Showing posts with label এডমিন পোস্ট. Show all posts
Showing posts with label এডমিন পোস্ট. Show all posts
সফল ক্যারিয়ার গড়ার সেরা ১০ উপায়

সফল ক্যারিয়ার গড়ার সেরা ১০ উপায়

positive-attitude-to-be-successful

সফল ক্যারিয়ার গড়ার সেরা ১০ উপায়




সবারই স্বপ্ন থাকে ভাল কাযক্ষেত্রে সৃষ্টি করার । স্বপ্নের চাকরি পেতে সবাই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনাও করে । তবে স্বপ্নকে ধরতে পারে না নিজেদের কিছু ব্যাক্তিগত ও ভাবনাগত অভাবের ফলে । অভাবগুলো এতোটাই তীব্র যে, পুরোদমে বিকল করে দেয় ২০-২৫ বছর ধরে রাখা স্বপ্নের চাকরির আকাঙ্ক্ষা । অনাকাঙ্ক্ষিত এইসব অভাবগুলোকে জয় করেই আমাদেরকে স্বপ্নের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে । ভাল ক্যারিয়ার গড়তে অনেক বিষয়ই বিবেচ্য । এই দেখায় এমন দশটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস নিয়ে আলোচনা করা হলো ।




১. ইতিবাচক মনোভাব: আমরা সবাই জানি নেতিবাচকের চেয়ে ইতিবাচক কর্মকান্ড ও মনোভাব সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য । সফলভাবে ক্যারিয়ার গড়তেও ইতিবাচক মনোভাবের বিকল্প নেই । সত্যিকার অর্থে প্রত্যেকটি কাজেই ইতবাচক মনোভাবের প্রাধান্য বেশি । ইতিবাচক উত্তেজনা উগ্রতা, দুঃশ্চিন্তা থেকে দূরে রাখে । আপনি যখন মনের দিক থেকে সৎ থাকবেন, তখন আপনা-আপনি মন প্রফুল্ল থাকবে । নিজের সাথে বোঝাপড়াটাও ভাল হবে । মনকে প্রফুল্ল রাখতে পারলে স্বপ্নের চাকরিটাই শুধু নয়, যে কোনো কাজই সফলতা পেতে পারি আমরা ।
know-yourself

২. নিজেকে জানুন: হরহামেশাই দেখা যায় ভাল বেতনের চাকরিকে সবাই প্রাধান্য দেয় । আবার বেশি বেতনের চাকরি করলে সমাজেও কদরটা একটু বেশি । তাই সকলেই ঝুঁকে পড়ে বেশি বেতনের চাকরির দিকে । তবে ব্যাপারটা এমন না হয়ে যদি নিজের আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়া হতো, তাহলে ব্যাপারটা ঈর্ষণীয় হতো ।তাই আগে জানতে হবে, কোন পেশার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন । আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে কোন পেশাকে বেছে নেওয়া যায় । মনের তৃপ্তিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । আর সেজন্য দরকার নিজেকে জানা । নিজের উপর যতটা নির্ভরশীল হওয়া যাবে, সাফল্যের পথে সে ততটা এগিয়ে যাবে ।



৩. চাহিদা ও দক্ষতা নির্ধারণ: প্রত্যেকেরই উচিত অবসর সময়টাতে নিজেকে তৈরি করা । এইচএসসি পাস একজন নিশ্চয়ই ব্যাংকের চিফ এ্যাক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরি পাবে না । তাই নিজের দক্ষতা উপর নির্ভর করেই চাহিদার চাকরিগুলোকে বেছে নিতে হবে । তারপর সর্বোচ্চ কাঙ্ক্ষিত চাকরিটা পেতে প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে হবে । আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে কোন বিষয়টি আপনাকে বেশি চানে । ধরুন আপনি কম্পিউটারে কাজ করতেই বেশি পছন্দ করেন । আর কম্পিউটারে ভাল জানা আপনার । এক্ষেত্রে বলা যায়, আপনার উচিত তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়া ।

৪. ব্যাক্তিত্ব নিরূপণ: কর্মক্ষেত্রে সফল হতে হলে ব্যাক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি নিরূপণ করার দায়িত্বও আপনারিই । পার্সোনালিটি নিরূপণ করার জন্য আপনি নৈব্যক্তিক প্রশ্ন তৈরি করে নিতে পারেন । অথবা কারও তৈরি করা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে নিজেকে যাচাই করে নিতে পারেন । মায়ারস ব্রিগস টাইপ ইন্ডিকেটর (এমবিটিআই) নামের পরীক্ষা দিয়ে বুদ্ধিমত্তা ও ব্যাক্তিগত দৃঢ়তা নিরূপণ করতে পারেন ।

৫. নমনীয়তা: উগ্রতা সর্বদাই খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে । কোনো কাজই জোর পূর্বক করিয়ে নেয়া যায় না । আর জোরপূর্বক করিয়ে নেয়া হলেও পরবর্তীতে তার কুফল ভোগ করতেই হয় । তাই উগ্রতা নয়, নমনীয়তায় জীবন গড়াটাই যৌক্তিক ।



৬. পরামর্শ গ্রহণ: অনেক সময়ই আমরা দ্বিধাদ্বন্দে ভুগে থাকি । এটা নয় ওটা ভাল । আসলে যে কোনটা ভাল তাই খুজেঁ বের করতে পারি না আমরা । তাইেআমাদের উচিত পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় কিংবা কোনো বিশেষজ্ঞরা সাথে কথা বলে সঠিক ও উপযুক্ত চাকরিটা বেছে নেয়া । বিশেষ করে বিশেষজ্ঞেরা চাকরির বাজার সম্পর্কে প্রচুর জানেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্র, ক্রমোন্নতি ও বেতন সবদিক সম্পর্কেই একজন বিশেষজ্ঞ আপনাকে সঠিক চাকরিটি বেছে নিতে সহায়তা করতে পারবেন ।

৭. সময় সচেতনতা: প্রত্যেকটা মানুষেরই উচিত সময়ের সঠিক ব্যবহার করা । সময়ের কাজ সময়ে করতে পারলে যে কোনো ব্যাক্তিই তার ক্যারিয়ারকে সফল স্থানে নিয়ে যেতে পারবে । অযথা সময় ক্ষেপনকারী একজন ব্যাক্তি প্রয়োজনীয় সময়ে এসে হাঁপিয়ে উঠে । ফলে সে তার কাজে ভুল করে । পরে করবো বলে ফেলে রাখলে কোনো কাজেরই সফল সমাধান দেয়া সম্ভব নয় । তাই সময় সচেতন হয়ে উঠুন ।আরও পড়ুন: সময় বাঁচানোর সহজ ৬টি উপায়
make-team-network


৮. নেটওয়ার্ক তৈরি: সফল ক্যারিয়ার গড়তে আপনাকে অবশ্যই একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে ।  তবে নেটওয়ার্কটি অবশ্যই সৎ ও উদ্দেশ্যবহুল হওয়া চাই । নানাজনের সাথে কথা বলা ও বন্ধুত্ব করাটাও সফল ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করতে পারবে ।

৯. ক্যারিয়ার জিজ্ঞাসা: আপনি যদি আপনার কর্মক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন তবে কিন্তু সমস্যার সম্মুখীন হবেন । আপনার তখন সম্ভব হবে না স্কুলে গিয়ে নতুনভাবে পড়াশোনা করে অন্যক্ষেত্রে সফল হওয়ার । তাই আপনার উচিত সঠিক কোনো ক্যারিয়ার কলেজ বা ট্রেনিং সেন্টার খুঁজে বের করা । কারণ সেখানে গিয়ে আপনি আপনার ক্যারিয়ারের নানা সমস্যার উত্তর খুঁজে পাবেন । আপনি নিজেও ক্যারিয়ার জিজ্ঞাসার মাধ্যমে আপনার নানা সমস্যার সমাধান করে নিতে পারেন । নতুন নতুন সব আইডিয়া তৈরি করে তার উপর পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমেও ক্যারিয়ারে সফলতা পাওয়া সম্ভব ।


১০. সহিষ্ণুতা: প্রবাদ আছে, ‘ভাল জিনিস একটু দেরিতেই আসে’ । কোনো কাজেই তাড়াহুড়া করাটা ভাল না । তড়িৎ যে কোনো কাজের মধ্যে ভুল হবার সম্ভাবনা বেশি ।

চাকরি পাওয়ার ১০টি সেরা কৌশল

চাকরি পাওয়ার ১০টি সেরা কৌশল






চাকরি পাওয়ার ১০টি সেরা কৌশল

বেকারত্ব ঘোচাতে অনেকেই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে বহুদিন যাবত। পড়াশোনা শেষ, রেজাল্টও মাশাল্লা ভালো অথচ চাকরিনামক সোনার হরিনের দর্শন মিলেনি এখনো। আর সেও সোনার হরিনটি খুজে পেতে রীতিমত যুদ্ধ করতে হচ্ছে তবুও কোন হদিস নেই। ব্যপারটি পীড়াদায়ক। আর এই পীড়ার তিক্ততায় রিক্ত হতে হয়ে অনেক চাকরী সন্ধানী মানুষদের।
 




চাকরী পাওয়ার ফর্মুলা চেঞ্জ হয়েছে। দেশ উন্নত হচ্ছে সাথে সাথে সিস্টেমের পরিবর্তনও এসেছে। ক্লাসের ফার্স্ট বয় কিংবা ফার্স্ট গার্ল হলেই যে ভালো চাকরিটা সবার আগে পাবেন এমন ধারণা গত হয়েছে ঢের আগে। একটা সময় ছিল যখন অভিভাবক বলতেন, অঙ্ক আর ইংরেজিটা ভালো করে শেখো, নইলে ভালো চাকরি পাবে না। “অই দিন এখন আর নেই” এমনকি ইংরেজি ও কম্পিউটারজ্ঞানের ওপর ভরসা করেও আর এগোনো যাচ্ছে না। নয়া জমানার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাকরির বাজারেও হাল আমলে যোগ হয়েছে নতুন নতুন চাহিদা। তার সঙ্গে মিল রেখে নতুন সব যোগ্যতায় নিজেকে সাজাতে হচ্ছে নবীন চাকরিপ্রার্থীদের।

নিচে চাকরি পাওয়ার ১০ টি কৌশল বর্ণনা করা হলো।
চাকরী-পাওয়ার-কৌশল

১। নতুন তরিকা ও নেটওয়ার্কিং

ধরুন, কোনো একটি পদে হুট করে গুটিকয়েক কর্মীর দরকার হয়ে পড়ল। অল্প কয়েকটি পদের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়াটা অনেক সময় চাকরিদাতার কাছে হাস্যকর হয়ে দাঁড়ায়। আশপাশের পরিচিতজনদের মধ্যে যোগ্য কেউ থাকলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। কী দরকার এ মহাযজ্ঞের! বিশ্বাস করুন, কোম্পানির মালিক হলে আপনিও এমনটা ভাববেন, এতে দোষের কিছু নেই। তো, পরিচিত গ-ির মধ্যে পাওয়া না গেলে ডাক পড়ে আশপাশের সহকর্মী ও অধস্তনদের। তাদের বলা হয়, আপনারাই খুঁজে বের করুন না! বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর বেশি আর গড়ায় না চাকরির পানি। গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠান ছাড়া বেশিরভাগ চাকরিই বিজ্ঞপ্তির মুখ দেখে না। তাই বলে ওই বেশিরভাগ চাকরি কি আপনার নাগালের বাইরে থাকবে? যদি তা না চান তবে আপনাকে কৌশলে স্থান করে নিতে হবে সেই দ্বিতীয় স্তরটিতে, যেখানে আপনার চেনা গ-ির মধ্যে থাকবেন দেশের সেরা চাকরিদাতা কিংবা কোম্পানির সিনিয়র এক্সিকিউটিভরা। আধুনিক কেতাবি ভাষায় যাকে বলা যায় ‘নেটওয়ার্কিং’। চাকরির বাজারে ভালো অবস্থান ধরে রাখতে অবশ্যই আপনাকে গড়ে তুলতে হবে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

২। সিভির দিকে মনোযোগ দিন

সিভিতে অবশ্যই ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সুন্দরভাবে তুলে ধরা অবজেক্টিভ অবশ্যই নিয়োগকারীদের প্রভাবিত করে। সর্বোচ্চ দুই-তিন লাইনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী নিজের শক্তিশালী দিকগুলো তুলে ধরতে হবে। অবশ্যই তা যেন নিয়োগকারীদের বিরক্তির উদ্রেক না করে। সিভি যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত করা ভালো। পরীক্ষার ফল সিজিপিএ ব্যাংকিং ৩-এর নিচে হলে না লেখাই ভালো, তবে সে ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের বিস্তারিত বিবরণ না দিলেও সমস্যা নেই। বৈবাহিক অবস্থা, জাতীয়তা, ধর্ম, ওজন, উচ্চতা, এসব তথ্যও খুব জরুরি নয়। রেফারেন্স হিসেবে ফ্রেশারদের অবশ্যই তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষককেই নির্বাচন করা উচিত। আরেকজন হতে পারেন, যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন সেখানকার সুপরিচিত কেউ। রক্তের সম্পর্কের কাউকে এখানে উল্লেখ না করাই উচিত। তবে রেফারেন্স যাদের দেয়া হবে তাদের জানিয়ে রাখতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় তাদের কাছে সিভির একটি কপি থাকলে।

৩। এক্সট্রা কারিকুলার

এখনকার করপোরেট অফিসগুলোতে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের ওপর খুবই গুরুত্ব দেয়া হয়। সিভিতে যত বেশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করতে পারবেন, চাকরির ইন্টারভিউতে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা ততই বেশি হবে। ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ‘ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যান্ড গ্লোবালাইজেশন’ শিরোনামে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। যেখানে রসায়নে নোবেল বিজয়ী তাইওয়ানের প্রফেসর লি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘বি ইউজফুল, বি ইউজফুল ফর দ্য সোসাইটি’। সমাজের জন্য নিজেকে যোগ্য করে তোলার মাধ্যমে ক্যারিয়ারকেও বর্ণাঢ্য করা সম্ভব। এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজগুলো আপনাকে নানাভাবে সাহায্য করবে। ভালো বিতার্কিক হওয়া মানে আপনি ভালো প্রেজেন্টেশন করতে পারবেন। এই গুণগুলো সব চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানই আশা করে। যোগ দিতে পারেন ফটোগ্রাফি কিংবা ড্রামা ক্লাবে। এতে আপনার পাবলিক রিলেশন গুণাবলী আরো উন্নত হবে।

৪। স্বেচ্ছাসেবক

নেটওয়ার্ক বাড়ানোর জন্য একটি সরল পদক্ষেপ হচ্ছে সামাজিক উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা। এর সুবাদে অনেক গুণী লোকের সঙ্গে পরিচয় হতে পারে। এমন অনেকেই তখন আপনাকে চিনবেন, যারা কি না অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত। ফলে যখন তাদের কর্মীর দরকার হবে তখন তারাই হয়তো আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

৫। আপডেটেড থাকুন

সময়টাই এগিয়ে থাকার। শত মানুষের মধ্যেও চাকরিদাতার চোখ যেন আপনার ওপরই পড়ে। যদি তিনি আপনার মধ্যে বিশেষ গুণের সন্ধান পান তবে চাকরিটা আপনার ঝুলিতেই পড়বে। এ জন্য দরকার চাকরিদাতার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আগে থেকেই কিছু জেনে রাখা। এ কাজে ঢের উপকারে লাগে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট। ওইসব ওয়েবসাইটে নিয়মিত ঢুঁ মারলেই যথেষ্ট। পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা তৈরি করে রাখুন। তাদের চাকরির বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখুন। চাকরির ধরন বুঝে তৈরি করুন আবেদনপত্র। অনলাইনেও আবেদন করা যায়। আধুনিক সব প্রযুক্তিকেই কাজে লাগান। বিবিসির মতো অনেক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান নতুন চাকরির খবর ই-মেইলেও জানিয়ে দেয়। সেসব মেইলিং লিস্টের সদস্য হতে পারেন। এনজিওগুলোর ক্ষেত্রে তাদের প্রজেক্টগুলো সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে রাখুন। সুযোগ বুঝে তাদের কোনো একটি প্রজেক্ট সম্পর্কে আপনার আগ্রহ ও পরামর্শের কথা মেইল করতে পারেন।

৬। রেফারেন্স তৈরি

বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান গুগলে ইন্টার্নশিপ করেছেন বাংলাদেশের রাগিব হাসান। তিনি জানান, গুগল শতকরা ৬০ ভাগ কর্মীই রেফারেন্সের মাধ্যমে নেয়। এমনি এমনি রেফারেন্স তৈরি হয়ে যাবে, এমনটি ভাবা অযৌক্তিক। এ জন্য নিজেকেই উদ্যোগী হতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ যার সঙ্গেই পরিচয় হবে, তার ভিজিটিং কার্ড সংরক্ষণ করুন। নানা উৎসব আয়োজনে তাদের শুভেচ্ছাবার্তা পাঠাতে পারেন। তার দুঃখের খবর জানলে সমবেদনা জানান। সম্ভব হলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। রেফারেন্স বাড়ানোর এটিই সহজ তরিকা।

৭। জব মার্কেট সম্পর্কে জ্ঞান

প্রত্যাশিত চাকরি পেতে হলে চাকরির বাজার সম্পর্কে অবশ্যই ভালো জ্ঞান থাকতে হবে। কখন কোন কাজের চাহিদা বেশি, সেটা আঁচ করতে হবে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।


আগ্রহ অনুযায়ী পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণঃ

২০০১ সালে আমেরিকার বিখ্যাত স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বক্তৃতায় অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘ভালোবাসার কাজটি খুঁজে নিতে হবে।’ আপনার ভালোবাসার কাজ কোনটি তা অন্য কেউ ঠিক করে দেবে না। নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করেই বুঝে নিন আপনার পছন্দের কাজ কোনটি। আর পছন্দের চাকরির জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগও আছে যথেষ্ট। গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ফটোগ্রাফি, ভিডিও এডিটিং থেকে শুরু করে আছে রেডিও জকি তৈরির কারখানাও। পাশাপাশি শিখতে পারেন বিভিন্ন ভাষাও।

৮। চাকরি মেলায় যান

প্রতি বছরই নানা পরিসরে জব ফেয়ার হয়। সেখানে চাকরির ডালি নিয়ে হাজির হয় চাকরিদাতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। জব ফেয়ারে যাওয়ার আগে সুন্দর গোছানো সিভি নিয়ে যেতে ভুল করবেন না। মেলায় প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সেমিনারেরও আয়োজন করে। চাকরির হালহকিকত জানতে ওই সেমিনারে অংশ নিতেই হবে।

৯। ‘প্লিজ আমাকে ডাকুন’

প্রয়োজনটা যেহেতু আপনার, তাই আগ বাড়িয়ে আপনাকেই বলতে হবে ‘প্লিজ আমাকে ডাকুন’। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়ার আগেই সেখানে সিভি জমা দিতে পারেন। আপনার যোগ্যতা ও চাহিদামতো পদের কথাও উল্লেখ করতে পারেন আবেদনপত্রে। যোগ্যতা একাধিক পদে হলে ভিন্ন ভিন্ন পদের কথা উল্লেখ করতে পারেন। এখন বড় করপোরেট হাউসগুলো প্রার্থী বাছাই পর্যন্ত পুরো কাজটি তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা ইউনিভার্সিটির আইবিএ ডিপার্টমেন্ট, এমজিএইচ গ্রুপ, গ্রো অ্যান্ড এক্সেলের মতো নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগাযোগ করে আপনার সিভি জমা দিতে পারেন।

১০। জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা

অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ছেড়ে দেন। পরে নিতান্তই শখের বসে রিড কলেজ থেকে ক্যালিগ্রাফির ওপর একটি কোর্স করেন। এ ক্যালিগ্রাফি যে কাজে আসতে পারে তা ভাবেননি। এর ১০ বছর পর স্টিভ যখন ম্যাকিন্টস কম্পিউটারের ডিজাইন করছিলেন তখন কাজে লাগে তার ক্যালিগ্রাফি-বিদ্যা। ম্যাক কম্পিউটারের ফন্ট জবসের ক্যালিগ্রাফি-বিদ্যার ফসল। পরবর্তী সময়ে উইন্ডোজ ম্যাকের ফন্ট ব্যবহার করে। তাই বলা হয়, জবস যদি ক্যালিগ্রাফি না শিখতেন তাহলে হয়তো কম্পিউটারে এত সুন্দর ফন্ট থাকত না। স্টিভ জবসের মতোই জীবনের সব জ্ঞান আপনার জন্য একেকটি বিন্দুর মতো কাজ করবে। সুতরাং যতটা সম্ভব নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে ভরে তুলুন। সেসব জুড়ে দিয়ে পেয়ে যাবেন জীবনের সরল সমাধান।