এখানে কেন? এদিকে সামনে আসিক আর নিলা। এখন কি করবো! ভালো না লাগা স্বত্ত্বেও থাকতে হলো। বরের বাড়ির সামনে এসে আমাদের গাড়ি থামলো। গাড়ি থেকে নামতে না নামতেই জান্নাতি এসে আমার হাত শক্ত করে ধরলো যেন আমি কোথাও হারিয়ে না যায়।
- কি করছোটা কি হ্যা?
- কই কিছু তো করি নাই। (জান্নাতি)
- এভাবে হাত ধরেছো কেন।
- ছোট বাচ্চা, অনেক মানুষ এসেছে হারিয়ে যেতে পারেন।
- আমাকে দেখে কি তোমার বাচ্চা মনে হয়।
- হুম তা নয়তো কি।
- দেখো সবাই মনে করবে যে আমি তোমার বয়ফ্রেন্ড আর নয়তো স্বামী।
- আমার কোন আপত্তি নায়, হলে হতে পারেন। (আস্তে আস্তে বললো)
- কি কিছু বললে।
জান্নাতি আর কোন কথা না বলে আমার হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ও বাড়িতে ভিতরে না গিয়ে বাড়ির ওল্টা দিকে যাচ্ছে।

- এই তুমি এই দিকে যাচ্ছো কেন? সবাই তো ওই দিকে যাচ্ছে।
- চুপ কোন কথা না বলে আমার আসুন (জান্নাতি)



ও আল্লাহ গো এই মেয়ের হাত থেকে আমাকে বাঁচাও। এই মেয়ে আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। আমি বাচ্ছা ছেলে আমাকে কি আবার বিক্রি করে দিবে নাকি। আমি এখনো বিয়ে করি নাই আমি এতিম আমার বাপ মা ছাড়া কেও নায়। কথা গুলা মনে মনে বলছি আর দোয়া পড়ছি। কিন্তু সামনে তাকিয়ে দেখলাম কিছু দূরে দুই জন মহিলা দাড়িয়ে আছে।

আর একটু সামনে যেতেই বুঝতে পারলাম দুজন আর কেও না, আমার বোন মাইশা আর তার সাথে আমার মা দাড়িয়ে আছে। আমি ওখানে যেতে না যেতেই মা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল। বাবা তুই এতদিন কোথায় ছিলি বল। আমার কথা কি তোর মনে পরে না? কি করে এতদিন তুই আমাকে ছেড়ে থাকলি?

আমি মাকে জড়িয়ে শুধু নীরবে কেঁদে যাচ্ছি। কি বলবো ভাষা খুজে পাচ্ছি না। যাদের ছাড়া এক মুহূর্ত আমি থাকতাম না। সেই আমি কি করে ৮ বছর দূরে থাকলাম!
- বাবা তুই কথা দে, আমাকে ছেড়ে আর যাবি না বল। (আমার গালে মা দুটি হাত রেখে কথাটি বললো)
- মা আমি তোমাদের রেখে কোথায় যাবো বলো?
- তাইলে তুই এত দিন আসলি না কেন? আমি আর মাইশা তোকে কত খুজেছি
- আর খুজতে হবে না মা দেখ আমি ফিরে এসেছি।
এভাবে মার সাথে অনেক কথা হলো। এদিকে মা আমার সাথে জান্নাতিকে দেখে আমাকে জিজ্ঞেস করলো।
- বাবা এই মেয়েটা কে?

আমি বলার আগেই জান্নাতি বলে দিলো,,,
- মা আমি আপনার ছেলের বউ (জান্নাতি)
জান্নাতির কথা শুনে তো আমি আকাশ থেকে পাতালে পড়লাম থুড়ি জমিনে পড়লাম!

- আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল আমার ছেলের বউ আমি নিজে পছন্দ করে আনবো। কিন্তু তা আর হলো না। তবে আমার ছেলের পছন্দ আছে দেখছি আমি এই রকমি একটা বউমা চেয়েছিলাম। (মা)
- কি যে বলেন না মা। আপনার ছেলের পছন্দ আছে না ছাই আছে। শুধু আমাকে ছাড়া একটা পছন্দ ভালো না। (কথার মাঝে জান্নাতি মাইশাকে চোখ মারল)
- হ্যা মা ভাবি ঠিকই বলেছে ভাইয়ার কোন পছন্দ নায় (মাইশা)

যাহ সালা! আমার বোন টাকেও ওর নিজের দলে করে নিল! আমি দাড়িয়ে দাড়িয়ে দর্শকের মতো ওদের কথা শুনছিলাম। কিন্তু হঠাৎ কোথা থেকে যেন শান্তা এসে


.......To be continue
যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৮)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (৮)



আজ বিয়ে সবাই সবার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আসিককে সকাল থেকে খুজেই পাচ্ছি না। তাই আসিককে খুজতে ছিলাম। দেখলাম সবাই সাজু গুজু নিয়ে ব্যাস্ত। হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খেলাম...

- এই কেরে? চোখ কি হাতে নিয়ে ঘুরতাছিস চোখে দেখিস না। 
- সরি সরি! আমি আসলে দেখতে পাই নি! . 
- ওহ আপনি, না তাইলে ঠিক আছে। (জান্নাতি) . 
- তা সবাই তো সাজু গুজু নিয়ে ব্যস্ত। আপনি কেন এখন রেডি হচ্ছেন না। . 
- বাহ আজ সুর্য কোন দিক থেকে ওঠছে। যার সাথে আগে থেকে কথা বললে কথা বলতো না আজ সেই নিজ থেকে কথা বলছে। (জান্নাতি
- না মানে! দেখলাম সবাই সাজ গোজ নিয়ে ব্যস্ত তাই বললাম। 



এটা বলে আমি ওই খান থেকে চলে আসলাম। বাড়ি ভর্তি মেহমান। বরযাত্রির আসার সময় হয়ে যাচ্ছে তাই ভাবলাম আমিও রেডি হয়ে নিয়। কিন্তু কি পড়া যায়, কি পড়ি। ভাবতে ভাবতে সুট কোর্ট টা বের করলাম। তখনি জান্নাতি বলে উঠলো এটা বাঙালির বিয়ে এখানে বিদেশি সুট কোর্ট পরবেন না। এই বলে বিছানার ওপর দুইটা প্যাকেট রেখে বললো। - এখানে দুটো পাঞ্জাবি আছে। একটা নীল আর একটা কালো, যে কোন একটা পড়বেন। এই বলে জান্নাতি রুম থেকে চলে গেল। 
- পাঞ্জাবি দুটো হাতে নিয়ে ভাবছি কোনটা পরা যায়। উফ ভেবে লাভ নাই আজ কালো টাই না হয় পড়ি। পাঞ্জাবি পড়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসলাম। দেখি আসিক আমার দিকে আসতাছে।
- বাহ পাঞ্জাবিতে তোকে বেশ ভালোয় মানিয়েছে। (আসিক) 
- দেখতে হবে না পাঞ্জাবিটা কার দেওয়া। (জান্নাতি) 
- তুমি ওকে এটা পড়েতে দিয়েছো?? (আসিক) 
- হুম। তোমার বন্ধু তো সুট কোর্ট পড়তেছিল। কিন্তু তুমি বলো বাঙালির বিয়েতে কি ওই সব মানায়। (জান্নাতি) 
- কিন্তু তুই পাঞ্জাবি কিনলি কখন।?? (আসিক) 
- কাল কিনেছি। তুমি আর আপু যখন প্রিয়ার জন্য শাড়ি চুজ করছিলে তখন।(জান্নাতি)
- হুম ভালো করেছিস... আচ্ছা বরের গাড়ি এসে গেছে আমি যাই বলে আসিক চলে গেল। আমিও আসিকের পিছে পিছে চলে আসলাম। তবে জান্নাতিও কালো রং একটা শাড়ি পরেছে হাল্কা মেকাপ চুল গুলো এলোমেলো পাখার বাতাসে উড়ছে সবমিলিয়ে অসাধারন। সবাই বরের গাড়ির দিকে যাচ্ছে, আমি বাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে গেটের দিকে তাকাতেই আমার বুকের ভিতরে ধুক করে ওঠলো। ৮ বছরের সেই অচেনা মুখের আড়াল ভেঙ্গে আজ চেনা মুখ গুলো দেখতে পেলাম। মা-বাবা, চাচা-চাচি সবাই আছে কিন্তু মাইশাকে দেখতে পেলাম না। মা কে দেখলাম অনেক পাল্টে গেছে চুলে পাক ধরেছে। সবাই কে ওই ভাবে দেখে মনে হলো মা-বাবা তো একটা বিয়েতে গিয়েছিল তাইলে এখানে কেন।
- আমার পাশে সেই কখন জান্নাতি এসে দাড়িয়ে আছে বুঝতেই পারি নাই। জান্নাতি কে জিজ্ঞাস করলাম, আচ্ছা বরের পিতার নাম কি??
- আসাদুজ্জামান আসাদ(জান্নাতি)
- তার মানে আসাদ আংকেলের ছেলের বিয়ে? আসাদ আংকেল আর আমার বাবা দুজন বন্ধু। আমি বাড়ির ভিতর থেকে চলে আসলাম। কারণ আমাকে বাবা চিনতে পারলে কেলেংকারি হতে পারে। বাড়ি থেকে একটু দূরে পুকুর পাড়ে এসে বসে আছি।


কিরে তুই এভাবে আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস? তুই বললি কারো সাথে আমাকে দেখা করাবি কই সে?
- আচ্ছা তোর ভাইকে তুই ভালোবাসিস? (জান্নাতি)
- হুম। আমার নিজের চাইতে বেশি। (মাইশা)
- তাইলে তোর সামনে যে মানুষটি দাড়িয়ে আছে তাকে চিনতে পারছিস?
- না কে ইনি??
- তুই যাকে তোর নিজের থেকে বেশি ভালোবাসিস তোর ভাই।

আমি দাড়িয়ে ওদের কথা শুনছি। তবে ওদের কথা শুনে বুঝলাম এই মেয়ে আর কেও না আমার বোন মাইশা।

- মাইশা আমার মুখের দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখলো যে আমার কপালে কাটা চিহ্ন আছে নাকি। ছোট বেলা মাইশার খুন্তির বাড়িতে আমার কপাল কেটে যায় যা এখনো দাগ আছে। মাইশা আর দাড়িয়ে থাকতে পারলো না আমাকে এসে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল। আমিও আর ঠিক থাকতে পারলাম না আমিও কেঁদে দিলাম এই কান্না কষ্টের কান্না নয় এটা এক বোনের হারানো ভাইকে ফিরে পাবার খুশির কান্না।
- ভাই তুই এতদিন কোথায় ছিলি? আমি তোকে কতো খুজেছি। আমার কথা কি একবারো মনে পড়ে না।
- মনে পড়ে দেখেতো ফিরে আসলাম।
- যানিস ভাইয়া তোর কথা পরিবারের কেউ শুনতে চায় না। আর ওই শান্তা সব সময় বাবাকে ওল্টা পাল্টা বলে রাগিয়ে রাখে যেন তুই কোন দিন ফিরে না আসতে পারিস।

অনেক সময় মাইশার সাথে কথা বললাম। মাইশা আমার থেকে ওয়াদা নিয়ে গেল কাল যেন আমি ওই বাড়িতে যায়। সেখানে মার সাথে দেখা করাবে।

- ভাই থাক আমি গেলাম আব্বু মনে হয় আমায় খুজছে।
- আচ্ছা যা। আর হ্যা আমার কথা কাউকে বলিস না।
- আচ্ছা বাই।
আজ ছোট বোনের সাথে দেখা করে অনেক ভালো লাগলো। আমার বোনটা অনেক বড় হয়ে গেছে।
- ধন্যবাদ
- ধন্যবাদ কেন?? (জান্নাতি)
- আমাকে আমার বোনের সাথে দেখা করানোর জন্য।
- বলেছিলাম না দেখা করাবো। তাই এক ভাইয়ের সাথে এক বোনের দেখা করালাম।
- আমি আর কিছু বললাম না। তবে এই ভেবে আমার আনন্দ লাগছে যে কাল মার সাথে দেখা করতে পারবো। অনেক বছর পর মার সাথে কথা বলতে পারবো।



.........To be continue