Showing posts with label সাপের সাথে সহবাস. Show all posts
Showing posts with label সাপের সাথে সহবাস. Show all posts
সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২৬)

সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২৬)


জংলি সর্দার ইয়া বড় বড় চোখ দুটি দিয়ে তাকিয়ে ওদের দেখছে। নিধিয়া বলছে বাবারে এটা কি আবার আমাদের জ্যান্ত খেয়ে ফেলবে নাকি রে। নিশাত বললো দেখুন আমরা আপনাদের কোন ক্ষতি করতে আসিনি আমরা পথ ভুলে চলে এসেছি। কে শোনে কার কথা। ওরা তো ভাষায় বোঝেনা তা কি বলবে। দুটি মেয়ে এসে নিধিয়াকে নিয়ে গেলো আর দুটি জংলি ছেলে এসে নিশাতকে নিয়ে গেলো। কিছুক্ষন পর নিধিয়াকে নিশাতের সামনে আনলো মেয়েগুলা। নিশাত চোখ উপরে তুলতেই এক ছিদ্রভাঙ্গা সুচ তার হৃদয়ে গেথে গেলো। নিধিয়াকে কি রুপে দেখছে নিশাত। বেচারা নিধিয়া একবার পা ঢাকতে যাচ্ছে একবার গলা ঢাকতে যাচ্ছে। 



বেচারার হাল দেখে নিশাত হা হা করে হেসে ফেললো। আপনাকে তো লতাপাতা জড়ানো গাছ বানিয়ে দিয়েছে। নিধিয়া : কি!!!!!তাতে আপনার কি!!!!! নিধিয়াও হাসতে লাগলো কারন নিশাতের তো ওরা লতাপাতার পোশাক পড়িয়ে দিয়েছে। দুইজনকেই জঙ্গলিদের মতো সাজিয়ে এনেছে।ওরা দুজন দুজনকে দেখে হাসতে হাসতে সামনে তাকাতেই চুপ। নিধিয়া কান্না শুরু করে দেয়।আমার আর যাওয়া হলোনা। সার আপনি কোথায় পাঠালেন।এখন তো আমাকে বলি দেবে। সত্যি তো বলির সমস্ত কিছু আয়োজন করেছে। এবার আর কিচ্ছু করার নাই। নিশ্চিত মৃত্যু। এই আপনি থামেন তো। খালি প্যা প্যা করে কাদতে জানেন। এত ভয় তা আপনাকে কে আসতে বলেছিলো ট্যুরে। যত্তসব। জঙ্গলিরা নাচ, গান ওদের মতো অনেক আনন্দ করছে। আচ্ছা আমরা তো মারা যাবো তাইনা, তাহলে তো আর কেউ কাউকে দেখবোনা। নিশাত কিন্তু এতোটাও দুর্বল না। জঙলিরা মদ্যপান করছিলো যেটাকে বলে ভাং। জঙ্গিলিরা মেয়ে ছেলে একে অপরকে চুম্বন করছিলো কেমন এক নেশা নেশা যেনো ওরা চুম্বন প্রেমে ডুবে যেতে চাই সবাই। নিশাত বলে উঠলো নে বাবা আর কত কি দেখবো মাই গড। এই মেয়েটার জন্য এখন এইসব দেখতে...... বাকি কথা বলার আগেই নিধিয়া নিশাতের দুই ঠোটে ঠোট লাগিয়ে ওদের মতই চুম্বন করছিলো। হঠাৎ করেই জোরে জোরে গান বাজনা বাজাতে থাকলো ওরা। নিধিয়া একভাবে নিশাতের ঠোট আকৃষ্ট করে আছে এই প্রথম কোন মেয়ে নিশাতকে চুম্বন করলো। নিশাতের সারা দেহ শিহরিত হয়ে গেলো।একভাবে নিধিয়ার দিকে তাকিয়ে চোখ বুজে ফেলে।বাধা দেয়ার শক্তি ছিলো না নিশাতের।দুইজনে চোখ বুজে। চোখ খুলেই দুইজন দুইজনকে দেখে আর তাড়াতাড়ি করে সরে যায় কাছ থেকে। হায় হাই আমি এই মেয়েটার সাথে কিস.... গেট লস্ট। আচ্ছা আপনার সমস্যা কি আপনি এইসব কেন করলেন। হি.......শ চুপ কথা বলেননা। ওরা মদ্যপান করে নারী পুরুষ চুম্বন করছিলো তাই আমি ট্রাই করেছি ওদের মতো যদি এরকম কিছু করি অবশ্যই ওরা হয়তো আমাদের ছেড়ে দেবে। চারিদিকে তাকিয়ে দেখুন। নিশাত অবাক। সবাই ওদেরকে মাথা নুইয়ে হিড্ডিবিড্ডি করে কি বলছে। আসলে নিশাত নিধিয়া যখন চুম্বণে লিপ্ত ছিলো তখন আকাশ থেকে আলোর ছটায় ওদের চারিদিকে ছড়িয়ে গেছিলো। ওরা সবাই নিশাত আর নিধিয়াকে ঘাড়ে তুলে নাচাচ্ছিলো। জঙ্গলিরা অনেক খুশি মনে হচ্ছে। কিন্তু কারন কি। নিধিয়া নিশাত এতই ক্লান্ত ছিলো যে আর এইসব নিয়ে আর ঘাটাঘাটি করেনি।।প্রায় ভোর।চারিদিকে পাখি ডাকছে। জঙ্গলিরা অনেক ফল,কাচা মাংশ পুড়িয়ে নিশাত আর নিধিয়ার সামনে পরিবেশন করলো। নিধিয়ার তো বমি আসছে। দুর এরা উফ....... আচ্ছা আমাদের কি ওরা ছেড়ে দেবে?? জানিনা আপনিও যেখানে আমিও সেখানে কেমন। সো প্লিজ স্টপ। নিধিয়া মনে মনে খুব রেগে গেলো। কি লোক রে বাবা একটু কথা বলে শান্তিও নেই। ওরা সবাই ওদেরকে বিদায় দিলো অত্যান্ত সম্মানের সাথে। এবার বলি, জঙ্গলিরা আলোর ছটাকে বিশ্বাস করে। তাদের বিশ্বাস যদি চুম্বনের মাধ্যমে আকাশ থেকে আলোর গতি আসে তাহলে সবকিছু শুভ। নিশাতের জন্ম আর নিধিয়ার জন্ম সাধারন কিছু না। ওদের জন্ম নেবার জন্য এক বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। কোনরকম জঙ্গল থেকে বেড়িয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচলো। এদিকে সার ম্যাম তো চিন্তায় অস্হির। কি জবাব দিবে গার্ডিয়ানদের। নিশাত নিধিয়াকে দেখে সবার যেনো চিন্তা দুর হলো। নিশাত তো টনির দেখে এগিয়ে গিয়ে এক ঘুষি দিবে তার আগে নিশাতের পা জড়িয়ে বললো আমাকে মাফ করে দে প্লিজ। আমার ভুল হয়ে গেছে। আকাশ নিশাতকে ঠেকিয়ে নিলো। নিশাত চিৎকার করে বললো রাসকেল তুই জানিস তোর জন্য নিধিয়ার কত বড় ক্ষতি হতে পারতো। নিধিয়া তো অবাক। বাব্বা ওনি সত্যি আমার কথা চিন্তা করেন। সবাই তো অবাক। নিশাত কথা বলে চারিদিকে সবার দিকে তাকাতেই দেখে সবাই ওর দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। নিধিয়ার দিকে তাকাতেই নিধিয়া মুখ টিপে হাসতে লাগলো। নিশাত ভ্রূ দুইটা কুচকিয়ে নিজেই ভাবলো উফ এই মেয়েটাকে নিয়ে আমি বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেললাম। সবাই ওদেরকে জিঙ্গাসা করলো কি হয়েছিলো নিশাত বললো দেখ স্টপ। ওই মেয়েটাকে জিঙ্গেস কর কেমন!!! মিনু এসে বললো বাব্বা হ্যান্ডসাম কিছুক্ষন আগে নিধিয়া বলে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলে যে......... নিধিয়াকে তো সবাই ছেকে ধরেছে। ও এক এক করে বিস্তারিত সবাইকে বলতে লাগলো। জংলী সর্দার একটা কৌটা দিয়েছিলো নিধিয়াকে। কি কি যেনো বলেছিলো। ও ভাষাটা বুঝতে পারিনি। তবে নিধিয়া বুঝেছিলো এটা নিশ্চয় ভালোকিছু যা আমার উপকারে আসতে পারে। সবাই ট্যুরের শেষে কলেজে ফিরে গেলো। দুইদিন পর গ্রীষ্মের ছুটি। ভার্সিটিতে ছুটি দিয়েছে লং টাইমের জন্য। এদিকে নন্দিনীর অনেকগুলা চিঠি জমা হয়েছে। আকাশ ইচ্ছে করে চিঠিগুলা নিশাতকে দেয়না। নিশাত জানতে চিলে বলে, কোন চিঠি আসেনি। দরজায় কড়া নাড়তে দেখে পিয়ন। একটা চিঠি হাতে ধরিয়ে দিলো। চিঠি খুলতেই মায়ের হাহাজারি। নন্দিনী লিখেছে মনে হচ্ছে তোকে গতকাল দেখিনি বাবা।তাড়াতাড়ি ফিরে আয়। তোকে ছাড়া ঘুম নেই। পিয়নকে জিঙ্গেস করলো চিঠি কি আর পাঠিয়েছে বললো প্রতিমাসেই তো চিঠি দিয়ে যাই নিয়ে যাই। হোয়াট!!!!!! আকাশ আকাশ?? হ্যা বল।চিঠিগুলা কই আর। হঠাৎ চিঠি নিয়ে পড়লি কেন?নিশাত। এই পর্যন্ত ১১২ টা চিঠি এসেছে একটাও আমাকে কেন দিসনি। কারন তুই থাকতে পারতিক না তাই দেইনি। একটা থাপ্পর দিলো। তুই কি বুঝবি মায়ের কস্ট তোর কি মা আছে?? আকাশ ফুপিয়ে কেদে ফেললো। ঠিক বলেছিস আমার কি বাবা মা আছে। আমাকে কেন দয়া করিস। আমি তোকে মার কস্ট বুঝতে দিতে চাইনি। মা নিষেধ করেছিলো চিঠির বেপারে তোকে না জানাতে, তাহলে তুই পড়ালেখায় মন দিতে পারবিনা। সমস্ত খবর দিয়েছি মাকে আমি। বলেই বাইরে বেড়িয়ে গেল কাদতে কাদতে।
নিশাত নিজেকে কন্ট্রোল করে আকাশের কাছে চলে গেলো। আকাশকে বুকে নিয়ে বললো ভুল হয়ে গেছে মাফ করে দে। মার চিঠির জন্য আমি অনেক অপেক্ষা করেছি। রাগ হয়েছিলো খুব মার চিঠিগুলো দিসনি বলে। সরি রে তুই আমার জন্য এতো ভাবিস বুঝিনিরে ভাই। আমার তো বাবা মা নেই তাই আমি হতভাগা বলেই কাদতে লাগলো আকাশ। নিশাতও কেদে ফেললো দুর বললাম তো মাফ করে দে। আর এমন হবেনা।তুই আমার সব। দুইভাই জড়িয়ে ধরে কেদে ফেললো। নেক্সট সপ্তাহে নিশাত আকাশ দেশের বাড়ি যাচ্ছে। ব্যাগ পার্টি গোছানো শেষ আকাশের। দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ। খুলে দিতেই দেখে নিধিয়া।এই আকাশ আমরা দেশের বাড়ি যাচ্ছি। গ্রামে অনুষ্ঠান আছে আমার জন্মদিন। বাবা প্রতিবার গ্রামে জন্মদিন করে আমার পরিবারের সাথে। তাই বলতে এসেছিলাম আমরাও যাচ্ছি। ও ভালো কথা খুব। কোথায় তোমার দেশের বাড়ি। পরিচয় দিলো নিধিয়া। আকাশ কি বলো, তার পাশের এলাকাই তো আমাদের বাসা। খুব ভালো হয়েছে আকাশকে জানানোর দরকার নাই বুঝলে নিধিয়া... ঠিক ওনি অনেক রাগি। হেসে আকাশ বললো ও রাগি নাই। আচ্ছা আমরা তো তুই করেও কথা বলতে পারি। ইশ নিধিয়া আমার মনের কথা বলেছিস তোকে এটাই বলতে চাইছিলাম। ওকে ডান। আচ্ছা ওনি কোথায়। কে নিশাত??? হ্যা। ও তো স্নানে গেছে। আচ্ছা আমি আসি। বাবা চলে আসবে আমাকে নিতে এখনি। বাবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো। আচ্ছা। নিশাত আকাশ রেডি। ফ্লাইটে উঠে পড়েছে। কতবছর পর মনে হচ্ছে নিশাতকে দেখবে নন্দিনী। অস্হির হয়ে আছে নন্দিনির মন। একা একা এই দুই বছর খুব কস্টে গিয়েছে নন্দিনির। কিন্তু নিশাতের তো ২৩ বছর পূর্ন হতে আর ৯ মাস বাকি। এটাই যেনো নন্দিনির মনে ভয়ে ঢুকে গেছিলো। সাধুর কথা যদি সত্যি হয় তবে আমার নিশাত কিভাবে বাচবে।
চলবে............
 সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২৫)

সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২৫)



মোবাইল টা অন করেই নেটওয়ার্ক নেই। তার মানে আমরা জঙ্গলের এমন জায়গায় আছি নেটয়ার্কের বাইরে। আচ্ছা দিন আপনার ফোন। ইশ যা ফোনটা তো জঙ্গলের ভিতর পড়ে আছে। আমি যখন অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম তখন তো ছিটকে পড়ে গেছিলো কোথাও!! খুব ভালো করেছেন, আপনার ফোন থেকে তুলে নিন আমি শেয়ার করে নিবো। প্লিজ না বলবেননা। আচ্ছা ওকে.। এবার ঘুমান। আমি মুর্তির কাছেই ঘুমাবো এত সুন্দর মুর্তি আহা কখনো কি এতো সৌভাগ্য হবে। আপনি বাইরে ঘুমান। আরে বাইরে জিবজন্তু কি থাকে। কেন আপনার নাকি কোন কিছুতে ভয় নাই। তাহলে এখন ভয় পাচ্ছেন কেন?? আচ্ছা আমি বাইরে ঘুমাচ্ছি। শোনেন এই ঘরে এক বুড়ি থাকতো সে প্রতিরাতে ভুত হয়ে এখানে আসে তার সুন্দরি মুর্তি পাহারা দিতে। বিশ্বাস করছেননা এই দেখেন তার প্রমান। ওমা সত্যি তো একটা সাদা শাড়ী যে। দেখুন ভয় দেখাবেননা মোটেও। আমি থাকতে পারবো যান তো আপনি। আচ্ছা ঠিকাছে। ঘুমিয়ে পড়লো নিধিয়া..

হঠাৎ কিটিমিটি শব্দে জোরে জোরে আওয়াজ হতে থাকলো। নিধিয়া ভয়ে ভয়ে বাইরে এসে নিশাতের পাশে শুয়ে পড়লো।। কি বেপার!! আপনি এখানে কেন রাজরানী?? না মানে ভুত?? হ্যা ভুত। নিশাত নিধিয়া দুজনে সামনে ঘুরলো। দুজন দুজনকে দেখছে। ঘুমের ভাবে আচ্ছন্ন দুজন প্রায়। হঠাৎ করে গায়ে জাল পড়লো। আরে আরে দুজনে চিৎকার করলো।। হই হই লে লে লে লে ইগড়িং বিগড়িং। হো সেনফু লিতামি.. হো সেন ফু লিতামি।। জাবাকানকা বিদারা উঠানকা লে লে লে সব হইচই সাড়ি বেদে ওদের দুজনের পাশে জংলীরা ঘিরে ধরলো। আর রক্ষা নেই। আগেই নিধিয়া পড়েছিলো এই জঙলী আদিবাসিদের বিষয়ে।এরা এদের মতো চলে। দেখার পালা কি হয় ওদের সাথে। একজন সর্দার বোধয় পেট মোটা বেশ এসেই বললো মারাক্কো তেক্কি ফিসবিঙ লিতাবু মারাক্কো মারদ দুর বাল কি সব ভাষা নিশাতের খুব রাগ হচ্ছে। জাল তুলেন বলছি। জাল তুলেন। সর্দার মনে হচ্ছে ক্ষেপে যাচ্ছে। আরো জোরে জোরে বলছে মাক্ফা কাফ্কা জালাতুগা জালাতুগা। ফালিয়া খাতা। মুজা বালিয়া দিতা। এই থামেন তো আপনাদের আজগুবি ভাষায় বলেন কেন। বাংলায় বল আবে। নিধিয়া মিচকি হেসে ফেললো। আরে আপনি হাসছেন জাস্ট গো এহেড। আপনি এদের সাথে থাকুন কেমন আমি চললাম। দেখুন মিঃ ওরা সংখ্যায় অনেক আর আমরা জালে বন্দি তাই মাথা গরম করেননা বুদ্ধি দিয়ে ওদের বোকা বানাতে হবে। তার আগেই জালটাকে জড়োসড়ো করে গুটিয়ে বাশে ঝুলিয়ে দুই দিকে দুইজন দুইজন করে ধরে ঝুলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আর কিসব বলছে। মেক্কা মেক্কা তেক্কা তেক্কা বালিয়া দিক্কা এই বাবা বালিয়া মানে আবার বলি না তো নিধিয়া বলে উঠলো। এমন ভাবে জালটাকে পেচিয়ে ঝুলিয়েছে নিশাত নিচে আর নিধিয়া নিশাতের বুকের উপর নাক বরাবর ওর ঠোট.. বার বার ঝাকুনিতে ঠোটে ঠোট স্পর্শ করছে। দুর কি জ্বালায পড়লাম রে। আপনি সরুন আরে আপনি সরুন। দুর।দুজনে বন্দি। ওরা সব ঢোল বাজাচ্ছে আর গান মেক্কা মেক্কা তেক্কা তেক্কা বালিয়া দিক্কা।। দেখেন যদি বলি দেই তাহলে?? কেন আপনি তো ওদের ভাষা বুঝছেন তা যাননা সুন্দর আছেন ওদের গানে নেচে একটু ওদের কাছে মুক্তি চাইতে। দুর মজা করেননা তো। কি করে বাচবো সেটা ভাবুন। আমার ভাবা হয়ে গেছে। কি কি কি ভাবলেন? কি আবার আপনাকে ওদের হাতে দিয়ে বলবো আপনার জন্য জঙ্গলে এসেছি। দুর আপনি মজা করেন না তো। আরো জোরে ওদেরকে নিয়ে যাচ্ছে একবার মুখে, একবার কপালে, একবার ঠোটে দুজনের ঠোটে চুম্বন সুষ্টি হচ্ছে। নিধিয়া আর নিশাত গায়ের জোরে জাল ছেড়ার চেস্টা করলো। যে শক্ত জালরে বাবা। ব্যর্থ। হাপিয়ে আবার দুজনের বুকের উপর। আপনার জন্য না। দুর ভালো লাগেনা। একটু পর ধপ করে ফেললো নিশাত আর নিধিয়াকে জালসুদ্দ মাটিতে। ওরে বাবারে ওরে মারে উফ মরে গেছি। এবার নিধিয়া জালের নিচে পড়েছে। বুঝতে পেরেছেন তাহলে শক্ত মাটিতে কোমরে লেগেছে আবার গায়ের উপর আছে একটা মানুষ। এই ন্যাকামি বন্ধ করুন তো। জক জক ফিরহুদা ফিরহুদা কামরি আগা কামরি আগা। সবাই মাটিতে মাথা নুইয়ে ফেললো। একদল মেয়ে আসলো কি সব কাপড় চোপড়। মাথায় লতাপাতা, লতাপাতার জামা। আমার মাথা ঘুরিয়ে আসছে। সামনে তাকাতেই এক জঙ্গলি এগিয়ে আসছে। এটা বোধয় রাজা। আর সবার থেকে পোশাকটা ভিন্ন। সবাই বিনয় নিবেদন করছে মাটিতে লুটিয়ে। ওদের জ্বাল থেকে মুক্ত করলো। নিধিয়া বললো প্লিজ মাথা ঠান্ডা রাখুন। ওরা কি করে সেটা দেখুন। মাথা গরম করবেননা প্লিজ। হ্যা এবার বলি। ওরা ওদের ভাষায় বলছিলো। তোদের কত সাহস মানুষ হয়ে আমাদের স্হানে পা দিয়েছিস, তাও লতাদেবির ফল খেয়েছিস। রাজার কাছে নিয়ে যাবো। তোদেরকে বলির পাঠা বানাবো। 

চলবে............

সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২৪)

সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২৪)



নিশাত কেমন যেনো চুপটি করে নিরব হয়ে রইলো। সেটাইতো আমি কেনো এখানে আসলাম আর আমার দেখা মেয়েটির নুপুরের শব্দ আর মেয়েটি সামনেই ছিলো তবে?????? আচ্ছা বাদ দাও আকাশ। ওনি বোধয় অসুস্হ্যবোধ করছেন তুমি তোমার ভাইকে রুমে নিয়ে যাও। তুমি??? নিধিয়া, এইতো আমিও যাবো প্রায় ভোর হতে আসলো যাও তোমরা। না না কি বলো এতো রাতে এখানে একা থাকবা এটা কি করে হয়ে। তুমিও বরং চলে যাও রুমে। আচ্ছা,, নিশাতকে নিয়ে আকাশ চলে গেলো। নিধিয়া একটু দাড়িয়ে কিছুক্ষন পরে রুমে গেলো। ছাদে কেউ ছিলোনা। যখনি সিড়ি বেয়ে নিচে নামে তখনি একটা ছায়া ও ওর সামনে দেখতে পায়, যেন, ওর পিছনেই দাড়িয়ে। নিধিয়া পিছন ঘুরে তাকাতেই দেখে কিছু নাই। নিধিয়া যেনো তেনো মেয়ে ছিলো না।খুবই সাহসী মেয়ে ছিলো। তবে ও একটু চিন্তিত ছিলো নিশাতও আওয়াজ পেয়েছে ও আওয়াজ পেয়েছে কিন্তু কেন নিশাত ছাদের ধারে চলে যাচ্ছিলো। রহস্য কি??? এবার বলি নিধিয়া কিন্তু শুধু স্টুডেন্টস তা কিন্তু না। সে সাইকো ও প্যারানরমাল নিয়ে কাজ করছে। আর ওর গুরুদেব আছে তিনি যেখানে যাওয়ার নির্দেষ দেন নিধিয়া সেখানে চলে যাই কারন গুরুদেবের সব কথাই সত্যিতে রুপান্তরিত হয়। অনেক স্টেটমেন্ট নিয়ে কাজ করেছে কিন্তু নিধিয়া নিজেও জানতো না একদিন তার জীবনে কি থেকে কি হয়ে যাবে।
পরদিন সকালে বনে যাবার জন্য প্রস্তুত সবাই। যার যার ব্যাচ নিয়ে রেডি সবাই। সারাদিন বনের ভিতর ঘোরাঘোরি আর অপরুপ দৃশ্য কখন যে সন্ধ্যার কাছাকাছি চলে এসেছে কেউ বুঝতেই পারিনি। যার যার ব্যাচ নিয়ে বন থেকে বেরিয়ে আসছে সবাই। হঠাৎ করে একটা বাঘ নিধিয়ার সামনে গর্জে উঠলো। সবাই চিৎকার করে বাঘ বাঘ বলে পালিয়ে গেলো। কি বেপার পাশে এতো কুচকাওয়াজ কেন..??? নিশাত জানতে চাইলো বনে নাকি বাঘ পালাও পালাও সব। সবাই কিছুক্ষের মধ্যে বন থেকে বেড়িয়ে ক্যাম্পে দাড়ালো।ম্যাম বললো সবাই ওকে আছো?? জি ম্যাম।সন্ধ্যার আচ্ছন্ন প্রায়। নিশাত। কি বেপার ওই ঝগড়ুটে মেয়েটা কোথাই, কি যেনো নাম?? বলতেও পারছেনা কাউকে। সবাই কি ভেবে বসবে কারন নিশাত কোন মেয়ের সমালোচনা কখনো করিনি। মেয়েরা ভেবেই নিবে নিধিয়া বোধয় সেই ভাগ্যবতী মেয়ে........ কিন্তু না রাত হতে আসতে লাগলো কিরে আকাশ কি যেনো মেয়েটা হ্যা নিধিয়া তাকে তো দেখছিনা। হ্যা তাই তো?? নিধিয়া,সার সার নিধিয়া তো নাই আমাদের সাথে। ও মাই গড বলো কি??? নিশাত ভয়ের আভা পাচ্ছে। কিছু না বলে পিছন থেকে কখন জঙ্গলের ভিতর ঢুকে গেছে কেউ জানে না!!!! আচ্ছা গাইস এখানে তো বাঘ নেই তবে বাঘ বাঘ বলে কেন আওয়াজ তুললে সবাই। তোরা কি কেউ চোখে দেখেছিস???? সবাই চুপ। কি হলো উত্তর দে নিধিয়ার জিবনসংশয় থাকতে পারে। আকাশ টনির কলাট চেপে ধরে একটা কিল দিলো সত্যি বল টনি, তুই কিছু???? টনি ম্যামের পা জড়িয়ে বললো ম্যাম আমাকে ক্ষমা করে দিন ম্যাম আমাকে ক্ষমা করে দিন প্লিজ। আমি বুঝতে পারিনি। আমি মজা করতে চেয়েছিলাম সবাইকে ভয় দেখাইতে চেয়েছিলাম। এরকম হয়ে যাবে জানতাম না। সবাই টনির মারপিট শুরু করলো।সার পর্যন্ত দুইগালে ঠাস ঠাস করে চড় দিলো। রাসকেল তুমি জানো কত বড় বিপদে ফেলেছো তুমি নিধিয়াকে। সকাল না হওয়া পর্যন্ত বনের ভিতর যাওয়া কারো পক্ষে সম্ভবেনা । কারন এখানে জংলী আদিবাসী বাস করে। সিট। পুলিশ প্রসাসনের বাইরে। ও মাই গড স্টুপিট তোমার ভুলের জন্য আমাদেরকে কৈফিয়ত দিবে হবে গার্ডিয়ানের কাছে। সার সরি। জাস্ট স্যাটাপ। রাবিস।তুমি জানো, জংলী আদিবাসিরা নিধিয়াকে পেলে পুড়িয়ে মেরে ফেলবে। কেন সার জিঙ্গেস করলো সবাই??? এটার রহস্য আমার জানা নেই, তবে ওদের কোন দেবতা দেবি এইসব নিয়ে রিতী কি রিতিনিতি ওরা পালন করে। রাতে একটা পাখি পক্কি জঙ্গলে পা দেইনা ওদের ভয়ে। নিশাত,নিশাত,আকাশ বললো দুর একজনকে পাচ্ছিনা নে আবার নিশাতও গায়েব!! এ আবার কোথায় গেলো। ডাল মে কুচ কালা হে??? সামথিং সামথিং। একটু হাফসেরে বাচলো আকাশ ঠিক নিশাত জঙ্গলে গেছে নিধিয়াকে উদ্ধার করতে। চারিদিকে নিধিয়া নিধিয়া বলে চিৎকার করলো কোথাও জনমানব চিন্হ নেই। কোথাই খুজি মেয়েটাকে। দুর জাস্ট গেটলস্ট রাবিসের মতো কোথায় লুকিয়ে আছে কে জানে??? অনেক খোজাখুজি। নিশাত পিছন থেকে কিছু একটাই হোচট খেয়ে মাটিতে পড়ে গেলো। চোখ জুড়িয়ে গেলো নিশাতের নিধিয়া অচেতনভাবে ঘুমিয়ে আছে।বোধয় জ্ঞান হারিয়েছে। দুর মেয়েটাকে ডাকবে কিভাবে?? ওর গায়ে তো হাত দিতেও পারছেনা। এদিকে রাত গভীর হচ্ছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিধিয়াকে নিয়ে বেড়িয়ে যেতে হবে। এই মেয়ে,এই ঝগড়ুটে মেয়ে ওঠো। দুর বাবা এটাকে যে কি করি?? কোথাও পানিও নাই যে মুখে ছিটিয়ে জ্ঞান ফিরাবে। গালে হাত দিয়ে এই মেয়ে এই মেয়ে ওঠো। অনেক ক্ষন পর নিধিয়া চোখ খুললো নিশাতকে ওর গায়ের উপর থেকে ভয় পেয়ে চিল্লিয়ে উঠলো।আপনি আমার গায়ের উপর কেন?? নামেন বলছি নামেন। মেয়েদের দেখলেই এরকম অসভ্যতা করতে হয় ভদ্রতা শিখেননি আরে চুপ।।একটু চারিদিকে তাকিয়ে দেখুনতো কোথায় আপনি?? নিধিয়া অবাক চারিদিকে অন্ধকার।একি আমি এখানে কেন? সেটা তো আপনি ভালো বলতে পারবেন মিস নিধিয়া। ও বাঘ!! কোন বাঘ নেই এই বনে এটা আমাদের সার ম্যাম আগেই বলে দিয়েছে। হ্যা তাইতো আপনি ঠিক বলেছেন। তাহলে??? বাঘ বাঘ!!! কেউ হয়তো মজা করেছে। বুঝেছি এবার আমি এটা টনির কাজ ছিলো। টনি বার বার আমাকে দুর থেকে খেয়াল করছিলো।।থ্যাংকস আমাকে হেল্প করার জন্য। নিজের কাছে একটু হালকা অপরাধি লাগছে। ইশ ওনাকে কত কথা বলে ফেললাম। সরি।। আচ্ছা সবাই কোথায়। সার ম্যাম..??? সবাই ক্যাম্পে। আমিও ক্যাম্পে ছিলাম।কেউ বিপদে পড়লে আমি হেল্প করি এটা আমার মায়ের আদেশ। বাহ ছেলেটাকে যতটা গম্ভির মনে করি ততটা নই।তবে ওনি মেয়েদের যে পছন্দ করেননা এটা বুঝে গেছি। নিশাত:। যাই হোক আপনি তাড়াতাড়ি ওঠেন আর চলেন।পরে সব কথা শোনা যাবে। নিশাত হাটতে শুরু করলো। আরে আপনি এখনো বসে আছেন ওঠেন। নিধিয়া পায়ের দিকে ইশারা করলো। বাঘ বাঘ করে যখন ভয়ে সবাই চিৎকার করছিলো তখন ও পালাতে গিয়ে হোচট খেয়ে সামনে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে জ্ঞান হারিয়েছে।ওর পায়ে খুব ব্যাথা হাটতে পারবেনা বোধয়। আমি উঠতে পারছিনা, পায়ে ভিষন ব্যাথা। নিশাত নিধিয়ার হাত ধরলো উঠুন। নিশাতের বুকে কেমন একটা ছ্যাক দিয়ে উঠলো আহ করে আওয়াজ করলো।



বাবাগো!! আরে মশায় আপনি যেভাবে হাত ধরে টানছেন আমার হাত রিতীমত খুলে যাবে।আপনার হাত এতো শক্ত কেন??
আপনি আমার হাত ধরে টানছেন ব্যাথা পাচ্ছি আমি আর আপনি আহ করছেন কি আজব মানুষরে বাবা!!!
নিশাত কি যেনো কল্পনায় কি যেনো কোথায় হারিয়ে গেলো??
এই যে মিঃ হেলো???
আপনি কোথায় হারিয়ে গেছেন।

নিশাত একটু কল্পনা থেকে বেড়িয়ে এসে বললো হ্যা হ্যা বলুন!!

- নেন ধরুন! ঘাড় ধরে তুলুন।
- কি আমি আপনার গায়ে হাত দিতে পারবোনা। আমি কোন মেয়ের গা টাচ করিনা।
- সত্যি বলছেন টাচ করেননা??
- নাহ করিনা??
- তাহলে যে আমার গায়ের উপরে দেখলাম??
- না মানে মা......নে।
- হোচট!! হ্যা হোচট খেয়ে পড়ে গেছিলাম আমি।

- আপনি প্লিজ উঠুন কেমন একটু চেস্টা করুন উঠতে পারবেন।
- পারছিনা তো??
- না পারলে থাকুন।

এই বলে নিশাত চলে গেলে??

আরে আরে ও মশায় এই ঘনো জঙ্গলে একলা ফেলে কি মারবেন। আরে কেমন পুরুষ একলা একটা মেয়েকে বিপদে ফেলে চলে যাচ্ছেন।

চারিদিক থেকে নানা রকম পমুপাখির আওয়াজ আসছে।এক্টু ভয় ভয় দানা বাধছে। দুর লোকটা এভাবে ছেড়ে রেখে চলে গেলো। ভিতরে মন বলতে কিচ্ছু নাই পাষান একটা। এখন আমি কি করবো???

দেখি উঠার চেস্টা করি, নাহ পড়ে যাচ্ছি শুধু। চারিদিকে তাকালে একটু ভয় লাগছে বই কি। একটু খোড়াতে খোড়াতে দাড়ালো কোনরকম।
- আরে শুনছেন ও মিঃ, প্লিজ আপনি কোথায়? আমার খুব ভয় করছে।
একটা কি যেনো পাখির আওয়াজ হলো কিচিরমিচির করে নিধিয়া ভয়ে পিছনে একটা বুকে মুখ গুজে জাপ্টে ধরলো।
অনেক শক্ত করে ধরে আছে।

নিশাত স্তব্ধ!!!!!! চোখ দুটো লাল। এই প্রথম কোন মেয়ে ওর বুকে এভাবে জড়িয়ে মুখ লুকিয়েছে। সারা শরীর শিহরিত। প্রতিটা পশমের কোনায় কোনায় কি যেনো নিশাতকে বোঝাচ্ছে প্রেমসুখের অনুভুতি। অনেক্ষন পরে নিধিয়া আস্তে আস্তে মুখ তুলে সামনে তাকাতেই দেখে নিশাতের বুকে।
- আরে আরে আরে আপনি?? আপনি তো আচ্ছা একে তো আমাকে একা ছেড়ে গেছেন আবার আমাকে একা পেয়ে বুকে জড়িয়ে নিছেন??
- ও হেলো?? (হাতে তুড়ি বাজালো নিশাতের চোখের সামনে।)
- নিশাত নিজেকে সামলিয়ে আপনি কি চুপ করবেন। এতো কথা বলতে পারেন। আপনি নিজেই ভয় পেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন।
- ইশ।...... তাইতো...... (দুজনে দুজনের ভিতর কেমন যেনো একটা লজ্জা বোধ করছিলো।)
- আপনি কি হাটতে পারবেনঁ.?????
- হ্যা পারবো (যদিও নিধিয়া পা বাড়াতে পারবেনা তারপরো ভয়ে ভয়ে বলে ফেললো পারবে।)
- চলুন তাহলে..
- জ্বি। (নিধিয়া ছেছড়াতে ছেছড়াতে হাটছে) 
- আপনি এরকম হাটতে থাকলে নির্ঘাত আজ এই জঙ্গলে রাত পার হয়ে ভোর হয়ে যাবে তাও বের হতে পারবোনা।

- দেখছেনি তো পায়ের কি অবস্হা। 
- জ্বি??? নিশাত আর কিছু ভাবলো না সোজা কোলে তুলে নিলো নিধিয়াকে..... 
- আরে আরে নামান বলছি?......
- চুপ করেন তো কোন কথা বলবেননা এক ধমক মারলো। নিধিয়া চুপ এক ধমকেই। ওকে নিয়ে সাই সাই করে হেটে যাচ্ছে, কি শক্তরে বাবা হাত বডি।
মানুষ না অন্যকিছু কে জানে?? নিধিয়া নিশাতের চোখের দিকে একভাবে তাকিয়ে কি যেনো দেখছিলো..... মায়াবী দুটি চোখ। নিধিয়ার মনে জায়গা করে নিলো ক্ষনিকেই। নিধিয়া ওর দুই হাত দিয়ে নিশাতের ঘাড়ে ধরলো। নিশাত থমকে গেলো। এতক্ষন বেশ হাটছিলো নিধিয়া ঘাড় ধরাতেই আবারো নিধিয়ার দিকে তাকিয়ে পড়লো। দুজন দুজনকে তাকিয়ে দেখছিলো। কি যেনো একটা আকর্ষন হলো দুজন দুজনের প্রতি যদিও এটা মনে মনে।। নিশাত থমকে দাড়ালো??

- কি হলো থামলেন কেন???.
- জ্বি জঙ্গলে বের হবার পথই খুজে পাচ্ছিনা মনে হচ্ছে বার বার গোলকধাধায় ঘুরছি।
- বলেন কি????? এখন কি হবে?? কি করে যাবো ব্লা ব্লা......
- আপনি থামুনতো, নাহলে আমি কিন্তু আপনাকে এখনি মাটিতে ফেলে দিবো??
- এই না না এই আমি চুপ। ঠিক প্রতিশোধ নিবো মনে মনে নিধিয়া রাগ পুষে রাখলো। আচ্ছা আমার না খুব ক্ষুধা লেগেছে??
- কি?? এখন এই বিপদে আপনার খেতে হবে??.আরে আপনার খাওয়া আসছে কিভাবে?? (কি মেয়েরে বাবা এখন কিনা খেতে চাই)
- নামেন।
- কিহলো আর যাবেননা??
- নাহ যাবোনা??
- কেন??
- আজ রাত জঙ্গলেই কাটাতে হবে ভোর না হলে বোঝা যাবেনা কোনদিকে বের হবার পথ।
- বলেন কি সারারাত কি জঙ্গলে কাটাবো।।। সত্যি যদি বাঘ আসে??
- আগেই বলেছি এই জঙ্গলে বাঘ নেই। বেশ কড়া গলায় বললো নিশাত। (রাগী,বদজ্জাত লোকটা আমাকে বেশি রাগ দেখাচ্ছে ঠিক সময়মতো শোধ করবো)
- আচ্ছা চলেন সামনে একটা আলো মনে হচ্ছে?? কাছে যেতেই কুঠির মনে হচ্ছে!! এই জঙ্গলে আবার কুঠির কোথা থেকে????
- জানি না?? না গেলে বুঝবো কি করে??? চলুন তো সামনে দেখি??
- শোনেন আপনি দয়া করে কথা একটু কম বলেন তো!! উফ এতো কথা বলেন??? ভ্রু জোড়া কুচকে কেমন অঙ্গি ভঙ্গিতে নিশাতের দিকে নিধিয়া তাকিয়ে রইলো।
- আরে চলুন তাকিয়ে লাভ নাই। দেখি আপনার জন্য কুঠিরে থাকার ব্যবস্হা করতে পারি কিনা। আর প্লিজ মুখটা একটু বন্ধ রাখবেন কেমন!!!!!
কুঠিরের সামনে প্রায় চলে আসলো। আরে কুঠির মনে হলেও ওটা কুঠির না। আলো চারিদিকে সুন্দর বেশ। কুঠিরের বারান্দায় প্রবেশ করতেই দেখে অনেক ফলফলাদি, মিস্টি, পায়েস। একেবারে টাটকা ফল সব। আরে বাহ কত খাবার নিধিয়া এতই ক্ষুধার্ত ছিলো যে নিশাতের দিকে না তাকিয়েই হুট করে নেমে খাওয়া শুরু করলো???
- আরে আরে আপনি???
- দেখুন অনেক কথা বলেছেন দয়া করে খেতে দিন" আর আপনিও খান পারলে
- কি মেয়েরা বাবা রাক্ষসের মতো খাচ্ছে??
- কি বললেন????
- কই না না কিছু বলেনি। আপনি খাচ্ছেন খান।। আমি বাইরে আছি আপনার খাওয়া শেষ হলে বলবেন কেমন!!"!!
- আচ্ছা আচ্ছা (ফল চাবাতে চাবাতে নিধিয়া বললো।)
কিছুক্ষন পরে নিধিয়া বললো হ্যা আমার খাওয়া শেষ। আচ্ছা আপনি কিছু খাবেননা??
- নাহ আমার ক্ষিধে নেই।
- কেন মিথ্যা বলছেন বলুন তো?? যান খেয়ে নিন আহ কি তৃপ্তি।
নিশাত অবাক! কিচ্ছু নেই আর। চুপ করে কিচ্ছু বললো না। মনে মনে ভাবলো বেচারার বহুত ক্ষিধে পেয়েছিলো বোধয়। - আচ্ছা কুঠিরের ভিতর চলুন।
ভিতরে প্রবেশ করে অবাক দুজনে! সুন্দর একটা সাদা ধবধবে সুন্দরী কোন মেয়ের মুর্তি। আরে এতো সুন্দর করে মুর্তি মানুষ বানাতে পারে?? পরীকেও হার মানাবে??? রুপকথার অপ্সরা, দুই হাতে বালা, পাতলা একটা শাড়ী, স্তন বরাবর কোমরে নাভি পর্যন্ত শাড়ির ভাজে সব দেখা যাচ্ছে। আরে এভাবে কিভাবে জ্যান্ত মুর্তি বানাই মানুষ। যদি ইনফরমেশনটা কেউ পেতো সরকারী কর্মকর্তা মুর্তি উধাও হয়ে যেতো। প্লিজ প্লিজ আমার একটা ছবি তুলে দিননা অপসরার সাথে। মোবাইল টা অন করেই নেটওয়ার্ক......


চলবে.....
সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২৩)

সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২৩)

- থ্যাংকস। 
- না না নাও না কেমন নরম গলায় বললো মিনা। 
একটু করে তাকাচ্ছে নিশাতের দিকে আর মুচকি মুচকি হাসি দিচ্ছে। ধুর এই জন্য আমি কোথাও যেতে চাইনা, এই আকাশটা না!! উফ। এই স্টান্ড আপ?? কি সমস্যা তোমার হ্যা?? কখন থেকেই আল্লাদি আল্লাদি ভাব নিয়ে গায়ে গা ঘেষে বসছো। মতলব খানা কি?? পাশের সিট থেকে নিধিয়া বেশ জোরে জোরেই হাসছে। সাথে আকাশও।
কিরে তোরা হাসছিস আমি এখনি নেমে যাচ্ছি এই বাস স্টপ স্টপ। এই না না দাড়া দাড়া আমি বসছি। নিধিয়াকে বললো আমি মিনার পাশে গেলাম তুমি প্লিজ আকাশকে হ্যান্ডেল করো প্লিজ।ও খুব রাগি অনেক কস্টে রাজি করিয়েছি। ওকে। নে এখানে বস। না আমি কোন মেয়ের পাশেই বসবোনা। ইশরে বয়ে গেছে আপনার পাশে বসতে। নিজের চেহারাটা একটু আয়নায় দেখেছেন কি ব্রিশ্রী হুতুমের মতো। 



নিশাত যেনো বোকার মতো চুপ করে শুনছিলো সব। এ বলে কি আমার চেহারা???? ও কোন কথা না বাড়িয়ে চুপ করে বসে পড়লো নিধিয়ার পাশে। ১৫ মিনিট মতো চুপ সবাই। এই আকাশ পানি হবে??? পাশের থেকে কার যেনো ঝনঝন শব্দে কাচের কিচিরমিচির আওয়াজে চুরি পড়া হাত থেকে একটা পানির বোতল এগিয়ে আসলো?? মুখ না দেখেই পানির বোতলটা সামনে নিয়ে খাওয়া শুরু করলো। থ্যাংকস বলে বোতলটা আগিয়ে দিতেই দেখে নিধিয়া। আরো বোকা লাগছে নিশাতের কাছে। নিধিয়া মুচকি হাসি দিলো। দেখুন অভার ষ্মার্ট হবেননা। পানি চেয়েছেন তাই দিয়েছি তাছাড়া এরকম পানি আমি সবাইকে দিই। কিচ্ছু বলার আগে নিশাত চুপ হয়ে গেলো। রিতিমত বোকা। এই প্রথম কোন মেয়ে নিশাতকে বোকা বানাচ্ছে এভাবে। দেখুন বলে আঙ্গুল তুললো...... ওমনি বাসের ব্রেক চেপে ধরলো ড্রাইভার। কি বেপার এখনো তো ২০ মিনিট রাস্তা। আর যাবেনা সাহেব চাকা পামচার হয়ে গেলো। প্রফেসর সুচি ম্যাম বললো গাইস এখানে নামতে হবে। চাকা পামচার হয়েছে। সবাই একসাথে থাকবে। কেউ যেনো একাকি চলবেনা। ওকে ম্যাম। সবাই বাস থেকে নামলো। মোট ৫০ জন। পাচটা দল করা হলো। নিশাতের দলে ১০ জন, আকাশের দলে ১০ জন, নিধিয়ার দলে ১০ জন, টনির দলে ১০ জন, পারভেজের দলে ১০ জন। পারভেজ হলো ভালো ছেলে তবে ওর একটা হার্টের রোগ আছে যে কোন সময় মৃত্যুবরন করতে পারে। সবাই যে যার দল নিয়ে চলতে থাকলো। সামনে সুন্দর লেখ। ওয়াউ কি অসাধারন চারিদিকে। অনেক অতিথি পাখির সমাগম বেশ। সামনেই দ্যা ওউনারব্যাল ফরেস্ট। এখানে অনেক পশুপাখি আছে। বাগ সিংহ নাই আগেই বলে দিয়েছে ম্যাম। তবে জংলীদের বসবাস আছে।এরা বনের ভিতর বাস করে। ম্যাম আগেই নিষেধ করে দিয়েছে। বনের ভিতর প্রবেশ না করতে। অসাধারন চারিদিকের দৃশ্য, কি সুন্দর সব গাছপালা, চারিদিকে ভিন্ন জাতের বন্য হরিন,ইশ কি সুন্দর মায়াবি চোখে দেখে দেখে ঘাস খাচ্ছে। প্রায় দুপুর। লান্স এর জন্য হুইসেল দিলো গার্ডিয়ার। সবাই লান্সটা সেরে নিলো।একটু জিরিয়ে নিবে। হঠাৎ করেই পশ্চিম আকাশে মেঘ জমে বসলো। প্রফেসর ম্যাম সবাইকে বাসে আসার জন্য বললো। সবাই পাশের টি কেবিনে বসলো আপাতত একটা বাংলো ভাড়া করলো। যার যার রুম দেখিয়ে দিলো কেয়ার টেকার। এক একটা রুমে তিনজন করে। নিশাত আকাশ আর পারভেজ। সবাই একটু বিশ্রাম নিয়ে আবারো ঘুরতে বের হলো বনের পশুপাখি দেখে চলে আসলো রুমে। সন্ধ্যায় আবারো জমকালে মেঘে দানা বাদলো আর ঝরিয়ে পড়লো অঝোর ধারায় বৃষ্টি। নিশাত বাইরে দাড়িয়ে বৃষ্টি উপেক্ষা করে চারিদিকের সৌন্দর্য দেখছিলো। হঠাৎ তার কানে ভেসে আসলো গুন গুন করে গানের গলা। অসম্ভব মধুর গলায় কেউ গাইছে। আস্তে আস্তে বাংলোর ছাদে উঠলো। খুব সুন্দর করে কেউ গান গাচ্ছে আর বৃষ্টিতে ভিজছে। ভেজা শরীরে প্রথম কোন মেয়েকে নিশাত দেখলো।নিশাত আস্তে আস্তে মেয়েটির দিকে এগিয়ে গেলো। মেয়েটি পিছন থেকে তাকাতেই আরে আপনি.......... নিশাত আবারো চুপ। প্রতিটা কথায় বৃষ্টির ফোটা নাক ছুয়ে চিকন দুটি ঠোটে এসে গড়িয়ে পড়ছে। বাহ বেশ সুন্দর গাইতে জানেন তো বলতে গিয়েও চুপ করে থাকে। পিছনে আকাশের আওয়াজ। বাহ নিধিয়া তুমি গানে জানো বুঝি। এই একটু আড্ডো। কেন?? না অসাধারন।
তুই কখন আসলি নিশাত আকাশ কে বললো। কি করবো বল ভাই এতো সুন্দর কন্ঠে গান গাইলে তাও এই বৃষ্টি আচ্ছন্ন সন্ধ্যায় কিভাবে চুপ করে রুমে থাকি বলতে... নিধিয়া তোমার ভাগ্য ভালো বনের পশুপাখি এখনো ভিড় জমায়নি..... কি যে বলো আকাশ। রুমে চলে গেলো সবাই। রাত ৩ টার সময় একটা পায়ের নুপুরের আওয়াজ এলো....... আস্তে আস্তে বেয়ে চলে যাচ্ছে এক পা দু পা ফেলে।নিশাত উঠে সাহসের সাথে দেখতে গেলো কে??? ছাদে উঠছে। নিশাত পিছু নিলো আসতে আস্তে আস্তে এক পা দু পা ফেলতে লাগলো। পিছন থেকে কাথে কে যেনো হাত দিয়ে বললো আরে আরে আপনি কি পাগল, পড়বেন তো। নিচে ছাদের শেষ সিমানা। এক পা ছাদে এক পা হাওয়ায়। আপনি এখানে কেন?? না মানে একটা পায়ের আওয়াজ। হ্যা আমিও শুনেছি। তাই উঠে দেখতে এসেছি কিন্তু আপনি নিজেই ছাদ থেকে পড়তেন আর একটু হলে। থ্যাংকস। নিধিয়া চোখ দুটো বড়ো করে তাকিয়ে থাকলো। আকাশ আবারো নিজেকে বোকা ভাবলো আবার কি বললো, দূর ছাই। হে মিঃ আপনি থ্যাংকস বলতে জানেন বিশ্বাসই হচ্ছিলো না। যাই হোক আপনি কেন পড়তে যাচ্ছিলেন। পায়ের নুপুরের আওয়াজে প্রেমে পড়েছেন বুঝি মিচকি হাসি দিলো নিধিয়া। পিছন থেকে আকাশ বললো কিরে তুই এখানে আর আমি সারা
মুল্লক খুজে হয়রানি। পানি তৃন্ষা পেয়ে ছিলো বিছানায় তাকিয়ে দেখি তুই নাই আর...

চলবে....
সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২২)

সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২২)

২১ বছরে পদার্পন করেছে দুই ভাই। ভার্সিটির হোস্টেলে ছেলে ও মেয়ের আবাসিক হল। দুইভাই মন দিয়ে লেখাপড়া করছে। আজ পহেলা ফাল্গুন। দুইভাই বেশ জাকজমক পোশাক পরে গায়ে একটু সুগন্ধি স্প্রে দিয়ে ক্লাসে গেলো। আকাশ নিশাতকে বললো, তুই ক্লাসে রওনা দে আমি আসছি।আকাশ মা বাবার আত্মার মঙ্গল কামনার জন্য প্রতিদিন সকালে দুইটা ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিতো। হঠাৎ নিশাতের বুক চিনচিন করে উঠলো ব্যাথায় কুকড়ে গেলো পাশে কাউকে দেখতে পারছেনা একবার আস্তে আওয়াজ দিলো আকাশ, আকাশ তো দুরে শুনতে পারিনি বোধয় চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়া উপক্রম এমন সময় আলতো কোমল ছোয়ায় কে যেনো নিশাতকে স্পর্শ করলো তার ওড়নার আচলের ভাজে। ওড়না সরিয়ে আরে আরে আপনার কি হয়েছে?? আর ইউ ওকে!!!! এদিকে বসুন আপনার মনে হয় শরীর খারাপ লাগছে?? আপনার পরিচিত কেউ??? ইতোমধ্যে আকাশ উপস্হিত হলো নিশাতের কাছে,কি হয়েছে নিশাত তোর, বললো ও কিচ্ছুনা কেমন একটা ব্যাথা অনুভব হলো যেনো?? নিশাতের ভিতর অনেক পরিবর্তন হয়েছে, ও কোন মেয়েকে সহ্য করতে পারতো না, আকাশ ধন্যবাদ জানালো মেয়েটিকে। হাই, আমি নিধিয়া কামরান। হেলো, আমি আকাশ।ও আমার ভাই নিশাত। মেয়েটি বললো ওনি বোধয় অসুস্হ্য ওনাকে রুমে নিয়ে যান রেস্ট নিলে আরাম বোধ করবে।আকাশ নিশাতকে নিয়ে চলে গেলো রুমে। আধাঘন্টা পর নিশাত জেগে উঠলো। কি রে তোর তো কপাল অনেক ভালো। সুন্দরী মেয়ে তোকে কাধে নিয়ে বসিয়েছে হোয়াট?????





স্টুপিডের মত কথা বলিস কেন। আরে হে রে ঠিক বলছি। কি যেনো মেয়েটা দা--ড়া ও নিধিয়া কামরান। ওই মেয়েটাই তো তোকে পড়ে যেতে দেখে কাধে নিয়ে বসিয়েছে ক্লাবে। দেখ মশকরা করবি না আমি মেয়ে টেয়ে মোটেও পছন্দ করিনা। বুঝলি তুই। আই হ্যাটস দেম। আচ্ছা নিশাত শোন কি হয়েছিলো তোর বলতো, জানি না রে বুকে কেমন একটা বিষময় ব্যাথা মনে হচ্ছিলো কেউ বোধয় আমার কলিজাটা দুই আধাখানা করে দিলো। আচ্ছা নে তুই রেস্ট নে। আজ আর ক্লাসে যেয়ে লাভ নেই।আমি বাইরে একটু ঘুরে আসি। উঠিস না যেনো চুপ করে রেস্ট নে। এতো বইয়ের ভিতর মাথা গুজে রাখিস না তো। বলেই বেরিয়ে গেলো আকাশ। দু একটা সিগারেট খাই বই কি আকাশ। কি যেনো ভাবে আর সিগারেট টান দেয়। পিছন থেকে আরে আপনি সেই কি যেনো ও আকাশ না??? কোনরকম সিগারেট ফেলে আকাশ আরে আপনি এখানে যে?? হ্যা আমি প্রতি রাতেই এখানে আসি চাদকে একা গোপনে দেখবো বলে তা আপনি এখানে কেন??? না মানে মা.....নে ও বুঝেছি আর মানে মানে করতে হবেনা। পিছনে পড়ে থাকা সিগারেটের এক টুকরা ফেলে দেয়া অংশটি তুলে নিধিয়া বললো এই বেপার। সিগারেট খাওয়া স্বাস্হ্যের জন্য ক্ষতিকারক। জেনে শুনে না খাওয়াই উত্তম। হ্যা। ঠিক বলেছেন। যাই হোক সকালে তো জানতেই পারলাম না আপনি এবার কোন ইয়ারে কি বিত্যান্ত। আমি ফাস্ট ইয়ারে নতুন ভার্সিটিতে। আপনারা? এই তো গত বছর। আমরা ডিগ্রী নিয়ে এসেছি কলেজ থেকে। আপনি তো খাটি বাঙ্গালি। জ্বি। আমরাও। তা ওনার নাম কি যেনো.... নিশাত.... হ্যা ও রুমে রেস্ট নিচ্ছে। আচ্ছা আমরা আপনি থেকে তুমি বলতে পারি?? আকাশ উত্তর দিলো হ্যা অবশ্যই। অনেক কথা হলো গল্প হলো দুইজনে ফ্রেন্ডশিপ হয়ে গেলো। রাত অনেক হলো। এত রাত পর্যন্ত ছাদে থাকলে সার ম্যামে আবার প্রবলেম করবে। দুইজন রুমে চলে গেলো। কিরে নিশাত আমি যা ভেবেছি তাই। আচ্ছা কিরে তুই, তুই কি একটু নিজেকে নিয়ে ইনজয় করবিনা। সবসময় বইয়ের ভিতর..... উফ বাবা পারিসও বটে। বাইরে কত কি সুন্দরী মেয়েরা আহা কিন্তু সবগুলে বিলাতি চামড়া।একটাও দেশী না। এই জানিস ওই যে ওই মেয়েটা নিধিয়া ওর সাথে না আবার দেখা হলো ছাদে। বেশ ভালো রে মেয়েটা। আহা কি সুন্দর করে কথাগুলো বলছিলো.... যানা প্রোপস করে ফেল। প্লিজ কানের গোড়ায় এইগুলো বলা স্টপ কর। বিরক্ত লাগে।আচ্ছা তোকে কতবার বলবো কোন মেয়েলি কাহিনি আমার কাছে বলবিনা। দরজায় নক দিলো। আপনাদের খাবার রেখে দিলাম। কাজের বুয়া চলে গেলো। নে খেয়ে নে আর কোথাকার কোন মেয়ে তাকে নিয়ে আমার কানের গোড়ায় কিচ্ছু বলবিনা কিন্তু। নিশাত একটু জোরেই রেগে বললো। পরদিন সকালে ক্লাস... কি রে আর মাত্র পাচমিনিট দেরি এখনো ঘুম থেকে উঠিস নি, আকাশকে আহা হা করছে স্বপ্নে বোধয় কোন মেয়ের সাথে প্রেমের গল্প করছে। তুই কি উঠবি।এই আকাশ এই আকাশ উঠ বলছি। দাড়া গরম পানি আনছি। আকাশ পড়ি কি মরি এক লাফেই উঠে পড়লো।দিলি তো ঘুমের বারোটা বাজিয়ে....... কি সুন্দর রে মেয়েটা আমার হাতে একটা গোলাপ দিলো। এই থামতো বিগত ২ বছর ধরে তোর এই স্বপ্নটাই শুনে আসছি, কখনো শুনলাম না তুই কাউকে গোলাপ দিয়েছিস। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে। ক্লাসে সময় হয়ে গেলো।এই তো চল চল আরে তোর প্যান্ট কই, আন্ডার প্যান্ট পড়েই কি ক্লাসে যাবি। চল চল গোলাপ না মেয়েরা স্বপ্নে এসে দিয়ে যাই এবার গোলাপের কাটা ছুড়ে মারবে তোর এই হাল দেখে অনেক হাসলো নিশাত। তাড়াতাড়ি করে দুইভাই রেডি হয়ে বেড়িয়ে পড়লো ক্লাসে। আরো জোরে আয় তো??
পিছন ফিরে কথা বলতেই সামনে ধপ করে এক ধাক্কা অনেকগুলো বই আর খাতার পৃষ্টা বাতাসে উড়ছে, সবকিছুর মাঝে একটা সুন্দর চাদের মতো একটা মুখ। খুবই তাড়াহোড়ায় কাগজগুলো একসাথে গোছাচ্ছে। আরে মশায় দেখে চলতে পারেননা আপনি। চুপ করে হা করে দেখছে মেয়েটিকে। মেয়েটির কোন কথায় নিশাতের কান পর্যন্ত পৌছালো না। ইশ আমার আজ অনেক দেরি তারউপর আবার আপনি সব ফেলে দিলেন সব কাগজ গুছিয়ে একটা হাতের তুড়ি দিলো নিশাতের মুখের সামনে নিশাত হকচকিয়ে ভ্রু দুইটা কুচকিয়ে আওয়াজ দিলো।। দেখে চলতে পারেননা?? ছেলে মানুষ দেখলেই গায়ের উপর চাপতে হয়। আরে হে ইউ আপনি আমাকে ধাক্কা দিছেন হাম? আমি না বুঝেছেন?? একটু অবাক হয়ে উত্তর দিলো নিধিয়া। বাই দ্য ওয়ে আপনি না নিশাত। আকাশ বললো পরে কথা বলবো কেমন??? চল চল ক্লাসে। নিধিয়া বিরবির করে বলছিলো আচ্ছা লোক তো রে বাবা?? নিজেই ধাক্কা দিয়ে আবার আমাকেই উল্টা কথা শোনাচ্ছে। দুর ছাই সকালটা যে কার মুখ দেখে শুরু করেছিলাম কে জানে!!! ক্লাস শেষে আকাশ বললো আচ্ছা নিশাত তুই কি কখনো নরম হয়ে কথা বলতে পারিস না মেয়েদের সাথে। না পারিনা, মেয়ে দেখলে আমার মাথায় আগুন ধরে যাই। আচ্ছা শোন সকালের ওই মেয়েটাই কিন্তু তোকে সেইদিন......... থাক বুঝেছি আমাকে একটু কেয়ার দেখিয়ে মহাভারত কিনে নিয়েছে। 

আচ্ছা তুই এভাবে বলছিস কেনো বল,মেয়েটা কি দোষ করলো ধাক্কা তো তুই দিলি তাইনা। তুই ও........ শুরু করলি মেয়েদের মতো প্যানপ্যানানি। যাই বলিস মেয়েটা কিন্তু অনেক ভালো মনের। যানারে প্রেমনাগর মেয়েটার কাছে গিয়ে প্রেম নিবেদন কর। দুর কি বলিস আমি আর ও ফ্রেন্ড জাস্ট ফ্রেন্ড হইছে। শোন আগামী পরশু একটা ট্যুর আছে ভার্সিটি থেকে সবাই যাচ্ছি কেমন। না না ওইসব ট্যুর ফুর আমার দ্বাড়ায় হবেনা। কামান ম্যান একটু বাইরে তাকিয়ে দেখ সব জোড়ায় জোড়ায়। কেবল তুই একটা সন্নাসী। শোন,যাচ্ছি তো যাচ্ছি বুঝলি। আগের বারে তুই বাস খাদ থেকে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করেছিলি এবারো হতে পারে এরকম কিছু ঘটলে রক্ষা করতে পারবি তো না কি বল। যদি আমি মারা যাই তাও তো লাশ....... চুপ একটা কথাও বলবিনা তোকে কতবার বলেছি আমার সামনে তোর মরার কথা না বলতে না বললে তো শুনিসো না। দুইভাই জড়িয়ে কাদতে থাকলো। তুই ছাড়া আর কে আছে বল আমার। আচ্ছা বাবা যাবো আর কখনো এইসব মুখে আনবিনা। চল কাল ক্লাস আছে। নে ঘুমা এখন। তুই ঘুমাবিনা না আমার অনেক পড়া বাকি আছে। নিশাত একটা সাদা পৃষ্ঠায় এক সুন্দরী নারীর ছবি একে ফেললো সাথে একটা ছেলেও।আরে বাহ রে এতো তুই আর মেয়েটা কোথায় যেনো দেখেছি.... দেখেছি... ও নিধিয়া দেখ দেখ অনেকটা নিধিয়ার মতো। কিরে তুই। এই থামতো।দাড়া এখনি ছিড়ে ফেলছি। না না পৃষ্ঠাটা আকাশ কেড়ে নিয়ে লুকিয়ে ফেললো নিজের খাতার ভিতরে। নিশাত পড়ায় মন দিলো আবারো। আকাশ ছাদে উঠলো।নিচ থেকে অনেকগুলো মাথা দেখা যাচ্ছিলো মেইন গেট থেকে। ও বুঝতে পারলো না উপর থেকে।বিল্ডিংটা ১৮ তলায়। ও রুমে এসে নিশাতকে বললো। বাইরে না মনে হচ্ছে অনেকগুলো ছেলে কোন মেয়েকে ডিস্টার্ব করছে। চলতে দেখি বেপারটা কি। ।দুইভাই ঝাপ দিয়ে চলে গেলো নিচে।আরে ও তো নিধিয়া চল চল। নিশাত দাড়িয়ে রইলো চুপ করে। আকাশ গিয়ে বললো কারা তোরা এইভাবে মেয়েদের বিরক্ত করিস। কেন রে ভোলানাথ তোর বুঝি দরদ লাগে। উত্তর দিলো টনি টনি হলো ভার্সিটির ছাত্র। কেউ ওর ভয়ে কিচ্ছু বলেনা টনি একটা মস্তান।কেউ যদি ওর বিরুদ্ধে কিছু বলে তাহলে ওর জান নিয়ে টানাটানি হয়ে যাবে। গতবছরে একটা ছেলের হাতও কেটে নিয়েছিলো। আকাশ বললো দেখ নিধিয়া আমার বন্ধু ছেড়ে দে ওকে। কিরে নিশাত হেল্প কর নিধিয়ার। এভাবে মেয়েদের অপমান করছে আর তুই দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছিস। কি করবো তাছাড়া আমি এইসবের ভিতর নেই। বাদ দাও আকাশ।ওটা তো একটা মুর্তি। চোখের সামনে একটা মেয়েকে টিচ করছে ওনার তাতে কিছু যাই আসেনা কারন ওনি একটা মানুষই নই!! বেশ কড়া গলাই নিধিয়া বললো। ছাড় সইতান,মেয়েদের সাথে কিভাবে আচরন করতে হয় ফ্যামিলি থেকে শিক্ষা পাসনি। কেউ আসবেনা চাদপাখি।চলো আমার সাথে। সামনে থেকে একটা জোরে কোষে গালে থাপ্পর আসলো প্রায় ১০ মিনিট কান তাল ধরে আছে।আর গুলোকে পিটিয়ে কাত করে রেখেছে।মারপিট দেখে নিদিয়া অবাক। যেনো ওর সামনে কোন সুপারহিরো মারপিট করছে। এরকমতো সিনেমায় দেখেছে ও। নিজের গায়ে একটু চিমটি দিলো হ্যা আমি সজ্ঞানেই আছি তো!! সবগুলো বাবা গো বলে দৌড় দিলো। টনি বললো দেখে নিবো তাকো। আবে....... দাড়া.... দৌড় দিলো টনি ভয়ে। নিধিয়া:যাক বাবা আপনি তাহলে প্রতিবন্ধি না?? নিশাত:মানে??? আমি তো ভাবলাম আপনি কিছু পারেননা। হ্যা তো পারিনা তাই কি। দেখেন চোখের সামনে এরকম মেয়েদের উত্যোক্ত করলে আমি সবাইকে হেল্প করব ক্লিয়ার!!!!!! আকাশ হা হয়ে আছে। কিরে হা টা বন্ধ কর চল এবার।আর আপনি এত রাতে বের হয়েছেন কেন। আসলে আমি বাসায় গিয়েছিলাম কাল পিকনিক তো তাই কিছু জিনিসপত্র আনতে আর মার দেয়া আর্শীবাদ। এভাবে রাত করে কোথাও বের হওয়া ঠিক না। আকাশ, বস কি দেখালি এটা হিন্দি ছবির নায়ক যেনো নায়িকাকে বাচাচ্ছে। চুপ করতো সব কিছুতে বেশি বেশি। চল রুমে হাট।আর হ্যা আপনিও রুমে যান। যার যার রুমে চলে আসলো।পরদিন সকালে সবাই রেডি গাড়িতে উঠবে। আকাশ, নিশাত রেডি বাসে উঠবে।বাস ছেড়ে দিছে। হ্যা মিঃ হ্যালো প্লিজ হাতটা ধরুন নাহলে সরে যান। বাসের দরজার মুখে দাড়িয়েছিলো নিশাত। একটা লাল শাড়ী ফুটন্ত গোলাপ যেনো ফুটে উঠছে চোখের সামনে। আরে হাত টা ধরুন আরে। পিছন থেকে একটা হাত টেনে তুললো নিধিয়াকে। আরে নিধিয়াকে তুলছিস না কেন বাস তো ছেড়ে দিছে তোর কি মাথা খারাপ। আরে বাহ নিধিয়া শাড়িতে তোমাকে হার মানাচ্ছে। থ্যাংকস। নিধিয়া রেগে বললো আছেন তো দরজার সামনে, না সরে যাচ্ছেন আর না টেনে তুলছেন। মতলবখানা কি?? ও হ্যালো আবারো হাতের তুরি দিলো নিধিয়া। একক্ষন নিশাত কোথায় হারিয়ে গেছিলো। যা যা বলেছে কিছু শুনেনি আকাশ। গার্ডের হুুইসেল বাজলো যার যার সিটে বসার জন্য। নিশাত আর মিনা একসাথে বসলো।মিনা হচ্ছে একটু লাজুকে নিশাতকে খুব পছন্দ করে শুধু তাই নই। নিশাতকে ক্লাসের সব মেয়েরা স্মার্ট বয় বলে ডাকে। ও কোন মেয়ের দিকে ঠিক করে তাকাই না। মেয়েরা ওর জন্য যেনো বর্শি দিয়ে রেখেছে মাছ উঠলেই টপ করে তুলবে।কিন্তু নিশাত তো কাউকেই পাত্তা দেইনা। আকাশ আর নিধিয়া এক সিটে বসলো। ও ভালো হয়েছে যাক ভ্রমনের সময় অত্যন্ত গল্প করে যেতে পারবো। আচ্ছা শোন আকাশ। তোমার ভাই এমন গম্ভিরে কেন??? হা হা করে হেসেই উড়িয়ে দিলো। আসলে ও ওমনি। অনেক ভালো ছেলে।ওর মতো ভাই সহজে পাওয়া যায়না। দাড়াও তোমাকে একটা ছবি দেখাই। আকাশ ওর ব্যাগের ভিতর থেকে একটা খাতা বের করলো। আর নিশাতের আকা ছবিটা নিধিয়াকে দেখালো। 



নিধিয়া অবাক........... আরে এ তো আমার ছবি হুবহু। তুমি একেছো বুঝি। না হ। নিশাত। কি?? এতো সুন্দর ছবি আকতে পারে ওনি। সত্যি অনেক বাহবা দিতে হয় অনেক।নিশাত অনেক কিছু পারে কারন ওর ভিতরে অলৌকিক........ থেমে গেলো আকাশ মুখে হাত দিলো। এগুলো কেউ কখনো টের না পায় মা তো বারন করে দিয়েছে। কি?? কি!! থেমে গেলে কেনো আকাশ?? কথা বলো কি অলৌকিক নিশাতের ভিতর... না না কিছু না। আচ্ছা তা আমার ছবির সাথে ওনাকে কেন একেছে। আকাশ অনেক ছবি একে ফেলে যার বাস্তবরুপ পরিনত হয়। দুর...... এটা কিভাবে সম্ভব। এটা তো মনে হচ্ছে বনের গহিনে ছবি আকা। হাসি পাচ্ছে আমার তোমার এই কথা শুনে।যাই হোক তোমার ভাইকে আমি মুডি বয় বলেই ডাকবো। এই না না। এইসব বলতে যেওনা। ও মেয়েদের একটু পছন্দ করেনা। ওদিকে মিনা তো লজ্জায় মরে যাচ্ছে নিশাতের পাশের সিটে বসাতেই। তুমি কি কিছু খাবে আমার কাছে চা,কফি,বিস্কিট আছে এই নাও
সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২১)

সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২১)

অনেক ঝড়ো বাতাস মনে হয় এই বুঝি সবাইকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। আকাশ ভয় পেয়ে দৌড় দিলো হাত ছেড়ে। 
নন্দিনী : আকাশ যেওনা দাড়াও বলছি  নিশাত এক ঝাপে আকাশের সামনে। 






আকাশকে একটা থাপ্পর দিলো, তোর কি মাথা খারাপ চল আমার সাথে। নন্দিনী ওদের দুজনের হাত ধরে পুনরায় এগিয়ে গেলো।বাতাসটা হঠাৎ করেই স্তব্ধ হয়ে গেলো,চারিদিকে যেনো কোন বাতাসই ছিলোনা। নন্দিনী বুঝতে পারলো আকাশকে নিতে এসেছে কিন্তু তা সম্ভব নয় তাই ফিরে গেছে। ওরা দুর্যোগ মোকাবিলা করে কোনরকম বাড়ি পৌছালো,নন্দিনী বললো আকাশ, তুমি কি কি দেখেছো বলো আমাদের। আন্টি,রেনেসা ম্যাম ওনি আমাদের ম্যাম না, ওনি মারা গেছেন,প্রথম যেইদিন স্কুলের প্রথম বাচ্চাটাকে মারা হয় তখন ওনি মেরেছিলেন।কিন্তু ওনি মানুষ না। ওনি অন্য একটা বিশ্রী দেখতে। নন্দিনী: দেখোতো এটা কিনা। আকাশ: হ্যা আন্টি হ্যা হ্যা এটাই।এই ছবিটা কে একেছে?? নিশাত একেছে। তুমি এতো ভয় পেয়োনা তোমার কোন ভয় নেই,এই দেখো আমার গলায় যে তাবিজ এটার জন্য আমাদের কিছু করতে পারবেনা ওই সইতানটা। তারপর কি হলো : তারপর আন্টি ওই দিনকে রেনেসা ম্যাম আর আমি বাসায় আসি। আমরা রাতে একসাথে ডিনার ও করি। রেনেসা ম্যাম বললো, বাহ অনেক টেস্ট হয়ছে মিসেস লাইরা। মিসেস লাইরা হলো আকাশের মা। সবাই রাতে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুুত।নিচের বাসা থেকে আওয়াজ এলো, কেউ যেনো বাচাও বাচাও বলছিলো।আম্মু আব্বু দুইজনে রেনেসা ম্যামের দরজায় নক করলো। রেনেসা ম্যাম দরজা খুললো, বললো আরে মিসেস লাইরা কিছু কি বলবেন, না একটা আওয়াজ এলো যে, রেনেসা ম্যাম : কই কোন আওয়াজ পেলাম না, আর ইউ ওকে মিসেস লাইরা?? আম্মু আব্বু দুইজনে নিচ থেকে উপরে চলে আসলো। আমি জানালা দিয়ে দেখছিলাম উপর থেকে সবকিছু। রেনেসা ম্যাম দরজা বন্ধ করলো, আবার খুলে আমার দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত বিকট বিশ্রি হাসি দিলো। আমি চুপ করে রুমে চলে আসলাম।রাত ১২ টায় মনে হচ্ছে আমার রুমের জানালার পাশে নিচ দিয়ে কিছু একটা টেনে হিচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমার রুমটা ছিলো, মেইন দরজার সাথে উপরে বেলকোনির পাশে, মানে বেলকোনিতে দাড়িয়ে রাস্তার সবকিছু দেখতে পারবো, তারপর তারপর নন্দিনী বললো, 

আকাশঃ আমি সাহস করে আস্তে আস্তে বেলকোনিতে গেলাম।মাথাটা নিচু করে আস্তে আম্তে উপরে তুলে দেখতেই ভিষন ভাবে ভয় পেয়ে গেছি।রেনেসা ম্যামের লাশ নিয়ে যাচ্ছে আরেকটা রেনেসা ম্যাম।। কে আসল কে নকল, তবে সবকিছু গোলমাল। সেই রাতে আমার দুচোখে আর ঘুম নেই।আমি আম্মুকে সব বললাম বাবাকেও, কেউ আমার কথা বিশ্বাস করেনা, আমি অনেক ভয়ে আছি,আম্মু এটা বুঝতে পেরেছে। পরদিন আম্মু আমার রুমে ঘুমালো আমার সাথে।আবারো সেই অদ্ভুত আওয়াজ। আম্মুকে ডেকে তুললাম আম্মু আর আমি সোজা বেলকোনিতে গেলাম, রেনেসা ম্যাম একটা বাচ্চাকে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে মাথা নেই। প্রচন্ড ভয় পেয়ে আম্মু আর আমি চিৎকার দিয়ে রুমে চলে আসি।রেনেসা ম্যাম চিৎকার শুনেই আমাদের দরজায় কড়া নাড়লো, আমরা ভয়ে শেষ। মা বললো ভয় পাবেনা নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে। দরজা খুলতেই রেনেসা ম্যাম বললো মিসেস লাইরা একটা চিৎকার শুনলাম। না না কই কোন চিৎকার তো নেই ওরা ঘুমিয়ে আছে মিসেস রেনেসা আমার বাবা উত্তর দিলো। ও আচ্ছা আমি ভাবলাম হয়তো কিছু দেখেছে। কি দেখবে রেনেসা ম্যাম????? ও না না কিছু না। বাবাঃ তা আপনি এখনো ঘুমাননি কেন?? একটু কাজ ছিলো স্কুলের বাচ্চাদের পরিক্ষার খাতাগুলো চেক করছিলাম। 


আচ্ছা অনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়ুন। এই বলেই বাবা দরজা বন্ধ করে দিলো। আমি আর আম্মু বাবাকে সব খুলে বললাম। বলো কি?? কি সাংঘাতিক। সব পুলিশকে জানাতে হবে। আবারো দরজায় কড়া নাড়লো। বাবা ভয়ে খুলতে পারছেনা, দরজা ভেঙ্গে ফেলার মত আওয়াজ। বাবা ভয়ে ভয়ে খুললো দেখলো কেই নেই। বন্ধ করতেই রেনেসা ম্যামের বিশ্রী চেহারা দেখে আমরা চিৎকার শুরু করি। আমার বেপারে একটা পাখিও টের পেলে একটাও জিন্দা বাচবিনা। জোরে জোরে হাসি দিলো আর চলে গেলো। ওইদিন থেকে আমরা সবাই চিন্তিত।কে রক্ষা করবে আমাদের।ভয়ে কাউকে কিচ্ছু বলতে পারিনা।তারপরদিন আপনারা দাওয়াত দিয়েছেন নিশাতের জন্মদিনে। হ্যা বুঝেছি সব। ওই সইতানটা এবার বুঝবে আমি শাস্তি দিবো এবার। নন্দিনী : নিশাতকে বললো না এটা কি, কি তার উদ্দেশ্য আগে জানতে হবে, বাচ্চাদের মাথা কেন নিচ্ছে, নিশাত: আচ্ছা আন্টি আঙ্কেল কোথায়?? কাদতর শুরু করলো আকাশ। বাবা, মা বেচে নেই সইতানটা মেরে ফেলেছে আমার চোখের সামনে। নন্দিনী জড়িয়ে ধরলো আকাশকে।কেদোনা আকাশ। আজ থেকে আমি তোমার মা। আমাদের সাথেই তুমি থাকবে এখন থেকে। আজকে থেকে আমার দুই ছেলে। আকাশ আর নিশাত ঘুমিয়ে পড়লো, নন্দিনী ওদের ঘুম পাড়িয়ে নিজেও ঘুমিয়ে পড়বে,এমন সময় নাগের ছায়া তাকে বললো আমাদের সন্তান যে সে সন্তান নই, ওর ভিতর দিব্যশক্তি আছে।ওই পারবে আমাকে মুক্ত করতে নন্দিনী কিছু বলার আগেই ছায়া মিলিয়ে গেলো। তবে নাগ কারো কাছে বন্দি আছে, কিন্তু দ্বিনেষ সাহেব তো মারা গেছে, তবে কে নাগকে বন্দি করেছে। নন্দিনী ঘুমিয়ে পড়লো পরদিন আকাশ আর নিশাতকে নিয়ে স্কুলে গেলো, 


সবাই উপস্হিত।কোথাও রেনেসা ম্যামকে দেখা যাচ্ছেনা। একটু পর রেনেসা ম্যাম পৌছালো ক্লাসে।বাইরে নন্দিনি আর আকাশকে দেখে মিচকি হাসি দিলো। নন্দিনী প্রিন্সিপার্ল সারের কাছে বললো রেনেসা ম্যাম ওনি ম্যাম না ওনি একটা অন্য কিছু,ওনি বাচ্চাদের মাথা কেটে নিচ্ছে। কোন প্রমান আছে মিসেস নন্দিনী জবাবে রেনেসা ম্যাম। নন্দিনীঃ আপনি সব বাচ্চাদের কেন মারছেন? আকাশের বাবা মাকেও আপনি মেরেছেন। কি সব ভুল ভাল কথা বলছেন মিসেস নন্দিনী। প্রমান ছাড়া এভাবে আপনি দোষারোপ করতে পারেননা। আর আমি কেন এগুলো বলেই কাদতে শুরু করলো, এভাবে অপমান করার স্পর্ধা কে দিয়েছে আপনাকে প্রিন্সিপার্ল সার ও অন্যান্য ম্যামেরা বলা বলি করছে। আচ্ছা প্রমান আমি দিচ্ছি বলেই নন্দিনী ওর গলার তাবিজটা খুলে রেনেসা ম্যামের মাথায় ধরলো, ওমনি ম্যামের চেহারা এক বিভৎস্য চেহারাতে পরিনত হলো, সবাই চিৎকার করে পালালো, রেনেসা ম্যাম পালিয়ে গেলো নিজের পাখনা দিয়ে উড়ে।চারিদিকে মিডিয়া,নিউজ,ভয়ের আতঙ্ক।সারা জায়গায় মাইকিং করা হলো শিশুকে একা না ছাড়তে, কেউ যেনো বাইরে না বের হয়। নন্দিনী কিভাবে কি করবে বুঝতে পারছেনা। রেনেসা ম্যামকে না মারলে সবাইকে এক এক করে মেরে ফেলব....


চলবে.....

সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২০)

সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (২০)

নন্দিনীকে নিশাত বললো মা তুমি বাড়ি যাও আমি আসছি।নিতাই বাবুর গাড়ির পিছন পিছন সে দৌড়াতে থাকলো। নিতাইবাবু আকাশদের বাড়ির দিকেই যাচ্ছিলো। বেপারটা বেশ রহস্যজনক। রাত ১২ টা বাজে নিতাই সাহেব রেনেসা ম্যামের দরজায় কড়া নারলো ভিতর থেকে আওয়াজ আসলো কে কে?? নিতাই বাবু বললোআমি, মিসেস রেনেসা ম্যাম। একটু দরজাটা খুলুন প্লিজ। রেনেসা ম্যাম দরজা খুলে দেওয়ায় নিতাই বাবু ভিতরে ঢুকলো।বাহ অনেক সুন্দর তো আপনার বাসাটা। তা ভাড়া কত ম্যাম ১০ হাজার টাকা। ও।জহ আচ্ছা আপনি ছাড়া আর কে কে থাকে এখানে????? রেনেসা ম্যাম আমি একাই। 

কেন কেন? আপনি তো মিসেস তাহলে আপনার??? আগেই উত্তর দিলো ম্যাম দেখুন সাহেব আপনি এত রাতে আমার বাসায় কি এই জন্য এসেছেন আপনার কিছু জানার থাকলে সকালে স্কুল থেকে জেনে নিবেন। রাগবেননা প্লিজ ম্যাম। রাগলে আপনাকে ভারী অসুন্দর দেখায়।হ্যা যেই কারনে এসেছি খুনিকে পাওয়া গেছে যদিও একনো তদন্ত হয়নি। আচ্ছা কিচ্ছু মনে করবেননা আমি আপনার বাসাটা দেখতে চাই।বেশ সুন্দর বাসা বাড়ি বানানোর জন্য পারফেক্ট। রেনেসা ম্যামের বিরক্ত লাগছে বোধয়। গোয়েন্দা সাহেব চারিদিক ভালো করে ঘুরে আসলো আর বললো ম্যাম এখন তাহলে যাই প্রয়োজন হলে আবার আসবো। রেনেসা ম্যাম দরজা আটকিয়ে দিলো ভিতর থেকে। নিশাত নিজে দেখতে চাই কে করছে এইসব,কেনই বা করছে কি তার উদ্দেশ্য...... 





পরের দিন রাতে নিশাত আবারো বাইরে বের হলো নিতাই বাবুকে দেখলো আকাশদের বাড়ির দিকে যেতে। ও পিছু পিছু হাটা দিলো। দরজা খুলে দিলো রেনেসা ম্যাম। ভিতরে থেকে কি মি যেনো আওয়াজ পেলো ঠিক দুর থেকে শোনা যাচ্ছেনা। নিতাই বাবু: দরজা খুলে দিতেই চোখ ছানাবড়া।সামনে যেনো কে দাড়িয়ে।ছোট জামা, আর একটা টাইট সর্ট স্কার্টে রেনেসা ম্যাম। নিশাত: একি রেনেসা ম্যামের এরকম পোশাক কেন?? নিতাই বাবু ঘরে প্রবেশ করলো।জি ম্যাম কি জন্য ফোন করে ডেকেছেন?? আপনি কি জানেন খুনের বেপারে...?? 

নিশাত জানালায় উকি দিয়ে দেখতে থাকলো, ম্যাম অনেক নরম স্বরে কাঁদো কাঁদো গলায় বলছে সাহেব আমার স্বামী গত হয়েছে ৩ বছর। তখনই আমি একটা চাকরি নিই। রেনেসা ম্যাম ইচ্ছে করেই পানির গ্লাস নিচে ফেলে দেয়। ওফ পড়ে গেলো আপনি বসুন আমি তুলে দিচ্ছি। বলেই নিচু হয়ে সব সাফ করলো ম্যামের ছোট জামায়। অন্যরকম লাগছে যে কেউ পাগল হয়ে যাবে। রেনেসা ম্যাম বললো একটা বাচ্চাও নেই যে বুকে নিয়ে বাচবো। আপনি একটু দাড়ান সরবত নিয়ে আসি। এই নিন সরবত খান আর কথা বলি।
 
আমি বাচ্চাদের অনেক ভালোবাসি ওরা আমার কাছে সন্তানের মতো। আচ্ছা সত্যি কি খুনি ধরা পড়েছে? হ্যা পড়েছে তবে এখনো নিউজে দেখানো হয়নি।আপনি যেনো কি বলতে চাইছিলেন।হ্যা একটু একটু করে কাছে গেলো রেনেসা ম্যাম গল্পেরএই সেই কথা বলে। নিতাই বাবুর নাকের কাছে গিয়ে ফসফস করে নিশ্বাস ছাড়লো।নিতাই বাবুর চোখ বুজে আসছিলো।ম্যাম ওনাকে জড়িয়ে অনেক নোংরা কাজ করছিলো। সন্দেহর দানা বেধেছে রেনেসা ম্যামের উপর।নিতাই বাবু কেমন ওনার সঙ্গ দিলো, ওনাকে কিছু দিয়ে বশ করেছে। নিতাই বাবু রেনেসা ম্যামকে সন্দেহর খাতায় নাম রেখেছিলো এটা আমার বুঝতে বাকি নেই। প্রতিরাতে নিতাই বাবু আর ম্যাম এক বিছানায়........ নিশাত ঠিক করলো ও নিজেই এর সমাধান করবে। ও আকাশের রুমে জানালা দিয়ে প্রবেশ করলো। আকাশ ঘুমিয়ে। নিশাতের জাদুর বশে আকাশের চোখে দেখা দৃশ্যগুলো দেখছিলো। সব শেষে নিশাত থমকে গেলো কি এইগুলো? কি দেখছে ও বিশ্বাসই করতে পারছেনা। তবে, নিশাত সোজা বাড়ি গেলো। নন্দিনি দেখলো: নিশাত অনেক চিন্তিত। নন্দিনী মাথায় হাত রেখে বললো তোমার বইয়ের থেকে আমি একটা ড্রয়িং করা ছবি পেয়েছি। এটা কে এঁকেছে। এই ছবিটা বাস্তবরুপ এমন আছে নিশ্চয়। তুমি যা অঙ্কন করবে সবগুলোর বাস্তব রুপ থাকবে। 

মা মা...রেনেসা ম্যাম.... কি বাবা.... বলো.... রেনেসা ম্যাম আমাদের ম্যাম না। এটাই খুনি। সব বাচ্চাদের মাথা কেটে নিচ্ছে।এই ছবিটার সাথে রেনেসার ম্যামের মিল আছে। সব ঘটনা খুলে বললো নন্দিনীকে...... নন্দিনী বললো :শোন তুমি কোন ছবি অঙ্কন করলে সেটার অবশ্যই সত্যি হবে। সাধুবাবা আমাকে বলেছিলো তোমার বেপারে..... আস্তে আস্তে সব জানতে পারবে...... কি চায় রেনেসা ম্যাম, বাচ্চাদের এভাবে কেন হত্যা করছে......... নন্দিনি: তাহলে আকাশের জীবন সংকটে আছে........... আকাশকে আমাদের রক্ষা করতে হবে........ নন্দিনী বললো নিশাত তুমি একা যেওনা...... মা তুমি চিন্তা করোনা...... সেইদিন তো আমি একাই বাস খাদে পড়া থেকে রক্ষা করেছিলাম। না বাবা এই রেনেসা ম্যাম কোন সাধারন কিছু না। সে অনেক শক্তিশালি। 

তুমি অপেক্ষা করো নন্দিনী আর নিশাত আকাশদের বাড়ির দিকে রওনা দিলো। নিচের রুমে রেনেসা ম্যাম আর নিতাই বাবুকে অন্তরঙ্গ অবস্হাই দেখলো নন্দিনী। নন্দিনি তাড়াতাড়ি করে আকাশদের কক্ষে প্রবেশ করলো। আরে এত রাতে নিশাত তুই। হ্যা আমি....... আন্টি আঙ্কেল কোথাই জিঙ্গেস করাতেই চোখের পানি ছেড়ে দিলো......আকাশ। নন্দিনী ওদের দুইজনকেই নিয়ে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসলো বাড়ির দিকে রওনা দিলো। হঠাৎ দমকা হাওয়া অনেক দ্রুত বেগে নন্দিনীর দিকে আসতে লাগলো। নিশাত আকাশ তোমরা দুইজনে আমার দুইহাত ধরো কেউ কোনভাবে আমার হাত ছাড়বেনা কিন্তু। তুফান শুরু হলো কোথা থেকে। আকাশ অনেক ভয় পেয়ে গেলো আন্টি আন্টি ও চলে এসেছে আন্টি এবার আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে কেউ বাচতে পারবো না হু হু করে কাদতে শুরু করলো। আকাশ অনেক ভয়ে আছে নিশাত অভয় দিয়ে বললো চুপ কর........


চলবে.....


গল্পটির পরবর্তী পর্ব পেতে গল্পটি নিচের শেয়ার অপশন থেকে অথবা লিংক কপি করে ফেসবুকে শেয়ার করুন....

সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (১৯)

সাপের সাথে সহবাস - পর্ব (১৯)

নিশাত ছবি আকছিলো। সে এক অদ্ভুত ছবি একে ফেলে। সেটা সে বইয়ের ভিতরে রেখে দেয়। রেনেসা ম্যাডাম প্রতিবারের মত ক্লাস নিতে আসলেন।রেনেসা ম্যাডামকে আজ সত্যি অনেক সুন্দর লাগছে। আজকে নতুন একটা শাড়ীর সাথে কাচের কিছু গহনা। ক্লাস শেষে ছুটির ঘন্টা বেজে গেলো। পিছন থেকে নিশাতের গলা চেপে ধরলো বাবলু আর মিন্টু। কিরে খুব তো ম্যাডামের প্রিয় হয়ছিস, আমাদের কি ভয় লাগেনা। বাবলু মিন্টুরা ক্লাসের সবথেকে দুস্টু বাচ্চা, এরা নিজেরা লেখাপড়া করেনা, ভালো পারলে তাকে ক্লাস ছুটির পর মার ধরে করে, কান ধরে উঠবস করায়। কেউ ওদের নামে কিছু বলতে পারেনা কারন ওরা প্রিন্সিপালের ছেলে। আকাশ নিশাতের পাশের বেঞ্চে বসতো। আকাশ নিশাতের সাথে বন্ধুত্ব করলো। দুই বন্ধুর অনেক মিল হতে থাকলো আসতে আসতে। 


 



হঠাৎ একদিন ক্লাসে সার ম্যাডাম গুনগুন করে কি সেই বলা কওয়া করছে। নিশাত ক্লাসে ঢুকতেই সবাই চুপচাপ। আকাশকে বললো কি হয়েছে সবাই এতো চুপচাপ কেন? আকাশ বললো কাল আমাদের অপর কক্ষের একটা ছেলেকে কে যেনো মাথা কেটে নিয়ে গেছে। কি সাংঘাতিক খবর। নিশাত বললো আচ্ছা কে নিয়ে গেছে??? তুই কি কিছু জানিস বললো: না.. না.. না.. না আমি কি করে জানবো। মনে হচ্ছে আকাশ ভয় পেয়ে আছে। ক্লাস ছুটির পরে আকাশকে নিশাত ডেকে বললো আকাশ এখানে দাড়া। তুই কি সত্যি করে বলবি তুই এমন ভয় পেয়ে আছিস কেন? না না না না কিচ্ছু না আমি বাড়ি যাবো। আমি কিছু জানি না। নিশাত বুঝতে পারছে কিছু একটা দেখেছে আকাশ। পরের দিন আবারো ক্লাসে একি অবস্থা। আবারো আরো একজনের মাথা কেটে নিয়ে গেছে কে যেনো খুব বিশ্রিভাবে। বিষয়টা নন্দিনীকে জানালো সব। নন্দিনী বললো এইভাবে সব বাচ্চাদের মাথা কেন কাটছে? আর কে কাটছে?? নিশাত আকাশের বেপারে জানালো, আকাশ কিছু একটা লুকাচ্ছে।নন্দিনী আর নিশাত আকাশের বাড়িতে গেলো। রিতীমত অবাক। আরে মিসেস রেনেসা আপনি এখানে....... এই তো এটা আমাদের বাসা। আমরা আকাশদের বাসার নিচ তলায় ভাড়াই থাকি।তা আপনারা কি মনে করে...... ও আসলে আকাশের কাল জন্মদিনতো তাই আকাশের বাবা মাকে দাওয়াত দিতে এলাম।ভালোই হলো আপনিও কাল উপস্হিত থাকবেন। অবশ্যই আসবেন কিন্তু।আকাশের বাসায় গেলো তার বাবা মাকে ইনভাইট শেষে চলে আসলো আকাশ একটা অস্বস্তিকর ভাব বোধ করছিলো। ও বাসায় এসে বললো আচ্ছা মা রেনেসা ম্যাডামকে তোমার অন্যরকম লাগছিলো না... বললো কই নাতো???
পরের দিন নিশাতের জন্মদিন হলো খুব ধুমধামে।সব বন্ধুরা মিলে আকাশের ব্রার্থডে এনজয় করলো সবশেষে যে যার বাড়িতে রওনা দিলো। সকালে সেই একি ঘটনা ক্লাসে শুনতে হলো... এই নিয়ে ৩ টা ছেলে মারা গেলো একইভাবে।পুলিশ গোয়েন্দা এসেছে ইনভেস্টমেন্টের জন্য। পুলিশ:::আচ্ছা এটা কি এর আগে কখনো হয়েছে। তিশা ম্যাডাম একটু বয়স্ক, ওনি উত্তরে বললো না না অফিসার আমি এই স্কুলে শুরু থেকে আছি।এরকম কোনদিন ঘটেনি এমন। তবে আপনাদের কি কারো উপর সন্দেহ হয়। না সেরকম তো দেখছি বলে মনে হয়না উত্তরে প্রিন্সিপার্ল সার। পুলিশ রেনেসা ম্যাডামের কাছে গিয়ে বললো ম্যাডাম আপনি যদি এই বেপারে কিছু বলতেন। রেনেসা ম্যাডাম বললো দেখুন অফিসার এটা অন্য কারো কাজ আমাদের স্কুলের বাচ্চা ঠিকি তবে এটা রাত ১২ টার পরে মেরে ফেলে এটার সাথে আমাদের স্কুলের কারো সাথে কোন সম্পর্ক নেই। নিশাত অবাক রাত ১২ টার পরে মানে......... গোয়েন্দা নিতাই বাবু বলো আচ্ছা রাত ১২ টার পরে এটা আপনি কিভাবে জানলেন..... না মানে মানে হচ্ছে পুলিশ তো ডেড বডি আইডিকোয়ালিফাই করে বলেছে প্রতিটা বডি ১২ ঘন্টা আগে মৃত্যু হয়েছে। ও ধন্যবাদ ম্যাম। আমরা এবার আসি, প্রয়োজনে আবার আসবো। আপনাদের সময় নস্ট করার জন্য দুঃখিত। তিশা ম্যাডাম না না তা কেন?? আপনাদের সাহায্যের খুব প্রয়োজন আমাদের।এভাবে চলতে থাকলে আমাদের স্কুলের একটা বদনাম হবে। তিন তিনটা বাচ্চার বডি কুমাতলা স্কুলের। কিছু করেন অফিসার আপনারা। বাইরে থেকে অনেক আওয়াজ আসছে অনেক ভিন্ন ভিন্ন কন্ঠের।পুলিশ,টিচাররা সব বেরোতেই অভিবাবকরা সব বলছে আমরা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাবোনা। আমাদের সন্তান নিরাপদ না।পুলিশ অফিসার সাহেব বললো আপনারা থামুন প্লিজ। বিষয়টা আমরা তদন্ত করে দেখছি। খুব শিঘ্রই জানা যাবে খুনি কে। আপনারা প্লিজ শান্ত হোন। যার যার বাসায় ফিরে যান।
পুলিশ আর গোয়েন্দা মিলে সব রকম প্রমান নিলো সিসি ফুটেজ। কোন কিছুই পেলো না। আকাশও দুইদিন স্কুলে আসে না। বাসায় গিয়ে পুরোটা নন্দিনীকে বললো। নন্দিনী নিশাতকে বললো তুমি কি বুঝতে পারছো কিছু। নিশাত বললো দেখছি মা। আকাশকে ধরলে সব বেরিয়ে আসবে। আকাশের বাড়ির দিকে নন্দিনী আর নিশাত রওনা দিলো। নিচের বাসায় রেনেসা ম্যাডাম।জানালা দিয়ে চোখ পড়লো নিশাতের। ম্যাডাম ঘুমোচ্ছে। ওরা সোজা আকাশের বিল্ডিং এ কলিং বেল বাজালো। প্রায় পাচ মিনিট বাজানোর পর দরজা খুললো আকাশের বাবা। নিশাত বললো আঙ্কেল আকাশ কোথায়,ওকে স্কুলে দেখছিনা কেন? সবাই যেনো গুটিসুটি ভয়ে আছে।আকাশ বললঁ কিরে কেমন আছিস। আমি একটু অসুস্থ্য ছিলাম। বস আয়। নিশাত অবাক যে আকাশের ভিতরে আচমকা ভয় ছিলো সে এতো সহজভাবে কথা বলছে কিভাবে বেশ অবাক লাগলো। ওরা বাড়ী ফিরে আসলো পথিমধ্যে গোয়েন্দা নিতাই বাবু ওই রাস্তা দিয়েই আকাশদের বাড়িতে যাচ্ছিলো।নিতাই বাবু বেশ সুন্দর গঠনের বুদ্ধি যেমন তার চেহারাটাও সুগঠনের। আরে আরে তোমার যেনো কি নাম নিশাত স্যার ও আমার একমাত্র ছেলে। আকাশ দুইদিন স্কুলে আসেনি তাই খোজ নিতে গিয়েছিলাম ও আচ্ছা কিন্তু রাতে বের হবেননা প্লিজ দিনকাল খারাপ দেখছেন তো ৩ টা বাচ্চার বডি পাওয়া গেছে। জ্বী স্যার সবি শুনেছি। বেশ কষ্টের আর ভয়ঙ্কর।


চলবে...