সাড়ে তিন কোটি বছর বয়সের মানুষ!

সাড়ে তিন কোটি বছর বয়সের মানুষ!


রায়হান আছে বিরাট ঝামেলায়। যখন ইয়াং ছিলো তখন বার্থডে আসলে সবাই উইশ করতো, 'ভাই হাজার বছর বেঁচে থাকেন।'

তো কিভাবে কিভাবে জানি কথা লেগে গেছে। ফ্রেন্ড সার্কেল থেকে শুরু করে আত্মীয় স্বজন, ছোটভাই বড়ভাই সব মরে ভূত কিন্তু রায়হান আর মরে না। দেড়শো বছর পার করে ফেলার পর সে প্রথম রিয়েলাইজ করলো, এইটা তো বিরাট ঝামেলা। নিজের ছোট ছেলে বুড়ো হয়ে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেলো সেদিন অথচ রায়হান বিন্দাস আছে। নাতি নাতনির বয়সও পঞ্চাশ পার করে ফেলেছে এদিকে তার মরার খবর নাই। সবাই এমনভাবে লুক দেয় যেন সে প্রতারণা করতেছে। স্বার্থপরের মত বেঁচে আছে। দুইশো বছর হওয়ার পর রাইহানকে নিয়ে কিছুদিন টিভি আর পত্রিকায় খুব তোলপাড় হলো। নিউজ টিউজ আসলো। মোটামুটি একটা সেলিব্রেটি টাইপ ভাব৷ তারপর আস্তে আস্তে সেটাও থেমে গেলো। এখন আর পরিচিত কয়জন ছাড়া বাকি কোনো লোক বিশ্বাস করে না। বলে, 'ধুর, ফাপর দিও না। দেইখাই বোঝা যায় বয়স হবে সর্বোচ্চ আশি একাশি। আসছে দুইশো বছরের গল্প নিয়ে।'
যারা এরকম বলে তারাও একসময় পটাপট মরে গেলো। রায়হান তখনো দাত দিয়ে আখ ভেঙ্গে খায়। নাতিপুতির ছেলেরা তাকে সেভাবে দেখতে পারে না৷ তার মরার জন্য সবাই ওয়েট করে থাকে। সে এখন ঠিক কোন নাতির ছেলের ছেলের ঘরে থাকে, তার অতো হিসাবও নাই। তবে যাদের বাড়িই থাকুক না কেন, তারা প্রতিটা দিন রায়হানের মরার জন্য দিন গোণে।

বাড়ির বউ এসে ডেইলি ডেইলি জিজ্ঞেস করে, 'আব্বা, শরীরটা কেমন আজকে? কিছু কি বুঝতেছেন? একটু খারাপ কি লাগে? বুকে ব্যাথা বা শ্বাসকষ্ট এই টাইপ কিছু হয় নাকি!'

রায়হানের কিচ্ছু হয় না, তারপরও তাদেরকে খুশি করার জন্য বলে, 'হ, আজকে একটু শরীরের মধ্যে কেমন কেমন যেন লাগতেছে। মনে হচ্ছে আর বেশিদিন বাঁচবো না।'

অতি সন্তর্পনে বাড়ির মানুষের মুখে হাসি ফুটতে দেখে সে। পাশের রুম থেকে কথা শোনে, 'ওগো খবর শুনছো, গুড নিউজ। বুড়ো এইবার মনে হয় যাবে।'

কিন্তু রায়হান কোথাও যায় না। নাতির ছেলের ছেলে আর তার বউ টুক টুক করে মরে যায়। রায়হান তখনো চশমা ছাড়া পত্রিকা পড়ে খালি চোখে৷ বয়স এখন কত হবে? তিনশো ছাড়ায়ে যাওয়ার কথা৷ গোনে না রায়হান। কতগুলো পুরুষ পার হলো সেটাও আর গোনে না। লাইফটা তার কাছে বড়ই রসকষহীন হয়ে গেছে। আর বেঁচে থাকতে ভালো লাগে না। শুধুমাত্র মহাপাপ বলেই এখনো সুইসাইড করছে না রায়হান।
.
নাতির নাতিপুতিরা রায়হানকে মারার জন্য সরাসরি কিছু না করলেও পরোক্ষভাবে অনেক চেষ্টা করলো। মাহফুজুর রহমানের গান শুনালো, কেকা ফেরদৌসির রেসিপি খাওয়ালো, কান হেলালের ভিডিও আর হিরো আলমের সিনেমা দেখালো। রাবা খানের বই পড়ালো। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না৷ সবকিছু পরাস্ত করে সে বেঁচে রইলো।
.
তার আশেপাশের দুনিয়ায় কতকিছু চেঞ্জ হয়ে গেছে এর মধ্যেই। তাদের জামানায় ফেসবুক ছিলো, এখন আর সেসব চলে না। জাদুঘরে গেলে দেখে আসা যায়। পরে ব্রেইনবুক বলে একটা জিনিস আসছিলো। সবাই সবার ব্রেইনের সাথে কানেক্ট হয়ে কথাবার্তা বলতে পারতো মনে মনেই। সেটাও আস্তে আস্তে ব্যাকডেটেড হয়ে গেল। মানুষের চাইতে দুনিয়ায় রোবট কাজকর্ম করে বেশি। তবে কোনটা মানুষ আর কোনটা রোবট তা বের করা যায় না সহজে। রায়হান এককালে সিনেমার খুব ভক্ত ছিলো, তাদের সময় শাহরুখ, সালমান, জনি ডেপ, টম ক্রুজ বলে কত নায়ক ছিলো। সব বহু আগেই মারা গেছে। তারপর নায়কের কত জেনারেশন চলে গেলো। রায়হান নিজেকে এইসব বাচ্চা নায়কদের সাথে ঠিক মিলাতে পারে না। তার খুবই অস্বস্তি হয়। সিনেমা দেখাও বাদ দিয়ে দিয়েছে সেইজন্য। তবে রায়হান একটা জিনিসে খুব মজা পায়। এককালে এই দেশে যারা ক্ষমতায় ছিলো, ক্ষমতায় থাকার জন্য পিটিয়ে মানুষ মেরে ফেলতো, তাদের আজ নামও কেউ জানে না। বহু আগেই সবাই ধুয়েমুছে গেছে। কই গেছে কে জানে! স্বর্গ নরক কিছু থাকলে তাদের নরকেই যাওয়ার কথা। মানুষের অভিশাপ তো আর কম লাগেনাই। চিন্তা করতেই অন্যরকম এক তৃপ্তি আসে তার।
.
এখন রায়হান যাদের সাথে থাকছে, তারা রায়হানকে বেশ কয়েকবার ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছে৷ ডাক্তার জিজ্ঞেস করে, সমস্যা কি?
তারা কিছুই বলতে পারে না। বলে, 'বডি চেকাপ করাইতে নিয়ে আসছি। একটু দেখেটেখে বলেন কি অবস্থা। মরবে কবে।'
ডাক্তার সব চেক করে বলে, 'আপনার বাবা তো খুব সুস্থ আছে। কোনো সমস্যা নাই।'
তারা মুখ বাকিয়ে বলে, 'আমার বাবা না ইনি।'
ডাক্তার হাসে, তাহলে আপনার দাদা। ইনার শরীর আলহামদুলিল্লাহ অসাধারণ এই বয়সেও।'
তারা আরো বিরক্ত হয়, আমার দাদাও না।
.
তাদের শরীরে নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। হার্ট প্রবলেম, হাই প্রেশার, ডায়াবেটিস। অথচ রায়হান এখনো লিফট ছাড়া ছয় তলা হেটে হেটে উঠে পড়ে সিড়ি ভেঙে।
.
রায়হানের বয়সের খবর মিডিয়া এখন জানলে সারাবিশ্বে একটা তোলপাড় সৃষ্টি হয়ে যাবে৷ বিজ্ঞানীরা বিরাট অবাক হবে৷ কিন্তু কেন যেন সে যেই নাতির ঘরের নাতির নাতিপুতিদের সাথে থাকে, তারা পুরো বিষয়টা গোপন করে রেখেছে। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলে, বয়স আর কত হবে৷ এই নব্বই পচানব্বই। তারা খুব হিংসায় জ্বলেপুড়ে মরে। তারা চায় না বিশ্বের লোকজন রায়হানকে নিয়ে আগ্রহী হয়ে যাক। রায়হান একা একটা ঘরে সারাদিন থাকে। সকাল আর বিকাল একটু বাসার পাশের গার্ডেনে হাটতে বের হয়৷ এককালে যারা তার সামনে হাফপ্যান্ট পরে দৌড়াদৌড়ি করতো, হাসতো খেলতো, আজ তারা বয়সের ভারে কুজো হয়ে গম্ভীর মুখে পার্কের বেঞ্চে বসে রাজনৈতিক আলাপ আলোচনা করে। একটু বেশি হাটলেই তাদের বুকে চাপা ব্যাথা শুরু হয়। ঘন ঘন নিশ্বাস পড়ে। অথচ রায়হান এখনো পুরো পার্কে তিন চক্কর দিয়ে এসে ক্লান্ত হয় না।
.
আরো দুইশো বছর যাওয়ার পর দেশ থেকে বিয়েশাদি উঠে গেলো৷ জনসংখ্যা সমস্যার কারণে সরকারিভাবে বাচ্চা নেয়া নিষিদ্ধ করা হলো। সুতরাং সে যেই বাসায় থাকতো তারা মরে যাওয়ার পর রায়হানের আর কোনো আত্মীয় বেঁচে থাকলো না। সে একা একা বের হয়ে পড়লো দুনিয়া ভ্রমনে৷ বিভিন্ন শহরে যায়, ছোটোখাটো কাজ করে নিজের খরচ নিজেই চালায়। এটা একদিক দিয়ে ভালো হইছে তার জন্য৷ কবে মরবে, সেই প্রশ্ন করার আর কেউ নেই।
.
এক হাজার বছর পার হয়ে গেলো কিন্তু রায়হানের কিছুই হলো না। মানুষ নিজেদের মধ্যে মারামারি করে, প্রকৃতির উপর অত্যাচার করে করে আস্তে আস্তে ধ্বংস হওয়া শুরু করলো। শহরের পর শহর উজাড় হতে থাকলো। কখনো কঠিন কোনো রোগ আসে যার কোনো চিকিৎসা নাই, কখনো বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। একবারে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়। কিন্তু যথারীতি বেঁচে থাকে রায়হান।
.
আরো দুইতিন হাজার বছর পর পৃথিবীর সভ্যতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলো। মানুষ আবার আদীম যুগে ফিরে গেলো। বন জঙ্গলে থাকে আর শিকার করে খায়। তখন মানুষ মারা যেতে থাকলো বিভিন্ন পশুর আক্রমনে। কিন্তু মরলো না রায়হান।
.
আরো পঞ্চাশ বছর পর সভ্যতা আবারো ঠিকঠাক হলো। গুহা ছেড়ে মানুষ নিজেদের জন্য ঘর বানালো। হিংস্র পশুদের মারার জন্য অস্ত্র বানালো। রায়হান তাদের সাথেই আছে। এর মধ্যে তাকে দুইবার বিয়ে দেয়া হয়েছে। নতুন বাচ্চাকাচ্চাও হয়েছে তার। নিজের ভেতরের এনার্জি দেখে সে নিজে যেমন অবাক, তেমনি তার থেকে দুই লাখ বছরের ছোট বউদুজনও অবাক।
.
এভাবেই কেটে গেলো আরো কয়েক লাখ বছর৷ তারপর এক শুভ দিন দেখে দুনিয়া ধ্বংস হয়ে গেলো। সারা পৃথিবী ভেঙেচুরে গুড়াগুড়া। সব উল্টেপাল্টে গেলো। জীবিত সমস্ত প্রাণী মারা গেলো। কিন্তু রায়হানের কিছুই হলো না। সে একা একা বেঁচে রইলো।
.
ওদিকে বিচারকার্য শুরু হলো৷ সব মানুষ তাদের কর্মফল অনুযায়ী প্রাপ্য পেলো। কেউ স্বর্গে গেলো, কেউবা নরকে৷ একা একা রায়হান দুনিয়ায় ঘুরতে লাগলো। সে মরেনাই জন্য বিচারের আওতার বাইরে থাকলো। স্বর্গেও তারে ঢুকতে দেয় না, নরকেও যায়তে দেয় না। কোথাও জায়গা না পেয়ে সে বিরক্ত হয়ে সুইসাইড করার সিদ্ধান্ত নিলো৷
.
একটা কাচের টুকরা জোগাড় করে কবজির রগ কেটে দিলো। ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলো৷ শরীর আস্তে আস্তে দূর্বল হওয়া শুরু করলো। শ্বাসকষ্ট শুরু হলো। মৃত্যুভয় ঢুকলো রায়হানের মনে। সে দ্রুত একটা কাপড় এনে ক্ষতস্থান বেধে রক্ত বন্ধ করে ফেললো।
'নাহ এতো দ্রুত মরা যাবে না। আরো কিছুদিন বাঁচতে হবে। তাছাড়া তার কিই বা এমন বয়স হয়েছে। সাড়ে তিন কোটি বছরের বেশি তো আর না!'

লেখা: সোহাইল রহমান
যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (১১)

যে দোষে আজ আমি অপরাধী - পর্ব (১১)



আমার কাধ থেকে জান্নাতিকে সরিয়ে রুমে চলে আসলাম। সারা দিনের ক্লান্তি ভরা শরীর নিয়ে বিছানায় গা মেলিয়ে দিতে না দিতেই জান্নাতি রুমে হাজির....

- এই যে মিষ্টার আফ্রিকান এনাকোন্ডা   এটা কি হলো...??
- কোনটা কি হলো...?(আমি)
- গাড়ি থেকে নামার সময় আমাকে সাথে করে আনলেন না কেন..??
- কেন তুমি কি কচি খুকি না কি যে তোমাকে কলে করে নামিয়ে আনবো? আর কি যেন বলছিলে আমি আফ্রিকান এনাকন্ডা নাহ...! আমি এনাকোন্ডা হলে তুমি পেত্নি, শাঁকচুন্নি, ডাইনি বুড়ি....
- কিহ, আমি পেত্নি, শাঁকচুন্নি, ডাইনিবুড়ি?
- তা নয়তো কি, তুমি আসলে এক নাম্বার শাঁকচুন্নি...
-ওই, হুলু বিড়াল, লালবাদর, আফ্রিকান এ্যানাকোন্ডা, তুই আমাকে শাঁকচুন্নি বললি! আমি শাঁকচুন্নি নাহ (কথা গুলো বলেই ৩৬০ ডিগ্রী এ্যাঙ্গেলে, অ্যাষ্টকেট পাথরের মত ৫০০০ গতিবেগ নিয়ে আমার ওপর ঝাপিয়ে পড়লো।

- আমি জান্নাতির হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য উল্টো হয়ে জান্নাতিকে বিছানার ওপর দুই হাত চেপে ধরলাম, কিন্তু আমার এমন লাগছে কেন! নিজে কে কন্ট্রোল করতে পারছি না কেন, জান্নাতিকে বিছানায় চেপে ধরায় এতোটা কাছে গিয়েছি যে জান্নাতির মুখের গরম নিশ্বাস আমার মুখে পড়ায় আমি কেমন জানি পাগল হয়ে যাচ্ছি। রীতিমতো জান্নাতি চুপ হয়ে গেছে আমাকে এই রকম হতে দেখে, জান্নাতির নিশ্বাস ধীরে ধীরে ঘন হয়ে আসছে। আমি জান্নাতির ঠোটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, জান্নাতি চোখ বন্ধ করে ফেলে। গোলাপের পাপড়ির মত ঠোট জোড়া কাপছে, আমি যেই জান্নাতির ঠোটের সাথে ঠোট লাগাব অমনি পাশে থাকা ফোনটি বেজে ওঠে...

জান্নাতি আমাকে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়, সালার ফোন টাও আর বাজার সময় পেল না। ফোনে তাকিয়ে দেখি ইমদাদুলের ফোন...

- হ্যালো, কেমন আছিস...?
- হুম, ভালো, তুই কেমন আছিস..?
- এই তো ভালো....!!
- তা নিজের গ্রামে গিয়ে আমাদের ভুলে গেলি নাকি...??
- আরে তোদের কি ভুলে থাকা যায় বল...!!
- হুম, তা ঢাকা আসবি কবে...??
- হুম যাবো এখানে কিছু কাজ আছে কাজ সেরে যাবো (আসলে কাজ বলতে জান্নাতি আমাকে ওর প্রতি এত টাই আসক্ত করে নিয়েছে যে ওকে ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে মন চাইছে না।)
- ওকে, ভালো থাকিস...বাই...
-হুম,বাই।

ইমদাদুল সাথে কথা বলে ফোনটা রেখে সারা দিন জান্নাতির সাথে কাটানো সময় গুলো ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি মনে নেই....

পরদিন.....
বিয়ের আমেজ শেষ হয়ে গেলে আসিক আর নিলা ঢাকা ফিরে গেল। আমি বগুড়া আসলাম। কারন ওখানেই আমার পরিবারের সবাই। জান্নাতির পরিবারও এইখানে থাকে আর জান্নাতি বগুড়া একটা কলেজে পড়ে। আমি একটা বাসা ভাড়া নিলাম যেটা আমার পরিবারের বাসা থেকে অনেকটা দুরে। আর জান্নাতিদের বাসার পাশে। এজন্য প্রতিদিন বিকালে জান্নাতিকে নিয়ে  ঘুরতে যেতে হয়। মা প্রায়ই এখানে আসে আর মাইশাও। এরা দুইজন ছাড়া আমার পরিবারে আর কেউ জানে না আমি এইখানে আছি। বাসায় ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন ফোনটা বেজে উঠলো। দেখি জান্নাতি ফোন দিয়েছে..

- কোথায় আপনি?
জান্নাতি আমাকে এখনও আপনি করেই বলে। ওর নাকি আপনি করে বলতেই ভালো লাগে। তাই আমিও আর না করিনি।
- কেন বাসায়।।
- আজ বিকালে ঘুরতে যাবো।(জান্নাতি)
- প্রতিদিন তো যাই। আজ না গেলে হয় না।
- কেন??(জান্নাতি)
- আজ না আমার যেতে ইচ্ছা হচ্ছে না।
- আসতে বলছি আসবেন। না আসলে হাত-পা বেধে নিয়ে আসবো। (রেগে)
- এতে রাগ করছো কেন?? আমি আসবো।
- মনে থাকে যেন।
- ওকে।

- জান্নাতি যে সময় বলেছিল সেই সময় ওর বাসায় কাছে গেলাম। দেখলাম বাইরে জান্নাতি দাড়িয়ে আছে..
- চল কোথায় যাবে??
- আজ একসাথে ঘুরবো, আর কিছু জিনিস কেনার আছে??
- আচ্ছা চল।
আমরা সারা বিকাল ঘুরলাম। ওকে বাসায় পৌছে দিয়ে আমি ফিরে এলাম। রাতে আসিক ফোন দিল...
- হ্যালো কেমন আছিস??
- ভালো তুই। (আসিক)
- আমিও।
- যার জন্য ফোন করেছিলাম কাল আমরা তোর ওইখানে আসবো।(আসিক)
- কখন?
- ওই বিকালের দিকে। (আসিক)
- ওকে।


ফোনটা কেটে দিয়ে শুতে যাবো তখনি জান্নাতির ফোন

- এতক্ষন কার সাথে কথা বলছিলে?? (জান্নাতি)
- আমার বন্ধুর সাথে।
- বন্ধু না বান্ধুবী?
- আরে বন্ধু।
- সত্যি তো।
- বিশ্বাস না হলে আসিক কে ফোন দিয়ে জিঙ্গাসা করো, ও ফোন দিয়ে ছিল কিনা।
- দুলাভাই ফোন দিয়ে ছিল কেন??
- বলল কাল আমার এইখানে আসছে।
- কখন আসবে।
- বিকালে।
- আচ্ছা।
জান্নাতির এ সাথে আরো কিছুক্ষন কথা বলে ঘুমিয়ে গেলাম।

পরের দিনঃ
দুপুরের দিকে কলিংবেল বাজলো। আমি গিয়ে দেখি জান্নাতি।
- জান্নাতি, তুমি, এই সময়??
- হ্যা, কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি?
- না সমস্যা হবে কেন??
- আজ আপনার এইখানে আপুর আসার কথা তাই আসলাম।
.- ও, তা হাতে এইগুলো কি??
- আপনার জন্য আমি নিজে রান্না করে খাবার নিয়ে এসেছি। সরুন তো ভিতরে যেতে দিন।
ভিতরে আসার পর
- যান গিয়ে ফ্রেস হয়ে আসুন। আমি খাবার বেড়ে দিচ্ছি।

আমি গিয়ে ফ্রেস হয়ে এলাম। তারপর আমি আর জান্নাতি একসাথে  দুপুরের খাবার খেলাম। বিকাল পেরিয়ে গেছে। কিছুক্ষন পর সন্ধ্যা হয়ে আসবে তবু আসিক এল  না।

- আপুরা এখনও এল না কেন?
- আমিতো জানি না। ফোনটাও বন্ধ।
- আরেক বার চেষ্টা করুন।
- ওকে করছি।

ফোন দিতে যাবো এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠলো।
- মনে হয় এসে পড়েছে।
- আমি দেখছি। (জান্নাতি)
জান্নাতি দরজা খুলতে গেল। কিন্তু ও দরজা খুলে দাড়িয়েই আছে।

- কি হল জান্নাতি, আসিক এসে পড়েছে?
.
জান্নাতির কোন উত্তর না পেয়ে আমি দরজার কাছে গেলাম কে এসেছে দেখার জন্য। আমি যেই ওখানে গেছি একেবারে চমকে গেছি! কারণ দরজা খুলেই দেখি শান্তা। ওকে দেখে শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। আবার কোনো সমস্যা বাঁধাবে না তো। অনেক কিছু হারিয়েছি ওর জন্য। আজ যা পেয়েছি যদি আবার হারাই


............To Be Continue
এসএসএসি রেজাল্ট ২০২০ - জেনে নিন সবার আগে রেজাল্ট পেতে করনীয় কি!

এসএসএসি রেজাল্ট ২০২০ - জেনে নিন সবার আগে রেজাল্ট পেতে করনীয় কি!


The results of Secondary School Certificate (SSC) and its equivalent examinations for 2020 have been published. SSC & Dakhil Result 2020 Published Date is Very Important For The Students Who Attend The SSC Exam 2020. SSC Exam is one of The Top Public Examinations in Bangladesh. SSC Result 2020 Published Date & Time by Education Board of Bangladesh. Many of you search for SSC result kobe dibe on Internet as well as Facebook. It is compulsory to know that SSC is the mid-level public exam in Bangladesh. The Examination was started from 1st February under Bangladesh Education Board. Ministry of education conduct the SSC & Equivalent Examinations.

Update: Due to COVID-19 ( Corona Virus) Current Situation in Bangladesh. SSC Result 2020 Published Date is 31st May 2020 So, The Secondary School Certificate Examinations Result Date will Announce later. Hope You Find Answer of The Question “When will the result of SSC 2020 be declared?

The Secondary School Certificate (SSC), Dhakil and equivalent examinations Result Publish at Same Date and Time. So, here you will find the result publish date, checking system. through the post, We will cover Online and SMS System to get result. SSC Vocational result 2020 details will cover later.

SSC Result 2020 Bangladesh

The SSC result is going to publish on May 2020. Large number students attend the Secondary School level examinations. 20,31,889 students appeared the Exam from various center. The exam was held more than 3,412 Center. Among them, boys students attends number was 10,23,212 and girls students attends number was 10,08,687. So, 14,525 more boys than girls are attend the School Level Exam. The authority will publish the result on 6th May 2020. A senior Officer of Ministry of Education, Inform the news. Result will be publish after 2.00 PM

However, A total of 2,45,286 More Students Taking Exam than Previous year. However, the exam conduct by ten Education Board Bangladesh. 16,27,378 Students attends from General Education Board, 2,89,752 Students attends from Bangladesh Madrasah Education Board (BMEB) and 1,14,769 Students attend from Technical Education Board Bangladesh. However, 458 Students attend from abroad.

SSC Result Pre – Registration by SMS

To Know About SSC Result Please Pre-Register From 18th May Till 24hours Before Publishing The Result by The Education Board of Bangladesh. You Can Send SMS To 16222 Number just Typing Below SMS.

SSC (Space) Board Name (Space) Roll (Space) Year and Send to 16222 Number

SSC-2020 ফলাফল এর প্রি-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের দিনে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ঘরে থেকে সরাসরি আপনার মোবাইলে ফলাফল পেতে আপনার প্রিয় নাম্বার থেকে এখনি টাইপ করুনঃ SSC<>Board Name<>Roll<>Year আর পাঠিয়ে দিন 16222 নাম্বার এ

SSC Routine Importnat Dates
  • Examination Starting Date: 1st February 2020 (Saturday)
  • Exam Finish Date: 22nd February 2020 (Saturday)
  • Exam Time: 10:00AM to 1:00PM (Every exam day)
  • SSC Exam Duration : 3 Hours
  • Practical Exam Date: 23rd February to 29th February 2020

SSC Result 2020 Published Date

SSC Result 2020 Publish Date : It is the most Popular Question that when will the Result will Publish. Till now, a lot of People ask us about the SSC Result publish date. Here is a simple knowledge (Basic concept) available that’s you may know that the public Exam Result in Bangladesh Release within the 90 days of Exam Started or 60 days after completing the Exam. Just count the 60 Days from the Exam finish date and find out the Result Publish date yourself.


SSC Result 2020 Published Date

SSC Result Bangladesh Education Board

The SSC Exam will start on the 1st Week of February, and it will continue till the 4th March . Every year, The Secondary School Certificate (SSC) Exam Start on the same date and follow the same Routine to complete the exam. The Highest Number of People will attend on the SSC Exam under Eight Education Board.

If you are an SSC Examines under any Education Board, here is the all available Info available which is compulsory to know for an Examine. Get the complete concept from us for now and further reference.

You can quickly check your Result with your Mobile Phone by Sending a Short Message with the exact info. Just keep 2.44 BDT or Balance in Your Account and Try to Send a Message with the below SMS Format:

SSC <space> 1st Three Letters of Your Education Board name <space> Your 6 Digit of Roll Number <space> 2020 (Passing Year) and then, Send the Message to 16222.

While you will send the Message to 16222, You will be charged Instant from your Account and Receive the Confirmation SMS with Your Result. To Check Your Result, you must Understand the necessity to send the SMS after publishing the Result through Education Board Bangladesh.

SSC Result by EIIN

Students or Guardian Can Check SSC Exam Result 2020 by EIIN Number. EIIN Means Educational Institution Identification Number. With This EIIN Number Students Can Check Result For enter Institute. SSC Result 2020 by EIIN Number Can be Found Through eboardresults.com Web Address. There a alternative Website (https://bdeboardresults.com/) Where You Can Find More Details About EIIN Number Result Instruction.

SSC Result 2020 Marksheet

If you want to Download Your Full Mark Sheet of SSC Result 2020, you must need to re-check after 6 PM of the Result Publish Date with anyone Process we have provided in the above. You can Quickly Download or Check Your Full Mark Sheet from the Online. SSC Result 2020 With Marksheet Can be Found From eboardresults. By SSC Exam Result Marksheet Check, You Can Know Your Subject Wise Marks Number.

Bangladesh Secondary School Certificate (SSC) and Equivalent Examinations 2020 Held Under Ten Education Boards. All Education Board Details and Result Instruction are Provide Below

Dhaka Education Board SSC Result

The Dhaka Education Board are Responsible For The Administering All Public School in the Entire Dhaka Division. The Board Was Establish on 7 May 1921. The Board Responsible For Conduct SSC Result, HSC Exam Result. You Can Find The More Details From Official Webadress: dhakaeducationboard.gov.bd

To Check Your SSC Result Dhaka Education Board, Just Visit first the Dhaka Education Board official Website and Then Click on the Result Menu to check Your SSC Exam Result fast. No error will be detected while you will check your Result from the Internal Server of Dhaka Education Board.

You can also send a Message to 16222 with

“SSC<space> DHA <space>121122<space> 2020”.

Here, 121122 is your SSC Roll Number Example. Android Smartphone can follow the section of the Result Check System with Android Mobile Apps to know more.

SSC Result Chittagong Education Board

The Chittagong Education Board is an Autonomous Organization, Which Are Responsible For Conducting Public Exam (SSC, HSC and JSC). The Board Started its Operation in The Year of 1995.

Comilla Education Board SSC Exam Result

The Comilla Education Board Also Call The Board of Secondary Education, Comilla is Conducting SSC Exam. So, Holding Secondary School Certificate Publish Exam and SSC Exam Result Result by 5 Districts of Comilla Division. Comilla Board Established in Year Year of 1962.

SSC Result Dinajpur Education Board

Dinajpur is the Last Education Board in Bangladesh. The Dinajpur Education Board hasn’t any Internal Server to Check the Result from the official Website of Dinajpur Education Board. If you want to Check Your Dinajpur Board SSC Result and All another public result, you can only Check The Result by an only way that is Educationboardresults gov BD.

SSC Result Sylhet Education Board

To Check The Sylhet Education Board SSC Result, Go to the Sylhet Board Official Website and then try to check Your Result first. While you will Visit the Official Website of Sylhet Education Board, then you will get the Result Menu from the top Menu. Just click on the Result menu. Then, you will be eligible to Check Your Result Fast. Sylhet Education Board Bangladesh Has Been Establish in The Year of 1999. So, Find Sylhet Education Board Result Which Will be Published in Here.

Barisal Education Board SSC Result

The Barisal Education Board SSC Result will be available on the Internet, SMS and Android Apps at the same times. The Board Arrange The 3 Important Public Exam in Bangladesh. You Can Check The Official Barisal Board Website: www.barisalboard.gov.bd

SSC Result Jessore Education Board

BISE, The Jessore Education Board Started it Operation With Khulna Division in 1963. You Can Check Jessore Board Details From Official Website. The Board Control it Related District SSC Result 2020 and HSC Exam Result. As Well As JSC Exam Result.

Rajshahi Education Board SSC Result

If you attend the SSC Exam under the Rajshahi Education Board, This Part of this Article is very Important to you. Every Examine needs to have the Basic and clear concept about the All available Result Check method of the Education Board under they attend in the Public exam. Rajshahi Education Board Started Operation in The Year of 1961. You Can check Rajshahi Board SSC Exam Result From This Post by Follow How To Get SSC Result by Online and SMS.

Madrasah Education Board Dakhil Result

Dakhil is The Equivalent Exam of SSC. Dakhil Exam Conduct by The Bangladesh Madrasah Education Board. You Can Check Dakhil Result by Send SMS and Online. The Board Was Established in The Year 1780 but it Operation its Activity individually in 1979. Do You Know that, Dakhil Exam Was Given Equivalent To SSC in 1985. So, Check Dakhil Result 2020 From Here.

SSC Vocational Result

SSC Vocational Exam Conduct by Bangladesh Technical Education Board. BTEB.GOV.BD SSC Vocational Result 2020 Will Publish at Same Time of SSC & Dakhil Result. However, Vocational Means Technical Education Board. To Improve Technical Education and Speed it up, The Government Take Some Step. However, If You Vocational Students You Can Check Result as Like General Education Board. Just Select Technical Board While Check Result Online

Now, See SSC Vocational Result 2020 by SMS System

SSC<space > TEC <space> 123456 <space> 2020 to 16222.

However, Exam Was Started From 1st February. Theoretical Exam Was Complete on 25th February. SSC Practical Exam Was Held on 26th February to 4th March.

So, After completing the Secondary School Education, The students attend on the SSC Exam under Education Board Bangladesh. There are Ten Education Board available in Bangladesh for Controlling the SSC and Evaluation Result 2020 .

SSC Result BD

So, the Final Session of the Article about the SSC Result 2020. We hope that you have successfully understood about the desired info we have provided in here. Do you have any Question, Suggestion or recommend about This Article?

Please feel free to ask any question to us like the Result Publish date or others. We are happy to inform you that, The people who want to Receive their SSC Exam Result very Fast, Just Add your Roll Number, Registration Number and Board name on the below comment Box. We Will Reply back with Your result as soon as possible. Thank you for being with us.

বাংলাদেশের উপর হানা দিয়েছে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়!

বাংলাদেশের উপর হানা দিয়েছে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়!


ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ নিয়ে বাংলাদেশ উপকূলে উঠে এসেছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফান৷ দেশের কিছু অংশে ভয়াবহ ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার দুপুরের পর বঙ্গোপসাগরের পূর্বদিকে সুন্দরবন ঘেঁষে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আছড়ে পড়ে৷ স্থলভাগে উঠে আসার প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাণ্ডব চালাতে চালাতে আমফান বাংলাদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়৷

ঘূর্ণিঝড় আমফান বিকাল ৫টার দিকে উপকূলের বাংলাদেশ অংশে পৌঁছায় বলে জানান আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান৷ বলেন, এটি ভারতের সাগারদ্বীপের পাশ দিয়ে সুন্দরবন ঘেঁষে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের ভূভাগে উঠে আসে৷

ওই সময় এর কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝেড়ো হাওয়ার আকারে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল৷

ঘূর্ণিঝড় আমফানের ব্যস প্রায় ৪০০ কিলোমিটার জানিয়ে মান্নান বলেন, ‘‘পুরোপুরি স্থলভাবে উঠে আসতে এটির ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে৷ এর প্রভাবে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ভারী বর্ষণ হতে পারে৷’’

স্থলভাগে উঠে আসার পর বৃষ্টি ঝরিয়ে আমফানের শক্তিক্ষয় শুরু হলেও এখনো গতি কমেনি৷ গত ১৬ মে নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়া আমফান এক পর্যায়ে শক্তি বাড়িয়ে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হয়েছিল৷ বঙ্গোপসাগরের এ শতাব্দীর প্রথম সুপার সাইক্লোন ছিল এটি৷ কিন্তু উপকূলের দিকে ধেয়ে আসতে আসতে কিছুটা শক্তি হারিয়ে তা আবার অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়৷

ভারতীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে আমফান পশ্চিমবঙ্গের দিঘার কাছাকাছি এলাকা দিয়ে উপকূল অতিক্রম করা শুরু করে৷ সে সময় এর অবস্থান ছিল ভারতের সাগরদ্বীপ থেকে ৩৫ কিলোমিটার, দিঘা থেকে ৬৫ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে ২২৫ কিলোমিটার দূরে৷

এদিকে, আমফানের প্রভাবে ঝড়ো বাতাসে ভোলায় গাছ চাপায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম৷

ছিদ্দিক ফকির (৭০) নামের ওই বৃদ্ধ মোটরসাইকেল ভাড়া করে বয়স্ক ভাতা তুলতে যাচ্ছিলেন৷ পথে গাছ ভেঙে তার উপর পড়ে৷ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে তার মৃত্যু হয়৷

আমফানের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি হওয়ায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বলেশ্বর নদের মাঝের চরে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয় ও ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে৷

পাশের জেলা বরগুনার তিনটি প্রধান নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে৷ স্বাভাবিকের তুলনায় নদীর পানি অন্তত ৬/৭ ফুট বেড়ে গেছে৷ নোয়াখালীতে ‘অস্বাভাবিক জোয়ারে’ বেড়িবাঁধ ভেঙে পাঁচ শতাধিক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে৷

আমফান বাংলাদেশে আঘাত হানার আগেই উপকূলের বিপদজনক এলাকা থেকে প্রায় ২৪ লাখ মানুষকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়৷ কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে উপকূলীয় এলাকার স্কুল-কলেজ ভবনও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে৷ পাঁচ লাখের বেশি গাবাদীপশুকেও নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে৷

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার মধ্যে ভয়াবহ ঝড়ের সংবাদ পাওয়া গেছে। এলাকার মানুষের মুখে একটাই কথা, “এরকম ঝড় আগে কখনো দেখেনি”।

ঘূর্ণিঝড় দুর্গতদের সাহায্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের এক হাজার ৯৩৩টি দল কাজ করছে বলে জানায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়৷
ফেক আইডির প্রেম

ফেক আইডির প্রেম


আমার জানামতে প্রেম ভালোবাসার ক্ষেত্রে ফেসবুক কখনো কাউকে নিরাশ করে না। একটু চেষ্টা করলেই ফেসবুক থেকে একটা না একটা প্রেমিকা সবাই ই পেয়ে যায়। একটু ধুরন্ধর হইলে চার পাঁচটাও পাওয়া যায়৷ লেগুনার হেল্পার থেকে বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার, রাজমিস্ত্রীর সহকারী থেকে বিসিএস ক্যাডার, এই জায়গায় সবার জন্যই প্রেমিকা আছে। এখনো যদি আপনি ফেসবুকে কোনো প্রেমিকা না পেয়ে থাকেন, তো হয় আপনি ভার্চুয়ালি প্রেম করতে চান না, নাহয় আপনি ফেরেশতা লেভেলের ভালো মানুষ। আমি এই ফেসবুক থেকেই এমন এমন মানুষকে একাধিক প্রেম করতে দেখেছি, বাস্তবে যারা হিরো আলম থেকেও বেশি অশিক্ষিত, কান হেলাল থেকেও বেশি গাঞ্জাখোর। আমাদের এলাকায় সেলুনের নাপিত একদিন চুল কাটতে কাটতে বলতেছে, 'মামা হেবি সুন্দরী এক মাইয়ার সাথে প্রেম করতেছি৷'
মেয়ের ছবি দেখাইলো। সুন্দর আছে, বাট দেখেই বোঝা যায় অতিমাত্রায় এডিট করা।
জিজ্ঞেস করলাম, 'এতো সুন্দর মাইয়া পটাইলা ক্যামনে?'
বললো, 'হে হে মামা, একটু বুদ্ধি থাকলে সবই হয়। আমি নাপিত সেইটা তো আর বলিনাই। বলছি আমি ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্চিটির টিচার।'
অসাধারণ। কিন্তু আমি ভাবতেছি এমন কোন অশিক্ষিত মাইয়া যে নাপিতের সাথে দীর্ঘদিন কথা বলেও টের পায়নাই যে সে ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটির টিচার হতেই পারে না।
জিজ্ঞেস করলাম, 'মেয়ে কি করে?'
যা ভাবছিলাম তাই। মেয়েও কম না। সে মেডিকেল ভার্চিটির টিচার।

কি সুন্দরভাবে আল্লাহ দুই 'ভার্চিটির' টিচারকে ফেসবুকের মাধ্যমে মিলায় দিছে। মাশাল্লাহ।

এলাকার আরেক পোলা আছে, সিরিয়াস লেভেলের গাঞ্জাখোর। খুব সম্ভবত ভাত তার তৃতীয় প্রধান খাদ্য। প্রথম দুইটা হলো গাজা আর ইয়াবা। একদিন আমার কাছে আসছে ফেসবুক ঠিক করাইতে। এলাকার সবার ধারণা আমি এই বিষয়ে খুব ভালো বুঝি। তো ঐ পোলার ম্যাসেঞ্জারে ঢুকে দেখি প্রথম তিনজনের নিকনেম যথাক্রমে, জানপাখি, ময়নাপাখি, সোনাপাখি।
জিজ্ঞেস করলাম, পাখির বিজনেস শুরু করলি কবে থেইকা।
লাজুক হেসে বললো, ভাই যে কি কন না। এরা আপনার ভাবী। আমাদের ধর্মে চার বিয়ে জায়েজ, তিন পাখি না।
তো সে কথায় কথায় বললো, সব পাখিই ফেসবুকের মাধ্যমে পাওয়া।
আমি জিগাইলাম, এতো পাখি কই পাওয়া যায়৷ আমি তো পাই না।
পোলা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো, ভাই এইগুলা কোনো ব্যাপার না। আপনার জন্য তো আরো সহজ। খালি আমি যা যা বলব তাই তাই করবেন।
- কি কি করব?
- একটা আইডি খুলে নাম দেবেন এলোন বয় সোহাইল। ডিএসএলার দিয়ে ছবি তুলে প্রোফাইল পিকচার দেবেন। এবাউটে লিখবেন ওয়ার্কস এট বাপের হোটেলে খাই মায়ের হোটেলে ঘুমাই, রাইটার এট রেডিও মুন্না, হ্যাকার এট ফেসবুক, ম্যানেজার এট টো টো কোম্পানি, বস এট ভিআইপি একাউন্ট।
- এতেই কাজ হবে?
- শুরুতে হবে না, কিন্তু মেলা ফ্রেন্ড এড করবেন এক্টিভ লাইকার দেখে। তারপর যখনই আপনি প্রোফাইল পিকচারে দুইশো মত লাইক পাবেন তখনই মেয়ে পটাতে পারবেন। একশো মত মেয়েরে মেসেজ দিবেন, আমার তোমাকে অনেক ভালো লাগে। আমরা কি বন্দু হতে পারি?
একশোজনের মধ্যে যদি দশজনও রিপ্লাই দেয় তো আপনার কাজ শেষ।
- কিন্তু আমি তো 'বন্দু' চাইনি। পাখি চাইছি।
- আরে ভাই বন্দু হতে চাওয়া তো টোপ। একবার বন্দু হতে রাজি হলেই এক সপ্তাহ চ্যাট করে প্রপোজ করে দিবেন। দশজনের অন্তত একজন রাজি হবেই।

ফেসবুকে মেয়ে পটানোর এতো অসাধারণ টিপস পেয়ে আমি ধন্য। সময়ের অভাবে খালি এলোন বয় সোহাইল আইডিটা খুলতে পারতেছিনা। সিঙ্গেল থাকার দিন শেষ। একবার আইডিটা খুলতে পারলেই কাটাবনের থেকে বড় পাখির দোকান বসাবো মেসেঞ্জারে।

তবে এখন আমার এই আইডির কথা বলি। আপনারা ভাবেন আমার মেলা ফলোয়ার এজন্য মেয়েরা প্রেম করার জন্য এক পায়ে রাজি। আসল কাহিনী শুনেন।
আগে যখন আমার এক হাজার ফলোয়ার ছিলো তখন কোনো মেয়ে আমার কোনো গল্পে কমেন্ট করলে তাকে রিকুয়েস্ট দিতাম সাথে সাথে। মেয়ে একসেপ্ট করত না। আর এখন আমার ফলোয়ার সত্তর হাজার প্লাস। আমার পোস্টে কোনো মেয়ে কমেন্ট করলে আমি তাকে রিকুয়েস্ট দিলে কি করে জানেন?
- কি করে? একসেপ্ট করে?
- উহু, স্ক্রিনশট নিয়ে পোস্ট দেয়, 'এতো ফলোয়ার হওয়ার পরও হালার লুচ্চামি যায়নাই। সুন্দরী মেয়ে দেখলেই রিকুয়েস্ট দেয়!' 

লাস্ট একটা কাহিনী দিয়ে স্ট্যাটাস শেষ করি। সত্যি কাহিনী।

সেদিন গভীর রাতে ফ্রেন্ডলিস্টের এক ক্লোজ ছোটো বোন আমারে মেসেজ দিয়ে বলে, 'স্যরি ভাইয়া।'
আমি তো অবাক, স্যরি কেন হঠ্যাৎ?
মেয়ে বললো, 'আসলে আপনাকে একটা সিক্রেট বলি। আপনি দুই মাস আগে ফোনে যে মেয়ের সাথে কথা বলতেন সেই মেয়ে আমি ছিলাম!'
- ওএমজি, কি বলো? কোন মেয়ে?
- ঐ যে মেডিকেল পড়ুয়া। ফাবিহা ইসলাম। ঐটা আমি ছিলাম। মানে আমার ফেইক আইডি!
- ওহ শিট, ঐ আইডির ছবি কার ছিলো?
- আমার বড় আপুর এক ফ্রেন্ডের।
- তো এতোদিন পর এখন এটা কেন বলছো?
- এমনিই। আপনার একটা পোস্ট পড়তেছিলাম হঠ্যাৎ করে মনে হলো লুকিয়ে না রেখে বলেই ফেলি। মনে আছে আমাদের রিলেশন হতে গিয়েও হয়নি? আপনার জন্যই। একদিন সারারাত ফোন ওয়েটিং পাওয়াতে রেগে গিয়ে আপনি যদি ব্লক না দিতেন তাহলে হয়তো আজ আমরা বিএফ জিএফ থাকতাম।
- যাক সেদিন ব্লক দিছিলাম ভালো হইছিলো। বাঁইচা গেছিলাম। নাইলে অন্য একজনকে ভেবে একটা ফেইক আইডির সাথে রিলেশন করে ফেলতাম।
- হুম। এই যে এখন বলে দিলাম আপনি কি রাগ করলেন?
- একটু তো করেছিই। কাজটা তুমি ঠিক করোনি। কয়দিন আগে জানলেও এভাবে ধোকা দেয়ার জন্য আমি তোমাকে ব্লক দিতাম। বাট এখন আর ওসব ভাবিনা। নতুন প্রেমিকা হইছে আমার। আমি ওকে নিয়েই হ্যাপি।
- তাই নাকি? কনগ্রাচুলেশনস। নাম কি আপুর?
- ওর নাম রোজ। আর হ্যা, আমাদের মধ্যে যা হইছিলো আমি ভুলে গেছি তুমিও ভুলে যাও। রোজ যেন না জানতে পারে। তাইলে আমি শেষ! ওকে?

মেয়েটা অনেক্ষন চুপ করে থেকে বললো, 'ইয়ে মানে ভাইয়া রোজ আপু জানলেও আসলে সমস্যা হবে না।
- মানে কি? কেন?
- কারন ঐটাও আমারই আরেকটা ফেক আইডি!

লেখা: সোহাইল রহমান
যেমন কর্ম তেমন ফল

যেমন কর্ম তেমন ফল


রাজিবের সাথে আমার পরিচয় ফেসবুকেই। সে আমার ফ্রেন্ড মৌমিতাকে রাত দেড়টায় সময় মেসেজ দিছে, 'সেন্ড মি ন্যুডস।' আমার উচিত ছিলো রাজিবকে জাস্ট বাসায় গিয়ে মেরে আসা। অথবা তথ্যপ্রযুক্তি আইনে অন্তত একটা কেস করে দেয়া৷ ন্যুনতম স্ক্রিনশট নিয়ে রাজিবের বিরুদ্ধে একটা পোস্ট দেয়া তো অবশ্যই উচিত ছিলো। কিন্তু তার বদলে রাজিব আমার মোটামুটি বেস্টফ্রেন্ড হয়ে গেছে। এর কারণটা খুবই সিম্পল। রাজিব মৌমিতাকে যে মেসেজ রাত দেড়টার সময় দিছে, সেম মেসেজ আমি মৌমিতাকে দিছি ঐদিনই রাত সাড়ে বারোটায়। মৌমিতা আমাদের দুজনকেই ব্লক করে দিছে। যেহেতু আমি আর রাজিব সেম মেয়ের কাছে ন্যুড চাইছি, সেহেতু আমরা আসলে একে অন্যের ন্যুডতুতো ভাই। অথবা একই মেয়ের কাছে ব্লক খাওয়ার সুবাদে আমি আর রাজিব একে অপরের ব্লকতুতো ভাইও হই।

রাজিব আর আমি বেস্টফ্রেন্ড হয়ে যাওয়ার পর আসল কাহিনী শুরু। রাজিবের ছিলো বুদ্ধি, আমার ছিলো সাহস। আমরা ফেসবুকে শুরু করলাম মিশন ন্যুডস। মেয়েদের কাছে ন্যুডস চাওয়ার এতো এতো তরিকা আমি আর রাজিব মিলে বের করেছিলাম যে, সবগুলো একজায়গা করে একটা বেস্টসেলার বই বের করে ফেলা যেত বইমেলায়। বইএর নাম হতো, 'সহীহ ন্যুডস আহবান' অথবা 'ন্যুডস চাওয়ার একশো উপায়।'

যেসব মেয়ের ফেসবুক সম্পর্কে ধারণা কম ছিলো তাদের আমরা বিশাল এক মেসেজ দিতাম। মেসেজটা ছিলো এরকম, 'হ্যালো সম্মানিত ফেসবুক ইউজার। ফেসবুকের ফাউন্ডার এবং সিইও মার্ক জাকারবার্গ সম্প্রতি রিয়েল আইডিগুলো সনাক্ত করার উদ্দেশ্যে একটা অভিনব পন্থা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ তিনি ঘোষণা করেছেন মানুষের শুধু ওপরটা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভেতরটাও দেখবেন। সেজন্য এই মেসেজ বিশ্বের ২৪৪ টি ভাষায় অনুবাদ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন মেসেজটা পাওয়ার সাথে আপনার একটা কাপড় ছাড়া ন্যুড ছবি দ্রুত মেসেজের রিপ্লাইতে পাঠিয়ে দেয়ার জন্য৷ (মুখ, বুক থেকে পেট পর্যন্ত একসাথে) ছবি পাঠানোর মাত্র পঁনেরো মিনিটের মধ্যে সেটা যাচাই বাছাই করে আপনার আইডিটা সারাজীবনের জন্য ভেরিফাইড আইডি হিসাবে ফেসবুক এন্ট্রি করে রাখবে। ফেসবুক নিশ্চিত করছে আপনার ছবির শতভাগ গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে। মেসেজটি ৬৯ জনকে ফরোয়ার্ড করুন এবং অপরপক্ষ ন্যুডটি পাঠানোর সাথে সাথে একবার দেখেই ডিলিট করে দিন। ধন্যবাদ।'

কোনো মেয়ে কবিতাপ্রেমি হলে আমরা কবিতার মাধ্যমে ন্যুড চাইতাম।
.
"করুণা করে হলেও ন্যুড দিও, ফ্লাশ মেরে তুলে দিও
শরীরের মিহিন গঠন।
ভুল ফোকাসে তুলো ছবি, বাজে হলে পাঠিয়ে ফেলো তাও,
এটুকু সামান্য দাবি ন্যুড দিও, তোমার বালিশের মতো তুলতুলে ঝকঝকে একখানি ন্যুড।"

মেয়ে রবীন্দ্রনাথ ফ্যান হলে লিখতাম, 'আধো রাতে যদি ঘুম না আসে, মনে পড়ে মোরে প্রিয়।
এক্টিভ হয়ে রবো অনলাইনে, মেসেঞ্জারে ন্যুড দিও।'

নজরুলের ক্ষেত্রে,

দাও ন্যুড,
দাও, হইয়োনা আজ রুড,
ন্যুড তোমারি সেন্ড মি প্লিজ,
উই জাস্ট ফ্রেন্ড, ড্যুড!

আর জীবননান্দ পছন্দ হলে সেক্ষেত্রে-

সুরঞ্জনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি,
দিওনাকো ন্যুড ওই যুবকের ফোনে;
এদিকে এসো সুরঞ্জনা:
এইখানে ন্যুড দাও নক্ষত্রের আগুন ভরা রাতে।

তবে খুব সম্ভবত আমাদের সবচাইতে মাহাত্ম্যপূর্ণ আবিস্কার ছিলো ইমোশনাল ব্লাকমেইল। মনটন নরম দেখে আমরা কোনো মেয়েকে বেছে নিয়ে মেসেজ দিতাম, 'হাই।'
অল্প একটু কথাবার্তা আগানোর পর মেয়ে যখন কেমন আছি জানতে চাইতো তখন স্যাড ইমোজি দিয়ে বলতাম, 'ভালো না। মনটা খুব খারাপ। নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে মরে যাই।'
মেয়ে জানতে চাইতো, 'কেন?'
তখন বলতাম, 'আমার পরিচিত এক ছেলে অনেক বড়লোক। বাপের কোটি কোটি টাকা। দামী গাড়িতে চলে, ব্রান্ডের ড্রেস পরে সবসময়।'
- তো?
- তো আর কি। সেই ছেলে প্রতিদিন ফেসবুকে কত কত মেয়েদের থেকে ন্যুড নেয়। অথচ!
- অথচ।
- এই যে আমার কথা ধরো। দামী গাড়ি নেই, বাড়ি নেই, ভালো ড্রেস নেই, আব্বুর অল্প টাকা বেতনের সাথে নিজের টিউশনির সামান্য কটা টাকা যোগ করে একই শার্ট বারবার পরে, রিক্সাভাড়া বাঁচিয়ে হেটে হেটে কলেজে গিয়ে সেই টাকার দুটো সিঙ্গাড়া দিয়ে লাঞ্চ করা এই মধ্যবিত্ত আমি ছেলেটাকে কোনো মেয়েই কোনোদিন ন্যুড দেয় না। অবশ্য দিবেই বা কেন৷ তুমি বলো। আমরা মধ্যবিত্ত, আমাদের নেই কোনো যোগ্যতা, নেই কোনো মেয়ের ন্যুড পাওয়ার অধিকার। আমরা ধনীর দুলালদের মত ন্যুড এপেলের ল্যাপটপে সেভ করে রাখিনা, আমাদের চায়না ফোনে মেমরি খুব কম। আমরা একবার দেখেই ডিলিট করে দেই। অথচ তারপরও কোনো মেয়ে আমাদের ন্যুড দেয় না। তুমিও দিবা না। জানি আমি। আমার কোনো আক্ষেপ নেই আসলে। মধ্যবিত্ত হয়ে জন্ম যখন নিয়েছি তখন শখ আহ্লাদ সব জীবন থেকে মুছে ফেলেছি৷ তবে জানো কি, মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয়। খুব বেশি কষ্ট। নিজেকে বড্ড সামান্য মনে হয়। এভাবে বেঁচে থেকে কি লাভ বলতে পারো শাম্মি? মধ্যবিত্তের ঘরে জন্ম নেয়াটা কি কোনো পাপ? কোনো অপরাধ? প্রচন্ড কষ্টে মোড়া আমার এই ছোট্ট বুকটার মাঝে লুকানো একমাত্র ইচ্ছাটা আজ রাতে তুমি কি পূরণ করে দিতে পারো না? কিছুক্ষণের জন্য একজন মধ্যবিত্ত যুবক কি ভাবতে পারে না যে তারও অধিকার আছে সুন্দরী কোনো মেয়ের ন্যুড পাওয়ার?
- কিন্তু আমি তো সুন্দরী না।
- আরে ধুর, তাতে কি? ফেস কে দেখতে চাচ্ছে!

তো এরকম আরো বহু উপায় প্রয়োগ করেও শেষপর্যন্ত আমাদের ন্যুডস নেয়ার সাকসেস রেশিও সাব্বির রহমানের ওয়ানডে এভারেজ থেকেও কম ছিলো। এই ফেসবুকে আসলে যত ন্যুডসের চাহিদা আছে, তত যোগান নেই। অর্থনীতির ভাষায় ফেসবুকে ন্যুডসের অপূর্ণ প্রতিযোগিতা মূলক বাজার বিদ্যমান।

খুব সম্ভবত এই কারণেই আমার বন্ধু রাজিব একদিন ফেসবুকে মেয়েদের কাছে ন্যুড চাওয়া বন্ধ করে দিলো।
খবর পেলাম রাজিব নাকি বাইক আর গিটার কিনেছে।
আমি আমাদের মিশন ন্যুডসের ব্যাপারে বলতেই রাজিব তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো, 'বন্ধু আমার, তুমি বাচ্চাই থাকলা। ফেসবুক থেকে একটু বাইরের দুনিয়ায় উকি মেরে দেখো। আমার দিনকাল অনেক পাল্টে গেছে এখন। এখন আর ন্যুডসের প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নাই।'
আমি অবাক হয়ে জানতে চাইলাম, 'কেন বন্ধু, তোমার কি সমস্যা হইছে? তোমার ছোট বন্ধু দাড়াতে পারছে না? টেনশন নিও না, তারজন্য কোলিকাতা হারবাল আছে।'
রাজিব রাগতস্বরে বললো, 'আমি ভার্চুয়াল ন্যুডসের প্রতি আগ্রহ নাই এটা বুঝাইছি গাধা৷ এখন আমি ওসব শুধু দেখব না আর, ডাইরেক্ট একশনে যাবো। আমার এক ফ্রেন্ডের নাম লিটন, তার আবার ফ্লাটও আছে একটা। কি বুঝলি?'
- তোমার ফ্রেন্ড অনেক বড়লোক।
- এর বেশি কিছু বুঝিসনাই?
- না তো!
- এজন্যই তুই সারাজীবন দেখেই যাবি। খাইতে আর পারবি না।

তো আমার চোখের সামনেই রাজিব চুড়ান্ত খাওয়াদাওয়া শুরু করলো। সারাদিন সে আজিজের ফ্লাটে থাকে কম, লিটনের ফ্লাটে থাকে বেশি। আজিজ ওর বাবার নাম।
এদিকে আমার খুব হিংসা হয়। আমারো ইচ্ছা করে মেয়ে নিয়ে ফ্লাটে যেতে। কিন্তু চাইলেও আমি পারিনা। আমার না আছে বাইক, না গিটার না ডিএসএলার। এমনকি সাহসও নাই কোনো মেয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর।
আমি তাই ফেক আইডি খুলে ফেসবুকেই মেয়েদেরকে মেসেজ দেই, 'আমি মনে করি মেয়েরা ছেলেদের থেকে কম না কিছুতেই। এই যে আমি আমার বুকের ছবি দিলাম। সাহস থাকলে তুমি তোমারটা পাঠাও।'

এর মধ্যেই একদিন রাজিব এসে দুঃখ দুঃখ গলায় বললো, 'দোস্ত আমার খাওয়ার দিন শেষ।'
- কেন, পেট ভরে গেছে?
- ধুর পাগলা, যে খাওয়াতে কিছু ভেতরে যায় সেটাতে পেট ভরতে পারে, কিন্তু যে খাওয়ার নিয়মই হলো বের করে দেয়া, সেটাতে কখনো পেট ভরে?
- তাইলে বন্ধ কেন?
- আমার স্কলারশিপ হয়ে গেছে। আমি ইতালি চলে যাচ্ছি।

তিন বছর পর রাজিব ফিরলো। এতোদিনে আমি আর ও দুইজনই চেঞ্জ হয়ে গেছি৷ আমি ফেসবুক ছেড়ে লিটনের ফ্লার্ট ধরেছি, আর রাজীব সাময়িক বাইরে খাওয়া ছেড়ে দীর্ঘমেয়াদি রাইস কুকার কিনতে যাচ্ছে। মানে পোলা এবার বিয়ে করবে। আমাকে ফোন দিয়ে বললো, 'মেয়ে দেখ।'
আমি খুশি খুশি গলায় বললাম, 'সায়মাকে বিয়ে করে ফেল। তোর এক্স ছিলো। কত নিয়ে গেছস লিটনের ফ্লার্টে।'
রাজিব রাগ করলো। বললো, 'পাগল হইছিস? যে মেয়ে কোনো ছেলের সাথে ফ্লাটে যায় তার মতো দুশ্চরিত্রা মেয়ে আমি বিয়ে করব? নেভার।'
- কিন্তু তুই বলছিলি তুই ওকে বিয়ে করবি।
- আর সে এটা বিশ্বাসও করেছিলো৷ মেয়ে দুশ্চরিত্রাই শুধু না, বোকাও। আর আমি বোকা মেয়ে তো বিয়ে করব না।
- তাহলে তোর কেমন মেয়ে পছন্দ?
- সুন্দরী, চরিত্রবান, নামাজী, পর্দানশীন, লয়্যাল। লাইফে কোনো প্রেম করে নাই। আর সবচাইতে বড় কথা, মেয়েকে ভার্জিন হতে হবে মাস্ট।
- কিন্তু তুই নিজে নামাজ পড়িস না। কয়টা প্রেম করছিস ঠিক নাই। চরিত্রের কথা না ই বলি। আর ভার্জিনিটি? হাহা!
- চুপ থাক, তুই বেশি বুঝিস না। যা বললাম এরকম মেয়ে থাকলে খোজ নে। নাইলে ফোন রাখ।
আমি ফোন রেখে দিলাম। মনে মনে বললাম, 'হালা হিপোক্রেট। তোর মতো ফাউল পোলা ওরকম মেয়ে জীবনেও পাবে না।'

কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে রাজিব পেয়ে গেলো। রাজিবের চাওয়া অনুযায়ী সমস্ত গুণ আছে মেয়ের মধ্যে। নম্র ভদ্র, নামাজী ও ভার্জিন। আসলে কলেজ লাইফে যেমন বাইক আর গিটার থাকলে সব পাওয়া যায় তেমনি বিয়ের সময় ভালো চাকরী থাকলেই হয়। তাছাড়া রাজিব বিদেশী ডিগ্রিওয়ালা বড় চাকুরীজীবি। সুন্দরী মেয়ের বাবা মা রা তো ওয়েট করেই থাকে রাজিবদের জন্য।

ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে গেলো রাজিবের। আমরা পেট ভরে রোস্ট আর পোলাও খেলাম। ভাবীর সাথে ফটোশ্যুট করলাম। ভাবীর নাম অনামিকা। আসলেই অসম্ভব ভদ্র মেয়ে। রাজিব নিজে মেড ইন চায়না হলেও জিনিস পেয়েছে পিওর মেড ইন জাপান। ভীষণ খুশি সে। দেনমোহর ঠিক হলো এক কোটি টাকা। আমি বললাম, 'দোস্ত কোনোদিন ডিভোর্স তো দিতে পারবি না। এতো টাকার ব্যাপার।'
রাজিব প্রচন্ড রেগে গিয়ে বললো, 'বিয়ে হলো জন্ম জন্মান্তরের বাধন। ডিভোর্স দেয়ার জন্য বিয়ে করলে সায়মা বা ফারিয়াকেই করতাম।'
আমার কিঞ্চিৎ হিংসা ফিল হলো৷ আমিও ডিসিশন নিলাম বিয়ে করলে এরকম চরিত্রবান ভার্জিন মেয়েই বিয়ে করবো। প্রান্তিকে করা যাবে না কোনোভাবেই।
প্রান্তি আমার প্রেমিকা। যার সাথে আমি লিটনের ফ্লাটে যাই নিয়মিত। কিন্তু কোন মেয়ে অনামিকা ভাবীর মত ভালো হবে সেটা কিভাবে বুঝব? ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলাম। স্বপ্ন দেখলাম, আমার বিয়ে হয়েছে। বাসর রাতে বউ বলছে, 'আমাকে ৫০০ টাকা দাও।'
আমি জিজ্ঞেস করলাম, 'কেন?'
বললো, 'আর সবার থেকে এক হাজার করে নেই। তুমি আমার হাজবেন্ট বলে ফিফটি পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট।'
চিৎকার দিয়ে উঠে বসলাম। দেখি সকাল হয়ে গেছে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই হন্তদন্ত হয়ে রাজিব আমার বাসায় উপস্থিত। হাফাচ্ছে খুব। বললো, 'দোস্ত সর্বনাশ হয়ে গেছে।'
- কেন? কি হইছে? ভাবী ভার্জিন না?
- তা তো জানিনা। কিছু করিনি কাল।
- তাহলে?
- ভাবলাম প্রথম রাতে গল্প করে কাটাই। কথায় কথায় ওর ফেসবুক আইডি নিলাম। ওর আইডিতে ঢুকে দেখি ও আমাকে আগেই মেসেজ দিয়ে রেখেছে একটা মেসেজ রিকুয়েস্টে।
- বাহ জোস তো। ভাবী তোকে চিনতো আগে? কি মেসেজ দিছে?
রাজিব ফোন খুলে মেসেজটা বের করে আমার সামনে ধরলো। পড়লাম আমি।
মেসেজটা ছিলো এরকম-

"শুদু প্রবাসিদের জন্য-
————★————★————★———
**ফোন_সেক্স=-> ১০২০ টাকা ১ ঘন্টা।
**ভিডিও_সেক্স=-> ২০৪০ টাকা ১ ঘন্টা।
আমি টাকার বিনিময়ে ফোন সেক্স ও ইমু সেক্স করি। আমি সব কিচু খুলে মজা দিয়ে থাকি। উপরে ও নিচে হাত দিয়ে দরে দেখাই। আর তোমরা জদি আমার সাথে সেক্স করতে চাও তাহলে ইনবক্স এ মেসেজ দেও। ১ ঘনটা করে ইমু সেক্স ২০৪০ টাকা। আর ফোন সেক্স ১ঘনটা করে ১০২০ টাকা। টাকা বিকাশের মাদ্যমে নেই। শুধু প্রবাসিদের জন্য। দেশের কেউ মেসেজ দিয়ে বিরক্ত করবা না। বিকাশে টাকা পাটানোর আগে দশ সেকেনড আমার মুখ দেকতে পারবা। মুখ বাদে অন্ন কিচু দেকতে চাইলে নগদে বলোক দিব। বিকাশ করার পর বাকি সব খুলবো। ভিডিও ছারা কনো প্রকার খোলা মেলা ছবি দেয়না আমি। কারন আমি একানে চেট সেক্স করতে আসি নাই। বিকাশ করবেন ইমুতে আসবেন কাজ বুজে নিবেন।
আর কেউ সরাসরি সেক্স করতে চাইলে ঢাকার মদ্যে হতে হবে, আমার টিকানায় আপনাকে আসতে হবে, টাকা লাগবে ত্রিশ হাজার। অগরিম দশ আর কাজ সেষে বাকি বিশ হাজার।"

মেসেজ পড়া শেষ করলাম। রাজিব কাঁদো কাঁদো গলায় বললো, 'দোস্ত, আমি শেষ। এখন আমি কি করবো তুই বল।'
আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মুচকি হেসে বললাম, 'কি আর করবি। এক কোটি টাকা তো নাই যে ডিভোর্স দিবি। তারচেয়ে বেটার ত্রিশ হাজার টাকা থাকলে সরাসরি কর, নাহয় দুই হাজার চল্লিশ টাকায় 'ইমু' সেক্স। টাকা না থাকলে বল, আমি ধার দিচ্ছি। লাগবে নাকি?'

রাজিব একদৃষ্টিতে আমার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে কিছু না বলেই চলে গেলো। তার সম্ভবত টাকা আছে৷ ধার লাগবে না!

লেখা: সোহাইল রহমান
তালিকা সংশোধন: সরকারী সহায়তার ২৫০০ টাকা পাঠানোর নতুন তালিকা

তালিকা সংশোধন: সরকারী সহায়তার ২৫০০ টাকা পাঠানোর নতুন তালিকা


করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে দেয়ার জন্য সোমবার মোট ১ হাজার ২৫৭ কোটি ছাড় করা হয়েছে। এ কার্যক্রমটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেখভাল করা হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুকূলে অর্থ বিভাগ এ টাকা ছাড় করেছে। অর্থ বিভাগের বাজেট-১ শাখা থেকে ছাড় করা হয়েছে ৬২৭ কোটি টাকা, আর বাজেট-৩ শাখা থেকে ছাড় করা হয়েছে ৬৩০ কোটি টাকা। এসব টাকা সুবিধাভোগীদের মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর জন্য সার্ভিস চার্জ বাবদ ছাড় করা হয়েছে আরও সাত কোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমন বলেন, আজকে অর্থছাড় করা হয়েছে। আগামী ১৪ তারিখ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর ১০ লাখ পরিবারকে এ অর্থ দেয়া হবে। এর পরবর্তী চার দিন ৪০ লাখ পরিবারকে এ অর্থ দেয়া হবে।

কিন্তু এই ২৫০০ টাকা করে দেওয়া ঈদ উপহার নিয়ে শোনা যাচ্ছে নানা দূর্ণীতির অভিযোগ। এ টাকা সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে যাওয়ার কারনে ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা একই নম্বর ৩০/৪০ বার করে দিয়ে গরীবের টাকা হাতানোর পায়তারা করছিলেন।

সে কারণে তালিকায় থাকা ৮ লক্ষ নম্বর বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ১৬ই মে শনিবার রাত নয়টায় এ ঘোষনা দেয়া হয়।

জানা গেছে, তালিকায় থাকা ৮ লক্ষ মোবাইল নম্বর একাধিকবার বসানো হয়েছে এ কারণে তালিকাটি বাতিল ঘোষনা করা হয়েছে। তথ্যটি জানিয়েছেন দূর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরো জানান, তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে, যারা টাকা পাননি তাদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা চলে যাবে।
সরকারী সহায়তার ২৫০০ টাকা কারা পাবেন দেখে নিন!

সরকারী সহায়তার ২৫০০ টাকা কারা পাবেন দেখে নিন!


করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র মানুষের জন্য নগদ সহায়তায় অর্থ ছাড় করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের এককালীন দুই হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। সারাদেশের মোট ৫০ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র পরিবারকে এ সহায়তা দেওয়া হবে। এতে সরকারের মোট খরচ হবে এক হাজার ২৭৫ কোটি টাকা।

সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয় ওই অর্থ ছাড় করেছে। অর্থ মন্ত্রণালায় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। রোজার ঈদের আগ পর্যন্ত এই টাকা দেওয়া হবে সুবিধাভোগীদের। তাদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা চলে যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে দেয়ার জন্য সোমবার মোট ১ হাজার ২৫৭ কোটি ছাড় করা হয়েছে। এ কার্যক্রমটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেখভাল করা হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুকূলে অর্থ বিভাগ এ টাকা ছাড় করেছে। অর্থ বিভাগের বাজেট-১ শাখা থেকে ছাড় করা হয়েছে ৬২৭ কোটি টাকা, আর বাজেট-৩ শাখা থেকে ছাড় করা হয়েছে ৬৩০ কোটি টাকা। এসব টাকা সুবিধাভোগীদের মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর জন্য সার্ভিস চার্জ বাবদ ছাড় করা হয়েছে আরও সাত কোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমন বলেন, আজকে অর্থছাড় করা হয়েছে। আগামী ১৪ তারিখ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর ১০ লাখ পরিবারকে এ অর্থ দেয়া হবে। এর পরবর্তী চার দিন ৪০ লাখ পরিবারকে এ অর্থ দেয়া হবে।

জানা গেছে, উদ্যোগটির সঙ্গে জড়িত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। আর পরিবার চিহ্নিত করা হয়েছে স্থানীয় সরকার অর্থাৎ জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের সাহায্যে। তালিকায় রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, দোকানের কর্মচারী, ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসায় কর্মরত শ্রমিক, পোলট্রি খামারের শ্রমিক, বাস-ট্রাকসহ পরিবহন শ্রমিক, হকারসহ নানা পেশার মানুষকে রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সহায়তায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী বর্তমানে যেসব সহায়তা পাচ্ছে, তারা নগদ সহায়তা পাবে না। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় ইতোমধ্যে টাঙ্গাইল জেলায় একটা মডেল দাঁড় করানো হয়েছে। সেই মডেল অনুসরণ করেই করা হয়েছে সুবিধাভোগীদের তালিকা। কত পরিবারকে নগদ টাকা দেওয়া হবে, এ জন্য জেলাভিত্তিক কোটাও বেঁধে দেওয়া হয়। তবে সিটি করপোরেশনের তালিকা করা হয়েছে বিভাগীয় কমিশনারদের তত্ত্বাবধানে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পরিবারগুলোকে টাকা দেয়া হবে মূলত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (MFS) মাধ্যমে। এর মধ্যে রয়েছে বিকাশ, রকেট, নগদ এবং শিওরক্যাশ অর্থাৎ নগদ সহায়তা হলেও কাউকে নগদে টাকা দেয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে MFS এ বড় আকারের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। টাকা পৌঁছানোর জন্য MFS গুলো পাবে প্রতি হাজারে মাত্র ছয় টাকা। হাজারে ছয় টাকা হিসাবেই পৌঁছানোর মোট খরচ দাঁড়ায় সাড়ে সাত কোটি টাকা। এ টাকা সরকার বহন করবে। পরিবারগুলোর কোনো টাকা দিতে হবে না। এ কারণে খরচের জন্য আলাদাভাবে সাত কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

মোট ৫০ লাখ পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর কাজের মধ্যে বিকাশের ভাগে রয়েছে ১৫ লাখের দায়িত্ব। সবচেয়ে বেশি ১৭ লাখ পরিবারের কাছে টাকা পাঠাবে নগদ। বাকি ১৮ লাখ পরিবারের কাছে এ টাকা পৌঁছাবে রকেট ও শিওরক্যাশ।
কতবার 'সেক্স' করলে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে

কতবার 'সেক্স' করলে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে


সহবাস করার সময় ঘণ্টায় দু’বার সেক্স করার চেষ্টা করুন। তাহলে উপকার পাবেন ছেলে-মেয়ে উভয়ই। সম্প্রতি লন্ডনের মিডলসেক্স হসপিটালের একজন ডাক্তার একটি গবেষণা থেকে এই তথ্যটির খোজ পেয়েছেন।

গবেষকরা জানতে পেরেছেন, ঘণ্টায় দুবার সেক্স করলে মেয়েদের গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কারণ প্রথমবার যে শুক্রাণু বের হয় তার থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হয় দ্বিতীয়বার মিলিত হওয়ার পরের শুক্রাণুটি। গোলাম বাহাদুর নামে একজন গবেষকের মতে, গর্ভবতী হওয়ার জন্য এই পদক্ষেপ খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

যে সমস্ত মহিলারা সহজে গর্ভবতী হতে পারেন না, অথবা যাঁদের স্বাভাবিকের তুলনায় ভঙ্গুর হয়ে থাকে উদর তাঁরা ঘণ্টায় দুবার করে সেক্স করলে খুব সহজেই গর্ভবতী হতে পারেন। এছাড়া দ্বিতীয়বারের বার যে শুক্রাণু নির্গত হয় তা প্রথমবারের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হয় বলে জানা যায়। এতে সন্তান সম্ভাবনার পরিমাণ অনেকাংশে বেড়ে যায়। অনাগত বাচ্চাও যথেষ্ট হৃষ্টপুষ্ট হয়ে থাকে। গর্ভাবস্থায় ভ্রুণ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।
এক রাতে কত বার যৌন মিলন করা উত্তম?

এক রাতে কত বার যৌন মিলন করা উত্তম?


যৌনমিলনের হার বস্তুত যুগলের বয়সের উপর নির্ভর করে। বয়সের সাথে বিবাহিত মানুষের যৌনজীবনের সম্পর্ক নিয়ে এক গবেষনায় যেসব তথ্য পাওয়া যায়, তা হলো- – ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী বিবাহিত যুগল বছরে গড়ে ১১২ বার যৌনমিলন করে, অথবা সপ্তাহে দুইবারের একটু বেশি। – ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী বিবাহিত যুগল বছরে গড়ে ৮৬ বার শাররীক মিলনে লিপ্ত হন যা মাসে প্রায় ৭ বার হারে গননা করা যায়। – ৫০ থেকে ৫৯ বছর বয়সী যুগল বছরে ৬৯ বার অর্থাৎ গড়ে মাসে ৬ বারের একটু কম সংখ্যক বার। যৌনমিলন ক্রমশঃ নিন্মমুখি দেখা যায় – বিবাহের বয়স যত বাড়তে থাকে। এমনকি হতাশাগ্রস্ত বিবাহিত সম্পর্ককে রোমান্টিসাইজ করে যৌনজীবনে সুখ ফিরিয়ে আনা যায়।

গবেষনায় দেখা যায় অবিবাহিতদের তুলনায় বিবাহিতরা যৌনজীবনে বেশি সুখি। সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার যৌন মিলন করা প্রয়োজন, এক রাতে ১ বার যৌনমিলন করাই যথেষ্ট অতিরিক্ত সেক্স থাকলে দুবার করতে পারেন।
সেক্স স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী? বৈজ্ঞানিক মতামতসহ জেনে নিন।

সেক্স স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী? বৈজ্ঞানিক মতামতসহ জেনে নিন।


একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর যে কোনও দিন, দিন ও রাতের যে কোনও মুহূর্তে সহবাসের ইচ্ছা জাগতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কতদিন পর পর সহবাস করা উচিত, সেটা কিন্তু আমাদের অনেকের কাছেই অজানা!

আমাদের সকলেরই জানতে ইচ্ছা করে, এক মাসে, এক সপ্তাহে বা এক দিনে কতবার সহবাস করা উচিত। এই সব প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই প্রত‍্যেকের জানা উচিত। কারণ আপনার বিবাহিত জীবন যতই সুখের হোক, এ সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে পরবর্তী জীবনে আপনি সমস‍্যয় পড়তে পারেন।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী যখন শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে ফুরফুরে অবস্থায় থাকেন তখনই তাঁদের মধ্যে শারীরিক মিলন হতে পারে। দু’জনের মধ্যে  একজন যদি শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে মিলনে আগ্রহী না হন, তবে  সহবাস না করাই শ্রেয়। সেক্ষেত্রে অনাগ্রহী পার্টনারের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।


কোন বয়সে কতবার!

যৌনমিলনের হার পুরুষ ও নারীর বয়সের উপর নির্ভর করে। বয়সের সঙ্গে নারী ও পুরুষের যৌনজীবনের সরাসরি সম্পর্ক আছে। বয়স যত বাড়ে  যৌনমিলনের হার তত কমে। সদ‍্যবিবাহিত দম্পতিরা প্রথমদিকে দিনে ২ থেকে ৩ বার সহবাস করলেও, কয়েক মাসের মধ্যে যৌনমিলনের হার  দিনে এক বার অথবা দু’দিনে এক বারে থিতু হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে,

● ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী দম্পতিরা বছরে গড়ে ১১২ বার শারীরিক মিলনে লিপ্ত হন। অর্থাৎ এক সপ্তাহে দু’বারের একটু বেশি।

● ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী দম্পতিরা বছরে গড়ে ৮৬ বার যৌনমিলন করেন। অর্থাৎ এক মাসে ৭ বার।

● ৫০ থেকে ৫৯ বছর বয়সী দম্পতিরা বছরে ৬৯ বার শারীরিক মিলনে লিপ্ত হন। এঁদের যৌনমিলনের হার গড়ে মাসে ৬ বারের একটু কম।

বিজ্ঞান বলছে

● যাঁদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছর, তাঁরা সপ্তাহে ৩ বার সহবাস করতে পারেন।

● যাঁদের বয়স ৩০-৪০ বছর তাঁরা সপ্তাহে ২ বার সহবাস করতে পারেন।

● যাঁদের বয়স ৪০-৫০ বছর তাঁরা সপ্তাহে ১ বার করে সহবাস করতে পারেন।

● যাঁদের বয়স ৫০-৬০ বছর, তাঁরা ১৫ দিনে কিংবা ৩০ দিনে ১ বার সহবাস করতে পারেন।

বেশি বয়সেও কেন নিয়মিত সঙ্গম করা উচিত!

● মাত্রাতিরিক্ত সহবাস যেমন ক্ষতিকর আবার কম সহবাসও শরীর ও মনের পক্ষে ততটাই ক্ষতিকারক। The American Journal of Cardiology দ্বারা প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র বলছেযে সব দম্পতি সপ্তাহে অন্তত দুবার সহবাস করেছেন তাঁদের হৃদপিণ্ড অনেক ভালো থাকে, যাঁরা একবারও সহবাস করেননি তাঁদের থেকে ৷

Biological Psychology (Physiological Psychology বা Behavioral Neuroscience নামেও পরিচিত) নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন সেই গবেষকরা জানিয়েছেন, যাঁরা নিয়মিত সহবাস করেন, তাঁদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই হৃদরোগের সম্ভাবনা অনেকটা কম থাকে৷

● মানসিক উৎকন্ঠা বা স্ট্রেস থেকে আসে উচ্চ রক্তচাপ, যা হৃদপিণ্ডের পক্ষে চরম ক্ষতিকর৷ মানসিক উৎকন্ঠা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। আর এই মানসিক চাপ কমাতে সেক্সের থেকে ভালো দাওয়াই নেই। এছাড়াও নিয়মিত সহবাস আপনার শরীরকে ফিট করে তোলে, ত্বক উজ্বল করে, ওজন কমায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, বার্ধক্য পিছিয়ে দেয়। সহবাসের পর ঘুমও ভালো হয়। ফলে আপনার পুরো শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় ৷

আমার স্ত্রী ১০ বছর ধরে আমাকে ধর্ষণ করেছে, স্বামীর অভিযোগ!

আমার স্ত্রী ১০ বছর ধরে আমাকে ধর্ষণ করেছে, স্বামীর অভিযোগ!


পারিবারিক সহিংসতা বা নির্যাতনের যেসকল ঘটনার অভিযোগ কর্তৃপক্ষের কাছে আসে তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্যাতিত নারীটিই এসব ঘটনা প্রকাশ করেন। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পৃথিবীর নারীদের এক তৃতীয়াংশ তাদের জীবনে শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়।

সেই তুলনায় পরিবারের পুরুষ সদস্যের ওপর সহিংসতার বিষয়টি যেমন অনেক কম আলোচনায় আসে, তেমনি এ ধরণের ঘটনা খুব বেশি ঘটেও না। অনেক সমাজেই পুরুষদের জন্য পারিবারিক সহিংসতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার চল নেই, এবং অনেকক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের একাই লড়াইটা চালিয়ে যেতে হয়। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ইউক্রেনের এক তরুণ বিবিসি’র কাছে তার জীবনের ঘটনা বলেন। তার জবানিতেই তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরা হলো এখানে।

তার ভাষ্য মতে, আমাদের কোনো আর্থিক সমস্যা ছিল না। এর মধ্যে পৃথিবীর অনেকগুলো দেশও ঘুরে আসি আমরা দুজন। আমরা যখন অন্য কোথাও ভ্রমণ করতাম, তখন তাকে ভয় পেতাম না। সে মানুষের সামনে আমাকে নির্যাতন করে না। তবে ও যেন আমাকে একা না পায়, সেই বিষয়টা নিশ্চিত করা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র কিছুদিন আগে আমি বুঝতে পারি যে, আমার সাবেক স্ত্রী দশ বছর ধরে আমাকে ধর্ষণ করছে। ইরা আমার জীবনের প্রথম নারী ছিল। ইরার সাথে শুরুর দিকে যখন যৌনমিলন হতো, সেসময় আমার আগ্রহ ছিল যৌনসঙ্গমের। কিন্তু স্বেচ্ছায় হলেও আমাদের যৌনমিলন ঠিক স্বাভাবিক ছিল না। তা ছিল কষ্টকর এবং আগ্রাসী। প্রথমবার যখন আমরা মিলিত হই, সেটি পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী ছিল এবং শেষ হওয়ার পর আমার সারা শরীর ব্যাথা করছিল। তার একটা বাতিক ছিল যে যৌনসঙ্গমের শেষে আমার বীর্যপাত করতেই হবে। বীর্যপাত না হওয়া পর্যন্ত আমার সঙ্গম চালিয়ে যেতে হতো এবং গড়ে তা এক থেকে দুই ঘণ্টা স্থায়ী হতো।

সেক্স উপভোগ্য হওয়ার কথা, কিন্তু আমার জন্য বিষয়টি সেরকম ছিল না। আমার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না এবং আমি ভাবতাম এটাই স্বাভাবিক, আর তাই যৌনমিলনে রাজী হতাম। কিন্তু কিছুদিন পরই আমি যখন তাকে না বলা শুরু করলাম, তখনই আমি ধর্ষিত হওয়া শুরু করি। একবার ব্যবসার কাজে আমার দীর্ঘদিনের জন্য বিদেশ যেতে হয়। আমার ভয় হয় যে কাজ শেষে দেশে ফিরে আমি হয়তো ইরাকে আর ফিরে পাবো না। তাই আমি তাকে আমার সাথে যাওয়ার প্রস্তাব দেই। এমনকি সফরে যাওয়ার আগে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাবও দেই আমি। সে বিয়ে না করলেও আমার সাথে সফরে যেতে রাজি হয়। আর সেখান থেকেই শুরু হয় মূল ঘটনা।

সারাদিন কাজ শেষে আমি পরিশ্রান্ত থাকতাম, আর সে যৌনমিলন করতে চাইতো। প্রথমে কয়েকদিন রাজি হলেও পরে আমি যখন রাজি হতাম না, সে তখন বলতো, “এটা আমার চাহিদা, সুতরাং তোমার আমাকে দিতেই হবে। আমি বহুক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি।” তখন আমি বলতাম, “আমি ক্লান্ত। আমি বিশ্রাম নিতে চাই।” তখন সে আমাকে আক্রমণ করতো। নখ দিয়ে আমাকে আঘাত করতে থাকতো যতক্ষণ না পর্যন্ত আমি রক্তাক্ত হতাম। সে কখনও আমার মুখে আঘাত করতো না। এমন জায়গায় করতো যা পোশাকের নীচে থাকবে: যেমন বুকে, পিঠে বা হাতে। আমি কখনও প্রতিবাদ করতাম না কারণ আমি মনে করতাম একজন নারীকে আঘাত করা ঠিক কাজ নয়।

আমি হীনমন্যতায় ভুগছিলাম এবং নিজেকে ক্ষুদ্র মনে হচ্ছিল। হোটেলে একবার নিজের জন্য আলাদা রুমও নিতে চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু আমি তাদের ভাষা বুঝতাম না, তাই শেষপর্যন্ত রুম নিতে পারিনি। কাজ শেষে হোটেলে ফিরে যেতে ভয় লাগতো আমার। তাই রুমে ফিরে না গিয়ে বিভিন্ন শপিংমলে ঘুরে বেড়াতাম। শপিংমল বন্ধ হওয়ার পর ঘুরতাম শহরের অলিগলিতে। শরৎকালের ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এরকম ঘোরাঘুরির ফলে আমার ইউরিন ইনফেকশন, প্রোস্টেইটিস ও জ্বর হয়। কিন্তু এসব কিছুই ইরাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সে যা চাইতো, তা আমার করতে হতো। ইউক্রেনে ফিরে যাওয়ার পর আমি আমার বাবা-মা’র সাথে থাকতে শুরু করি, ইরার সাথে যোগাযোগ করাও বন্ধ করে দেই। কিন্তু তার সাথে বিচ্ছেদের প্রচেষ্টা দীর্ঘায়িত হয় দশ বছর পর্যন্ত। আমি তার সাথে ঝগড়া করে সবকিছু থেকে তাকে ব্লক করে দিতাম, সে এলে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখতাম। কিন্তু সে বন্ধ দরজার ওপারে বসে আমাকে স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করতো, বলতো যে সব ঠিক হয়ে যাবে।

শুরুর দিকে আমি তার সাথে ছাড়াছাড়ির অনেক চেষ্টা করলেও সময়ের সাথে সাথে আমার চেষ্টাও কমতে শুরু করে। পরে একপর্যায়ে আমি চেষ্টাই ছেড়ে দেই। সে আমাকে বিয়ে করতে চায়, এবং আমরা বিয়ে করিও। যদিও আমার বিয়ে করার কোনো আগ্রহ অবশিষ্ট ছিল না। ইরা সবার ব্যাপারে ঈর্ষান্বিত ছিল। আমার বন্ধু, পরিবার সবার ব্যাপারে। আমি যেখানেই যেতাম, আমার সবসময় তাকে ফোন করতে থাকতে হতো। আমাকে ছাড়া সে কোথাও যেতে পারতো না – আমি যেন সব জায়গায় তার মনোরঞ্জন করার খেলনা ছিলাম। ইরার কোনো চাকরি ছিল না। আমার আয়েই আমাদের খরচ চলতো। দুই বেডরুমের একটা বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেই আমরা। আমরা ঘুমাতামও ভিন্ন রুমে এবং আমার রুম বন্ধ করার ব্যবস্থা ছিল না। আমি যদি ‘ভুল’ কিছু করতাম, তখন সে আমার সাথে চিৎকার করতো এবং আমাকে মারতো।

প্রায় প্রতিদিনই এরকম ঘটনা ঘটতো। যে কোনো বিষয়ে সে আমার দোষ দিতো। আমি সবসময় শুনে এসেছি যে তার কোন ধরণের পুরুষ পছন্দ এবং তার জন্য সেই পুরুষ কী'’ কী'’ করবে। সে যা করতে বলতো, শুধু তার রাগ থেকে বাঁচার জন্য আমি তাই করতাম। সম্পর্কের শুরুর দিকে সেক্স ভালো লাগলেও পরে একটা লম্বা সময় আমার আর সেক্স ভালো লাগতো না। কিন্তু শেষ তিন চার বছর সেক্সের কথা চিন্তা করলেই আমার প্যানিক অ্যাটাক হতো, আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়তাম। যখনই ইরা আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে ধরে আমার সাথে যৌনমিলনে উদ্যত হতো, তখনই এরকম হতো। আমার মধ্যে যখন আতঙ্ক তৈরি হতো, আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ঘর থেকে, কখনো বাড়ি থেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতাম। ইরার বিশ্বাস ছিল আমার জন্যই আমাদের যৌনজীবনে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই কয়েক বছর পরপর আমাকে সেক্সোলজিস্টের কাছে নিয়ে যেতো সে।

ডিভোর্সের কিছুদিন আগে থেকে আমি যৌন সহিংসতার কথা মানুষকে বলা শুরু করি। সেসময় ইন্টারনেটে একটি ওয়েবসাইটে পরিচয় প্রকাশ না করে আমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো জানাই আমি একজনকে। সেবারই প্রথম আমি কারো সাথে সেসব ঘটনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করি। সেখান থেকে আমি সাহস পাই এবং ধীরে ধীরে নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠি। আমি ও ইরা দুজনই চিকিৎসকের সাথে একসাথে আলোচনা করতাম। ঐ সময়ই আমি প্রথমবার কোনো চিকিৎসকের সামনে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলতে সক্ষম হই। আর সেগুলো বলার পর ইরা ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে বলতে থাকে যে আমার অ’ভিযোগ মিথ্যা।

তবে ঐ ঘটনার পরপরই সে ডিভোর্সের পরাম’র্শ দেয়। আমিও সুযোগ হাতছাড়া করিনি। একমাস পর যেদিন ডিভোর্সের কাগজ হাতে পাই, সেটি ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন। ডিভোর্সের পর একদিন আমি চিৎকার করে তাকে বলি, “তুমি আমাকে ধর্ষণ করছিলে?” সে উত্তর দিয়েছিল, “ধর্ষণ করছিলাম? তো কি হয়েছে!!” সেদিন তার কথার উত্তর দিতে পারিনি আমি, এখনও সেই উত্তর জানা নেই। তবে সে অন্তত স্বীকার করেছে অভিযোগ, যদিও এ নিয়ে হাসাহাসিই বেশি করেছে।