Showing posts with label নাগকন্যা. Show all posts
Showing posts with label নাগকন্যা. Show all posts
 নাগকন্যা - পর্ব (৫)

নাগকন্যা - পর্ব (৫)

কারন আমি খেয়াল করলাম আমি একটা সুন্দর স্বাভাবিক রুমে শুয়ে আছি। আমার পাশে মিস শিলা বসে আছে।তার পাশে আলোর বয়সী একটা মেয়ে। চারপাশে নজর দিয়ে আলোকে খুঁজার চেষ্টা করলাম। কিন্তু আলোকে খুঁজে পেলাম না। আলোকে না পেয়ে মনে মনে বেশ ব্যাহত হলাম।মনের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠল আলোর কিছু হল না তো এটা ভেবে। মুহুর্তের মধ্যে আমি উদ্ধিঘ্ন হয়ে গেলাম।আলোর জন্য অস্থির হয়ে মিস শিলাকে জিজ্ঞেস করলাম






-আলো কোথায়?আমার মেয়ে এখানে নেই কেন।
মিস শিলা ধীর গলায় আমাকে শাত্বণা দিয়ে বলল
-আপনি শান্ত হন আগে।
আমি মিস শিলার কথা শুনে বেশ রাগান্বিত হলাম।আমার মেয়েকে পাচ্ছি না।আর উনি শান্ত হওয়ার কথা বলছে কি করে।কিছুটা রাগী হয়েই বললাম

-আমার মেয়ের খুঁজ পাচ্ছি না।আর আপনি আমাকে শান্ত হতে বলতেছেন।আমার মেয়ে কোথায় বলুন।আমারেই ভুল হয়েছে এত কিছুতে আসা।আমার মেয়ে যেমনেই ছিল আমার কাছে ছিল।আজকে যদি আলোর কিছু হয় আমি কাউকে ছাড়ব না।কোন রহস্য বের করার দরকার নেই আর।আমার মেয়েকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন শুধু।আমি আমার মেয়েকে ছাড়া থাকতে পারব না।কি থেকে কি হচ্ছে কিছুই আমার মাথায় আসছে না।আপনার জন্যই এত খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি।যেমন ছিলাম আমি আমার মেয়েকে নিয়ে ভালোই ছিলাম।এতটা জটিলতায় আসতে হবে জানলে আমি রহস্য জানার চেষ্টায় করতাম না।আমার মেয়েকে চাই।আমার মেয়েকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন।আমি এসব আর নিতে পারছি না।আমার সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে সব।


মিস শিলা পাশে থাকা মেয়েটিকে ইঙ্গিত দিয়ে বললেন
-এটা আপনার মেয়ে আলো।আপনি অস্থির হবেন না।আমি তো আলোকে কেড়ে নিতে চাচ্ছি না।রহস্য উদঘাটন এজন্য করতে চাচ্ছি যে আলোর জন্মের কারন জানতে না পারলে ওর প্রাণ সংশয় হতে পারে।ওর জীবনের জন্য হলেও জটিলতা পার হয়ে সব জানতে হবে।আলোর আচরণ আরও অস্বাভাবিক হবে আর সেটার কারন জানতে না পারলে অনেকেই বিপদের সম্মুখীন হবে। আপনি তো মা। আপনি নিশ্চয় চাইবেন না আলোর ক্ষতি হোক।এই যে দেখুন আপনার মেয়ে অক্ষত আছে।আপনার মেয়ের কিছু হয় নি।শুধু শুধু চিন্তা করছিলেন।সহজ বিষয়টাকে জটিল করে তুলছিলেন।বিপদে মন স্থির রাখা জরুরি।অস্থির মন নিয়ে কখনও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায় না।সুতরাং মনটাকে স্থির রাখুন।

আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে দেখলাম আলোর চেহারার সাথে এ মেয়ের চেহারার কোন মিল নেই।কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম
-কিন্তু আলোর চেহারা তো এটা ছিল না?আলোর চেহারা এমন হল কি করে?এটা তো আমার আলো না।আপনি কাকে আমার আলো বলতেছেন।আমার আলো তো দেখতে এমন ছিল না।কিসব যা তা বলছেন।আমার আলো কোথায় সেটা বলেন।

মিস শিলা শান্ত হয়ে জবাব দিলেন

-আলোর রূপ বদল হয়ে গিয়েছে।আলোর এ সময়টাতে রূপ বদলে যাওয়ার কথা।এটা নাগ-নাগিনের ইতিকথা বইটিতে লিখা ছিল যে নাগকন্যারা ৬ বছর ১মাস ১৫ দিন বয়স হলে রূপ বদল হবে।তাই আলোর রূপ বদলে গিয়েছে।আপনি তো মা নিশ্চয় সন্তান চিনতে ভুল করবেন না।আলোকে ভালো করে খেয়াল করুন।আশাকরি বুঝতে ভুল হবে না।
আমি আলোর দিকে তাকিয়ে চোখ দেখেই বুঝলাম এটা আমার আলো।কারন মায়ের মন সন্তান চিনতে কখনও ভুল করে না।তবে আমি ঐ প্রাসাদ থেকে এখানে কিভাবে আসলাম।ব্যাপারটা বেশ ধোয়াশা লাগল আমার কাছে।ধোয়াশাটা কাটানোর জন্য মিস শিলাকে বললাম


-আচ্ছা আমরা তো এখানে ছিলাম না।আমরা তো ছিলাম ঐ প্রাসাদে।তাহলে এখানে কি করে আসলাম?এতকিছু কি করে ঘটল?আমাকে খুলে বলুন।নাকি আমি এখনও কোন মায়ায় ফেঁসে আছি।আমাকে খুলে বলুন।আমার কাছে সব ধোয়াশা লাগছে।মনে হচ্ছে যাদু মায়া কাটিয়ে এখনও উঠতে পারি নি।আমাকে সবটা গুছিয়ে বলুন।
মিস শিলা শান্ত গলায় আমাকে বললেন

-আপনি অস্থির হবেন না।শান্ত হয়ে বসুন আর শরবতটা পান করুন।আপনি অনেক দুর্বল আমি আপনাকে সবটা খুলে বলতেছি।
শরবতটা খাওয়ার সাহস পাচ্ছিলাম না।কারন এতে যদি কোন মায়া থাকে।এমনিতেই অনেক মায়ার জালে ফেঁসে আছি।নতুন করে কোন ফাঁদে যেন না পড়ি তাই শরবত খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখলাম আর বললাম
-আমার এখন কিছুই খেতে মন চাচ্ছে না।আপনি আমাকে সবটা বলুন তারপর আমি কিছু খাব। না হয় আমার গলা দিয়ে কিছু নামবে না

মিস শিলা স্থির হয়ে ধীর গলায় বললেন
-আপনি আলোর চোখের দিকে তাকান তাহলেই সবটা বুঝতে পারবেন।
মিস শিলার কথাগুলো আমার তেমন বোধগম্য হল না।তাই কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম
-আলোর চোখের দিকে তাকালে বুঝতে পারব মানে কি?হেয়ালি রেখে আপনি আমাকে বলুন।
বিরক্ত গলায় কথাগুলো বলে আমি বেশ বিরক্তমাখা মুখ নিয়ে বসে রইলাম।মিস শিলা তার গলার আওয়াজটা নীচু করে আমাকে বললেন

-আলোর চোখের দিকে তাকালেই ঘটনাটা ভেসে উঠবে।কারন আলো তো নাগকন্যা।রূপ পাল্টানোর সাথে সাথে ওর মধ্যে কিছু মায়াবী শক্তি ও জমা হয়েছে।আর সে শক্তির ফলেই আপনি আলোর চোখের দিকে তাকালেই বুঝবেন ঐখানে কি হয়েছিল।আপনি নিজেকে বড্ড অস্থির করে ফেলছেন।তাই সত্য মিথ্যার ফারাকটা ধরতে পারছেন না।সেজন্যই বলছি আপনি আলোর চোখের দিকে তাকান।আমার কথাগুলো আপনার বোধগম্য হবে না।কিন্তু ঘটনাটা আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠলে সেটা আপনার বোধগম্য হবে আমার মনে হয়।তাই আলোর চোখের দিকে তাকান।দেখুন কি হয়েছিল।মনে করে নিন বিশ্বাসে মেলায় বস্তু তর্কে বহুদূর।


এবার মিস শিলার কথা শুনে কিছুটা স্থির হয়ে আলোর চোখের দিকে তাকালাম।আলোর চোখের দিকে তাকাতেই একটা আলোক রশ্নি আমার চোখে প্রবেশ করল।নিমিষের মধ্যেই মাথাটা বেশ ঘুরে গেল।বাড়িটাও কয়েক সেকেন্ডে পাল্টে গেল।মনে হল আমি সেই প্রাসাদে আছি আর আগের অবস্থানে আছি।সামনে দুজন মিস শিলা দাঁড়িয়ে আছে আর আমার পাশে আলো মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আর আলো বলে উঠল

-এ মালাটায় দুজন হাত রাখ। এ মালাটায় হাত রাখলেই সব মায়া শক্তি বিলীন হয়ে যাবে।এতে করে যে শিলার রূপ ধরে আছে সে বিনষ্ট হয়ে যাবে।
কিন্তু আলোর কথার কন্ঠটা ছিল একদম বড় মানুষের মত।মনে হচ্ছিল আলোর ভিতরে অন্য কেউ প্রবেশ করেছে।
অপরদিকে আলো মালাটা বাড়িয়ে দিল।আশ্চর্য জনক ভাবে দুজনেই মালাটা হাত দিলেও কারও রূপের কোন পরিবর্তন হল না।এতে করে কে আসল শিলা বুঝার উপায় পেলাম না।আলোও একটু চমকাল।কিন্তু পরক্ষণেই আলো একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল

-আমি বুঝতে পেরেছি কে আসল শিলা।আমি শুধু কথার প্রেক্ষিতে বলেছিলাম যে রূপ পাল্টে যাবে।যাতে করে নকল শিলার মনোযোগ টা রূপ যেন না পাল্টে যায় সে দিকে চলে যায়।আর নকল শিলা সেই কাজটায় করল।আর মায়াবী শক্তি আরও প্রখর করল ফলে তার রূপ পাল্টালো না।কিন্তু কাহিনী হচ্ছে যে আসল শিলা তার ঘাড়ের তীরচিন্হটা এ মালাটার স্পর্শ করার সাথে সাথে জ্বলে উঠবে।আলোকিত হয়ে উঠবে একটু।আর এখন আর আমার বুঝতে বাকি রইল না কে আসল শিলা।
পাশ থেকে দুজন শিলায় বলে উঠল আমি আসল শিলা।আলো শুধু মুচকি মুচকি হাসল।আর বলল
-কিছুক্ষণ এর মধ্যে একটা শিলার মুখ পুরে নষ্ট হয়ে যাবে।

পরক্ষণেই খেয়াল করলাম যে শিলাটা আমাদের খুপরিটায় যেতে বাঁধা দিচ্ছিল সে শিলার মুখেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে বিনষ্ট হয়ে গেল।অথচ আমি একটা মুহুর্তে ২য় শিলাকেই আসল শিলা ভেবেছিলাম।আর প্রথম শিলাকেই মায়াবী শিলা ভেবেছিলাম।এবার আসল শিলা আমাকে আর আলোকে ধরে নিয়ে সুরঙ্গটায় পা দিল।

সুরঙ্গটায় পা দেওয়ার সাথে সাথে একটা নদী তৈরী হল।নদীটার উপর একটা ভেলা ভাসতে লাগল।আমি তখন অচেতন অবস্থায় ছিলাম।আলো আর শিলা আমাকে নিয়ে ভেলাটায় উঠল আর ভাসতে লাগল।আাস্তে আাস্তে অন্ধকার জায়গা আলোকিত হল।মুহুর্তেই সব অন্ধকার গুচে গেল।খুপরিটা একটা বাড়িতে পরিণত হল।এ বাড়িটাকেই দূর থেকে খুপরি মনে হয়েছিল।আর আমাকে নিয়ে বাড়িটায় ঢুকল।বাড়িটার ভিতরের এক কোণায় একটা ছিদ্র দিয়ে আলোক রেখা প্রবেশ করল।আলোক রেখা প্রবেশ করার সাথে সাথে আমার মেয়ে আলোর মুখ পরিবর্তন হতে লাগল।আলো শুধু ছটফট করতে লাগল।আলোর চামড়া পরিবর্তন হতে লাগল।কিছুক্ষণ পরেই আলোর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল।সাপের খোলসের মত কিছু একটা আলোর শরীর থেকে নীচে পড়ল।

এখন আবার অন্ধকার হতে লাগল।আমার মাথাটা বেশ ঝিমাতে লাগল কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেল।আমি আলোর চোখের মায়া থেকে বের হয়ে গেলাম।সবটা কাহিনী অণুধাবন করতে পারলাম।তবে একটা প্রশ্ন মনে আসল আলোকে কেন এ পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে এটা ভেবে।তাই মিস শিলাকে জিজ্ঞেস করলাম

-তাহলে আলোকে কেন এখানে পাঠানো হয়েছে সেটা তো জানতে পারলাম না।আপনি সেটার কারন তো বলেন।
জবাবে মিস শিলা বলল

-সেটা তো আমার পক্ষে বলা সম্ভব না।সেটা বলতে পারবেন ঐ উপরের রুমে থাকা বৃদ্ধা।আপনি আমার সাথে উপরের রূমে চলুন।
আমি আর দেড়ি না করে আলোকে নিয়ে উপরের রুমে গেলাম।খেয়াল করলাম এক জরাজীর্ণ বৃদ্ধা চুপ করে বসে আছে।আলোকে দেখেই বললেন

-কি রে মা আগমণ হয়েছিস।তোর জীবনে তো অনেক পথ পারি দিতে হবে।তোকে অনেক বড় কাজ করতে হবে।তোর জীবনের পদে পদে পরীক্ষা দিতে হবে।এত সহজে তো তুই এ জীবন থেকে মুক্তি পাবি না।তোকে যে তোর উদ্দেশ্যে সফল হতে হবে।

আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম এসব কথার মানে তাই সাহস করে উনাকে প্রশ্ন করে বসলাম
-আপনি যদি কথাগুলো আমাকে সহজ করে বলতেন তাহলে ভালো হত।
তারপর উনি যা বললেন আমার কথাগুলে শুনে গা গুলাতে লাগল শরীরের লোম শিউরে উঠল,

কারন...

গল্পটির পরবর্তী পর্ব পেতে গল্পটি নিচের শেয়ার অপশন থেকে অথবা লিংক কপি করে ফেসেবুকে শেয়ার করুন
নাগকন্যা - পর্ব (৪)

নাগকন্যা - পর্ব (৪)

কারন আমি খেয়াল করলাম একটা দেয়াল ভেদ করে একটা দরজা তৈরী হয়েছে।এটা কি কোন মায়া নাকি অন্যকিছু।বিষয়টা এখন আমার কাছে বেশ গোলমেলে লাগছে।মনে মনে ভাবছি আমি মিস শিলাকে বিশ্বাস করে ভুল করে নি তো।মনের মধ্যে ভাবনার পাহাড় বাঁধতে লাগল অনেক।এর মধ্যে ভাবনার পাহাড়ে ছেদ পড়ল মিস শিলার ডাক শুনে।মিস শিলা বললেন
-মিসেস অধরা এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।
আমি কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম






-এখানে তো দরজা ছিল না তাহলে দরজা তৈরী হল কিভাবে?এটা কি কোন মায়া শক্তি?
মিস শিলা মুচকি আর রহস্যময়ী হাসি দিয়ে বললেন

-হুম এরকম কিছুই বলতে পারেন।আলোর পরিচয় জানতে হলে তো একটু কষ্ট করতেই হবে।চলুন আমার সাথে।
আমিও মিস শিলাকে বিশ্বাস না করেও পারছিলাম না।তাই সাত পাঁচ না ভেবে দরজা দিয়ে প্রবেশ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম।কিন্তু আলো কোনভাবেই যেতে চাচ্ছে না।কিন্তু কেন যেতে চাচ্ছে না এর মানেটা বুঝতে পারছিলাম না।আলো বলল
-মা যাব না আমি। ঐখানের ঘ্রাণটা আমার সহ্য হচ্ছে না।এসব ধূপের ঘ্রাণ আমাকে কষ্ট দেয় অনেক।তুমি আমাকে ঐখানে নিয়ে যেও না।

আলোর কথা শুনে কিছুটা অবাক হলাম কারন ধূপের কোন ঘ্রাণ এখনও আমার নাকে এসে পৌঁছায় নি।তাই কিছুটা অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করলাম
-মা এখানে তো কোন গন্ধ নেই।তাহলে তুমি যেতে চাচ্ছ না কেন?
আলো রাগী রাগী গলায় বলল
-আমি সব ঘ্রাণ পাচ্ছি।এ ঘ্রাণটায় আমার দম বন্ধ হয়ে আসে মা।আমাকে নিও না ঐখানে।
পাশ থেকে মিস শিলা বলে উঠল

-মিসেস অধরা আলো হয়ত ভয় পেয়ে এসব বলছে আপনি চলুন তো।


আমি কি করব বেশ দুটানায় পড়ে গেলাম।একদিকে আলোর এমন বায়না আর অন্যদিকে আলোর ব্যাপারটা জানাও দরকার কি করা উচিত তা যেন আমার মাথায় ঢুকছে না।কিছুই ভেবে পাচ্ছি না।ভাবনার দেয়াল ভেদ করে যেন কোন সমাধান মাথায় আসছে না।এটাও হতে পারে যে আলোর বয়স কম তাই ভয় পেয়ে এমন বলছে।কিছুক্ষণ ভেবে স্থির করলাম যা হবার হবে আগে ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করি তারপর দেখা যাবে।আমি মিস শিলাকে বললাম
-চলুন প্রবেশ করা যাক।

এ বলে দরজাটার সামনে গেলাম।দরজাটার সামনে গিয়ে একটু অবাক হয়ে গেলাম।দরজা শুরু থেকে খেয়াল করলাম একটা সুরঙ্গ বেয়ে যাচ্ছে।সুরঙ্গের ঐ পারে একটা ছোট কালো খুপরি দেখা যাচ্ছে।তাই কিছুটা ভয় ও পেলাম।ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম
-মিস শিলা ঐ খুপরিটা কিসের আর জায়গাটা এত অন্ধকারে আচ্ছন্ন কেন?
মিস শিলা সাহসী কন্ঠে জবাব দিলেন
-আরে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।ঐ খুপরিটাতেই তো ঐ বৃদ্ধা থাকে আর জায়গাটা অন্ধকার কারন আলোকিত জায়গায় নাগপিতা আগমণ করে না।তাই নাগপিতাকে আনতে এবং আলোর রহস্য ভেদ করতে এ জায়গায় আনা হয়েছে।আশা করি সবটা পরিষ্কার বুঝতে পেরেছেন।

এবার মনে হচ্ছে আমার মাথায় ঘুরতে থাকা সব প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি।তাই কিছুটা অভয় নিয়ে যখন সুরঙ্গে পা রাখতে যাব ঠিক এ মুহুর্তে মনে হল কেউ একজন আমার হাতটা ধরে টান দিল।আমি পিছনে ফিরে এতটাই অবাক হলাম যে আমার কাছে বিষয় টা অনেকটা অষ্টম আশ্চর্যের মত লাগছিল।এটা কি করে সম্ভব? তাহলে আমি এতক্ষণ কার সাথে ছিলাম।এটা কি বাস্তব নাকি স্বপ্ন।কারন আমি পিছনে ফিরে দেখি দুজন মিস শিলা দাঁড়িয়ে আছে।একজন বলছে
-মিসেস অধরা আপনাকে যে মিস শিলা ডেকে এনেছে উনি একজন পিশাচ নাগিন।আপনি উনার কথায় যাবেন না।এ সুরঙ্গে গেলেই এ পিশাচ নাগিনের সমস্ত শক্তি ফিরে পাবে আর আলোর ক্ষতি করবে।আলোকে মেরেও ফেলতে পারে প্লিজ যাবেন না।



আবার অপরদিকে আরেকজন বলতেছে
-আপনি ওর কথা বিশ্বাস করবেন না মিসেস অধরা।ও একটা মায়া জাদু আপনাকে বিভ্রান্তিতে ফেলতেছে।নাগপিতাকে এ জায়গায় আহ্বান করলে আগমণ করে তাই আপনাকে এখানে নিয়ে এসেছি।
আবার পাশ থেকে অপরজন বলে উঠল
-মিসেস অধরা নাগপিতা কোন সাধারণ মানুষের কথায় আগমণ হয় না।আগমণ তখন হবে যদি আলো ডাকে।কোন সাধারণ বৃদ্ধা নাগপিতাকে আহ্বান করতে পারবে না।বৃদ্ধা তো শুধু রহস্যের কারন বলতে পারবে।আপনি যাবেন না।উনি হলেন পিশাচ নাগিনী আমার ছদ্ম রূপ ধরে আপনাকে এখানে নিয়ে এসেছে।উনি কোন সাধারণ মানুষ না।বিশ্বাস করুন আমার কথা। আপনি সুরঙ্গে পা দিবেন না।আর ঐ খুপরিটায় একটা কালো মূর্তি আছে যেটা হল পিশাচ নাগরাণীর সেখানে নিয়ে হয়ত পিশাচ নাগরাণীকে তুষ্ট করার জন্য আলোকে বলি দিবে।এতে করে এ পিশাচ নাগিনী অনেক শক্তি পাবে।আপনি যাবেন না প্লিজ।আমাকে বিশ্বাস করুন।


আবারও অপরদিকে আরেকজন বলে উঠল

-মিসেস অধরা মায়া শক্তির জালে ফাঁসবেন না।আলোর ভালোর জন্য হলেও আপনাকে যেতে হবে।প্লিজ যান।
আমি ওদের কথায় কিছুই বুঝতে পারছি না।এ কোন পরীক্ষার সম্মুখীন আমি হলাম।একদিকে একজন বলছে মিস শিলা আমি আবার অপরজন বলছে মিস শিলা উনি। কিন্তু কে আসল মিস শিলা চিন্হিত কিভাবে করব?কাকে বিশ্বাস করব।চরম পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে গেলাম।মাথায় কোন কাজ করছে না।মাথায় বেশ ব্যাথা হতে লাগল।দুজন শিলাকেই বেশ মনযোগ দিয়ে দেখতে লাগলাম।হুট করে বলে ফেললাম কে আসল শিলা আমাকে প্রমাণ দিন।প্রমাণ দিতে পারলে আমি বিশ্বাস করব এর আগে না।

একজন শিলা বলে উঠল এই দেখুন আমার ঘাড়ে তীর চিন্হটা যেটা আমি আপনাকে দেখিয়েছিলাম।এই দেখুন।পাশের জনও আমাকে একই তীরচিন্হটা দেখিয়ে বললেন এই দেখুন আমার ঘাড়েও আছে।আমিই আসল শিলা।এ কোন মায়ার জালে ফাঁসলাম আমি এর তো কোন উত্তর খুঁজে পাচ্ছি না।দুজন মিলে একই প্রমাণ দেওয়া শুরু করতেছে।এদের থেকে আসল শিলা বের করার কোন উপায় তো দেখছি না।চিন্তার ঘোর যেন আমাকে অতলে ডুবিয়ে নিয়ে যেতে লাগল।তাই বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লাম।আলো পাশ থেকে বলে উঠল।আপনারা কে আসল প্রমাণ হবে যদি এ মালাটায় হাত দিন।আমি আলোর দিকে তাকিয়ে বেশ অবাক তখন হলাম যে এ মালাটায় তো সে মালা যে মালাটা আলোর গলায় মিলিয়ে গিয়েছিল।আলোর হাতে এ মালাটা কি করে আসল।আর আলোকে মনে হচ্ছে না ও কোন বাচ্চা, মনে হচ্ছে ও অনেক বড় কোন মানুষ।আকৃতিতে বাচ্চা মনে হলেও কন্ঠে প্রকাশ পাচ্ছে আলো বড় কোন মেয়ে। তাহলে কি আলোর মধ্যে কোন শক্তি প্রবেশ করেছে।কি হচ্ছে এসব আমার সাথে।ধীরে ধীরে আমি নিস্তব হয়ে গেলাম।মাথাটা বেশ ঘুরতে লাগল।চিন্তায় মাথাটা যেন আরও জিম ধরতে লাগল।নিজেকে সামলানোর বেশ চেষ্টা করছিলাম।কিন্তু কোনভাবেই পারছিলাম না।মাথার ব্যাথাটা তীব্র থেকে তীব্র হতে লাগল।কপাল বেয়ে ঘাম বের হতে লাগল।

শরীরটা একদম নিথর হয়ে যেতে লাগল।প্রচন্ড মাথা ব্যাথা যেন আমাকে গ্রাস করতে লাগল।শরীরের সব ক্রিয়া যেন অঁচল হয়ে গেল।বাড়িটা ঘুরতে লাগল।সে সাথে শরীরের অসহনীয় ব্যাথায় চোখটা আপনাআপনি বন্ধ হয়ে গেল।নিথর দেহটা যেন আরও নিথর হয়ে গেল।মুহুর্তের মধ্যে অবশের মত মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম।আবছা চোখে আরও কিছু একটা হচ্ছিল তা বুঝতে পারছিলাম কিন্তু স্পষ্ট করে দেখতে পারছিলাম না কিছু।প্রথমে কানে শব্দগুলো জোড়ালো আওয়াজে আসলেও আস্তে আস্তে শব্দের তীব্রতা কমতে লাগল।কিছুক্ষণের মধ্যে কোথায় হারিয়ে গেলাম জানি না।মনে হয় জ্ঞান হরালাম।



অনেকক্ষণ পর কানে হালকা হালকা কথা আসতে লাগল।আমি চোখ খুলতে চেয়েও চোখ খুলতে পারছিলাম না।হালকা পানির ঝাপটায় আমি চোখ খুলতে সক্ষম হলাম।চোখ খুলে এতটায় চমকালাম যে বলার অপেক্ষা রাখে না। কারন....

চলবে....

গল্পটির পরবর্তী পর্ব পেতে গল্পটি নিচের শেয়ার অপশন থেকে অথবা লিংক কপি করে ফেসেবুকে শেয়ার করুন
নাগকন্যা - পর্ব (৩)

নাগকন্যা - পর্ব (৩)

..... আলোর আর্টের শিক্ষিকা এসে বললেন

-মিসেস অধরা আলোর ব্যাপরে আপনার সাথে কিছু কথা ছিল।যদি কিছু না মনে করেন তাহলে আমি বলতে চাচ্ছিলাম কিছু কথা।আর কথাগুলো কোন স্বাভাবিক কথা না।শুনার পর অবাস্তব ও লাগতে পারে।তবে আপনি আলোর মা আপনাকে বলা জরুরি। আপনি অভয় দিলে আমি কথাগুলো বলতে চাই।আমাকে বলার অণুমতি দিলে বলব।তবে আপনাকে কথা দিতে হবে কথাগুলো নেগেটিভভাবে নিবেন না।





 
আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম।কি এমন অস্বাভাবিক কথা বলবে?যা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটার তা তো ঘটেই আছে।আমি দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বললাম

-আপনি পুরোপুরি সাহস নিয়ে কথাগুলো বলতে পারেন।আমি খারাপ কিছু মনে করব না।আলোর মা হিসেবে আলোর সবকিছু জানার অধিকার আমার আছে।তাই আপনি অভয়ে বলেন।
উনি একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললেন

-ধন্যবাদ আপানকে আমাকে অভয় দেওয়ার জন্য।আপনি একটু সাহায্য করলে আমি আপনাকে ব্যাপারটা গুছিয়ে বলতে পারব।এতে করে আপনার সাহায্যের প্রয়োজন। আপনার সাহায্য ছাড়া বিষয়টা বলা মুশকিল।
আমি শান্ত স্বরে বললাম

-বলুন কি সাহায্য করতে পারি।আপনি আমাকে অভয়ে সব বলুন।আমি সাহায্য করতে পারলে করব।
আলোর শিক্ষিকা মিস শিলা আমাকে বললেন
-আপনার ঘাড়টা কি একটু দেখতে পারি?
আমি বেশ অবাক হলাম এটা ভেবে যে উনি আমার ঘাড় কেন দেখতে চাচ্ছে?বেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম
-কিন্তু কেন?
আলোর শিক্ষিকা মিস শিলা আমাকে শান্ত হয়ে বললেন
-মনে কিছু নিবেন না একটু দরকার ছিল।
আমিও সাত পাঁচ না ভেবে উনাকে ঘাড়টা দেখালাম।উনি ঘাড়টা দেখার পর বললেন
-আলোর ঘাড়ে যে তীর চিন্হটা সেটা কি শুধু আলোর ঘাড়েই আছে নাকি আপনাদের বংশের অন্য কারও ঘাড়েও আছে?
আমি কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম
-হঠাৎ এমন প্রশ্ন করছেন যে?এগুলো কেন করছেন।এগুলো জেনে কি হবে?
-একটু দরকার ছিল।
আমি শান্ত হয়ে বললাম
-আলোর ঘাড়েই এমন চিন্হ।
জবাবে আলোর শিক্ষিকা মিস শিলা বললেন

-কিছু মনে না করলে বলবেন আলো কি আপনার বংশধর নাকি অন্য কারও।কথাটা শুনে হয়ত খারাপ লাগতে পারে তবে দরকার ছিল বলেই জিজ্ঞেস করছি।মনে কষ্ট নিবেন না প্লিজ।


মিস শিলার কথা শুনে বেশ রাগ হল আলো যতই আমার মেয়ে না হোক।তবুও মিস শিলাকে আলো আমার মেয়ে না এটা বলতে বেশ দ্বিধা লাগছে।তাই একটু রাগ রাগ গলায় বললাম
-আপনি কি প্রমাণ করতে চাচ্ছেন আলো আমার মেয়ে না?এরকম অদ্ভুত প্রশ্ন কেন করছেন?
মিস শিলা আমার এরকম রিএক্ট দেখে কিছুটা হতভম্ব হয়ে যায়।কিছুটা হতভম্ব হয়ে আমাকে বললেন
-দেখুন মিসেস অধরা আমাকে বললে বিষয়টা ভালো হত।আমি কোন কিছুই প্রমাণ করতে চাচ্ছি না তবে বিষটার সাথে অনেক বড় কিছু জড়িয়ে আছে।আপনি কিছু না বললে আমি তো বিষয়টার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যাব।
আমি খানিকটা অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম
-অনেক বড় কিছু জড়িয়ে আছে মানে কি?

-তাহলে শুনুন।প্রথমদিন যেদিন আলোকে নিয়ে এসেছিলেন সেদিনেই আলোর ঘাড়ের তীর চিন্হটা আমার সামনে আসতেই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল।আলোর চোখের লেন্সটা ঘুরতেছিল।তখনেই বুঝেছিলাম আলো সাধারণ মেয়ে না।কারন...

এটুকু বলেই মিস শিলা চুপ হয়ে গেল।আমি আর নিজেকে স্থির রাখতে পারলাম।অস্থির গলায় বললাম
-কারন কি?চুপ হয়ে কেন গেলেন?কারনটা বলুন।
তখন মিস শিলা নিজের ঘাড়ের থেকে চুলটা সরিয়ে একটা তীর চিন্হ দেখিয়ে বললেন
-দেখুন আলোর তীরচিন্হটা আর আমার তীর চিন্হটা এক।আর এ তীর চিন্হটা শুধু মাত্র আমাদের বংশধররা পেয়ে থাকে।
এবার মিস শিলার কথা শুনে মেয়ে হারানোর একটা আভাস পাচ্ছিলাম।তাই কিছুটা রাগান্বিত হয়ে বললাম
-আপনি কি প্রমাণ করতে চাচ্ছেন আলো আমার মেয়ে না আলো আপনার বংশধর।আমার মেয়েকে আমার কাছ থেকে আলাদা করার চেষ্টা করছেন।

মিস শিলা আমাকে কিছুটা শাত্বণা দিয়ে বললেন
-আপনি শুধু শুধু ভয় পাচ্ছেন এমন কিছুই করব না আমি।আর আলো আমার বংশধর হলেও আলো মানুষের মেয়ে না।আর আমি তো মানুষের মেয়ে।
মিস শিলার কথা গুলোর মানে আমি বুঝতে পারছিলাম না।মনে হল কোন গল্প সাজিয়ে বলছে।তবুও জানার আগ্রহ থেকে বললাম
-আপনি আমাকে বুঝিয়ে বললে ব্যাপারটা সহজ হয় বুঝতে।আলো মানুষের বাচ্চা না এটার মানে বুঝতে পারছি না।বুঝিয়ে বলুন।

-তাহলে শান্ত হয়ে শুনুন।আমি হলাম নাগরাণীর বংশধর।আমার বংশে শত বছর আগে এক নাগরাণী মণি রক্ষার জন্য দুনিয়াতে এসেছিল।তখন সে নাগরাণী নাগ পিতার কাছ থেকে মানুষ হিসেবে থাকার বর পেয়েছিল।তখন থেকে তার সব বংশধরের একটা বৈশিষ্ট্য হল এ তীরচিন্হটা।তবে নাগ,নাগিনীর একটা ঐতিহাসিক বই আছে সেটাতে এটা লিখা ছিল যে, শত বছর পর পর এ পৃথিবীতে নাগরাজ্যের কোন নাগকন্যা আসবে।আর তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে তাদের তীরচিন্হটা নাগরাণীর বংশধরের সামনে গেলে আলোকিত হয়ে যাবে।



প্রথম যেদিন আমি আলোকে দেখি এ বৈশিষ্ট্য টা দেখেই বুঝতে পারি আলো কোন সাধারণ বাচ্চা না।আলো হল নাগকন্যা।তাই প্রথম দিন থেকেই আলোর উপর নজর দিতে থাকি।খেয়াল করলাম আলো একটা পুড়াবাড়ি অঙ্কন করে প্রায় সময় আর এ পুড়াবাড়িটা আমাদের বংশের সবাই একবার হলেও এ স্বপ্নে দেখবে আর যারা বিশেষ কেউ তারা এ পুড়াবাড়িটা বারবার স্বপ্ন দেখবে।প্রতিটা স্তরে এ পুড়াবাড়িটা অণুভব করবে।আমি সেদিন নিশ্চিত হয়েছিলাম আলো বিশেষ কোন নাগের কন্যা।আরও নিশ্চিত হলাম আজকে যখন সবাইকে বললাম মা বাবার ছবি অঙ্কন করতে তখন আলো মনের অজান্তেই নাগরাজ আর নাগরাণীর ছবি অঙ্কন করেছে।আর আলোকে জিজ্ঞেস করার পর আলো জবাবে বলল

-মিস আমি যখন ছবি আঁকতে নিয়েছিলাম তখন এ ছবিগুলোই আমার সামনে ভেসে উঠে।
এবার আমি পুনরায় নিশ্চিত হলাম আলো সাধারণ মানুষের মেয়ে না।এবার যদি সবকিছু জানার পর আলোর ব্যাপারটা খুলে বলতেন তাহলে বাকি ব্যাবস্থা করা যেত। কারন আলোর মত নাগ কন্যারা আসেই বিশেষ কোন উদ্দেশ্য সফলের জন্য।
আমি কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম
-নাগমণি রক্ষার জন্য কি এসেছে আলো?
-নাহ এমন কিছু না।কারন নাগমণি রক্ষার ইতি আগেই ঘটেছিল।তবে আলো অন্য কোন উদ্দেশ্য সফলের জন্য এসেছে।তবে আমাকে বিষয়টা বললে আমি বুঝাতে পারতাম।এবার আপনি আমাকে আলোর জন্ম থেকে এ পর্যন্ত বিষয়টা যা ঘটেছে খুলে বলুন।

মিস শিলার কথা শুনে এবার আর কোনকিছু লুকিয়ে রাখতে পারলাম না। মিস শিলাকে বললাম
-আলো আমার মেয়ে না।হাসপাতালে আমার বাচ্চা বদল হয়ে যায়।আমার ছেলে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু আমাকে মেয়ে বাচ্চা প্রদান করা হয়।আর এজন্য বেশ হতাশও হয়েছিলাম।তবে সেদিন নিয়তি মেনে নিয়েছিলাম।ছয় মাস বয়স থেকেই আলোর মধ্যে বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করতাম।এতকিছুর হদিশ জানতে পারে নি কেন ঘটেছে।তবে জানার অনেক চেষ্টা করেছি।আজকে আপনার কথায় মনে হল আলো নাগকন্যা।এর আগে আলো কে সেটায় আমার আর আলোর বাবার কাছে অজানা ছিল।তবে আলো কেন এসেছে কি উদ্দেশ্য সফলের জন্য আমাকে একটু বলুন প্লিজ।
মিস শিলা খানিকক্ষণ চুপ থেকে আমাকে বললেন
-এটার উত্তর তো আমার কাছে জানা নেই।তবে একটা উপায় আছে।
আমি উচ্ছাস ভরা কন্ঠে বললাম
-কি উপায় বলুন?
-আমার বাড়িতে একজন প্রবীণ বৃদ্ধা আছে তিনি এসব কিছুর কারন হয়ত বলতে পারবেন।আপনি উনার কাছে যেতে পারেন।আমি আপনাকে নিয়ে যাবে।
আমি স্থির রাখতে পারলাম না নিজেকে।অস্থির হয়ে বললাম
-তবে তাই চলুন

-আজকে না মিসেস অধরা।আপনি অস্থির হবেন না।আপনি আমাকে আপনার বাসার ঠিকানা দিন আমিই আপনার বাসায় চলে যাব।কালকে আপনাকে নিয়ে যাব।আপনি নিশ্চিন্ত হয়ে বাড়ি যান।


আমি তখন আলোকে নিয়ে বাড়ি চলে আসলাম।সারাদিন সারা রাত শুধু মিস শিলার কথাগুলো মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল।আমি কি শাদাফ কে বলব সবটা।না থাক শাদাফকে বললে চিন্তা বেশি করবে।কালকে সবটা জেনেই শাদাফকে বলব।সারারাত এক অযাচিত অস্থিরতায় কাটল।সকালে মিস শিলা আসতেই যেন এক ক্ষুদ্র আলোর রশ্নির দিশা খুঁজে পেলাম।মিস শিলা এসে বললেন
-মিসেস অধরা আলোকে নিয়ে চলুন।

মিস শিলার কথামত আমি আর মিস শিলা আলোকে নিয়ে রওনা দিলাম।অনেক আঁকাবাঁকা পথ ধরে যেতে লাগলাম।পথগুলো বেশ অচেনা লাগল মনে হল এ পথ অচেনা কোন পথ।এ পথটা এ শহরের পথ না।এ পথটা শহরের কোন বাইরের পথ।মাথার উপর সূর্যটাকে চাঁদের মত লাগতেছিল।মনে হচ্ছিল সূর্যের ত্যাজ কমে চাঁদে রূপান্তরিত হয়েছে।এমন অদ্ভূত ঘটনা আমি এর আগে কখনও দেখি নি।শহরের মধ্যে এমন বিচিত্র রাস্তাও আছে সেটা আমার জানার বাহিরে ছিল।আলোর দিকে খেয়াল করে দেখলাম আলোর চোখ দুটো রক্তের মত লাল হয়ে আছে।মনে হচ্ছে আলো বেশ বিরক্ত।আর মিস শিলা আপন মনে গাড়ি চালাতে লাগল।কেন জানি না মনে হচ্ছে ভুল পথে এগুচ্ছি।কারন পথটা বেশ অদ্ভূত ছিল।অজানা সব গাছ।মাঝে মাঝে অজানা পোকামাকড় খেয়াল করলাম।মিস শিলাকে কি জিজ্ঞেস করা ঠিক হবে ভুল পথে এগুচ্ছি কিনা।না থাক।কারন মিস শিলা তো নিজের বাড়ির পথ ভুল করবেন না।তাই চুপ হয়ে যেতে লাগলাম।কখনও সূর্য দেখতে লাল মনে হত আাবার কখনও দেখতে চাঁদের মত মনে হত।মনে হল এক মায়া রাজ্যের ভিতর দিয়ে যাচ্ছি আমরা।রূপকথার গল্পের মত সব লাগতেছিল।তার উপর বাইরে থেকে গাড়ির জানালা দিয়ে কখনও তপ্ত বাতাস আবার কখনও শীতল হিমেল বাতাস শরীরে শিহরণ দিতে লাগল।একসাথে শীত আর গরম আবহাওয়ার উষ্ণতা অণুভব করছিলাম।আধা ঘন্টায় কেন জানি না মনে হল অনেক টা পথ চলে এসেছি।অনেক পথ পাড়ি দিয়ে শহরের বাইরে চলে এসেছি।খানিকক্ষন পর পথের শেষে একটা বাড়ি পেলাম।

বাড়িতে ঢুকেই একটা ব্যাপার খেয়াল করে চমকে গেলাম কারন বাড়িটার বাইরে রাস্তার শুরুতে একটা কালো মূর্তি স্থাপিত ছিল মূর্তিটার চোখ কালো কাপড় দিয়ে বাধা ছিল।এমন অদ্ভূত মূর্তি আগে কখনও দেখি নি।রাস্তাটা দেখিয়ে মিস শিলা বলল
-আপনি আমার পছিন পিছন আসুন।

আমি মিস শিলাকে ফলো করে আলোকে নিয়ে যেতে লাগলাম।পথ ধরেই হাঁটতে হাঁটতে একবার মনে হচ্ছিল রাত হয়ে গিয়েছে আবার মনে হচ্ছে দিন হচ্ছে।রাত দিনের এক মিশ্র প্রতিচ্ছায়ায় হাঁটছিলাম।অদ্ভূত সব গাছ।অবশেষে বাড়িটা পেলাম। বাড়িটা দেখে চমকে গেলাম।কারন বাড়িটাই বাইরে বেশ স্যাঁতস্যাঁতে এবং শ্যাওলার স্তূপ জমা ছিল।এমন বাড়িতেও কেউ থাকে।কিছুটা অস্বস্থি নিয়ে বাড়িটার ভিতর ঢুকে দ্বিতীয়বারের মত চমকালাম।কারন এটা বাড়ি না এটা মনে হচ্ছে কোন এক রাজমহল।এ যুগে এরকম বাড়ি আছে মিডিয়া জানলে হয়ত এসে ডকুমেন্টারি তৈরী করত বাড়িটাকে নিয়ে।ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরা ফিল্ম বানাত এ বাড়ি নিয়ে।হয়ত এখনও মিডিয়ার অন্তরালে রয়ে গিয়েছে এ বাড়িটা।তাই মিস অধরাকে কৌতুহল মনে জিজ্ঞেস করলাম



-এ বাড়িটা কি আপনার?আপনি এ বাড়িতে থাকেন?
-নাহ আমি বাড়িতে থাকি না।এ বাড়িটা ঐ বৃদ্ধার।
কিন্তু মিস শিলা তো বলেছিল সে যে বাড়িতে থাকে সে বাড়িতে বৃদ্ধা থাকে।তবে এ কার বাড়িতে নিয়ে আসল।নিজেকে বেশ সামলে জিজ্ঞেস করলাম
-আচ্ছা এ বাড়িটা শহরের কোন জাগায় পড়েছে।
মিস শিলা মুচকি আর রহস্যময়ী হাসি দিয়ে বললেন
-সব জানতে পারবেন।আগে বৃদ্ধার কাছে চলুন।
আমি বললাম বৃদ্ধা কোথায়?
-ঐ যে উপরের ঐ রুমটায়।

আমি আর মিস শিলা উপরের ঐ রুমটায় চলে গেলাম।গিয়ে আমি আবারও অবাক হলাম।মনে হচ্ছে অবাক হওয়ার পালা যেন শেষ হচ্ছে না।রূমটা কেমন জানি অদ্ভূত।অদ্ভূত অদ্ভূত প্রাণীর পেইন্ট করা রূমে।কিন্তু রুমের কোথাও পেলাম না বৃদ্ধাকে।আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম
-কিন্তু এ রুমে তো বৃদ্ধা নেই।

মিস শিলা আমাকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে একটা কিছু নির্দেশ করল আমি তা দেখে বেশ ভয় পেয়ে গেলাম। কারন....


গল্পটির পরবর্তী পর্ব পেতে গল্পটি নিচের শেয়ার অপশন থেকে অথবা লিংক কপি করে ফেসেবুকে শেয়ার করুন
নাগকন্যা - পর্ব (২)

নাগকন্যা - পর্ব (২)



আলোকে গোসল করাতে গিয়ে হঠাৎ খেয়াল করলাম আলোর ঘাড়ে একটা তীর চিহ্নের মত দাগ। এ দাগ আমি আলোর শরীরে আগে কখনও দেখে নি। এমন দাগ দেখে বেশ চিন্তিত হয়ে গেলাম। বারবার দাগটা মুছার জন্য সাবান দিয়ে ঘষতে লাগলাম।কিন্তু কোনভাবেই দাগটা উঠতেছিল না।মনে হচ্ছে এটা আলোর জন্মদাগ। কিন্তু জন্মের পর আলোর শরীরে এমন দাগ আমি খেয়াল করি নি। আর সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য লেগেছে এটা দেখে যে আমি যখনেই আলোর ঐ দাগটাই স্পর্শ করি তখনেই আলোর চোখ আর শরীর নীলবর্ণ ধারণ করে।বেশ অবাক হয়ে গেলাম এটা দেখে। তাই বারবার দাগটা ধরে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম। আর প্রতিবারেই একেই ঘটনা ঘটতে লাগল।



শাদাফকে ডাক দিলাম দেখার জন্য।শাদাফ ও দেখার পর চমকে গেল।এখন আলোকে কেন জানি সাধারণ কোন বাচ্চা হিসেবে মানতে পারছি না।সাধারণ কোন বাচ্চা হিসেবে মানতে খুব কষ্ট হচ্ছে।কারন আস্তে আস্তে আলোর বয়স বাড়ার সাথে সাথে আলোর মধ্যে ব্যাতিক্রম সব বিষয় গুলো পরিলক্ষিত হতে শুরু করল।আলোর বয়স যখন ১ বছর হল।তখন খেয়াল করতাম আলো কোনদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলে সেটা শূন্যে ভেসে যেত।আবার প্রচন্ড শব্দ করে নীচে আচঁড়ে পড়ত।মাঝে মাঝে ঘুম থেকে উঠে একা একা হাঁটতে থাকত।১ বছরের বাচ্চার এমন একা একা হাঁটার বিষয়টা বেশ অবাক লাগল।আর খেয়াল করতাম সে যখন ঘুমের মধ্যে হাঁটত তখন তার চারপাশে বেশ গরম বাতাস বইত।দরজা নিজে থেকে খুলে যেত।একদিন আলোকে না আটকিয়ে আমি আর শাদাফ আলোর পিছু পিছু যেতে লাগলাম।খেয়াল করলাম আলো আমাদের বাগান পেরিয়ি একটা নির্জন জায়গায় গেল।জায়গাটায় একটা টিলার মত মাটির স্তূপ ছিল।সেখানে গিয়ে খেয়াল করলাম আলোর সামনে একটা দুধের বাটি রাখা আর আলো সেটা একা হাতে নিয়ে খেতে লাগল।দুধটা খাওয়ার সময় আলোর শরীর নীল বর্ণ ধারণ করল।আলোর চোখ ফুটবলের মত ঘুরতে লাগল।আলোর চারপাশের গরম বাতাসের পরিমাণটা বেড়ে গেল।যতক্ষণ পর্যন্ত আলোর দুধটা পান করতে লাগল।ততক্ষণ পর্যন্ত চারদিকে এমন পরিবেশ বিরাজ করল।
দুধ পান শেষ হওয়ার সাথে সাথে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেল।আলো আবার বাড়ি যাবার পথ ধরে হাঁটতে লাগল।আমরাও আলোর পিছু পিছু বাড়ি চলে আসলাম।আলো ঘরে আসার পর একা একাই ঘুমিয়ে গেল।আমি আলোর এরকম অবস্থা থেকে বেশ চিন্তায় পড়ে গেলাম।এবার আমি আর শাদাফ দুজনেই নিশ্চিত হলাম আলো কোন সাধারণ বাচ্চা না।কিন্তু আলো কে?কিভাবে আলোর পরিচয় পাব বেশ চিন্তায় পড়ে গেলাম দুজন।আর ঐ স্তূপটায় বা কিসের আর ঐখানে দুধের বাটিটাই বা কে রাখল?প্রশ্নগুলো যেন আরও অস্থির করে তুলল দুজনকে।
আমি শাদাফকে ধরে কাঁদতে লাগলাম।আর বলতে লাগলাম
-শাদাফ! আলো কি তাহলে কোন পিশাচ নাকি কোন মায়া জাদু।এতবছর পর একটা বাচ্চা পেলাম।নিজের ছেলেকে হারালাম তার বিনিময়ে একটা মেয়ে পেলাম।এখন কপালে কি এমন আছে যার জন্য আমাদের এরকম পরিস্থতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।যে করে হোক আলোর পরিচয় বের করতে হবে।তা না হলে আস্তে আস্তে বিষয় গুলো হাতের বাইরে চলে যাবে।

শাদাফ আমাকে শাত্বণা দিয়ে বলল
-অধরা এত ধৈর্য হারাইও না।হ্যা এটা পরিষ্কার আলো কোন সাধারণ বাচ্চা না।তবে আমি নিশ্চিত আলো কোন পিশাচ হতে পারে না।কারন আলো পিশাচ হলে এতদিনে সবার ক্ষতি করত।কিন্তু আলো কারও ক্ষতি করে নি।এসব কিছু জানার কিছু একটা উপায় তো বের করতে হবে।সব কিছুর শুরু আছে আর শেষ ও আছে।শুরু হয়েই শেষ হওয়ার জন্য।চিন্তা করে মাথা গরম কর না।সময়েই সব প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে দিবে।মনে রেখ গোলক ধাঁধায় ঘুরতে ঘুরতেও মানুষ একটা সময় মূল বিন্দুতে এসে পৌঁছায়।উপায় তো একটা আছেই শুধু সঠিক ভাবে বের করতে হবে।

আমি কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম
-কি এমন উপায় বের করব বল।কোন ডাক্তারের কাছে যাব কিনা বল?
-অধরা এগুলো বিষয় ডাক্তার হ্যান্ডেল করতে পারবে না।আমি খুৃঁজ নিব।যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কিছু একটা ব্যাবস্থা করব।তুমি ধৈর্য হারাবে না প্লিজ।সবসময় ধৈর্য স্থির রাখবে আর নিজেকে শান্ত রাখবে।তাহলে দেখবে সবকিছু ঠিক লাগছে।মানুষ হেরে যায় কখন জান যখন ধৈর্য ধরে অটল থাকতে না পারে।সুতরাং আমাদের ও সঠিক সময় পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে হবে।
-তুমি যা বলবে তাই হবে।আমি আলোকে হারাতে চাই না।
-অধরা সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।সবকিছু মেনে নেওয়ার ক্ষমতা তৈরী করতে হবে।এখন আর কোন চিন্তা কর না।চুপচাপ ঘুৃামাতে যাও।এতক্ষণ যা দেখেছ সবকিছু ভুলে যাও।ভেবে নাও দুঃস্বপ্ন দেখেছ।
আমি একটা দম ধরে শ্বাস নিয়ে বললাম
-চেষ্টা করব ভুলে যেতে।

এপর দুজনে ঘুমাতে গেলাম।আলোর মুখের দিকে তাকিয়ে সব ভুলে গেলাম।এত মায়া মাখা মুখের মেয়ে সত্যিই কখনও পিশাচ হতে পারেনা।এসব ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে গেলাম।পর দিন সকাল ভোরে কলিং বেল এর আওয়াজে ঘুম ভাঙ্গল।দরজা খুলে দেখলাম এক বৃদ্ধা দাড়িঁয়ে আছে।বৃদ্ধা আমাকে দেখে বলল
-মা একটু খাবার হবে।দুদিন যাবৎ কিছু খাই নি।ক্ষুদায় পেট ফেটে যাচ্ছে।আমাকে কিছু খেতে দাও।

বৃদ্ধাকে দেখে বেশ মায়া হল আমার। আমি বৃদ্ধাকে বললাম আপনি এখানে দাঁড়ান আমি খাবার নিয়ে আসছি।এ বলে রান্না ঘরে গেলাম খাবার আনতে।খাবার আনার পর খেয়াল করলাম দরজার সামনে কেউ নেই।আমি দরজার বাহিরটা খেয়াল করলাম কাউকে পেলাম না।বৃদ্ধা কোথায় গেল বুঝতে পারলাম না।দরজা আটকিয়ে আলোর কাছে এসে বেশ চমকে গেলাম কারন আলো গলায় কি একটা পাথরের মালা থেকে একটা ঝলমলে আলোর রশ্নি ঘরটাকে এতই আলোকিত করেছে যে, সে আলোর ছটায় তাকাতে পারছিলাম না কোনভাবে।চোখ যেন আপনা থেকেই বুজে যেতে লাগল।বেশ খানিকক্ষণ পর আলোর রেখাটার ত্যাজ কমতে লাগল।আলোর ত্যাজটা কমার সাথে সাথে তাকিয়ে দেখলাম আলোর গলায় মালাটা গলার সাথে মিলিয়ে গিয়েছে।আলোর কাছে গিয়ে মালাটা ধরতে নিলাম।খেয়াল করলাম মালাটা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে।ব্যাপারটা আমাকে আরও চিন্তায় ফেলে দিল।এরপর থেকে এ মালাটা একটা নির্দিষ্ট সময় সকাল বেলার দিকে ঝলঝল করে জ্বলতে থাকে তবে সেটা প্রতিদিন না।প্রতি সোমবার দিন নিয়ম করে এমন হয়।আর আলো দুধটাও পান করতে যায় প্রতি রবিবার রাতে।তার উপর ফুটবলের মত চোখ ঘুরানো আর শূন্যে ভেসে যাওয়া জিনিসের কাহিনী তো আছেই।এভাবে কেটে গেল বেশ কয়েক বছর।এসবের মধ্যে আলো বড় হতে লাগল।এক সময় এ বিষয় গুলো বেশ অদ্ভুত লাগলেও এগুলো এখন আমার আর শাদাফের কাছে স্বাভাবিক লাগতে লাগল।
আলোর বয়স এখন ৬।আলোকে স্কুলে ভর্তি করার পারফেক্ট সময় এটা।আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে আলোকে স্কুলে ভর্তি করাব।তাই আমি আর শাদাফ পরদিন সকালে আলোকে স্কুলে নিয়ে যাই।আর আলোকে স্কুলে ভর্তি করালাম।আলোর ক্লাসের সময়সূচি দেওয়া হল।আলোকে প্রতিদিন ক্লাসে নিয়ে যাওয়া আমার একটা রোটিন হয়ে দাঁড়াল।প্রতিদিন ক্লাসে নিয়ে যেতাম আবার নিয়ে আসতাম।এর মধ্যে আলোর রাতে উঠে ঐ জায়গায় যাওয়া আর ফুটবলের মত চোখ ঘুরানো,কোন জিনিসের দিকে তাকালে শূন্যে ভেসে যাওয়া এসবকিছুই থেমে গিয়েছিল।মনে মনে বেশ স্বস্তি পেলাম যে আলো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।কিন্তু আলোর এরকম কেন হল এ প্রশ্নের উত্তর গুলো ও এখনও মনে ঘুরপাক খাই।সবকিছু থেমে গেলেও আলোর শরীরে তীরচিন্হতে ধরলে আলোর শরীর নীল হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা এখনও যায় নি। যতবারেই ওর শরীরের তীর চিন্হটাই আমার হাত লাগত ততবারেই ওর শরীর নীল হয়ে যেত।আশ্চর্যজনক ভাবে শুধু আমার হাত লাগলেই এমনটা হত।শাদাফের হাত বা অন্য কারও হাত লাগলে এমন হত না।মাঝে মাঝে মনে হয় আমার হাতে কি কোন জাদু মায়া আছে যা কিনা আলোর শরীর এমন বিবর্ণ করে দিচ্ছে।এসব প্রশ্নগুলো সবসময় আমার মনের মধ্যে এলোমেলো হয়ে ঘুরতে থাকে।মায়ের মন তো তাই চিন্তাটাও বেশি কাজ করে।তবুও চিন্তাটা এড়িয়ে চলে আলোকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকার চেষ্টা করতাম।


খেয়াল করলাম আলোর আর্ট করার নেশা বেশি।কাগজ পেলেই আর্ট করতে বসে পড়ত।আর সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য লাগে তখন, আলো যখনেই আর্ট করে তখনেই একটা পুড়াবাড়ি আর্ট করে।প্রায় সময় আমি ওকে জিজ্ঞেস করি
- মা তুমি এ বাড়িটা কোথায় দেখেছ।এ বাড়িটা তো আশে পাশে কোথাও নেই।তাহলে তুমি কিভাবে আঁকলে।
আলো আলতো আলতো গলায় জবাব দিল

- মা আমি যখনেই চোখ বন্ধ করি এ বাড়িটা আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে।এ বাড়িটা বেশ আপন মনে হয়।জান মা বাড়িটাকে আমি স্বপ্নেও দেখি।আমি যখন এ বাড়িটাকে স্বপ্নে দেখি তখন মনে হয় আমি সেটা বাস্তবে দেখতেছি।
এরকম অদ্ভুত বাড়ি এত ছোট বাচ্চা স্বপ্নে দেখে আবার অণুভব ও করে।বিষয়টা তেমন একটা স্বাভাবিক ব্যাপার ও না।আমি যতবারেই আলোকে স্বাভাবিক ভাবতে চাই ততবারেই আলোর মধ্যে অদ্ভূত কিছু বিষয় লক্ষ্য করি যা আমি এড়িয়ে যেতে চাইলেও এড়িয়ে যেতে পারি না।আর্ট করার বিষয়টাও আমি এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলাম।তাই ব্যাপারটা এড়িয়ে গিয়ে আমি আলোকে আর্টের কোচিং এ এডমিট করাই যেহেতু আলোর আর্টের উপর ঝোঁক বেশি।

আলোর সবকিছু ভালোভাবে চলতে লাগল।ক্লাস,কোচিং সব ভালোভাবেই যেতে লাগল।কিন্তু মাঝে মাঝে আলো ঘুমের মধ্যে ইদানিং বিড়বিড় করে কি জানি বলে।আবার হাতে কি জানি ইশারা দেয়।শাদাফ আর আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম যে আলো স্বাভাবিক কোন বাচ্চা না।তবে আলো কে?আর আলোর মধ্যে এমন কেন হচ্ছে এটার উত্তর জানার মত কোন উপায় পাচ্ছিলাম না।শাদাফ অনেক চেষ্টা করেছিল কিন্তু পারে নি।তবে আলো যে কোন ক্ষতিকর কেউ না সেটা আমি আর শাদাফ ভালোই বুঝতে পেরেছিলাম।তাই আলোর সাথে এত ঘটনার পরও আমরা আলোকে আদর করা থেকে বঞ্চিত করে নি।

বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে বেশ স্বাভাবিকভাবেই যাচ্ছিল সব। কিন্তু আলোর আর্ট এর শিক্ষিকা আমাকে হঠাৎ ডাক দিয়ে যা বলল আমি অবাক না হয়ে পারলাম না। বুঝতে পারলাম না আলো এমন কেন করল। 

আর্টের শিক্ষিকা বলল আলো... (চলবে.....)

গল্পটির পরবর্তী পর্ব পেতে গল্পটি নিচের শেয়ার অপশন থেকে অথবা লিংক কপি করে ফেসেবুকে শেয়ার করুন
নাগকন্যা - পর্ব (১)

নাগকন্যা - পর্ব (১)

হাসপাতালে আমার বাচ্চাটা বদল হয়ে যায়।আমার ছেলে বাচ্চা হয়েছিল কিন্তু বাচ্চা যখন আমার কাছে প্রদান করা হল তখন আমাকে মেয়ে বাচ্চা প্রদান করা হয়।ডাক্তার এবং নার্স কে বলার পর তারা বলল আমার নাকি মেয়ে বাচ্চায় হয়েছে।অথচ বাচ্চা ডেলিভারী করার পর আমাকে বাচ্চা দেখোনো হয় আর আমাকে বলা হয়েছিল আমার ছেলে বাচ্চা হয়েছে আর আমি নিজেও দেখেছি আমার একটা ছেলে বাচ্চা হয়েছে।মা হয়ে নিজের সন্তান না চিনার মত ভুল আমি করব না।কোন মা এই তার সন্তান কে চিনতে ভুল করবে না।তার উপর আমার সব আল্ট্রা রিপোর্ট এ ও আমাকে বলা হয়েছিল আমার ছেলে বাচ্চা হবে। আমার কোলে যখন মেয়ে বাচ্চা দেওয়া হয় তখন একটু হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু বাচ্চাটা ভয়ানক রকমের সুন্দর ছিল।অদ্ভুত একটা মায়া তৈরী হয়ে গেল বাচ্চাটার প্রতি। 






জানি না কার বাচ্চাটা আমার সাথে পাল্টে গেল।কি জানি সে মায়ের অবস্থা কেমন। হয়ত সে মা ও আমার মত হতাশ। আমি বাচ্চাকে কোলো নিয়ে দুধ খাওয়াতে লাগলাম।খুব ক্ষুধার্ত মনে হল বাচ্চাটাকে।কিন্তু ভিতরে ভিতরে শুধু আমার বাচ্চাটাকে খুঁজতে ছিলাম।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয় টা জানানো হয়। তারা বিষয়টা খতিয়ে দেখার কথা বলল।কিন্তু বিষয়টার উপর তেমন নজর দেওয়া হল না।ফলে আমাকে অন্যের বাচ্চা নিয়েই হতাশ হয়ে ঘরে ফিরতে হল। বিয়ের ১২ বছর পর বাচ্চার মুখ দেখলাম।নিজের বাচ্চার পরিবর্তে অন্যের বাচ্চা পেলাম।কিন্তু কষ্ট হচ্ছে শুধু আমার ছেলেটা কি হালে আছে কে জানে এটা ভেবে।খুব খারাপ লাগছে।কিন্তু মেয়েটার মুখ দেখে কেন জানি না আমি সব কষ্ট ভুলে যাই। আমার স্বামি ও আমাকে শাত্বণা দিয়ে বলল -অধরা আল্লাহ যা চেয়েছে তাই হয়েছে। এখন ঐ এই আমাদের মেয়ে।নিয়তি মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। ১২ বছর পর বাচ্চার মুখ তো দেখতে পেয়েছি। হয়ত এটাই আমাদের নিয়তি ছিল। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম -যা কপালে ছিল হয়েছে।এতে আমি মোটেও হতাশ না। বাচ্চা যারেই হোক ও এখন আমার বাচ্চা।আমি ওকে পেয়ে হতাশ না।আমি হতাশ এটা ভেবে যে না জানি আমার বাচ্চাটা কার কাছে আছে।সে মা কি আমার বাচ্চার দেখা শোনা করবে ঠিক করে? আমার স্বামী আমাকে বলল -মা তো মা এই।হয়ত সে ও তোমার মত কোন মা পেয়েছে।চিন্তা কর না।যা হবে ভালোর জন্য। আমি একটি নিঃশ্বাস নিলাম।নিঃশ্বাস টা নিয়ে বললাম -ওর একটা নাম রাখা দরকার।কি নাম রাখা যায় বলতো। শাদাফ বেশ চিন্তা করে বলল -ওর দিকে তাকিয়ে দেখ ও কত সুন্দর।আর চোখগুলা দেখ একদম অন্যরকম।দেখেই যেন মন জুড়িয়ে যায়।আচ্ছা ওর নাম কি দেওয়া যায় তুমিই বলতো।
আমিও কিছুক্ষণ ভাবতে লাগলাম।কোন নামেই যেন খুঁজে পাচ্ছিলাম না।কারন সব নাম যেন ওর সাথে বেমানান লাগতেছিল।অনেক ভেবে মনে হল ওর নাম আলো রাখি।আলো নামটা আমার মনে আসতেই আমার স্বামী শাদাফকে বললাম -আমার মনে হচ্ছে ওর নাম আলো রাখলে ভালো হবে। শাদাফ আমার নামটা শুনে বেশ খুশি হয়ে বলল -সত্যি এ নামটাই ওর সাথে মানানসই। সেদিনের পর থেকে আলোকে একবারও অন্য কারও মেয়ে মনে করে নি।আলোকে আমার নিজের ময়ের মতই লালন পালন করতে লাগলাম। আলো আস্তে আস্তে বড় হতে লাগল।আলোর হাসি দেখে সবটা ভুলে যেতাম।মনের সব দুঃখ যেন আলোর হাসির কাছে হার মেনে যেত।আস্তে আস্তে আলোর বয়স ৬ মাস হল।৬ মাস বয়স থেকেই আলোর মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখতে লাগলাম।যা সাধারণ বাচ্চাগুলোর মধ্যে ছিল না।কিছুটা অদ্ভূত লাগত মাঝে মাঝে। তবুও নিজেকে সামলে নিতাম।ভাবতাম হয়ত এটা আমার মনের ভুল।সবার মধ্যেই ব্যাতিক্রম কিছু থাকে।হয়ত আলোর মধ্যে তার পরিমাণটা বেশি। কিন্তু কিছু কিছু ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার মত ছিল না।আবার এড়িয়ে না গিয়েও পারতাম না।কারন আলোকে প্রায়ই খেয়াল করলে দেখতাম আলোর চোখের লেন্সটা চারপাশে ফুটবলের মত ঘুরছে।তখন আলো বেশ নিস্তব্ধ হয়ে ঝিম ধরে শুয়ে থাকে।মিনিট খানেক এরকম হওয়ার পর চোখ স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং আলো ও আগের মত পুনরায় খেলতে থাকে।প্রায়ই এমন খেয়াল করতাম।আর এ বিষয়টা ঘটত সূর্য উদয় এবং সূর্য অস্তের সময়।ব্যাপার টা প্রথম দিন দেখে একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।কিন্তু পর পর পুনরায় এভাবে দেখতে লাগলাম এরপর থেকে বিষয় গুলো কেন জানি না স্বাভাবিকভাবে মানতে পারছিলাম না।
এর মধ্যে আরেকটা কাহিনী ঘটার পর নিজের মনটাকে শাত্বণা কেন জানি না, দিতে পারছিলাম না। কারন একদিন আলোকে রেখে আমি রান্না ঘরে যাই আলোর জন্য খিচুড়ি আনতে।এসে যা দেখি তা দেখার পর আমার চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না।কারন দেখি আলো দাড়িঁয়ে খিল খিল করে হাসছে।হয়ত ভাবছেন বাচ্চা দাঁড়িয়ে হাসার মধ্যে কি এমন অদ্ভূত বিষয় আছে এটা তো নরমাল।সত্যি বলতে অদ্ভূত বিষয়টা এটা ছিল যে আলোর বয়স ছিল মাত্র ছয় মাস।আর একটা ছয় মাসের বাচ্চা দাড়িঁয়ে এরকম বিদঘুটে হাসি দিলে যে কারও মনেই অশান্ত হয়ে যাবে।এটা দেখার পর নিজেকে কন্ট্রোল রাখতে পারছিলাম না।মাথাটা হঠাৎ করে ঝিম ধরে গেল।তারপর কি হল বুঝে উঠার আগেই জ্ঞান হারালাম।শাদাফের পানির ঝাপটায় আমার জ্ঞান ফিরল।আমি কিছুটা স্তম্ভিত হয়ে বসে রইলাম শাদাফ আমাকে ধাক্কা দিয়ে বলল -অধরা কি হয়েছে তোমার? এভাবে হঠাৎ করে পড়ে গেলে যে। আমি শাদাফের কথার জবাব না দিয়ে আলোর দিকে তাকিয়ে দেখলাম আলো ঘুমাচ্ছে।শাদাফকে বললাম -একটু আগে আলোকে দেখলাম দাঁড়িয়ে খিল খিল করে হাসছে।কেন এমন দেখলাম। একটা ৬ মাসের বাচ্চা হুট করে দাঁড়িয়ে গেল কিভাবে? শাদাফ আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে লাগল -অধরা এগুলো তোমার অতিরিক্ত চিন্তার ফল।আলোকে নিয়ে এত কাহিনী ঘটল তো তাই ট্রমা থেকে বের হতে পারছ না। -নাহ শাদাফ তাই যদি হত তাহলে আলোর চোখ এমন ঘুরে কেন সূর্য অস্তের সময় আবার সূর্যদ্বয়ের সময়? শাদাফ একটু নিরাশ কন্ঠে জবাব দিয়ে বলল -কত মানুষের তো কত ব্যাতিক্রম কিছু থাকে।হয়ত আলো যার বংশধর তার বংশে এরকম কেউ ছিল।আলো তো আর আমাদের বংশের কেউ না।এসব জ্বীনগতভাবে পেয়ে থাকে বাচ্চারা।তুমি চিন্তা কর না।আলো ঠিক আছে। শাদাফের কথায় নিজেকে বেশ শান্তনা দিতে চাইলেও শান্তনা দিতে পারছিলাম না। তবুও কেন জানি না মনের মধ্যে মনে হচ্ছে এসব কিছুর পিছনে কোন রহস্য আছে।আমি কি সে রহস্য ভেদ করতে পারব নাকি সেটা আমার অন্তরালেই থাকবে।ভাবতে ভাবতে দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস নিলাম। এর মধ্যে শাদাফ আমাকে.....চলবে



গল্পটির পরবর্তী পর্ব পেতে গল্পটি নিচের শেয়ার অপশন থেকে অথবা লিংক কপি করে ফেসেবুকে শেয়ার করুন ........